দ্য লাস্ট কল ~ অনুগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


হ্যালো! কে.......?
-অভীক।
-ও ,অভীক দা ! আমার নাম্বার কি করে পেলে?
—চুরি করেছিলাম।
— চুরি করতে গেলে কেন?
— তোমার কাছে চাইতে পারিনি।
— ও তাই!
— আলিয়া!
— বলো। কিছু বলবে?
— আমি তোমাকে খুব খুব ভালবাসি।
ওপার থেকে কোনো আওয়াজ এল না।নিস্তব্দ কিছুক্ষন।
— আলিয়া! তুমি আমাকে কোনো দিন ভালবাসনি?
— অভীক দা, আমিও তোমাকে ভাল বাসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি তো সব জান।আমার বাড়ি থেকে কোনোদিন এই সম্পর্ক টা মেনে নেবে না।
—তুমি যে আমাকে একটুকুর জন্যেও ভালবেসেছো, এই অনেক আমার কাছে। জানো, আমার আজ খুব ভাল লাগছে।
— অভীক দা, এবার রাখি। মা ডাকছে।
ফোনটা কেটে দেয় আলিয়া । একটা তৃপ্তির  নিশ্বাস ফেলে অভীক। মনে পড়ে যায় প্রথম  যেদিন সে আলিয়া কে দেখেছিল তার জানালার  পাশের পাকা শান বাধানো পুকুর ঘাটে, যেন  একটা নীল সরোবরে একাকী একটা রাজহংসী  চরে বেড়াচ্ছে। তার দুধ সাদা গায়ের ফোঁটা  ফোঁটা জল অভীকের হৃদয়ের বাঁধ কে এক  ঢাক্কায় ভেঙে দিয়েছিল সেদিন। এর কিছুদিন  পর দুজনের চার চোখ এক হতেই, বিদ্যুৎ খেলে  গিয়েছিল সারা সারা শরীরে। নিজেকে আর ধরে  রাখতে পারেনি সে। একটু পরিচয়, বন্ধুত্ব,  হাসি,তাদের বাড়িতে যাতায়াত হতে হতে দুজন  দুজনের খুব কাছে এসেছিল। শুরু হল এক  বোবা ভালবাসা । অভীক অনেকবার বলার চেষ্টা  করলেও সাহস হয়নি কোনোদিন,আর হয়তো  বলতো ও না কোনো দিন।ভিন্ন ধর্মী প্রেম যে  নিষিদ্ধ এ সমাজে!
কিন্তু আজ তার সমস্ত সাহস একত্রিত। কোনো  ভয় নেই। এই প্রথমবার আলিয়া কে ফোন করে  তার মনের কথা জানিয়েছে। অভীকের মাথাটা  ঘুরে এল যন্ত্রনায়। আর কিছু মনে করতে পারছে  না। শরীর টা কেঁপে উঠতেই, হাত থেকে ফোন টা  পড়ে গেল।
ও হ্যাঁ ! মনে পড়ে গেল.....। সন্ধ্যায় যাদবপুর  থেকে, ক্যানিং লোকালে বাড়ি ফিরছিল সে। খুব  ভিড়ে টাসা ট্রেন। কোনোরকমে উঠে, দরজার  রড ধরে বাইরে ঝুলে ছিল। গড়িয়া আর  নরেন্দ্রপুর স্টেশনের মাঝে একটা ইলেকট্রিক  পোস্টে জোর ঢাক্কা লাগল। ছিটকে গিয়েসে  পড়ল রেল লাইনের পাথরের উপর,খুব জোরে  আছড়ে পড়ল মাথাটা। চারিদিক টা অন্ধকার  হয়ে আসল, রক্তে ভেসে গেল কালো পাথর  গুলো।
আর কিছু মনে করতে পারছে না অভীক। স্মৃতি  ধূসর হয়ে আসছে তার। তবুও মুখে তৃপ্তির  হাসি,— জীবনে শেষ কল টা সে আলিয়া কে  করেছিল,জানিয়েছিল তার ভালবাসা।চোখ  ঝাপসা হয়ে আসে অভীকের। তবু সেই ঝাপসা  চোখে দেখতে পেল একদল লোক আলো নিয়ে  ছুটে আসছে তার দিকে। এর পর হয়তো তাকে  নিয়ে হসপিটলে যাবে..।
বেশী সময় আর নেই হাতে। জানিনা,কাল সকালে আলিয়ার চোখ দিয়ে জল পড়বে কিনা! লোকগুলো কাছে আসতেই শরীর টা একবার খুব জোরে কেঁপে উঠল,তারপর নিস্তেজ হয়ে গেল সব।
স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১২ ]

No comments

Powered by Blogger.