অশিক্ষা ~ পরমানু গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


[রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ছোটো গল্প 'তোতা কাহিনি' অনুসরনে লেখাটি]

বড় বাড়িটার ভেতর একটা টিয়া পাখি ছিল। সারাদিন খাঁচায় বন্দি থাকত। কিন্তু এই জন্যে তার মনে কোনো দু:খ ছিল না,বরং আনন্দই ছিল। কারন সে নিজের মতো শিস শিস দিয়ে গান গাইত, কিচি মিচি করত। যা মনে আসত তাই সুর করে ডাকত। কিন্তু বাড়ির লোকগুলোর এটা পছন্দ হল না,তারা চাইল পাখী টিকে কথা বলতে হবে মানুষের মতো। শুরু হল শিক্ষা দেওয়া। চার পাঁচ জন শিক্ষক এল, সাথে এল গাদা গাদা বই। টিয়া পাখিটির এ সব ভাল লাগল না,নিজের মতো গান গাইত,নিজের মতো খেলত। ফলে শুরু হল অত্যাচার,কখনো শিক্ষকের বা কখনোও বাড়ির লোকের।সবার চাপে টিয়া পাখির অবস্থা খুব খারাপ, না পারে কথা বলতে না পারে শিস দিতে। কিছু খেতে চায় না,সব কিছু ভুলে যেতে লাগল,সব সময় মনমরা হয়ে থাকে। বড়ির লোক ও অস্বস্তি তে পড়ল, যতইহোক একটি ই টিয়া পাখি ছিল।
এবার ডাক পড়ল মনোবিজ্ঞানী র।মনোবিজ্ঞানী এল,সব কিছু দেখল; বুঝতে পারল অবস্থা ভাল নয়। তবুও শেষ চেষ্টা করল,বাড়ির লোককে বোঝাল যে,ও ভাল শিস পারে,ওকে শিস দেওয়া শেখানোর শিক্ষা দেওয়া যেতেই পারে। কথা বলা না শিখলেও চলবে। মনোবিজ্ঞানী র কথা অনেকের পছন্দ হল না। আবার অনেকে ভাবল পাখিটি ত বাঁচবে,তাই শেষ পর্যন্ত সাবাই মেনে নিল।আবার আগের মতো শিস দিতে লাগল পাখিটি। মন টা তার আনন্দে নেচে উঠল।
আজকের দিনে আমাদের প্রত্যেক বাড়ির শিশুদের অবস্থা ঐ টিয়া পাখিটির মতো।
স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১৫ ]

Comments