অভিমানী ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



বৌ ও যেমন, মেয়েও হয়েছে ঠিক তেমন নয়। একাবারে উলটো। দু'জনই দুই মেরুর বাসিন্দা।  একজন উত্তর মেরু, আরেক জন দক্ষিন। আর  মাঝখানে নিরক্ষরেখার মতো নির্বাক চলচিত্র  হয়ে সোজা নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে আছে  অজিত। শুধু রোদে- তাপে পুড়ছে। না যেতে  পারে এদিক, না যেতে পারে ওদিক। একটু উত্তর  দিকে সরে গেলে ওমনি দক্ষিন দিকের বরফ  গলতে শুরু করে। আবার দক্ষিন দিকে গেলে  উত্তরের। কোন দিকে যাবে সে? শুধু পড়ে  থাকলে তবুও শান্তি ছিল। কিন্তু দুই মেরুর  অত্যাচারে হাসি-আনন্দ, শান্তি জিনিষ টা ভুস  করে রকেট বাজির মতো  অনেকদিন আগেই  উড়ে গেছে। সেই যে গিয়েছে, আর এখনো ফিরে  আসেনি। মাঝে মাঝে ক্ষনিকের দেখা দিয়ে গেছে। তবে একটা ব্যাপারে বউ আর মেয়ের  মধ্যে মিল আছে। ওরা যখন ঝগড়া করে, তখন  কেউ কাউকে হারাতে পারে না। আর এই  ব্যাপারটা অজিত তখন মজা নেয়। মাঝে মাঝে  বউ কে গিয়ে শান্ত গলায় বলে, -" আ! করছো কি  পৌলমী! ও এখন বাচ্চা মেয়ে, অতকিছু বোঝে  নাকি? একটু আদর করে বললে তো হয়।  সবসময় বকাবকি করলে চলে, বলো।"
মুখ ঝাপটায় পৌলমী।-" তুমি চুপ করো। তুমি শুধু আমার উপর চোট-পাট দেখাও। মেয়েটা কে কিছু বলতে পারো না? লাই দিয়ে দিয়ে মেয়েটাকে মাথায় তুলেছো। এইটুকু বয়েসে এখুনিই কারও কথা শোনে না, বড় হলে কি যন্ত্র হবে আমার বোঝা হয়ে গেছে। আমি ছোটো বেলায় বাবা মায়ের মুখের উপর কথা বলতে পারতাম না। আর এখনকার বাচ্চাদের  কে দেখো.....।"



অজিত বিয়ে করেছে  এই আট বছর হল। চাকরী পাওয়ার পরের বছরেই বিয়ে। মেয়ে  আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। মায়ের পছন্দের মেয়ে। তার ছোটো বেলার বান্ধবী নিলীমার মেয়ে। বিয়ের আগে বেশ লাজুক ছিল পৌলমী।  ছোটো ছোটো করে নরম সুরে কথা বলতো।  কিন্তু বিয়ের পর নরম সুর উলটে গরম হয়ে  গেল। তারপর বছর দু'য়েক ঘুরতেই রুনু কোলে  এল। অজিতের একটাই সন্তান। রুনু হওয়ার আগে পৌলমী পয়সা নিয়ে টস করতো-হেড পড়লে ছেলে আর টেল পড়লে মেয়ে। বা, কখনো নিজের দু'টো আঙুল অজিতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলতো,-" একটা আঙুল ধরো। দেখি মেয়ে না ছেলে হয়।" এই ভাবে আশি শতাংশ ছেলে হওয়ার চান্স ছিল। কিন্তু ভাগ্য মন্দা। শেষে ফুটফুটে চাঁদপানা মেয়ে হল। কিন্তু সেই মেয়ে যে এরকম মায়ের বিপরীত হবে সেটা পৌলমী নিজেও বুঝতে পারে নি। অবশ্য বোঝাও যায় না। অজিতের মেয়ে রুনু,খুব যে বড় তা নয়। বছর ছ'য়েক বয়েস। বা, তার একটু বেশি ও হতে পারে। ক্লাস ওয়ানে পড়ে।

মেয়ের কথায় রাগে গজগজ করে পৌলমী। বৌ কে সামলাতে না পেরে এবার মেয়ের কাছে যায় অজিত। তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,-" ওরকম করতে নেই রুনু সোনা। তোমার মা হয় না!"
মাথা থেকে বাবার হাত সরিয়ে দিয়ে রুনু বলে,-" তুমি মা কে কিছু বলো না। সবসময় আমাকে বলো। মা, সারক্ষন আমাকে বকে। পচা মা একটা....।"
বউ এর দিকে তাকায় অজিত। কটমট দৃষ্টি পৌলমীর। চোখ সরিয়ে নেয় সে। মেয়ের দিকে  ফিরে বলে, -"ওরকম বলতে নেই রুনু। তোমাকে আজ ঘুরতে নিয়ে যাব। চকলেট কিনে দেব।"
এবার বাবার গলা জড়িয়ে রুনু। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,-" বাপি, এটা পচা মা। খালি বকতে জানে। তুমি এই মা কে বাড়ি থেকে বের করে দাও। আমি তোমার জন্যে অন্য আরেক টা নতুন মা এনে দেবো।"
অজিত অসহায় এর মতো বউ এর দিকে চোখ ফেরায়। চোখ -মুখ লাল হয়ে ওঠেছে পৌলমীর। এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না। পিছন ঘুরে  লম্বা লম্বা পা ফেলে সোজা কিচেনে ঢুকে যায়। কোন দিকে যাবে অজিত? বউ এই অভিমান ভাঙাতে আজ তার সারা রাত লাগবে, সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে। অভিমানের কথা মনে পড়লে,অজিতের কাপালে ঘাম জমে। মাথা দপ দপ করে। সেবার অফিস থেকে ফেরার পথে একটা মিষ্টির প্যাকেট এনেছিল অজিত। প্রতিদিনই কিছু না, কিছু আনে। আনতে হয়, নইলে সেদিন ঘরে জায়গা হয় না। জায়গা হয় ডাইনিং রুম বা, ঘরের বারান্দায়। পৌলমী ব্যাগ থেকে মিষ্টির প্যাকেট টা হাতে নিতেই, রুনু  ছুটে এসে কেড়ে নেয়। কেউ ছাড়বার পাত্র নয়। অবশেষে লড়াই এ নেমে পড়ে অজিত নিজেই। নিজে হাতে মিষ্টির প্যাকেট টা খুলে বউ কে এক পিস, আর মেয়ে কে দু'পিস মিষ্টি তুলে দেয়।
-" ও কেন প্রতিদিন বেশি নেবে?" প্যাকেট থেকে আরও দু'পিস মিষ্টি তুলে নেয় পৌলমী।
মেয়ে ও কেন ছাড়বে? মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,-" তুমি কেন বেশি নেবে? আমার বাবা এনেছে,  আমি বেশি নেব।"
-" আমার বর এনেছে, আমি ই বেশি নেবো।" অজিতের হাত থেকে মিষ্টির প্যাকেট টা নিজের কাছে নিয়ে নেয় পৌলমী। অসহায়ের মতো, একবার মেয়ের দিকে একবার বৌ এর দিকে তাকায় সে। সেই রাতে কিছু খাই নি রুনু। ঘুমাই ও নি। সেই রাগ, অভিমান ভাঙাতে, অজিতের  নিজের  ঘুম উড়ে গিয়েছিল।
যন্ত্রনা!  এটা যন্ত্রনা ছাড়া আর কি? এরকম একটা বউ আর মেয়ে থাকলে, সেই বাড়ির পুরুষ মানুষের যে কি হাল হয়- সে একমাত্র অজিত বোঝে। বউ এর হয়ে কথা বললে মেয়ে মুখ করে ভার। আবার মেয়ের হয়ে কথা বললে, বউ মুখ করে ভার। কোন নৌকায় পা দেবে? কারো সাথে কারোও পড়ে না। মাঝে মাঝে অজিতের ইচ্ছে,  চুপ করে অন্য দিকে চলে যেতে। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয় না দু'টো কারনে। প্রথমত, মেয়ের মুখ টা দেখলেই,তার মনে একটা প্রশান্তি আসে। আর দ্বিতীয়ত, রাতে পৌলমীর গায়ের উপর হাত না রাখলে ঘুম আসে না।


আজও যে তার জন্যে নতুন কি ঘটনা অপেক্ষা করছে, সেটা নিজেও জানে না অজিত। সাঁতরাগাছি  থেকে বাসে কলকাতা আসতে আসতে সেটাই ভাবছে সে। মেয়ের গল্পে মন নেই। এদের দু'জন কে এক সাথে শপিং করতে নিয়ে আসা মানে, গায়ে অ্যাটোম বোম বেঁধে ঘোরা। যে কোনো মুহুর্তে রাগা রাগি করে ব্লাস্ট ঘটাতে পারে। বউ আর মেয়ে কে এক সাথে নিয়ে খুব একটা শপিং এ বের হয় না  অজিত। কারন, এদের হাজার টা জিনিষ দেখালেও, কোনোটাই পছন্দ হয় না।  খুঁতখুঁতানি থেকে যায়। এই ব্যাপার টা খুব বিরক্তি লাগে তার। তাই মাসের শেষে বউ এর হাতে টাকা দিয়েই কেটে পড়ে। বউ ও খুশ, সে নিজেও খুশ। কিন্তু সামনে এখন পূজা। তাই তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেই হচ্ছে। কিছু দিন আগেই হাওড়া থেকে পূজোর নাম করে এক দফা কেনা কাটি হয়ে গেছে। কিন্তু কলকাতায় এসে, একবার শপিং না করলে, পূজো পূজো বলে মনে হচ্ছে না পৌলমীর। তাই সেই জন্যেই  কলকাতায় আসা।

বাস থেকে ধর্মতলায় নামে তিন জন। একটা বড় দোকানে ঢোকে। ঠান্ডা ঘর। চারপাশে রঙিন   আলো। অজিত চারিপাশে তাকায়। আজও  ভালোই খসবে। তা খসে খসুক, শুধু ভালোয় ভালোয় সব মিটে গেলেই হয়। পৌলমীর দিকে তাকিয়ে অজিত বলে,-" এই তুমি কি কি নেবে নিয়ে তাড়াতাড়ি নিয়ে নাও। আর রুনুর জন্যে  কিছু পছন্দ করে দাও।"
-"অত তাড়াহুড়ো করো কেন গো? সব কিছুতেই তোমার তাড়া হুড়ো।" শাড়ীর কালেকশানে মন  দেয় পৌলমী।

চুপ করে যায় অজিত। যা পারে করুক গে। তার অত মাথা ব্যাথা কেন! সে তো শুধু টাকা   দেবে ব্যাস! অনেক দেখাদেখির পর দুটো শাড়ী  পছন্দ করে পৌলমী। আর মেয়ের জন্যে একটা   দামি ফ্রক। অজিত একটা হাঁফ ছাড়ে। যাক!   ভালোয় ভালোয় সব মিটে গেল।
পকেট থেকে ক্রেবিট কার্ড টা বের করতে যাবে,  ঠিক তখন রুনু বলে,-" বাপি, আমার আরও  দু'টো ড্রেস চাই।"
-" কেন মা? " নরম গলায় বলে অজিত।
-" মা, দুটো নেবে, আর আমার একটা?"
পৌলমী চোখ পাকায় মেয়ের দিকে।-" কেন রে, আগের বার তো তুই বেশি নিয়েছিলিস। আমি কিছু বলেছিলাম?"
-" আ! ছাড়ো না, বাচ্চা মানুষ নিতে চাইছে, নিক না।" অজিত পৌলমীর দিকে তাকায়।
-" আচ্ছা,নাও।  আমার লাগবে না।" ব্যাগ রেখে দেয় পৌলমী।
-" কি হচ্ছে টা কি?..ছেলে মানুষি করো না প্লিজ! দোকানের ভিতর সবাই দেখছে।" বলে অজিত।
-" বললাম তো,  আমার লাগবে না।" মুখ গুমরে একপাশে দাঁড়ায় পৌলমী।

যে ভয় টা পাচ্ছিল, ঠিক সেটাই হল। ছেলেমানুষি কোনোদিন যাবে না এদের। অবশেষে অনেক  বুঝিয়ে দু'পক্ষকেই সমান সংখ্যক ড্র্রেস দিয়ে তুষ্ট  করতে হল। শুধু বাড়তি বলতে পৌলমীর এক  জোড়া জুতো। রুনু আর না করেনি। কিছুদিন  আগেই সে জুতো নিয়েছে।তাই কিছু বলতে পারেনি।
টাকা মিটিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে ধর্মতলার মোড়ে আসে তিন জন। দাঁড়িয়ে থাকে। সাঁতরাগাছি যাওয়ার অনেক বাস পাওয়া যায় এখান থেকে। একটা বাস চলে যায়। কিন্তু ভিড় দেখে পৌলমী না করে। অজিত বলে,- এই তোমরা কিছু খাবে?"
-" বাপি, আমি ফুচকা খাব।" রুনুর আবদার।
-" আচ্ছা, চলো সব্বাই মিলে ফুচকা খাব আজ।" মেয়ের হাত ধরে অজিত। তারপর পৌলমীর  দিকে তাকিয়ে বলে,-" চলো, দাঁড়িয়ে কেন?"
-" আমি ফুচকা খাব না।"  পৌলমী উত্তর দেয়।
-" কি খাবে তবে? "
-" চাউমিন।"
চারিপাশে একবার তাকায় অজিত। চাউমিনের স্টল দেখতে পায় না। পৌলমীর  দিকে তাকিয়ে বলে, -" চাউমিন তো এদিকে নেই। ওই দিক টাতে পাওয়া যাবে।....আচ্ছা তুমি  ব্যাগ গুলো নিয়ে দাঁড়াও, আমি রুনু কে ফুচকা খাইয়ে আনি।"

ফুচকা খেয়ে এসে, অজিত দেখে পৌলমী একভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বউ এর হাত থেকে  ব্যাগ গুলো নিজের হাতে নিয়ে বলে,-" চলো, চাউমিন খাবে।"
-" আমি হেঁটে যেতে পারবো না অতদুর। আমার বুঝি পা ব্যাথা করে না?" পিছন থেকে অজিতের হাত ধরে টানে রুনু।
-" একটু খানি পথ রুনু।" বলে অজিত।
-" না, আমি পারবো না হাঁটতে। মা, এখান থেকে ফুচকা খেতে,পারেনি।" রাস্তার উপর বসে পড়ে রুনু।
পৌলমীর দিকে তাকায় অজিত।-" কি বলবো বলো। আচ্ছা চলো, বাস থেকে নেমে বিরিয়ানি  নিয়ে নেব।"


টোল ট্যাক্স।..সাঁতরাগাছি!........ সাঁতরাগাছি!  ধূলাগড়...একটা বাস এসে থামে। কনডাক্টর হাঁকে।
-" কিছু নিতে হবে না। বাড়ি চলো।" পৌলমী বাসের দিকে এগিয়ে যায়। একটা সিটে বসে  পড়ে। পিছন পিছন অজিত ব্যাগ আর  মেয়েকে নিয়ে ওঠে। সারা রাস্তায় কোনো কথা বলে না  পৌলমী। নিশ্চুপ। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে  থাকে। বাকসাড়া গেটের কাছে  বাস থামতেই  নেমে পড়ে তিনজন। ধুলো উড়িয়ে বাস চলে  যায়। দু'পা এগিয়ে গিয়ে পৌলমীর কে উদ্দেশ্য  করে  অজিতেশ বলে,-"  এই, ব্যাগ টা ধরো। আমি দু'প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে আসি।"
-" না, কিছু লাগবে না। কিছু নিতে হবে।" পৌলমীর অভিমানী গলার স্বর।
পাশ থেকে মেয়ে বলে,-" বাপি, তুমি নাও তো। মার খেতে হবে না। আমি আর তুমি খাব।"
কারও অপেক্ষা না করে,  গট গট করে সামনের দিকে হাঁটা লাগায় পৌলমী। এখান থেকে বাড়ি   বেশি দুর না। মিনিট দ'শেকের পথ। অজিত  তাড়াতাড়ি দু'টো বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে,পয়সা মিটিয়ে দিয়ে মেয়ে কে সাথে করে বউ এর  পিছনে হাঁটতে শুরু করে।  আজ যে কি হবে, সেটা আগে থেকে কিছুটা আন্দাজ করতে  পারছে অজিত। কি করে এই অভিমান ভাঙাবে? অজিত জানে, এর একটা এফেক্টস রাতের বিছানায় গিয়ে পড়বে। সেটা আবার তার পক্ষে সুখকর নয়।


বাড়ি ফিরেও কথা বলে নি পৌলমী। বিরিয়ানি ও খায়নি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে। মেয়েকে শুইয়ে দিয়ে বউ এর পাশে গিয়ে দাঁড়ায় অজিত । ঘাড়ে হাত রাখে। হাত সরিয়ে দেয় পৌলমী। অজিত বলে,-" কেন এরকম ছেলে মানুষি করো তুমি? খেয়ে নেবে চলো।"
-" খিদে নেই। যাও এখান থেকে।"
-" এরকম করো না। তোমরা দু'জন মিলে যদি এরকম করো,আমি কোথায় যাই বলো তো!"
-" তুমি আর এখন আমাকে আগের মতো ভালোবাসো না।"
-"কি!"
-" কিছু না।" পৌলমী ঘরে ঢুকে যায়। বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে। রুনু এখনো জেগে আছে। ঘুমোয়  নি। মেয়ের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে অজিত।  মাঝ খানে রুনু। তার ওপাশে পৌলমী কাত হয়ে  অন্য দিক ফিরে শুয়ে আছে। ভাল লাগে না  আর। মাথাটা দপ দপ করতে শুরু করেছে।  বিরক্ত হয়ে অজিত লাইট বন্ধ করে দেয়। রুনু  বাবাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মেয়ের মাথায়  হাত বুলিয়ে দেয় অজিত।

ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায় অজিতের। চোখ খুলে তাকায়। কাচের জানালা ভেদ করে বাইরে  দিয়ে আবছায়া আলো প্রবেশ করেছে। সেই আলোয় সে দেখতে পেল, রুনু কে জড়িয়ে শুয়ে আছে পৌলমী। দিনের আলোয় সমস্ত অভিমান রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।


স্বদেশ কুমার গায়েন ( ডিসেম্বর, ২০১৬)

No comments

Powered by Blogger.