আমার ও একটা ভালবাসার গল্প আছে ~ ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


                       



(১)

সন্ধ্যায় অফিস থেকে ঘরে ফিরতেই বিভানের মাথা গরম হয়ে গেল।কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে, খাটের উপর ছুঁড়ে ফেলে বলল,–"শালা!খোলস ছাড়া সাপের মতো,নেতিয়ে পড়ে আছিস কেন? যাওয়ার সময় যেরকম দেখলাম,এসেও সেই একই অবস্থা। টয়লেট গেছিস বলে তো মনে হয় না! বাইরে টা একবার বেরিয়ে দেখ!"
মাথাটা এখনো ঝিম ঝিম করছে।
শরীর যে শিকড় কাটা গাছের মতো দুর্বল হয়ে পড়েছে সেটা বেশ বুঝতে পারছি।তবে জ্বর টা কমেছে,এটাই মঙ্গল। গত তিন দিন ধরে রাতে নিয়ম করে,সময় মেনে জ্বর আসছে।আর সারা দিনটা ধরে তার রেশ টেনে চলছে।একটু উঠে বাইরে গিয়ে দাঁড়াবো সে ক্ষমতা ও নেই।ডাক্তার বাবু ব্লাডটেস্ট,নাড়ি টিপে দেখে বলেছিলেন,–" না,তেমন কিছু সিরিয়াস নয়।এরকম মাঝে মাঝে হয়।আর এসব জিনিষ ওষুধের থেকে,মনের জোরে সেরে যায় বেশি।"
তারপর এত ওষুধ দিলেন যে, ওষুধের চাপে এখন মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু হয়েছে।ছোটো বেলায় একবার যেন শুনেছিলাম,মনের জোরে অনেক সময় রোগ তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়।কিন্তু আমার মন কোথায়?জোর কোথা থেকে পাব?কে দেবে?

–"কি বে! পটল তুললি নাকি?চুপ চাপ পড়ে আছিস?তোর বাড়িতে খবর দেব?" আমার চুপ করে থাকা দেখে,বিভান আবার বলে উঠলো। ওর কথা–বার্তাই এরকম।আমি কিছু মনে করি না,ওর এই সব কথায়।এক সাথে অনেক দিন আছি।বন্ধুর মতো হয়ে গেছে।আমি একটু হেসে, উঠে বসলাম।দেওয়ালে পিট ঠেকিয়ে বললাম,–"ধুর! এখন একটু সুস্থ্য আছি।"
–"থাকলে ভাল।তবে সারাদিন ঘরে না পড়ে থেকে,বাইরে থেকে তো ঘুরে আসা যায়।মন টা ফ্রেশ হয়।" বিভান ছোটো করে জ্ঞান ঝাড়লো।
আমি পাশের জানালা দিয়ে,চোখ টা বাইরে রাখলাম।কোয়ার্টারের এই জানলা দিয়ে সামনের অনেক টা খোলা আকাশ দেখা যায়। থালার মতো চাঁদ ভেসে আছে আকাশে। আজ কি পুর্নিমা?জানি না,হবে হয়তো। নইলে এত বড়, গোলাকার চাঁদ কেন দেখা যাবে?কবে পুর্নিমা আর আর কবে অমাবস্যা কেটে যায় তার কোনো খোঁজ থাকে না আমার কাছে।আমি খোঁজ ও রাখতে চাইনা। জোছনালোক ডানা মেলেছে বাইরের বকুল গাছটিতে। যেন জোছনা বৃষ্টি নেমেছে।
অদ্ভুত সে দৃশ্য! মায়াময়,কল্পলোক।
কিন্তু আমার এসব ভাল লাগে না কেন? জানি না আমি। সেই ঈষৎ,স্বচ্ছ,মায়াবী আলোর দিকে তাকিয়ে বললাম,–"বিভান, জ্বর হলে মানুষ মরে না কেন?"
ফোন টা কানে ধরে,চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেছিল বিভান। আমার কথায় কান থেকে ফোনটা নামিয়ে বলল,–"আবে,ক্যালানে! মরার ইচ্ছে হলে, যা না সামনে রেল লাইন আছে।সেই কবে থেকে বলছি একটা প্রেম কর,–শরীর,মন এক ঝটকায় সব ভাল হয়ে যাবে।তা নয়– শুধু 'কিছু ভাল লাগে না'..'কিছু ভাল লাগে না' এক গান গেয়েই চলেছে।কেন কাঁচা গালাগালি শুনতে চাইছিস সন্ধ্যাবেলা?"
মনে মনে আমার হাসি পেল।আর বেশি কথাও বাড়ালাম না।কারন ওর খিস্তি শুনলে,আমার আবার জ্বর আসতে পারে।

(২)

অফিস থেকে অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়ে ছিলাম। ডাক্তার ফিট সার্টিফিকেট দেওয়ার পর, আজ আবার কাজে জয়েন করেছি । সেই বিরক্তিকর কাজ সারক্ষন। তবুও করতে হয়। অনেক কিছু মানুষের ভাল লাগে না, তবুও বাধ্য হয় সেটা করতে।আমিও তাই করি।
অনেকদিন পর আজ রাতে ফোনটা হাতে নিয়েছি।এত দিন,আমার অসুস্থতার কারনে ফোনটা রেস্টে ছিল।এক ঘন্টা হয়ে গেল,বিভান ডিউটি চলে গেছে।এ সপ্তাহ পুরোটাই ওর নাইট ডিউটি।তাই ঘরে আমি একাই।ঘুম আসে না।চুপ চাপ শুয়ে থাকি।লাইট টা অফ করে।
ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুক টা অন করলাম। অনেকদিন করিনি।প্রায় শ'দুয়েক এর কাছাকাছি নোটিফিকেশন।কিন্তু সব থেকে বেশি অবাক হলাম, একটা মেয়ের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখে।মেয়েটির নাম সুহানা। প্রোফাইল পিকচার টা বার কয়েক এবং টাইমলাইন টা চেক করে বুঝলাম মেয়েটি নকল নয়। দেখতে মন্দ নয়,সব থেকে ভাল হাসি টা।ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করার পাঁচ মিনিট পর ম্যাসেজ এল।
–"হাই! আমি,সুহানা।কেমন আছেন?"
আমি অবাক হয়ে গেলাম।মেয়েটি এমন ভাবে কথা শুরু করল,যেন আমার অনেক দিনের চেনা।আমার অসুস্থতার খবর জানে।
–"মোটামুটি।আপনি?"
–"আমিও আপনার মতো।"
–"আপনি আমাকে চেনেন?"
–"না। প্রথমে তো সবাই অচেনাই থাকে,তারপর ধীরে ধীরে চেনা হয়ে যায়। তাই না?"
মেয়েটি হয়,বুদ্ধিমতী,নইলে খুব দারুন কথা বলতে পারে! চটপটে।
–"হুম।"
–"আপনার আসল নাম কি সুজয়?"
–"হুম।"
–"আপনি বুঝি,হুম ছাড়া আর কিছু বলতে পারেন না?"
হাসি পেল আমার।মুখে নয়,মনের ভেতর টা হেসে উঠল।
–"না। পারি তো।"
–"তবে, বুঝতে পারছি,আপনি খুব কম কথা বলেন।"
–"ঠিক ধরেছেন। প্রথম প্রথম একটু অচেনা মেয়ের সাথে কথা বলতে অসুবিধা হয়।"
–"তাই বুঝি! তবে চেনা হয়ে গেলে খুব কথা বলবেন?"
–"হয়তো বলবো।"
একটা হাসির স্টিকার সেন্ড করলো মেয়েটি। আমার ও খুব ভাল লাগছে। এরকম ভাবে কোনো মেয়ে,কখনো আমার সাথে কথা বলেনি।
–" হ্যাঁ! বলবেন। এবার ঘুমান। অনেক রাত হল।"
–"আমার ঘুম আসতে চায় না।"
–"সে কি! আপনার ও ঘুম আসে না! তাহলে তো আপনি আমার দলে।"
–"মানে?"
–"মানে,আমার ও ঘুম পায় না।"
–"কেন?"
–"উঁহু! বলা যাবে না।একদিনে সব জেনে নেবেন?"
আমার আবার হাসি পেল।কি দারুন কথা লিখে পাঠাচ্ছে মেয়েটি!
–"তাহলে কাল আবার কথা হবে তো?"
–"হ্যাঁ,হবে।তবে 'আপনি'করে বললে,কথা হবে না,'তুমি' করে বলতে হবে।"
–"ও.কে.।তুমি বলবো।"
শুভরাত্রি জানিয়ে ফেসবুক টা লগ আউট করে দিলাম।মনটা এক অদ্ভুত ভাললাগায় ভরে উঠল।আজ যেন খুব ঘুমোতে ইচ্ছে করছে।

(৩)
সকাল বেলা ঘুম ভেঙে দেখি, বিভান চলে এসেছে। অনেক আগেই এসেছে।আমাকে ঘুমোতে দেখে ডাকেনি বোধ হয়।চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বলল,–"কটা বেজেছে খেয়াল আছে,অফিস যাবি না?"
ধড়ফড় করে উঠে বসে ঘড়ির দিকে তাকাই। সাড়ে সাত টা! আজ এতক্ষন ঘুমালাম! গত এক বছর আমি এরকম ঘুমাই নি।আমার পরিষ্কার মনে আছে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অফিসে বেরিয়ে পড়লাম।মেয়েটির কথা মনে পড়ল। সে আমার ঘুমের কারন নয় তো?
সারাদিন বেশ ভালোই কাটলো।রাতে বিভান ডিউটি চলে যেতেই, আবার ফেসবুক টা অন করলাম। ঠিক এগারোটার সময় মেয়েটি অন হল।
–"হাই! সুহানা।"
–"হাই!বলো।কি করছো?"
–"কিছু না।তবে এবার করবো!"
–"কি করবে?"
–"তোমার সাথে কথা বলবো।"
–"ওহ!আমার সাথে কথা বলতে ভাল লাগে তোমার?"
–"খুব ভাল লাগে।"
–"আমারও খুব ভাল লাগে।"
–"সুহানা!"
–"বলো। কিছু বলবে? "
–"সুহানা,কি করো তুমি?
–"ওই,বার বার আমার নামটা টাইপ করছো কেন?ভাল লাগছে তোমার?
–"হুম! খুব ভাল লাগছে।"
–"হা হা হা! তাই বুঝি?আমি চাকরী করি, তাই শুধু রাতে কথা বলার সময় পাই।এবার ঘুমিয়ে পড়,অনেক রাত হল।"
–"জানো,কাল রাতে একটু ঘুমিয়ে ছিলাম। কতদিন এমন ঘুমোয় নি!"
–"হে হে হে। আচ্ছা আজ ও ভাল করে ঘুমাও।"
–"আরেকটু কথা বলো,না প্লিজ!"
–" কি পাগলামো হচ্ছে! আজ আর নয়।কাল আবার বলবো,কেমন।"
–"ও.কে।"
ফোনটা বালিশের পাশে রেখে,বাইরে তাকালাম। বাইরের নিস্তব্দতা,ছুটে আসছে আমার দিকে। আমিও অজানা,স্বর্গীয়,ভাল লাগায় নিস্তব্দ হয়ে যাচ্ছি।
এরপর বেশ কিছু দিন কেটে গেছে। আমি একটু একটু করে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছি।একটু একটু করে ভেসে যাচ্ছি সুহানার কাছে।

(৪)

আমাদের দু'জনের এই ভার্চুয়াল সম্পর্ক মাস খানেক কেটে গেছে। এখন রোজ কথা হয় আমাদের।
একদিন অফিস থেকে ফিরে বিভান কে বললাম, –"ভাই,দীঘা যাচ্ছি,রোববার।"
বিভান বিষম খেল।খাওয়া থামিয়ে এক ঢোক জল খেয়ে বলল,–"তুই! ...দীঘা!....বলিস কি রে?
–"একটু ঘুরে আসি।মন টা যদি পরিবর্তন হয়!"
–"বেশ,বেশ।যাক মতি গতি ফিরেছে, এটাই অনেক।কিন্তু ব্যাপার টা ঠিক বুজলাম না। আজকাল,চেহারায় একটা জেল্লা এসেছে। ফুরফুরে মন, হঠাৎ দীঘা!.......।"
বিভান আরও কিছু বলছিল।আমি হেসে ব্যাপারটা থামিয়ে দিলাম।

মনটা ছটফট করতে লাগলো, কখন রবিবার আসবে? আর আমি কখন দীঘা যাব। অবশেষে রবিবার এল আর আমিও ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
লাল সালোয়ার কামিজ পরে আছে সুহানা। প্রজাপতির মতো লাগছে। হাসি তে যেন আগুন ঝরছে। এ আগুনে পুড়ে মরে ও অনেক শান্তি। সেদিন বলেছিল,ও রোববার দীঘা বেড়াতে আসছে বন্ধুদের সাথে।
আমি যেখানে থাকি,সেখান থেকে দীঘা বাসে ঘন্টা দু'য়েক লাগে।তাই সুহানা কে দেখতে আমার হঠাৎ দীঘায় আগমন।খুব বেশি কথা হল না।সামন্য দু'য়েক টা কথা।একটু দেখা শুধু। তবুও আজ খুব ভাল লাগছে। কেন এত ভাল লাগছে? এ ভাল লাগার কাছে,সমুদ্রের তরঙ্গমালা, ঝাউবনের আড়ালে সূদুর নীল জলরাশি,দিগন্ত রেখার উপর সূর্যাস্তের লাল রঙ ও ফ্যাকাসে হয়ে পড়েছে।
সুহানা, তার ফোন নাম্বার টা দিয়েছে।পরদিন রাতেই ফোন করলাম। বিভান ঘরে নেই।ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছে।ফোনটা কেটে দিয়ে কল ব্যাক করলো সুহানা।
–"হ্যালো!"আমি বললাম।
–"কেমন আছো?"খিল খিল করে হাসলো সুহানা।ঝর্নার মতো ঝরঝরে হাসি।
–"ভালো। তুমি?"
–"আমিও।তোমার মতো ভাল।"
কিছুক্ষন নিস্তব্দ।আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না।সেই নির্জন, নিস্তব্দতা কে ভেঙে,সুহানা কথা বলল।
–"এত চুপ চাপ কেন?"
–"সুহানা,আজ আমার সাথে সারা রাত কথা বলবে?"
–"এ বাবা! কেন?"
–"বলো তুমি,বলবে তো?"
–"কি পাগলামো হচ্ছে,সুজয়!"
সুজয়! সুহানা আমার নাম নিল!
মনের ভেতরটা যেন তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে।ঝড় উঠবে এখুনি।আমি উড়ে যাব খড়কুটোর মতো, সেই ঝড়ে।
–"সুহানা,আমার নামটা আরেক বার বলবে? প্লিজ! প্লিজ!"
–"পাগল একটা! আচ্ছা, সুজয় .... সুজয়.. সুজয়।ভাল লেগেছে?"
–"খুববব...বব!"
তীব্র খরার পর,এক পশলা বৃষ্টি মাটির বুকে যেমন তৃণের জন্ম দেয়, তেমনি আমার বুকে ও একটা ভালবাসা জন্ম নিয়েছে।
–"সুজয়,এবার ঘুমিয়ে পড়,।"
–"তুমি খুব ভাল।"
আবার খিল খিল হেসে উঠল সুহানা।যেন গাছ থেকে সবুজ পাতা ঝরে ঝরে পড়ছে।
–"সুজয়,তুমিও খুব ভাল।এবার ঘুমাও।"
রাতে স্বপ্ন দেখলাম।সুহানার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি।সারা রাত অনেক গল্প হল।অনেক কথা।যার কোনো শেষ নেই। ভোর রাতে,সেই স্বপ্নের শেষ হল।


(৫)

এখন আমার আকাশের চাঁদ ভাল লাগে।
জোছনালোকে স্নান করতে ভাল লাগে। আর তার সাথে সুহানার কথা ভাবতে।অনেক কথা হয় দুজনের,মনের কথা,মন খারাপের কথা, ভাললাগার কথা।অনেক কিছু।

আজ মনটা খুব খারাপ।মাঝে মাঝে আমার এরকম হয়।তখন শুধু মরে যেতে ইচ্ছে করে। বিভান থাকলে তবু একটা কথা বলার সঙ্গী পাই। কিন্তু ও না থাকলে,নি:সঙ্গতা যেন অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরতে চায়।রাতে ফোন করলাম। সুহানা, ফোনটা রিসিভ করে ফেসবুকে অন হতে বলল।পাশে তার মা বসে গল্প করছে,তাই কথা বলা যাবে না। অগত্যা ফেসবুকে অন হলাম।
সুহানার ম্যাসেজ এল।
–"কি করছো?"
–"কিছু না।শুয়ে পড়েছি। তুমি?
–"আমিও এই খেয়ে,শুয়ে পড়লাম। এতক্ষন মা পাশে ছিল।"
–"জানো,আজ আমার মন টা খুব খারাপ লাগছে।কিছু ভাল লাগছে না"
–"কেন? কি হল,আবার!"
–"জানি না। মাঝে মাঝে আমার এমন হয়। আচ্ছা সুহানা, পৃথিবীতে প্রতিদিন কত ভাল মানুষ মারা যায়, তাদের কাউকে বাঁচিয়ে রেখে, ঈশ্বর আমাকে মেরে দিতে পারে না! তাহলে তো এ পৃথিবীর ভাল হয়।"
–"আবার তুমি মরার কথা বলছো? মার খাবে, কিন্তু। "
কিছুক্ষন পর,সুহানা একটা ফোটো সেন্ড করল। ওর নিজের ফোটো। আমার বুকের ভেতর টা ধড়াস করে উঠল।ভাসা ভাসা চোখ।পাতলা ঠোঁটে, একটা স্মিত হাসি লেগে আছে।আমি ম্যাসেজ টাইপ করলাম।
–"সুহানা,এত সুন্দর কেন তুমি?তোমাকে দেখলেই আমার মরার ইচ্ছে টাই চলে যায়।"
–"হা হা হা হা।এবার থেকে যখন, তোমার মন খারাপ করবে, মরে যাওয়ার কথা মনে উঠবে তখন আমার ছবিটা দেখবে।"
আমার যে কত,ভাল লাগছে সেটা ভাষায় বর্ননা করতে পারলাম না।
–"সুহানা,তোমার সাথে আমাকে রাখবে সারা জীবন?"
ম্যাসেজ টা টাইপ করে থতমত খেয়ে গেলাম। বেশ কিছু সময় পর সুহানা লিখলো,
–"না,রাখবো না।"
–"কেন? খুব ভালবাসবো তোমায়।"
–"হি হি।আমার ইচ্ছে, তাই আমি রাখবো না।"
–"ওহ!"
–"পাগল একটা।এবার ঘুমাও।কাল আবার কথা হবে।"
–"হুম।"
–"আবার সেই হুম? মন খারাপ হয়ে গেল? এরকম মন খারাপ করে থাকলে,ভালবাসবো না কিন্তু।আর কখনো মন খারাপ করবে না।"
পাশের বকুল গাছ থেকে একটা রাত জাগা পাখি ঝটপটিয়ে উঠল।দূর থেকে গন্ধরাজের সুবাস ভেসে এল জানালায়।আর একটা ভাললাগা, ভালবাসার তাপে আমার শরীরটা পুড়ে পুড়ে যেতে থাকল।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

No comments

Powered by Blogger.