লিপস্টিক ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


(১)
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি,রাই এর চোখে জল। ঠোঁট ফুলিয়ে বসে বসে কাঁদছে। হঠাৎ বৃষ্টির  মতো হঠাৎ কান্না। আমি উঠে ওর পাশে বসে,  আনাবৃত কাঁধে হাত রাখতেই,রাই সাপের মতো  ফোঁস করে উঠল।
-"আমার গায়ে আর কোনোদিন টাচ করবে না তুমি।"
এ কি হল রে! কাল থেকে তো ভালোই ছিল।  রাতে আদর করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল।  আর ঘুম থেকে উঠতেই এ কেমন ব্যবহার!
আমি শান্ত সুরে,ওর থুতনি ধরে আদুরে গলায়  বললাম,-"কি হয়েছে,বাবু?"
আমার মুখে 'বাবু' শুনলেই মাঝে মাঝে রাই এর  রাগ চলে যায়। তাই বললাম।এক ঝটকায়  আমার হাত সরিয়ে দিল রাই। বলল,-"তোমার  সাথে কথা বলতে জাস্ট আমার ঘেন্না করছে।  রাতে কোথায় গিয়েছিলে তুমি?"
না,ব্যাপার টা মোটেই সুবিধার নয়। এরকম তো আগে কোনোদিন ঘটেনি।খুবই সিরিয়াস।আমি অবাক হয়ে বললাম,-"কি হয়েছে সেটা বলবে তো?রাতে কোথায় যাব আবার,তোমার কাছেই তো ছিলাম।"
-"আমার কাছে ছিলে! না, এই হোটেলে তোমার প্রাক্তন প্রেমিকা ও উঠেছে?রাতে তার কাছে গিয়েছিলে?"রাই চোখ মুছলো।
ওর ফর্সা মুখ টা রাঙা হয়ে উঠেছে। অবশ্য রাগলে ও কে বেশ ভালোই দেখায়।কিন্তু এই মুহর্তে ব্যাপারটাতে ভালোলাগার মতো কিছু নেই।
-"ছি! ছি।এসব কি বলছো! সেসব পাঠ কবে চুকিয়ে দিয়েছি।"জিভ কেটে বললাম আমি।
-"চুকিয়ে দিয়েছো! তবে এটা কি করে হল?" রাই খাট
থেকে উঠে,টেবিলের উপর রাখা একটা ছোটো আয়না এনে আমার সামনে ধরলো। চমকে উঠলাম আমি। একবার চোখ রগড়ে নিলাম। না,ঠিকই দেখছি।এটা কখন,কিভাবে হল? বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে রাই এর দিকে চাইলাম আমি। রাই আয়না টা আমার মুখের সামনে থেকে সরিয়ে বলল,-"রাতে, আমার পাশে ছিলে তো,তোমার ঠোঁটে,গালে,কপালে লিপিস্টিক মাখা ঠোঁটের চিহ্ন কোথা দিয়ে এল? .....ইসস! ছি! আবার বুক, পেটের উপর....ছি! তুমি এতো নোংরা জানলে....।"
সন্ধ্যার পর থেকে গরম লাগছিল। তাই রাতে খালি গায়ে শুয়ে পড়েছিলাম।আমি চোখ নামিয়ে নিজের শরীরের দিকে তাকালাম। সত্যিই তো! হালকা গোলাপি রঙের ঠোঁটের চিহ্ন। কি বলবো এখন? নিজের চোখে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি।চিহ্ন গুলো জ্বলজ্বল করছে।কি করে মিথ্যে বলি!এরকম পাতলা,সরু লিপস্টিক মাখানো ঠোঁট মেয়েদের ছাড়া আর কাদের হবে! কিন্তু আমি তো রাতে কোথাও যায় নি!
রাই এর হাত ধরি আমি।-"বিশ্বাস করো রাই, আমি রাতে কোথাও যায়নি।তোমার পাশেই ছিলাম।মনে হয়, তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। রাতে হয়তো তুমিই লিপস্টিক মেখে....."
আমার কথা আর শেষ হল না।তার আগেই রাই গলার পারদ চড়ে গেল।-"আমি! তুমি কোনোদিন দেখছো,বিয়ের পর থেকে রাতে শোবার সময় ঠোঁটে লিপিস্টিক লাগিয়ে শুয়েছি?আর ভুল করে যদি লাগিয়ে ও থাকি,তবে আমার ঠোঁট থেকে সব উবে গেল?"
আমি রাই য়ের ঠোঁটের দিকে তাকালাম। পাতলা, ভেজা ভেজা ঠোঁট।এরকম সুন্দর সকালে কোথায় রাই য়ের ঠোঁটে চুমু খাব,তা নয় একটা কেচ্ছায় জড়িয়ে গেলাম। ওই ঠোঁট বোধহয়, আমার জন্যে সারা জীবনের মতো লক হয়ে গেল!
আমি আবারও হাত ধরলাম রাই এর।বলা ভালো, এই মুহর্তে আমার অবস্থা অনেকটা পায়ে ধরার মতো।-"আমার কথা বিশ্বাস করো, আমি কোথাও যাই নি।সারারাত তোমার কাছে ছিলাম। তোমায় নিয়ে একটা ভাল স্বপ্ন দেখলাম।..দু'জন মিলে শাল বনের ভিতর দিয়ে হেঁটে চলেছি। পায়ের নীচে শুকনো শাল পাতার খস খস শব্দ.....।"
কথা গুলো শেষ হল না।রাই,নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে খাট থেকে নেমে গিয়ে বলল,-"নিকুচি করেছে তোমার স্বপ্নের।রাতে যার কাছে গিয়ে লিপিস্টিক মেখেছো,তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখো।"
সত্যি বলতে বউ রাগ করলে, আমার মাথা তখন কাজ করে না। তাই এই লিপস্টিক কি করে এল, সেটা এই মুহর্তে ভাবতে পারছি না। কিন্তু রাই বিশ্বাস না করুক,আপনারা বিশ্বাস করুন,আমি রাতে কোথাও যাইনি।আর তাছাড়া ঘরে এমন সুন্দরী বউ থাকতে,কেউ অন্য কোথাও যায় নাকি!
বেশ কিছুদিন ধরে অফিসে কাজের চাপ যাচ্ছিল।কাজ গুলো এমন হয়,যখন থাকে না,তখন কিছুই থাকে না।আর যখন থাকে,তখন জামা-প্যান্ট পরার সময় হয় না।তাই কাজ-বাজ অনেকটা কমিয়ে, ভাবলাম একটু হ্যাঙ্গওভার কাটিয়ে আসি।রাই এ সময় ঘুরতে আসতে মোটেই রাজী ছিল না।আমিই জোর করে এনেছিলাম।গতকালই ভালো দামী দেখে,রাই এর পছন্দ মতো এই হোটেলে উঠলাম।আর এক রাত না যেতেই কি অবস্থা! সোফার উপর বসে আছে রাই।চোখ দু'টো মেঝেতে।আমি কি ওর পাশে গিয়ে বসবো?যদি আবার ফোঁস করে ওঠে! কিন্তু আমার কি দোষ বলুন!আমি কিছু ভাবতে পারছি না। এখন রাই কাছে না যাওয়াই ভালো। বরং ফ্রেশ হয়ে এসে,দেখা যাবে কিসে কি করতে পারি।বিছানা ছেড়ে উঠে বাথরুমে যেতেই কথাটা মনে পড়ল।রাতের দরজা খোলা ছিল না তো! আর সেই দরজা খুলে রাখার সুযোগ নিয়ে,কোনো বদ মেয়েছেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভাঙন ধরাতে এইসব করেছে।আমার ভাবনা টা মন্দ নয়।সঙ্গে সঙ্গে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে রাই কে বললাম,-"তুমি রাতে ভুল করে দরজাটা খুলে রাখোনি তো! হয়তো সেই সুযোগে কোনো বদ মেয়ে....।"
কথা শেষ হওয়ার আগেই রাই, দরজার দিকে তাকালো।আমিও পিছন মুড়লাম।দরজাটা এখনো বন্ধ আছে।আর কথা না বলে,মাথাটা নীচু করে,যে গতিতে এসেছিলাম সেই গতিতে আবার বাথরুমে গিয়ে ঢুকলাম।কি করে এমন হল! কে করলো এই কাজ?রাই নিজেই এসব করে মিথ্যে বলছে না তো! কিন্তু ওর মুখ দেখে মনে হচ্ছে না যে,ও দুষ্টুমি করছে।বরং অনেকটাই সিরিয়াস।বাথরুম এমন একটা জায়গা,যেখানে চিন্তা ভাবনা প্রসারিত হয়।মনের ভুলে কোনো জিনিষ কোথায় রেখেছেন খুঁজে পাচ্ছেন না, বাথরুমে গেলেই মনে পড়ে যাবে।অনেক সময় বড় বড় রহস্যের জট ও খুলে যেতে পারে। পনেরো মিনিট ধরে,জল,সাবান লাগিয়ে লিপস্টিকের দাগ গুলো তুলতে তুলতে ভেবেও এ রহস্যের উদ্ধার করতে পারলাম না আমি।
(২)
ঘড়িতে সাতটা বাজতেই দরজায় ঠক ঠক শব্দ হল।রাই খাটের উপর বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে। আমিই উঠে দরজা খুলে দিলাম। দরজা খুলতেই দেখি রুম বয়।সাদা সাদা দাঁত বের করে
দাঁড়িয়ে আছে।-"ব্রেকফাস্ট স্যার!" আমি তার হাত থেকে প্লেট গুলো নিয়ে,দুপুরের খাবার টি ও অর্ডার করে দিলাম।রাই এর প্রিয় খাবার। তারপর বললাম,-"এক ঘন্টা পর এসে প্লেট গুলো নিয়ে যেও।"
ছেলেটি মাথা নেড়ে চলে গেল।প্লেট গুলো সোফার পাশে ছোটো টেবিলের উপর রাখলাম। তারপর রাই এর কাছে গিয়ে বললাম,-"রাই, ব্রেকফাস্ট রেডি। তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।" রাই, কোনো উত্তর দিল না।সেই একই ভাবে বালিশে মাথা গুঁজে পড়ে রইল।পেটের মধ্যে খিদেতে চুঁই চুঁই করতে লাগলো।খিদে লাগলে আমি অপেক্ষা করতে পারি না।রাই এর অপেক্ষা না করেই খেয়ে নিলাম। রাই খেলো না।আমিও আর বিশেষ জোর করলাম না।আমার কি দোষ! আমি নিজের কাছে সৎ।যদি সেটাকেউ বিশ্বাস করতে না চায়,তবেআমি কি করতে পারি? পরোক্ষনে আবার এটাও মাথায় এল যে, চোখের সামনে এরকম দেখলে কোন মেয়েই বা বিশ্বাস করবে!
কিন্তু আমার কথার উপর তো একটা বিশ্বাস থাকা উচিত। এক ঘন্টা পর রুম বয় এলো। আমার প্লেট টা দেখিয়ে বললাম,-"ওটা নিয়ে যাও।এটা থাক।" ছেলেটি প্লেটের দিকে না তাকিয়ে রাই এর দিকে তাকালো।তারপর হাসলো। আমার মনে হল,হাসিটা দেখতে খুব রহস্যজনক।হাসি এমন একটা জিনিষ যেটার মাধ্যমে মনের কথা বলে দেওয়া যায়।ছেলেটির হাসি সেইরকম কিছু বলে দিল যেন। মনে হল, এরকম টা হবার কথাই ছিল যে,আমার বউ রাগ করে খাবে না।সকাল বেলা এরকম একটা ঘটনা ঘটবে,তা ছেলেটির আগে থেকেই জানা।
(৩)
এসেছিলাম হ্যাঙ্গওভার কাটাতে, কিন্তু উলটে এক কেচ্ছায় হ্যাঙ্গ হয়ে গেলাম।সারা বিকেল রাই কথা বলল না।আমিও দু'একবার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোনো লাভ হল না। তাই বৃথা চেষ্টা না করে,আমিও হাল ছেড়ে দিলাম।একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে সময় কাটতে লাগলো।কখনো আমি খাটের উপর তো,রাই সোফায়; আবার কখনো রাই খাটের উপর তো,আমি সোফায়।কারও মুখে কোনো কথা নেই।শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে টি.ভি নিয়ে বসলাম।টি.ভি দেখলে নাকি অস্বস্তি কাটে। আমার কাটলো না। বরং বেড়ে গেল।মনের ভেতর একটাই কথা খচ খচ করতে লাগলো,কি করে বোঝাই যে আমি সম্পুর্ন নির্দোষ! রাতে খাওয়ার পর আমি গিয়ে আগে ভাগে খাটের উপর শুয়ে পড়লাম।আর রাই একটা চাদর নিয়ে সোফার উপর শুয়ে পড়ল। মনে মনে ভাবলাম, একবার গিয়ে হাত ধরে ডেকে আনি।কিন্তু মন সায় দিল না।ইচ্ছে হয়েছে থাকুক।এত রাগ ভালো নয়!
হোটেলের এই ঘরটিতে মশা নেই। তবুও ব্যাগ থেকে গুডনাইটের ওয়েল টা বের করে জ্বালিয়ে দিলাম। তারপর আলোটা বন্ধ করে আবার খাটে এসে শুয়ে পড়লাম।রাত তখন কটা বাজে জানি না। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল।আধবোজা অবস্থায় চোখ টা একবার এপাশ -ওপাশ করলাম।ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরের ভেতর।কিছু দেখা যাচ্ছে না।একটা অদ্ভুত সুগন্ধ আমার নাকে এল।মন কেমন করা এক সুবাস।নেশার মতো লাগলো আমার।চোখে আবার ঘুম নেমে আসতে লাগলো।কিন্তু হায় একি!
আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি সব। একটা নরম ঠান্ডা হাত আমার মাথার চুলের ভেতর।একটা শীতল ঠোঁটের স্পর্শ পেলাম। ঠোঁট টি আমার ঠোঁটের উপর চিপকে আছে। তারপর সেই ঠোঁট দু'টো আমার গাল,কপাল হয়ে বুকের উপর নেমে এল।এক অদ্ভুত ভালোলাগায় আবিষ্ট হলাম আমি। ঘুম জড়ানো চোখে বললাম,-"রাই, কি করছো, এত রাতে? এখন ছাড়ো,ঘুম আসছে। বাঁদর মেয়ে একটা,সারা দিন রাগ করে পড়ে থেকে,এখন এই মাঝ রাতে এসে.......।"
ঠোঁট টা এবার আমার পেটের কাছে নেমে এল। চমকে উঠলাম আমি। আমার সারা শরীর এবার এক ঝটকায় জেগে উঠল।সম্পুর্ন চোখ খুললাম। রাই তো আমার পাশে ঘুমোই নি! ও তো সোফায় ছিল। আমি পাশে হাত রাখলাম। সত্যিই রাই কে আমার পাশে পেলাম না।কি করে পাব? তবে এই মুহর্তে কার ঠোঁট আমার শরীরে? আমার শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করলো। গলা শুকিয়ে এল।রাইকে ডাকতে গিয়েও গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুলো না।তবুও একটা শেষ চেষ্টা করলাম।-"রাই! .... রাই।" খুব কষ্টে
আমার গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুলো। রাই ধড়ফড়িয়ে উঠে এল আমার কাছে।অন্ধকারে ওর হাতের স্পর্শ বুঝতে পারলাম।ও আমার হাত ধরে কয়েকবার নাড়ালো,তারপর কপালে বুকে হাত রেখে বলল,-"কি হয়েছে তোমার?এত ঘামছো কেন?আর এরকম ভয়ে কাঁপছো কেন?" এখনো সেই অদ্ভুত,নেশা ধরানো গন্ধ টা ঘরময় ভেসে আছে।কিন্তু শীতল ঠোঁট টা আর নেই। কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,-" রাই,একটু আগেই কে আমাকে চুমু খাচ্ছিল।"
-"ধুর! কি যে বলো! কে আসবে এখানে চুমু খেতে? ঘুমের ঘোরে বোধহয় ভুলভাল স্বপ্ন দেখেছো।"
আমি রাই এর কথা পাত্তা না দিয়ে বললাম,-"বিশ্বাস করো! একটা শীতল ঠোঁটের স্পর্শ আমার সারা শরীরে।আর মন কেমন করা একটা সুগন্ধ,সারা ঘরময়।"
রাই একটা প্রশ্বাস নিল।-"ঠিকই তো, একটা সুবাস।" তারপর উঠে গিয়ে আলো জ্বেলে দিয়ে বলল,-"কই, কোথায় কে?দরজা তো সেই ভাবে বন্ধ আছে।"
ছোট্টো ঘরের ভেতর টা লাইটের আলোয় সবই দেখা যাচ্ছে।রাই চারিপাশে একবার মাথা ঘুরিয়ে ভাল ভাবে দেখলো। না! কিছুই তো নেই।তারপর আমার দিকে তাকাতেই ওর চোখ দাঁড়িয়ে গেল। থমকে বসে পড়ল খাটের উপর। আমার পাশে। আমার মুখের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল,-"সেই লিপস্টিক মাখানো ঠোঁটের চিহ্ন, তোমার মুখে এলো কি করে?
আমি তড়াক করে লাফিয়ে উঠে, আয়নার সামনে গেলাম।সত্যিই তো!পরিষ্কার দেখতে পেলাম সব। তারপর রাই এর দিকে ঘুরে ভয়ার্ত সুরে বললাম,-"আমি বলেছিলাম না,কে আমাকে চুমু খাচ্ছিল!..এ ঘরে কোনো গোলমাল আছে রাই, আমার খুব ভয় করছে।তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো।"
রাই এর পাশে গিয়ে ও কে জড়িয়ে ধরলাম আমি। ও আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল।সারা রাত আর ঘুম এল না।দুজনই জেগে রইলাম।
(৪)
রাতেই ব্যাগে সমস্ত জিনিষ পত্র গুছিয়ে নিল রাই।আর এক মুহর্ত এখানে থাকা নয়।সকাল হতেই বেরিয়ে পড়লাম। রুমের চাবি আর টাকাপয়সা যা বাকি ছিল,সেটা নিয়ে হোটেলের রিসেপশানে গিয়ে বললাম,-আমরা আর থাকতে চাই না। আমাদের বুকিং ক্যানসিল করুন।" রিসেপশানের মোটা মতো ভদ্রলোক চশমার উপর দিয়ে আমার দিকে তাকালো।বলল,-"কেন স্যার!"
-"ভালো লাগছে না,এখানে।" বললাম আমি।
লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো।সেই রহস্যময় হাসি।আমার আবার মনে হল,লোকটি যেন আগে থেকেই জানতো,আমরা চলে যাব।
-"হাসছেন কেন?" এবার আমার হাসিটার কারন জানতে ইচ্ছে হল খুব।
লোকটি চাবির নম্বারের দিকে তাকিয়ে,তারপর আমার দিকে চেয়ে হেসে বলল,-"আসলে স্যার,ওই রুম টি তে এর আগে যত কাপল ঢুকেছে,সবাই এক সাথে হাসি মুখে ঢুকেছে আর পর দিনই কালো মুখ করে আলাদা ভাবে বেরিয়ে গেছে। কেউ কোনো কারন বলে নি।শুধু আপনারা দু'দিন কাটালেন।....তবে হোটেলের পুরানো স্টাফ রা বলে ওই ঘরে নাকি ভূত আছে।"
আমি বিরক্ত হয়ে কলম টা নিয়ে রেজিস্টার খাতায় সই করে দিয়ে বললাম,-"ভূত নয়,প্রেত্নী আছে। আপনিও সাবধানে থাকবেন। আমাদের এতদিনের ভালোবাসা, বিশ্বাস টা ভেঙে দিয়েছিল প্রায়।"
রাই এর হাত ধরে হোটেলের বাইরে বেরিয়ে এলাম।
স্বদেশ কুমার গায়েন
(২০১৬)

No comments

Powered by Blogger.