সন্ধ্যে বেলার মেয়ে ~ ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


                  


মেয়েটি মুচকি হেসে এক চোখ টিপে ইশারা  করলো।নিজের বুকের দিকে তাকালো।তারপর  আমার দিকে চেয়ে দুষ্ট হাসি হেসে বলল,-"চলুন না, আমার সাথে।বাড়ি তে কেউ নেই।মা-বাবা  মাসীর বাড়ি গিয়েছে।দিন চারেক পরে আসবে।"
মেয়েটির চোখে মুখের চাহনি,আর কোমরের দুলনি দেখে,তার মনের ইচ্ছে টা বুঝতে আমার  বাকি রইল না।এরকম সন্ধ্যে বেলা,তারপর  নিঝুম রাত,একা একটা
মেয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেতে চাইছে-এর আর কি কারন  থাকতে পারে! এরকম সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না । সুযোগ ছাড়তে নেই। পরে আফশোসকরতে হয়।মেয়েটির সারা শরীরে একবার চোখ বোলালাম আমি।আগে ভালো করে দেখিনি। যৌবন,শরীরে জলে ভরা কলসীর মতো উপছে পড়ছে।শ্যামলা গায়ের রঙ।মাঝারি  উচ্চতা মেয়েটির।সুডৌল চেহারা।গোল চাকার  মতো মুখ,টানা টানা চোখ,পুরু ঠোঁট, বুকের উপর উঁচু স্ত্যন দুটো, কালো ব্লাউজের ভেতর  থেকে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে।সেদিকে চোখ রাখলে, সারা শরীরে একটা শিহরন জাগে।আমার শরীরেও সেরকম একটা শিরশিরানি জেগে উঠল।এরকম মেয়ে আমি আগে দেখেছি? আমার  মনে পড়ল না।

গেলে মন্দ হয় না। এই এক ঘেয়েমি জীবন আর কত দিন বা ভাল লাগে! তবুও আমার মনের  ইচ্ছে বুঝতে দিলাম না। হাতের ঘড়ির দিকে  তাকিয়ে বললাম,-"না,মানে আমার সময় হবে না আজ।তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।একটু  জরুরী কাজ আছে।"
মেয়েটি আমার কাছে সরে এলো।আমার হাত  দুটো ধরে তার বুকের স্ত্যনের উপর চেপে ধরে  বিনয়ের সুরে বলল,-" দোহাই আপনার,প্লীজ!  চলুন। আমকে উদ্ধার করুন। আমি আর পারছি না।"
সারা শরীরে শিহরন খেলে গেল আমার।একটু অস্বস্তি তে পড়লেও মেয়েটির কথায় একটু  অবাক হলাম আমি। ভরু কুঁচকে বললাম,-"উদ্ধার মানে!"
-"সমস্যা থেকে মুক্তি।" বলল মেয়েটি।
-"কি সমস্যা!" আরও একটু বেশি অবাক হলাম আমি।
-"ছেলে গুলো আমাকে বিরক্ত করছে।"
-"কোন ছেলে?"
-"আপনি চিনবেন না।বাবা-মা না থাকার জন্যে  ছেলে গুলো রোজ রাতে এসে দরজা ধাক্কায়।খুব  ভয়ে ভয়ে থাকি।"
-"কাউকে জানাও নি?"
-"আপনাকে জানালাম।প্লীজ চলুন।আপনাকে দেখলে ওরা আর সাহস পাবে না।"

আমি একটু তোনা-মোনা করলাম।যাব কি, যাব না! যাওয়া ঠিক হবে কি, ঠিক হবে না! নানা রকম চিন্তা-ভাবনা দেখা দিল মনে। কি করা  উচিত আমার? কিছুক্ষন থেমে থাকার পর আমার চোখে চোখ রেখে মেয়েটি আবার বলল,-"চলুন না!  আপনি চাইলে রাতে খুশি করে দেব।"
-"খুশি!"
-"হু খুশি।" নীচের দিকে চোখ নামালো মেয়েটি। সমস্যার কথায়,আসল জিনিষ টাই ভুলতে  বসেছিলাম। 'খুশি' র কথা শুনে আবার আমার অঙ্গ-প্রতঙ্গ সব সাড়া দিয়ে উঠল। এরকম  সুযোগ ছাড়া মানে, হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলার মতো।

আমি এমনিতেই ব্যাচেলর মানুষ। একটা  প্রাইভেট কোম্পানীতে কাজ করি। শালা, এত  কাজের চাপ থাকে যে,বিনোদনের একটু সময় ই পাওয়া যায় না। তাই অফিস থেকে ফেরার পর  এই ফাঁকা জায়গাটায় এসে বসি। একাই বসে  থাকি। যখন এখানে এসে বসি,তখন ঠিক সন্ধ্যা নামে। একটা সিগারেট ধরিয়ে,ধোঁয়া ছাড়তে  ছাড়তে সেই সন্ধ্যা দেখি। সূর্য টা গড়াতে গড়াতে মাঠের ওপারে চলে যায়। ঘরে ফেরা পাখিদের  গল্প-গুজব শুনতে পাই। মন টা ক্ষনিকের জন্যে  হালকা হয়ে যায়। কিন্তু আজ তো অন্য  বিনোদনের হাতছানি! এত দিন আসেনি কেন মেয়েটা!
প্রতিদিনের মতো অফিস থেকে বেরিয়ে একটা  রিক্সা চেপে আজও ঠিক একই ভাবে বসে  ছিলাম। দুরের গাছ-গাছালির ফাঁক দিয়ে একটা  শিরশিরে বাতাশ এসে মুখে লাগছিল।সূর্যটা তখনো দুরের অর্জুন গাছের আড়ালে ডুবে যায়  নি। ঠিক মাথার উপর দাঁড়িয়ে আছে। তখন  কন্ঠস্বর টি শুনতে পেলাম।-"এই যে শুনছেন?
ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালাম আমি। একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ছাপা রঙের  শাড়ী পরা। শাড়ীর ফাঁক দিয়ে উন্মুক্ত নাভি দেখা যাচ্ছে। বুকের উপর আঁচলের একপাশ টা সরে গিয়ে কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে। চোখ সরিয়ে নিয়ে  আমি বললাম,-"বলুন।"
মেয়েটি মুচকি হাসলো। ঠোঁটের ফাঁকে যেমন  হাসি লেগে থাকে,ঠিক তেমন। তারপর কিছুটা এগিয়ে আমার ঠিক পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,- "আপনি রোজ এখানে আসেন?"
মেয়েটি কি আমাকে দেখেছে, এখানে রোজ আসতে! না এমনি আন্দাজে বলছে!
-"হ্যাঁ, রোজ ই আসি। কেন বলুন তো?" ভুরু কুঁচকে বললাম আমি।
-"আমি এই কয়েকদিন দেখলাম,এখানে  আসতে। তাই ভাবলাম,আপনি বোধহয় রোজ  আসেন।"

মেয়েটির কথা-বার্তায় একটা বুদ্ধিদীপ্ত ভাব  আছে। অনেকটা কাস্টোমার পটানোর মতো। তবে সাধরন আতি পাতি মেয়ে বলে মনে হচ্ছে না। অন্তত্য চেহারা সেইরকম বলছে। আমি  মেয়েটির কথায় বিশেষ উৎসাহ না দেখিয়ে  বললাম,-"হু! রোজ ই আসি। অফিস থেকে  ফেরার পথে,এখানে বসে একটা সিগারেট খেয়ে যাই।"
মেয়েটি হাসে। অনেক টা জোরেই হাসে। সেই সাথে শাড়ীর নীচের উঁচু বুক টা দুলে ওঠে। আমার নজর এড়ায় না। হাসি থামিয়ে মেয়েটি বলে,-'কেন বাড়িতে বৌ খুব জ্বালায়? তাই  অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি না ফিরে এখানে বসে থাকেন?"

বিরক্ত ঠিক লাগছে না।তবে,মেয়েটি এমন ভাবে কথা বলছে যেন,আগে থেকেই তাকে চেনে। ঠিক চেনা মানুষের মতো কথা। তবে যারা মিশুকে হয়, তারা খুব সহজেই মিশে যেতে পারে। মেয়েটির কথায় আমি হেসে বললাম,-" না বিয়ে করিনি। তো, বউ কোথায় পাব?"
-"বিয়ে করেন নি!" অবাক হল মেয়েটি।
-"না।" আমি বললাম।

তারপর মেয়েটি মুচকি হেসে,এক চোখ টিপে ইশারা করলো।.....বুকের দিকে তাকালো।.....



সন্ধ্যে নামতে আর বিশেষ দেরি নেই। চারিপাশ  একটু একটু করে কালো হয়ে আসছে। সূর্য টা এখন অর্জুন গাছের আড়ালে। আর দেখা যাচ্ছে  না। মেয়েটির সাথে যাওয়াই মনস্থির করলাম।  উঠে দাঁড়িয়ে, পকেট থেকে আরেকটা সিগারেট  বের করে,দেশলাই জ্বাললাম। ফস করে একটা  শব্দ হল। একবার   ধোঁয়া ছেড়ে বললাম, -" কত  দূর তোমার বাড়ি?"
আমি তুমি করে বলতে শুরু করলাম।
-"বেশি দূরে নয়। কাছেই। এই হেঁটে গেলে আধ ঘন্টা খানিক লাগবে।" মেয়েটি হেসে বলল।
-"আধ ঘন্টা!" বিস্ময় প্রকাশ করলাম আমি।
-"এমন ভাব করছেন, আমি যেন আট ঘন্টা  হাঁটতে বলছি।কতক্ষন আর লাগবে, দু'জন  গল্প  করতে করতে চলে যাব।"
-"না,তা ঠিক নয়। আসলে আমার হাঁটার অভ্যেস নেই তো,তাই।"
-"আমার সাথে হাঁটবেন কোনো কষ্ট হবে না।"
হাসলো মেয়েটি।
খেলোয়াড় আছে মেয়েটি। মাছ ভালোই ধরতে জানে। মন্দ নয় এটা।আসল খেলোয়াড়ের সাথেই খেলে মজা পাওয়া যায়। ম্যাচটা জমে উঠবে বলে আমার মনে হল।


আমার দুজন হাঁটতে শুরু করলাম। সন্ধ্যা নেমে  গেছে। তবে এখনো পুরোপুরি অন্ধকার নয়। আর হবেও বলে মনে হয় না। কারন আকাশে  গোল থালার মতো চাঁদ উঠেছে। আজ কি  পূর্নিমা! হবে হয়তো। আজকাল আর অত কিছু খেয়াল করে রাখা যায় না।
মেয়েটির ডান পাশে হাঁটছি আমি। আর একটু  একটু করে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছি। পাশ  দিয়ে হুস হাস শব্দে গাড়ি চলে যাচ্ছে। আমরা  রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে চলেছি। কিছুক্ষন পর আকাশে চাঁদ উঠলো বড় থালার মতো।  জোছনা বন্যা শুরু হল। আমি মেয়েটির দিকে  তাকিয়ে বললাম,-" আসল কথাটাই জানা হল না।"
-"কি কথা?" আমার দিকে তাকালো মেয়েটি।
-"তোমার নাম কি? আমার নাম অভীক।"
-"মালতী।" নিজের নাম বলল মেয়েটি।
-"আচ্ছা মালতী, তোমাকে ছেলেরা ডিস্টার্ব করে, তো কাউকে বলো না কেন?"
-"বলি তো। কেউ গুরুত্ব দেয় না।"
-"ওহ। আচ্ছা, আমার এখানে চেনা জানা লোক আছে। প্রভাবশালী। তাদের কে বলে দেব- আর কেউ যেন তোমার ডিস্টার্ব না করে, সেই ব্যবস্থা করে দিতে।"
-"আপনি যে আমার সাথে এসেছেন এই অনেক। যদিও আসার একটা কারন ও আছে।"
-"কি কারন!" বিস্মিত হলাম আমি।
-"আপনি আমার শরীর ভোগ করতেই শুধু এসেছেন। আর কিছু নয়।" মালতীর কন্ঠস্বর অন্যরকম শোনালো আমার কাছে।
আমি হেসে বললাম,-" না সেটা নয়। "
-"তবে কোনটা? আপনারা সব একটাই ধান্ধাতেই থাকেন।"
-"তোমাকে সত্যিই সাহয্য করতে এসেছি।"
-"না আসেন নি। আমি শরীরের লোভ দেখিয়েছি তাই এসেছেন।"

মেয়েটা পাগল নয় তো। এই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছিল-হঠাৎ কি হল! বিস্ময়ের চেয়ে একটু ভয়  পেলাম যেন আমি। তবুও হেসে পরিস্থিতির  সামাল দিলাম। এতক্ষন খেয়াল করিনি, যে  জায়গা দিয়ে যাচ্ছি তার চারিপাশে কোনো বাড়ি ঘর নেই। শুধু একটা রাস্তা আর তার দু'দিকে ঘন গাছ-পালা। চন্দ্রালোকে সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। গা ছম ছম করে উঠল আমার। বললাম,-"মালতী, এদিকে তোমার বাড়ি! এদিকে তো কোনো বাড়ি ঘরই দেখতে পাচ্ছি না। কেমন যেন একটা ফাঁকা ফাঁকা।"
মালতী হেসে বলল,-" শর্ট কার্ট যাচ্ছি তাই। আপনি তো আবার বেশি হাঁটতে পারেন না।"
-"ওহ।"
কিছুক্ষন সব চুপচাপ। শুধু দু'জনের হাঁটার শব্দ হচ্ছে। আর মাঝে মাঝে পাখির ঝটপটি।
আমি সেই নিস্তব্দতা ভঙ্গ করে বললাম,-" আচ্ছা, মালতী তুমি কি করো?"
-" কিছু না। বাড়িতে সেলাই এর কাজ করতাম।"
-"ওহ। তা ভালো। আমার দিদি ও সেলাই এর কাজ জানে।"

হঠাৎ একটা শব্দে থমকে গেলাম আমি। পিছন দিক থেকে খসখসে আওয়াজ আসতে লাগলো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি প্রায় হাত  পঁচিশেক দুরে একটা লোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ফুটফুটে চাঁদের আলোয় চারিপাশের সব দেখা যাচ্ছে। লোকটিকে আমি সেই চাঁদের আলোয় দেখতে পেলাম। হঠাৎ কেমন ভয় ভয় করতে লাগলো আমার।
মালতী কে জিজ্ঞেস করলাম,-"আর কত দূর,  মালতী?"
-"অত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন? প্রায় এসে গেছি আমরা।"

পাশাপাশি হাঁটছি দু'জন। তবুও আমার ভেতর ভয় গেল না। একটা চোরা টেনসানে পড়ে গেলাম। টেনসান মুক্ত হতে, পকেট থেকে আবার একটা সিগারেট বের করে ধরালাম। হাঁটছি আর মাঝে মাঝে পিছন দিকে তাকাচ্ছি। লোকটি সম দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটে আসছে আমাদের দিকে। হঠাৎ কথাটা মনে পড়ল আমার। আর মনে পড়তেই কেঁপে উঠলো আমার বুকের ভেতর। এসব মালতীর  প্লান নয় তো!
আমার পিটে একটা দামি ব্যাগ আছে। তার  ভেতর হাজার দু'য়েক টাকাও আছে। আর  আমার হাতের ঘড়ি, গলায় সোনায় চেন। এসব  হাতিয়ে নেওয়ার প্লান নয় তো!  মালতী হয়তো আগে থেকেই, ঐ লোকটিকে ঠিক করে  রেখেছে। তারপর আমাকে শরীরের লোভ দেখিয়ে ফাঁকা জায়গায় এনে সব কিছু হাতিয়ে  নেবে। আর না দিতে চাইলে,আমাকে খুন করে, সব কিছু নিয়ে নিতেও পারে। হাত পা একটু  একটু করে কাঁপতে লাগলো আমার।
এরকম ভুল কেউ করে! চেনা নেই, জানা নেই একটা অচেনা মেয়ের সাথে এভাবে চলে আসা ঠিক হয় নি। কত কিছু না বিপদ ঘটতে পারে এখন। সেসব ভাবতেই আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ফিরে যাওয়ার ও পথ নেই  কোনো। নিজের এরকম একটা বোকামোর জন্যে, নিজেকেই গালাগালি করতে ইচ্ছে করলো।

-"কি হল, এত চুপচাপ হয়ে গেলেন কেন? কি ভাবছেন এত?' মালতীর প্রশ্নে চমক ভাঙলো আমার। গলার স্বর স্বাভাবিক করে বললাম,-" কই কিছু না তো। তবে আর হাঁটতে পারছি না।"
হেসে উঠল মালতী। বলল,-" আরে এই এসে গেছি। আর বেশি দূরে নেই।"

এই মুহুর্তে আমরা যেখান দিয়ে হাঁটছি, সেই জায়গা টা অবশ্য জঙ্গল নয়। তবে একটা বাগান বাড়ি হবে। চারিদিকে গাছ আর গাছ। নানারকম গাছ হবে হয়তো। রাতে চাঁদের আলোয় কিছু বুঝতে পারলাম না। কিছুটা এগিয়ে যেতেই একটা বাড়ি দেখতে পেলাম। বাড়িটা একপাশে ভাঙা। বাড়িটি নজরে আসতেই আমি মালতী কে উদ্দেশ্য করে বললাম,-" ওই বাড়িটায় থাকো তুমি?"
-"হ্যাঁ।" বলল মালতী।

দুজন পোড়ো বাড়িটির সামনে গেলাম।হঠাৎ পিছন থেকে লোকটির গলার আওয়াজ পেলাম।-"এই যে মশাই,শুনছেন!"
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, লোকটি আমার একটু কাছেই এগিয়ে এসেছে। আমি বিরক্ত হয়ে লোকটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,-" আপনি কে হে মশাই! সেই থেকে আমাদের পিছু নিয়েছেন?"
লোকটি হাঁফাতে হাঁফাতে বলল,-" সেই কখন থেকে দেখছি,আপনি একা একা এদিকে হেঁটে আসছেন। এদিকে তো চোর ডাকাত ছাড়া কেউ আসে না, তাই আপনাকে সাবধান করার জন্যে আপনার পিছু পিছু আসতে হল। কিন্তু আপনি যা জোরে হাঁটেন মশাই!"

বিরক্ত হয়ে বললাম,-"একা একা মানে! আমি একা নই। একটা মেয়ের সাথে আমি এসেছি।"
-"মেয়ে! কোথায়!...আমি অনেক্ষন থেকে আপনাকে ফলো করছি। আপনি একা একাই হেঁটে আসছেন। আমি কি অন্ধ! একা আসছেন তাই তো বলতে এলাম আপনাকে।" লোকটি ঝড়ের মতো বলল।

-"কি আলতু ফালতু বকছেন। আমি তো মালতীর সাথেই...." পিছন ফিরে মালতী কে দেখাতে যাব,কিন্তু দেখাতে পারলাম না। কোথায় গেল মালতী!"
আমি হতবাক হয়ে লোকটিকে বললাম,-" আরে মেয়েটি আমার সাথেই ছিল।..কোথায় গেল...!"
-"না মশাই, আপনার সাথে কেউ ছিল না। আপনার কোথায় ভুল হচ্ছে।"

লোকটির কথা আমি বিশ্বাস করলাম না। -"ছিল না বললে হবে! মেয়েটির ঘর ওই টা।হয়তো ও ঘরে গিয়ে ঢুকেছে।" লোকটি কে ওই পোড়ো বাড়িটার দিকে আঙুল দিয়ে দেখালাম।
 -"বিশ্বাস না হলে তবে চলুন। ওই ঘরে গিয়ে দেখা যাক।" বলল লোকটি।

আমরা দু'জন পোড়ো বাড়িটার বারান্দায় উঠলাম। মাকড়শার জালে ভর্তি। কেউ এখানে  বাস করে বলে আমার মনে হলো না। কিন্তু মালতী তো এই বাড়ির কথা বলল! কয়েকবার হাঁক দিলাম। -"মালতী!....মালতী!"
কোনো সাড়া শব্দ পেলাম না। সামনেই একটা ঘর।কাঠের তৈরী দরজা।কোনো তালা চাবি নেই। দরজা ঠেলতেই খুলে গেল। ভেতরে ঢুকলাম দু'জন। কালো অন্ধকার ভেতরে। আমার পকেটে দেশলাই ছিল। সেটা বের করে ফস করে আগুন জ্বালালাম। আর সঙ্গে চিৎকার করে উঠলাম দু'জন। কি ভয়ানক দৃশ্য!
মালতী মেঝেতে পড়ে আছে। তার ছাপা শাড়ী,  কালো ব্লাউজ,সায়া, সব এদিক ওদিক খুলে  ফেলা। সারা শরীরে তীব্র আঘাতের চিহ্ন। গলার  কাছে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। চোখ মুখ ফ্যাকাশে বর্ন।শরীরে যে প্রান নেই তা বোঝাই যাচ্ছে।
 আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে এলাম দু'জন। মালতীর একটা কথা মনে পড়ল,-"আমাকে উদ্ধার করুন।"

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

No comments

Powered by Blogger.