|| আবার যখন দেখা হল ||ছোটগল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন।




(১)

চল্লিশ বছর আগের কথা।

 তখনও আকাশে মেঘেরা ভেসে বেড়াতো পথভোলা পথিকের মতো। পাখিরা ডানা মেলে দিত।ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জমতো।শীতের শেষে গাছের পাতা,রঙিন ঝুরি কাগজের মতো পাক খেয়ে ঝরে ঝরে পড়তো।ফুলেরা পাপড়ি মেলে হাসতো।দখিন হাওয়ায় সেই ফুলের গন্ধ ম ম করতো।আর মৌমাছি রা পাগল হয়ে উঠতো সেই ফুলের জন্য।
শোভন ও পাগল হয়ে গেল।তবে ফুলের জন্য নয়।ফুলের মতো দেখতে একটা মেয়ের জন্যে। প্রায় ছ'ফুটের লম্বা চেহারা,টিকালো নাক, খোঁচা খোঁচা দাড়ি,মাথায় কালো চুল,মৃদু ভাষী, সরল– সাধরন,নরম স্বভাবের শোভন যে পড়াশুনায় ভাল সে কথা সবাই জানে। পড়াশুনায় ভাল ছেলে–মেয়ে দের চোখ,মুখ দেখেই বলে দেওয়া যায় এরা ভাল। ক্লাসের সেরা সেরা ছাত্রদের পাশে তার নাম।চোখে মুখে একটা বুদ্ধিদীপ্ত ভাব লেগে আছে। প্রায় সারক্ষন বই এর পাতায় চোখ। এরকম একটা ছেলে যে,বই ছেড়ে, কোনো মেয়ের প্রেমে পড়তে পারে, সেটাই সব থেকে বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল।শোভন ও প্রেমে পড়ল।শুধু প্রেম নয়,প্রেমে পাগল হয়ে গেল। প্রথম প্রেমে পড়লে সবাই পাগল হয়।শোভন ও এই প্রথম প্রেমে পড়ল।মৌমিতার প্রেমে।চাপা স্বভাবের ছেলে হওয়ায় শোভনের বন্ধু ছিল না। কোনো মেয়েও আজ পর্যন্ত আগ্রহ দেখায় নি। আর সেই শোভন স্কুল,কলেজ,পেরিয়ে ইউনিভার্সিটি তে এসে প্রেমে পড়ল। এমনিতেই মৌমিতা বড় ঘরের মেয়ে।



বাবা ব্যাঙ্কের বড় অফিসার।মা স্কুলের মাস্টার। একটাই মেয়ে।তার উপর,মেয়ে দেখতে যেমন ভাল, তেমনি পড়াশুনায় ও ব্রেলিয়ান্ট। পড়াশুনা জানা,দেখতে সুন্দরী,মিষ্ট ভাষী,মেয়েদের প্রতি সবাই তাড়াতাড়ি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। শোভনও নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।একটু করে করে নিজের মন টি কে, বন্দি খাঁচা থেকে মুক্ত করে দিল। বিভিন্ন দরকার,নোটস,সাজেসান এর জন্য মৌমিতা ক্লাসের অন্য কারও কাছে ছুটে যেত না।বার বার ছুটে যেত শোভনের কাছে।সত্যিই তো,এরকম শান্ত,নরম স্বভাবের ছেলের কাছে সবাই ছুটে যায়,কারন এরা কখনো না বলতে পারে না। যদিও একটা মেয়েকে এসব কাজে, না বলা কখনো একটা ছেলের পক্ষে সম্ভব হয় না। শোভন ও না বলতে পারত না।ঠোঁটের এক চিলতে শীতল হাসি দেখে,তার মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলত।সারা শরীর অবশ হয়ে আসতো। একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাঁকড়া বিছের মতো চামড়ার ভেতর দিয়ে সমস্ত শরীর টির মধ্যে হেঁটে বেড়াতো।একটা অসহ্য যন্ত্রনা অনুভব করতো মনের ভেতর।তবুও সে যন্ত্রনা ভাল লাগতো।

কলকাতা ইউনিভার্সিটি তে এম.এ(ইংরাজী অনার্স)দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো শোভন।সোনারপুর একটা মেসে ভাড়া থাকে।সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা।কিন্তু তার কাছে প্রেমের পরীক্ষাই প্রথম স্থান নিল।শোভন অনেক কথা বলার চেষ্টা করলো মৌমিতা কে। পারল না।ঠোঁটের ডগায় কথা গুলো এসে বেঁধে থাকল।বোবা মানুষরা কথা, না বলতে পারার জন্য কষ্ট অনুভব করে। শোভন ও কষ্ট পেল। যন্ত্রনা অনুভব করল। ঝড়–তুফান উঠল মনের সমুদ্রে।কিন্তু তার ঢেউ পৌঁছালো না মৌমিতার কাছে । কোনো পূর্বাভাস ও পেল না।
কিছু দিন পার হল।একদিন কলেজ শেষে, মৌমিতা কে ডেকে আনলো শোভন।কলেজের তিনতলার ছাদে। ফাঁকা ছাদে তখন বিকেল নেমেছে। পাশের ঝাঁকড়া তেঁতুল গাছে দু'টো কাঠবিড়ালি খেলা করছে। অশান্ত, শিরশিরে হাওয়া বইছে ছাদে।
–" কি বল,?এখানে হঠাৎ?" মৌমিতা,শোভনের কাছে এসে দাঁড়ালো। শোভন ঘুরে তাকালো। কিছুটা নার্ভাস লাগছে তাকে।বলল,–" তোকে একটা কথা বলার ছিল?"
–" এখানে? কি কথা?"
–"আমার খুব ভালো লাগে তোকে।"
মৌমিতার চোখের দিকে তাকাতে পারলো না শোভন।তেঁতুল গাছের ডালে,কাঠবিড়ালি গুলো কে দেখতে লাগল।
–"তারপর.......!" মৌমিতা বলল।
মৌমিতার চোখে,চোখ রেখে শোভন বলল,–" আমি তোকে খুব ভালোবাসি।"
–"দেখ শোভন, সামনে দু'জনেরই পরীক্ষা।এসব নিয়ে এখন না ভাবাই ভালো।মন দিয়ে এখন পড়াশোনা কর।"
–"কেন,এমন বলছিস?" শোভনের মুখে একটা কাতর যন্ত্রনা ফুটে উঠল।
–"এসব নিয়ে আমার,এখন কথা বলতে ভাল লাগছে না।এসব না, ভেবে নিজের ভবিষৎ নিয়ে ভাব। এসব নিয়ে পরে কথা হবে।"
মৌমিতা মুচকি হাসলো।আর দাঁড়ালো না।সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল। কাঠবিড়ালি দু'টো অনেক আগেই লুকিয়ে পড়েছে।অন্য গাছের পাতার ফাঁকে। শোভন দাঁড়িয়ে রইল কিছু সময়।অশান্ত বাতাশের ঝাপটায় চুল, গুলো এলো মেলো হয়ে যাচ্ছে। এলো মেলো হয়ে যাচ্ছে জীবনের খাতা।

এর পর মৌমিতা আর কখনো, শোভনের কাছে নোট,সাজেসান, কিছু নিতে যেত না।কলেজ আসা কমিয়ে দিল।যেদিন আসতো,সেদিন শোভনের সাথে কম কথা বলতো। পরীক্ষার ব্যস্থতা বলে এড়িয়ে যেত।


(২)


ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার দু'সপ্তাহ পর, একদিন মৌমিতার সঙ্গে দেখা হল শোভনের। সন্ধ্যা নেমেছে পিচ রাস্তার বুকে।দু'জন পাশাপাশি হাঁটলো।
–"আমার প্রশ্মের উত্তর কিন্তু এখনো দিলি না?"
–"তুই কেন,বুঝিস না বলতো?
এ সম্পর্ক কখনো সম্ভব নয়।আমার বাড়ি থেকে একটা বেকার ছেলের সাথে কখনো বিয়ে দেবে না।"
শোভন লজ্জার মাথা খেল।বলল, –"একটু ওয়েট কর।সামনে অনেক গুলো ইন্টারভিও আছে।আর পরীক্ষা ও দিচ্ছি,চেষ্টা চালাচ্ছি।"
–" কেন এমন করছিস তুই?তুই খুব ভালো ছেলে। আমার খুব ভাল বন্ধু। কিন্তু আমার বাবা একটা ছেলেকে ঠিক করে রেখেছে।বাবার কলিগের ছেলে।সরকারি হসপিটলের বড় ডাক্তার।আমাদের ফোনে প্রায় কথা হয়।একটা দামি শাড়িও পাঠিয়েছে আমার জন্যে।আমার জন্মদিনে পরার জন্য।"
শোভন মাথা নীচু করে রইল।মুখে একটা কথাও বলল না।মৌমিতা আবার বলতে শুরু করলো, –"এত দিন তোকে কথা গুলো বলিনি।কারন তুই কষ্ট পাবি তাই। তোর পড়াশুনা, পরীক্ষা, ক্যারিয়ার সব নষ্ট হবে তাই।প্লিজ, আমাকে ভুল বুঝিস না।"
ঘরে ফিরে গুম মেরে বসে থাকল শোভন। চুপচাপ।কাউকে কিছু বলতে পারলো না। আরও এক বছর শোভন ঘুরে বেড়ালো ফ্যাঁ ফ্যাঁ করে। সকাল– বিকাল শুধু টিউশন করে বেড়াতে লাগলো।বাবার কাছ থেকে আর থাকা, পড়াশুনার খরচ নেওয়া বন্ধ করে দিল।অনেক ইন্টারভিও দিল। চাকরী মিলল না।জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সে আজ যেন পরাজিত সৈনিকের মতো। তবুও হাল ছাড়লো না।অর্ধ মৃত সৈনিকের মতো একটা বাঁচার চেষ্টা করলো।
এই সময় মৌমিতার বিয়ে হয়ে গেল,সেই ডাক্তার ছেলের সঙ্গে।এই শহরেই। বন্ধুদের কাছ থেকে, সে খবর পেল শোভন। শোভন কাঁদেনি।অনেক চেষ্টা করেছিল কাঁদার।কান্না পায়নি। চোখে জল আসেনি।অনেক বেশি কষ্ট পেলে,মানুষ কাঁদতে পারে না।চোখে জল আসে না।আরও এক বছর পর মা সরস্বতী মুখ তুলে চাইলো।শোভন চাকরী পেল।পশ্চিম মেদিনীপুরের হাইস্কুলে।সহকারী শিক্ষক হিসাবে। সমস্ত দু:খ যন্ত্রনা,এই ছোট্টো ঘরে ফেলে রেখে চলে গেল পশ্চিম মেদিনীপুর।


(৩)

চল্লিশ বছর কেটে গেল......।
প্রায় দশ কাটা জায়গার উপর একটা পার্ক। বাচ্চাদের জন্য।বুক সমান উঁচু ইটের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা।তার উপর ভাঙা ভাঙা কাচ বসানো। সহজে কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে,তার জন্যেই কাচের ব্যবস্থা।সামনে ঢোকার গেটের কাছে বড় সাইনবোর্ডে লেখা "শিশু উদ্যান।" ভেতরে সবুজ ঘাসে মোড়া পুরো মাঠ।মাঝে মাঝে ফুলের বাগান। পাঁচিলের পাশ দিয়ে সারি সারি দেবদারু, মেহগনি,আম গাছ। সবুজ মাঠের কোথাও বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলার জন্যে ছোটো ক্রিজ তৈরী করা।কোথাও ফুটবল খেলার জন্য বার পোস্ট রাখা,কোথাও বা ব্যাটমিন্টন,ভলিবল খেলার জাল টানানো।বাচ্চাদের দোল খাওয়ার জন্য দোলনার ও ব্যবস্থা আছে।মাঠটির একদম উত্তর প্রান্তে একটা একতলা ছোটো পাকা ঘর। বাইরেটা সুন্দর করে রঙ করা। সামনে রঙবেরঙ এর ফুলের গাছ, পাতাবাহার লাগানো।হরেক রকম ফুল। লাল, সাদা, হলুদ,নীল আরও অনেক।সব ফুলের নাম, অনেকের কাছেই অজানা।

প্রতিদিন বিকাল হলেই বাচ্চাদের চেঁচামেচি তে পার্কটা মুখর হয়ে ওঠে।বাচ্চারা ছুটে বেড়ায় সারা মাঠ। হেসে বেড়ায়।যার যে খেলা পছন্দ, সেই খেলা করে।বাচ্চাদের সাথে তাদের মা,দিদি রাও আসে। সবুজ ঘাসের উপর বসে গল্প করে। মৃদু মন্দ হাওয়া বয়।একটা মনোরম পরিবেশ পার্ক টির।এই এলাকায় শিশুদের জন্য এমন খেলার মুক্ত পরিবেশ আর নেই।
–"মাস্টার মশাই,আপনি খুব ভালো। বাচ্চাদের জন্য এমন সুন্দর পার্ক বানিয়েছেন,যে মনে হয় সারা দিন এখানে বসে থাকি।সত্যি ওরা বিকালে একটা মনের মতো খেলার জায়গা পেত না!" যে সব বাচ্চারা পার্কে আসে তাদের মায়েরা এই সব বলাবলি করে।
শোভন তাদের কথা শোনে।সামনের ভাঙা দাঁতে হাসে।মুখের চামড়া ঝুলে গেছে।মাথার চুল গুলো সাদা। এই বয়েসে প্রায় ছ'ফুটের শরীরটা আর সোজা ভাবে দাঁড়াতে পারে না।তবুও বাচ্চাদের সাথে, ছেলেবেলার মতো সারা মাঠ ছুটে বেড়ায়।কখনো গোলকিপার সাজে,কখনো ক্রিকেট বল টা হাতে তুলে নেয়,কখনো বা ব্যাটমিন্টন। আবার কখনো চোখে গামছা বেঁধে কানামাছি ভোঁ ভোঁ,যাকে পাবি তাকে ছোঁ।বাচ্চা বাচ্চা ছেলে– মেয়ে গুলো সব দাদু দাদু করে গায়ে লাফিয়ে পড়ে।হাঁফিয়ে পড়লে কিছু সময়ের জন্য চেয়ারে বসে নেয় শোভন। সারা বিকেল টা হারিয়ে যায় বাচ্চা গুলোর মধ্যে।

আজও শোভন বসে আছে।পাশে পাঁচ–ছ'টা ফুটবল,ব্যাট,উইকেট, কর্ক,ভলিবল রাখা।বাচ্চা রা এখনো আসেনি।একটু পরেই হয়তো ঢুকতে শুরু করবে।হাতে একটা বই।চোখটা বই এর পাতায় রাখা।
–"দাদু!"একটা বাচ্চা মেয়ের আওয়াজ এল। শোভন মুখ তুলে চাইলো মেয়েটির দিকে। মেয়েটিকে খুব পছন্দ করে শোভন।সারক্ষন দোলনায় দোল খায়।আর,কানামাছি খেলার বায়না করে।
–"দাদু! আজ আমার মা আসেনি। দিম্মা কে সঙ্গে করে এনেছি।"
তারপর মেয়েটি তার দিদিমার দিকে তাকিয়ে হাত টা টেনে বলল,–" দিম্মা জানো,এই দাদু টা আমাদের সাথে কানামাছি খেলে।"
পাশের ভদ্রমহিলার দিকে তাকাতেই শোভনের শিরা বেরোনো,চামড়া ঝোলা শরীরটা কেঁপে উঠল।ভদ্র মহিলার চোখে চশমা।মুখের চামড়া ও টান টান নেই।কাঁপা কাঁপা শরীরে দাঁড়িয়ে উঠল শোভন।অস্ফুট স্বরে বলল,–"মৌমিতা!" সত্যিই পৃথিবী টা গোলাকার এবং খুব ছোটো। তাই দ্বিতীয় বার আবার কোনো মানুষের সাথে হঠাৎ করেই দেখা হয়ে যায়।

পাশাপাশি দু'জন বসে আছে।বিকেল নেমেছে দেবদারুর ডালে।বাচ্চারা হই হই করে ঢুকতে শুরু করেছে।সাথে তাদের মা,দিদি রা।
–"কেমন আছো তুমি?" অনেক দিন পর আর 'তুই' বলতে পারলো না মৌমিতা।
–"ভালো।তুমি?" শোভন জিজ্ঞেস করল।
–"আমি ও ভালো।"
বহুদিন পর দেখা হলে যা হয়। কথা শেষ হতে চায় না।অনেক কথার পর,মৌমিতা জিজ্ঞেস করল,–" তোমার,নাতি–পুতি কে তো দেখছি না?বাইরে থাকে নাকি?"
শোভন হাসলো।সবুজ মাঠের উপর বাচ্চারা খেলতে শুরু করেছে।সেই দিকে তাকিয়ে বলল, –" এরাই তো আমার নাতি–পুতি।"
–"মানে!তুমি বিয়ে করোনি?"
শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করলো মৌমিতা।চুপ করে থাকলো শোভন। মুখে স্মিত হাসি।বলল,–"বিয়ে করার আর,সময় হয়ে ওঠেনি।"
অবাক হয়ে শোভনের মুখের দিকে চেয়ে থাকলো মৌমিতা। বলে কি বুড়োটা? শোভনের ছোটো ঘরটার মধ্যে ঢুকে অবাক হয়ে গেল মৌমিতা।সুন্দর করে সাজানো গোছানো।একটা বড় সোফা।সামনের দেওয়ালে বড় একটা এল.ই.ডি টিভি লাগানো। সারা ঘরের দিকে একবার চোখ বোলালো।ঘুরপাক খেয়ে দেখতে লাগল।দেওয়ালের পাশে সাজিয়ে রাখা আলমারির গুলোর দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল মৌমিতা। প্রতিটা আলমারিতে শাড়ি ভর্তি। মৌমিতা এগিয়ে গেল সেই দিকে।–"তুমি বিয়ে করোনি,তো এতো শাড়ি কার জন্যে? দেখে তো মনে হয় শাড়ি গুলো খুব দামি" মৌমিতা বলল। শোভন ভাঙা দাঁতে আবার হাসলো। –"চাকরী পাওয়ার পর, প্রতি বছর দু'টো করে শাড়ি কিনতাম আমার ভালোবাসার জন্য!"
এতক্ষন পর শোভনের চোখে চোখ রাখলো মৌমিতা।এখনো সেই সরল চোখ দু'টো পিট পিট করছে।এই চোখে এক সময় ভালোবাসা ছিল। পাগলের মতো।আজও সেই পাগলামোর নিদর্শন দেখলো মৌমিতা।ঘর থেকে যখন বেরিয়ে এল দু'জন,তখন বাইরে হলুদ আকাশ।সাদা সাদা মেঘ ভাসছে।
–" দাদু,দাদু! কানামাছি খেলবো!" বাচ্চা গুলো ছুটে এসে শোভনের হাত ধরে টানাটানি শুরু করলো।
শোভন,মৌমিতার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, –"তুমি চেয়ারে বসো, আমি যাই ওদের সাথে।"
শোভন চলে গেল।মৌমিতা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সেই দিকে। আজ যেন তার কানামাছি খেলতে ইচ্ছে করছে খুব।


স্বদেশ কুমার গায়েন  (২০১৫)

No comments

Powered by Blogger.