|| ভালোবাসি বলে যাও || ছোটগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন



স্টেশন থেকে বেরোনোর গেটের কাছেই একটা বট গাছ। পুরানো বট গাছ।সরু সরু পাকানো পাটের সুতোর মতো ঝুরি নেমেছে।সবুজ, হলুদ রঙ মাখানো পাতা।ডালে ডালে মিলেমিশে আছে। তার নীচে ছোটো একটা শিব মন্দির।এই বট গাছ আর মন্দির টা অনেকদিনের পুরানো। কত দিনের পুরানো আমি নিজেও জানি না।সেই মন্দিরের কাছেই দাঁড়িয়ে আছে অনু।অনুমিতা পাত্র।পিঠে কলেজ ব্যাগ।সেই পটলচেরা চোখ, চিকন শরীর,পাতলা ঠোঁট,সরু কোমর,ঘন কালো চুল পাট পাট করে সাজানো ঘাড়ের একটু নীচ পর্যন্ত।পরনে সাদার উপর,সবুজ সুতোর কারুকার্য করা কামিজ।ফুল আঁকা।এই কামিজ টা অনুর খুব পছন্দের।ওড়না দিয়ে বুকটা ঢাকা নয়।গোলাপি রঙা ওড়না টা গলার কাছে পেঁছানো।অনু সবসময় ওড়না এরকম ভাবেই রাখতো।তখন খুব সুন্দর দেখায় ও কে। সবেমাত্র ডাউন ট্রেন ঢুকেছে।তাই প্লার্টফর্ম জুড়ে মানুষ জনের হুড়োহুড়ি।হকার,স্টেশন দোকানি দের হাঁকাহাকি।
সন্ধ্যার ট্রেন গুলোতে মফস্বলের এই স্টেশনটি তে এরকম ভিড়,জটলা হুড়োহুড়ি লেগে থাকে।সকালের কাজে যাওয়া মানুষ গুলি সন্ধ্যায় ঘরে ফেরে সব।
কিছুক্ষন আগে অনু ট্রেন থেকে নেমেছিল। পিঠের ব্যাগটা বুকের উপর রাখা।ঘর্মাক্ত মুখ। ভিড়ে এলোমেলো চুল।এক গুচ্ছ চুল কপালের উপর থেকে নেমে এসে বাঁদিকের চোখ টিকে ঢেকে দিচ্ছিল। বাঁহাতের সরু সরু আঙুল গুলো দিয়ে চুল গুলো সরিয়ে কানে পাশে তুলে দিল। তারপর ট্রেন থেকে ঠেলা গুতো খেয়ে নেমে গেটের দিকে এগিয়ে গেল। আজও অনু কলেজ থেকেই ফিরছে। দিন পনেরো হল,পাঁচটা চল্লিশের ট্রেন টা ঢোকার আগেই আমি প্লার্টফর্মে চলে আসি। একটু খানি অনু কে দেখার জন্যে। আসলে এই প্লার্টফর্মে এসে অনুকে দেখতে ইচ্ছে করে আমার।কাছে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু যেতে সাহস হয় না।অনু তো আমায় ভালোবাসে না। আমার মুখ দেখতে চায় না।কি করে ওর সামনে যাব?তাই দুর থেকে দাঁড়িয়ে থাকি এক পলক দেখার জন্য। লেডিস কামরা থেকে নেমে,ভিড় ঠেলে বের হয় অনু। বুকের উপর থেকে ব্যাগটা আবার পিঠে করে নেয়।গেটের দিকে এগিয়ে যেতেই, কালো কোট গায়ে দেওয়া লোকটি ধরে। টিকিট চায়।অনু পার্স থেকে টিকিট বের করে দেখায়।টিকিট পরীক্ষক ভালো করে টিকিট টা পরীক্ষা করে।মান্থলি টিকিট। তারপর 'ঠিক আছে' বলে অনুর হাতে দিয়ে দেয়।  কয়েকজনকে অতিক্রম করে মন্দির টার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় সে। গেটের কাছে এখন ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ি হচ্ছে।গেট থেকে বেরিয়ে সারি সারি ফলের,জামা-কাপড়ের পসার।তারপর টোটো স্ট্যান্ড। আগে সব অটো ছিল।এখন সব টোটো হয়ে গিয়েছে।কে আগে সেই টোটো স্ট্যান্ডে পৌঁছাবে, যেন সেই লড়াই চলছে মানুষ গুলোর মধ্যে।অনু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ভিড় কমার জন্যে আরও কিছুক্ষন অপেক্ষা করে।ভিড় কমতে চায় না।

 মাস পাঁচেক আগের কথা। না, পাঁচ মাস পনেরো দিন।অনুর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় কলেজে। শিয়ালদহের কাছে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে হিস্ট্রি অনার্স নিয়ে পড়াশুনা করে অনু। আমি বাংলা অনার্স। রাস্ট্রবিজ্ঞান (পাস) সাবজেক্ট ক্লাস করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার অনুকে দেখেছিলাম।একদিন ক্লাস শুরুর আগেই অনুর সাথে আমার আলাপ হয়।রুপ তো নয় যেন,আগুনের ফুলকি।যে দেখবে সে পুড়ে যাবে। আর তখন বুঝতে পারিনি,আমিই পুড়তে চলেছি। টীচার তখনও ক্লাসে ঢোকেনি।আমি লাস্ট বেঞ্চের দু'টো বেঞ্চ আগে গিয়ে বসি।ফাঁকা ফাঁকা ক্লাস।এসব ক্লাস কোনো স্টুডেন্ট করতেই চায় না।আমি করি।কিছুক্ষন পর অনু আমার পাশের বেঞ্চে এসে বসে।একবার আড় চোখে তাকাই আমি।তারপর আবার হেডফোনে কর্নকুহরে বাজতে থাকা অরিজিৎ সিং এর গানে মনোনিবেশ করি। গানের তালে তালে বেঞ্চে আঙুলের বিট ওঠে।কিছুসময় পর অনু আমার পাশে এসে বসে।
-"আচ্ছা গত কাল স্যারের দেওয়া নোট টা তোমার কাছে আছে?আসলে আমি গত কাল কলেজে আসতে পারি নি।"
আমি কান থেকে হেড ফোন খুলে অনুর দিকে তাকাই।
-"গত কাল স্যরের দেওয়া নোট টা হবে?" অনু
আবার জিজ্ঞেস করে।
আমি ব্যাগ থেকে খাতা টা বের করে পাতা ওলটাই।এক জায়গায় থামি। তারপর খাতাটা অনুর দিকে এগিয়ে দিই।একটা থ্যাঙ্কইউ বলে খাতাটা এগিয়ে নেয়।আমার দিকে তাকিয়ে হাসে।ভারী মিষ্টি লাগে। মেয়েদের হাসি মনে হয় ছেলেদের কাছে সবসময় মিষ্টিই লাগে। স্যার এসে ক্লাসে ঢোকে।আমি হেড ফোন টা ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে দিই। আর ফোনটা পকেটে। তারপর ক্লাসে মন দিই। কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিয়ালদহ সাউথ প্লার্টফর্মে আবার দেখা হয় অনুর সাথে। আমিই এগিয়ে গিয়ে কথা বলি।
-"আরে তুমি? তোমার বাড়ি এদিকে নাকি?
অনু হেসে বলে,-"হ্যাঁ।"
কথা বলতে বলতে জানতে পারি অনু আর আমি একই শহরে থাকি। শহর নয়,শহর থেকে বেরিয়ে মফস্বল।ফাঁকা ফাঁকা বাড়ি- ঘর, মাঠের পর একটা স্টেশন কে ঘিরে ছোট্টো শহর।এই সব মফস্বল গুলোতে গুটিকতক বাস,অটো, টোটো, ট্রেকার,মোটর ভ্যান চলে। আমার বুকের ভেতর ড্রাম বাজে। একই জায়গায় বাড়ি হওয়ায় যেন আমার খুব ভালো লাগে। কেন ভালো লাগে? বুঝতে পারি না।

ট্রেন প্লার্টফর্মে ঢুকতেই,অনু লেডিস কামরার দিকে এগিয়ে যায়।আর আমি তার পাশের কামরায় উঠে পড়ি। এরপর থেকে আমরা প্রতিদিন একসাথে কলেজে যাই। ফিরিও এক সাথে।আমার ক্লাস থাকলেও,ক্লাস কেটে অনুর সাথে যাওয়ার জন্য আগে আগে পালিয়ে চলে আসি। অনু এখন আর লেডিস কামরায় ওঠে না।আমার সাথেই আমার পাশে বসে।গল্প করি দু'জন।ওর চোখ দু'টো খুব সুন্দর দেখায়।ঠোঁট টা আরও আকর্ষনীয়।হেমন্তের ভোরের শিশিরের মতো।ভেজা ভেজা।


স্টেশনের গেটের কাছে এখন ভিড় অনেকটাই কমেছে।অনু গেট দিয়ে বের হয়।গেটের পাশেই এগরোল, চাউমিনের ছোট্টো একটা স্টল। তারপর চপ,সিঙাড়ার দোকান। কিছু লোকজন ঘিরে রেখেছে সেই সব দোকান গুলোকে। বাড়ি যাওয়ার পথে গরম গরম চপ,সিঙাড়া কিনে বাড়ি নিয়ে যাবে। একজন লিচু বিক্রেতা ক্রমাগত হেঁকে চলেছে,-"লিচু জলের দরে। কিলো,কিলো ষাট! " সেদিকে না তাকিয়ে অনু সোজা রাস্তা ধরে হাঁটে।এই রাস্তার একধারে সেলুনের দোকান।সারি সারি বেশ কয়েকটা সেলুনের দোকান।বড় বড় বেলজিয়াম কাচের আয়না।আর অন্যপাশে ব্যাগ,ছাতা,জুতোর দোকান।অনু আরও কিছুটা সামনে হেঁটে গিয়ে একটা কসমেটিকের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আমি সেদিকে এগিয়ে যাই কিছুটা। দোকান টি তে দাঁড়িয়ে কয়েকটা পারফিউম দেখে। তারপর পয়সা মিটিয়ে একটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়। অনুর কাছে গিয়ে বলবো আবার কথাটা?যদি আবার না বলে।আবার ফিরিয়ে দেয়!
টোটন দা ঠিকই বলেছিল। পরিচয় হওয়ার একমাস পর অনুর কথা টোটন দার কাছে গিয়ে বলতেই সে বলেছিল,এই সব মফস্বলের মেয়েদের কে একদম বিশ্বাস করবি না।এদের ফাঁদে পা দিবি না। এদের কে হাড়ে হাড়ে চিনি আমি।এই তিনটি বছর তোর সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে,প্রেম প্রেম ভাব দেখাবে।আসলে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া -আসার জন্যে একটা সাকিউরিটি গার্ড চাই তো,তাই! তারপর তিন বছর কেটে গেলেই, ভোঁ কাট্টা।
আমি হেসে বলেছিলাম,-"ধুর,অনু সেরকম মেয়েই নয়।ও খুব ভাল।আমার দিকে তাকিয়ে, হেসে হেসে গল্প করে।ট্রেনে আরলেডিস কামরায় ওঠে না,আমার পাশে বসে বাড়ি ফেরে।""
-"সব মেয়েদেরই ভাল বলে মনে হয়। তোমার ঐ বয়েস টা না, আমি অনেক আগেই পার করে এসেছি।"
টোটন দা টনটনে জ্ঞান ঝেড়েছিল কিছু টা। আমি অবশ্য সে সব কথা গায়ে মাখিনি।প্রেমে পড়লে ভালো কথাও খারাপ লাগে।যারা ভালোর জন্যে বলে,তাদের কেই মনে হয় বড় শত্রু। টোটন দার কথাটা সত্যি প্রমানিত হয়েছিল মাস চারেক পর।পুরোপুরি সত্যি নয়,অল্প কিছুটা সত্যি।অনেক দিন ধরে বুকের ভেতর পিন ফুটছিল,কথাটা বলার জন্য।ডানা ঝটপট করে উঠছিল ভেতরের পাখিটা।শেষমেষ আর চেপে রাখতে পারলাম না।কাহতক চেপে রাখা যায়? কেউই বাঁধা থাকতে চায় না। সবাই মুক্ত হতে চায়।তাহলে কথারাও কেন বাঁধা থাকবে? তারাও মুক্ত হবে।একদিন প্লার্টফর্মে অনুর পাশে দাঁড়িয়ে বললাম,-"অনেক দিন ধরে তোমাকে একটা কথা বলবো ভাবছিলাম।"
অনু হেসে আমার দিকে তাকায়।যেন কথাটা সে শুনতে চায়।
-"কি বলো?"
-"আমি তোমাকে ভালোবাসি।" কথাটা বলতে অন্তত তিন মিনিট সময় লেগেছিল আমার।
-"কি বলছো এসব? তোমার সঙ্গে যাই আসি বলে,এই নয় যে তোমাকে আমার ভালোবাসতে হবে! তোমাকে আমি ভালোবাসি না।"
-"কেন অনু? সত্যিই তুমি আমাকে ভালোবাসো না?"
-"না।তোমাকে ভালোবাসতে যাব কেন!আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। বীরভূম থাকে।ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে।"
-"এ কথা আগে বলোনি কেন তুমি?"
-"তুমি জানতে চেয়েছো কোনোদিন?"কথা বলতে বলতে আমরা, দশ নাম্বার প্লার্টফর্মের ফাঁকা জায়গায় দিকে এগিয়ে আসি।একটু পরেই ট্রেন ঢুকবে।লোকজন এসে জড়ো হতে শুরু করেছে।প্লার্টফর্মের লোকজনের মতো আমার চোখের ভেতর জল জমা হতে থাকে।আমি অনুর হাত ধরে বলি,-"বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি।ভেবেছিলাম, তুমিও আমাকে ভালোবাসো তাই,আমার সাথে প্রতিদিন কলেজে আস,হেসে গল্প করো।"
-"ওসব বোকা বোকা কথা ছাড়। তোমাদের ছেলেদের একটাই স্বভাব, হেসে কথা বললেই,ভালোবাসা!"
ট্রেন এসে প্লার্টফর্মে ঢোকে।অনু রেগে লেডিস কামরায় গিয়ে ওঠে। আজ আর আমার সাথে ওঠে না। আমি দাঁড়িয়ে থাকি।হাত দিয়ে চোখের জল মুছি।তারপর ট্রেনে গিয়ে উঠি।

অনু,আমাকে সত্যিই ভালোবাসে নি?পরদিন অনুকে কলেজে খুঁজে পাই না।বেশ কয়েকদিন কলেজে ওর অনুউপস্থিত লক্ষ্য করি।আমার মন বিশ্বাস করতে চায় না,কোনোকিছুই। পাঁচ দিন পর,অনুকে কলেজে দেখতে পাই।গেটের কাছে পাকড়াও করি।
-"এতদিন কলেজে আসোনি কেন?"
-"তাতে তোমার কি? পথ ছাড়ো।"
-"তুমি আমাকে, সত্যিই ভালোবাসো নি,অনু?"
-"এক কথা কত বার বলবো তোমায়?আর প্লীজ,আমার সামনে এসে এরকম করো না।"
-"অনু,একটি বার বলো যে, তুমি আমাকে ভালোবাসো!" আমি কাতর গলায় বলি।
-" অদ্ভুত তো! আমি তোমায় ভালোবাসি না,তো ওরকম বলতে যাব কেন?
-" কিন্তু আমার মন যে বার বার বলছিল, তুমি আমায়.....।"
অনু পাশ কাটিয়ে চলে যায়।আমি বোকার মতো সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকি।কলেজ থেকে ফেরার পথে প্লার্টফর্মে আবার দেখা হয়।অনু কথা বলে না।সামনে দিয়ে না তাকিয়ে লেডিস কামরায় গিয়ে ওঠে।আমার বুকের ভেতর কষ্ট হয়।একটা চিনচিনে ব্যাথা অনুভব হয়। ধীরে ধীরে ট্রেনে গিয়ে উঠি।

অনুর পারফিউম কেনা শেষ।এবার একটা ফোনের রিচার্জের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।ফোনে টাকা রিচার্জ করে।তারপর বাড়ির রাস্তা ধরে।আমি পিছন পিছন এগিয়ে যাই।আজ আবার বলবো।সাহস করে আবার বলতে হবে। আমাকে ফিরিয়ে দিলেও বলতে হবে।নইলে মন টা শান্তি পাচ্ছে না।কেন ভালোবাসবে না আমাকে?
বড় রাস্তা ছেড়ে,একটা গলি রাস্তা ধরে অনু। ফাঁকা রাস্তা এই মুহুর্তে। ল্যাম্পপোস্টর ক্ষীন আলো মাথার উপর এসে পড়ছে।অনু হাঁটছে। আমি তার পিছন পিছন।
-"অনু!" আমি ডাকি।
পিছন ফিরে তাকায় অনু।ভয়ে চিৎকার করে ওঠে।
-"তুমি!" অনু দৌড়তে থাকে। প্রানপনে।
-"অনু, ভয় পেওনা। প্লীজ একটি বার 'ভালোবাসি' বলে যাও।নইলে আমি মরেও শান্তি পাচ্ছি না।"
অনু ভয়ে ছুটতে থাকে।তার পিছনে আমিও ছুটছি।আমি ছুটছি! না, আমার হাওয়া ছুটছে? বাতাশে শুধু একটাই কথা ভাসছে,অনু,একটি বার ভালোবাসি বলে যাও......।
-------------------------------
সেদিন অনুর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে,ট্রেনে উঠেছিলাম। ভিড় ট্রেন। কান্না পাচ্ছিল আমার। বসার সিট পেলাম না।দরজার কাছে রড ধরে দাঁড়িয়েছিলাম।দমকা হাওয়ায় চুল গুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল বার বার।হাত দিয়ে চোখের জল মুছে, জলহাতে আবার রড পাকড়ে ধরছিলাম।ভিড়ের চাপ বাড়ছিল প্রতিটা মুহুর্তে। হঠাৎ অন্যমনষ্ক ভাবে হাত ফসকে গেল আমার। নীচে পড়ে গেলাম।হাত ফসকে গিয়েছিল? না, আমি মরতে চেয়েছিলাম?জানি না আমি। তারপর থেকে প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা চল্লিশের ট্রেন ঢোকার আগেই,এই প্লার্টফর্মে এসে হাজির হই।অনুকে দেখার জন্যে।দূর থেকে শুধু দেখি।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

No comments

Powered by Blogger.