|| রেপ ||ছোট গল্প|| ~ স্বদেশ কুমার গায়েন




(১)

–"তো মিসেস সেন,
প্রতিদিন কত বার শারীরিক সম্পর্ক করেন আপনারা?"
পুরো নাম পিয়াশ্রী সেন। হাসি,খুশি, উচ্ছ্বল, প্রানবন্ত মেয়ে।সবাই ছোটো করে পিয়া বলে ডাকে।ছোটো বেলায়,বাবা–মা,দাদা পরিবারের সবাই আদর করে পিয়া বলে ডাকত।এখন অফিসের বন্ধুরা ডাকে।সাড়ে পাঁচফুটের পাতলা, চিকন,ফর্সা,সুডৌল চেহারায় যৌবনের সমস্ত রুপ–লাবন্য,কানায় কানায় পরিপুর্ন।অঙ্কুরিত কচি ঘাসের মতো চকচকে ঠোঁটের মৃদু হাসি যে কাউকে খুন করে ফেলতে পারে।বয়েস খুব বেশী হলে ছাব্বিশ, বছর খানেক হল বিয়েও হয়েছে। জেলা শহরের একটা বেসরকারি অফিসে ক্লার্কের পদে সাত মাস ধরে কাজ করছে।বাড়ির বউ এর বাইরে কাজ করা নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে কম জলঘোলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পিয়ার জেদের কাছে হার মানে সবাই।
থানার বড়বাবুর এরকম অপদার্থ মুলক প্রশ্নে অস্বস্তি তে পড়ল পিয়া। মাথাটা ডান দিক– বাঁদিক কাত করে,আড় চোখে থানার ভেতর টা একবার দেখে নিল।সিলিং ফ্যান টা উপরে খট খট শব্দ করে ঘুরছে।অন্য পুলিশ গুলো সব মুখ চেপে চেপে হাসছে। হাসবেই তো! দারুন একটা মজার বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
রসালাপে সবাই একটু মজাই পায়।
–"দেখুন,লজ্জা পাবেন না মিসেস সেন। ইনভেস্টিগেশনের প্রয়োজনে আমাদের এসব তথ্য জানা জরুরি।"

গোলগাল মুখটি নীচু করে টেবিলের দিকে চেয়ে বসে আছে পিয়া।আঙুল দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটছে টেবিলের উপর।এই জন্যেই সে থানায় একদম আসতে চাইত না।এদের সব কিছুতেই একটু বেশী বেশী জানার ইচ্ছা জাগে।
–"চুপ করে বসে থাকবেন না।"কলম টা ডায়রীর বুকের উপর ঘোরাতে ঘোরাতে,মোটা ফ্রেমের চশমার উপর দিয়ে চোখ গুলো গোল গোল করে বড়বাবু বললেন।
–" দু' বার।" পিয়া নীচু গলায় বলল।
–"ও! আর সব বারেই আপনার স্বামী,জোর করে,আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক মিলনে বাধ্য করতেন?"
–" হ্যাঁ "
–"ওকে! আর তাই আপনি,আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের কেস করতে এসেছেন?"
–"অনেকটা সেরকম ই।ধর্ষনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তো এটাও তো এক প্রকার ধর্ষন।"পিয়া,বড়বাবুর চোখের দিকে তাকালো।
–"ঠিক।তো, আপনার স্বামী কি করেন?"
–"বাবার একটা ছোটো বিজনেস দেখা শোনা করেন।"
সাদা পাতার উপর খস খস করে নোট করে নিলেন বড়বাবু।তারপর বাইরে বারান্দার দিকে তাকিয়ে বললেন,–"ওই যে ছেলেটি আপনার সাথে এসেছেন,উনি কে হন আপনার?"
–"বন্ধু।"
–"কিরকম বন্ধু?"ভুরুটা কুঁচকে গেল বড় বাবুর।
এরকম,অপ্রজোনীয় প্রশ্নে এবার বিরক্ত হল পিয়া।পাশের টেবিলের পুলিশের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলল,–"উনি আপনার যেরকম বন্ধু হয়,ঠিক সেরকম।"
–"ও! তার মানে কলিগ?"
–"হ্যাঁ। আমরা একই অফিসে কাজ করি।"
—"আচ্ছা! যা যা লেখার সব লিখে নিলাম। দরকার পড়লে আবার এসে একটু সাহয্য করবেন।"
বিষন্ন মুখে,দু'টো হাত বুকের কাছে জড়ো করে একটা নমষ্কার করে,থানা থেকে বেরিয়ে এল পিয়া।
বাইরের রাস্তায়,লাল গোধূলি নেমে এসেছে। সূর্যটা অনেক দুরে বড় বড় বাড়ির আড়ালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো পিয়া।বাস টা আসতে এখনো দেরী আছে।
–" পিয়া দি,পুলিশ কি বলল?"দীপ, চোখ তুলে তাকালো পিয়ার দিকে।
অফিসে কাজে ঢোকার পর,পিয়ার সাথে দীপের পরিচয়। লম্বা,চওড়া স্মার্ট,মিষ্টি একটা ছেলে। মাথার কালো কালো চুল গুলো ছোটো ছোটো করে কাটা।পিয়ার পাশের টেবিলের কমপিউটারে বসে।তার থেকে বয়েসে বছর দু'য়েকের ছোটো হবে।নতুন অফিসের,সবার পরিচয়,কার কেমন ব্যাহার সব জেনেছিল দীপের কাছ থেকেই।একটু একটু কেমন করে কাছের বন্ধু করেছিল ফেলেছিল তাকে। মনের সমস্ত দু:খ–বেদনা, যন্ত্রনার কথা বলতে যেমন খুব কাছের কোনো মানুষের দরকার হয়,ঠিক তেমন।তাই তো দীপের পরামর্শেই আজ সাহস করে পুলিশের কাছে আসতে পেরেছে সে। চোখের উপর থেকে চুল টা সরিয়ে বলল,–" কি আর বলবে,বল! বাজে বাজে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করল।তুই,না বললে আমি একদমই আসতাম না।"
–"সব ঠিক হয়ে যাবে,তুমি বেশী চিন্তা করো না।"
–" আমার জন্যে,তোর চিন্তা টা একটু বেশী মনে হচ্ছে!" পিয়া, সাদা সাদা দাঁত বের করে হাসল।
একরম একটা কথা শোনার জন্য দীপ একদম প্রস্তুত ছিল না। কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল।বাচ্চা দের মতো মুখ নীচু করে,সামনের একটা পাথরে পা ঠুকতে লাগল।


(২)

সন্ধ্যা নেমে গেছে রাস্তার পাশের কৃষ্ণচুড়ার ডালে।ঘরে ফেরা পাখিরা কিচির মিচির কলরব তুলে তাদের সঙ্গীতানুষ্ঠান শুরু করে দিয়েছে। রাস্তার আলো গুলো জ্বলতে শুরু করে দিয়েছে। বাড়িতে ঢুকতে আজ একটু রাত হয়ে গেল পিয়ার। অন্যদিন এরকম হয় না।অবশ্য অফিস থেকে ফেরার পথে থানায় না গেলে, সঠিক সময়েই ঘরে ফিরতে পারত।ঘরে ঢুকে, ব্যাগ টা রেখে বাথরুমে ঢুকে গেল।ফ্রেস হয়ে, কাপড় টা চেঞ্জ করে, গোলাপি রঙের নাইটি টা পরল। আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখতে লাগল। মুখে মাখার কিছু ক্রিম বের করে,হাতের তালুতে নিয়ে মুখে ঘষতে লাগল।
–"কোথায় ছিলে এতক্ষন?" পিয়ার স্বামী প্রশান্ত ঘরে ঢুকলো।
বাবার একমাত্র ছেলে।বাবা মারা যাওয়ার এক বছরের মধ্যেই,তার সাধের ব্যাবসা টা আস্তে আস্তে নিজে হাতে শেষের পথে এনেছে প্রশান্ত। বন্ধু–বান্ধব,আর মদ খেয়ে টাকা উড়ানোয় সিদ্ধহস্ত আর কেউ আছে বলে মনে হয় না।বাড়ি ফেরার পথে পিয়া মনে মনে ভেবেছিল,
–ঘরে ফিরে একটা ঝামেলা হবেই। আয়নার সামনে বসে,চুল থেকে ফিতে টা খুলতে খুলতে পিয়া উত্তর করল,–"অফিসের কাজ সেরে আজ বেরুতে একটু দেরি হয়েছিল।"
–"থানায় গিয়েছিলে কেন? আর সঙ্গে ছেলেটি কে ছিল?" চমকে উঠল পিয়া।প্রশান্ত তাহলে, তাদের কে দেখেছে।যে ভয় টা পাচ্ছিল,ঠিক সেটাই হল।চুপ করে বসে,চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াতে লাগলো পিয়া।এখন কিছু বলা মানেই আরেকবার হয়,কুরুক্ষেত্র শুরু হবে,নইলে দ্রোপদীর বস্ত্রহরন।
–"পিরীত করা হচ্ছে,পিরীত! বুড়ো ছেড়ে এখন কচি মাল খুব পছন্দ হয়েছে,তাই না?"প্রশান্তের গলার আওয়াজ বেড়ে গেল।
আর চুপ করে বসে থাকতে পারল না পিয়া। মাথার চুলের ভেতর চিরুনি টা বাঁধিয়ে রেখেই পিছন ঘুরে বলল,–" কি বলছ,এসব? ও আমার বন্ধু!"
–" চোপ হারামজাদি!, বন্ধু? বন্ধু তোমার আজ ভিতরে ঢুকিয়ে দেব!"
পিয়ার চুলির মুঠি ধরে টেনে এনে খাটের উপর ফেলে দিল,প্রশান্ত।মুখ দিয়ে ভক ভক করে মদের গন্ধ বেরুচ্ছে। চোখ দু'টো জবা ফুলের মতো লাল।
–"কি করছ? ছাড়ো আমায়!"
–"চোপ শালী! অফিসের নামে বাইরে পিরীত করে বেড়ানো হচ্ছে?"
–"আ...অ..অ! লাগছে আমার। ছাড়ো!"
একটা তীব্র যন্ত্রনা,অসহায়ত্ব, ছটফটানি খাটের নীল–সাদা বেড কভারের উপর ফুটে উঠতে লাগল।সারাটা শরীর কাঁপছে পিয়ার। মুখের উপর একটা শয়তান ঠোঁট ঘষছে,কখনো বা বুকের উপর। বুকের স্ত্যন দুটো মেসিনের মতো পিষে যাচ্ছে।একটা তীব্র যন্ত্রনা। ভালবাসায় কি এত যন্ত্রনা হয়?নাইটি টা হাঁটুর অনেক উপরে উঠে গেছে।একটা নরখাদক যেন দাঁত দিয়ে, কখনো হাত দিয়ে তার সমস্ত শরীরটাকে ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে।দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে তার শরীরের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তবুও একটা প্রতিরোধ,বাঁচার প্রচেষ্টা। কিন্তু কতক্ষন?
একটা ব্যাঙ যেমন,সাপের মুখের ভেতর ছটফটানি করতে করতে একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি পিয়ার শরীর টি ও নিস্তেজ হয়ে এল।প্রতিরোধ থেমে গেল।চলতে লাগল সাপের ব্যাঙ খাওয়া,–যতক্ষন না,শরীর,মন পুর্ন পরিতৃপ্ত হচ্ছে।
হায়রে! নারী,বিয়ের পরেও তোরা শান্তি পেলি না!
নারীর ইচ্ছে বিরুদ্ধে,যৌন মিলন যদি ধর্ষন হয়, তাহলে বিয়ের পরেও, তার স্বামীর কাছে কত মেয়ে যে ধর্ষিতা হচ্ছে,তার খবর কি আমরা রাখি?
হয়তো রাখি না।আর রাখার ও প্রয়োজন বোধ করি না। স্বামীর কাছে, স্ত্রী ধর্ষিতা! – ব্যাপার টা এ সমাজে হাস্যকর। কারন,যখন তখন স্ত্রী কে ভোগ করার একমাত্র অধিকার নাকি তার স্বামীর! ছি!


(৩)

রবিবারের সন্ধ্যার কফিশপ টা একটু অশান্ত। চাপা স্বরে গল্প ভেসে আসছে,মৃদু গোলাপি আলো ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটা টেবিলে। কোনার একটা টেবিলে বসে বার বার হাতের মোবাইল টার দিকে তাকাচ্ছে পিয়া। এই নিয়ে পনেরো বার হয়ে গেল।দীপ এখনো কেন আসছে না?কুড়ি মিনিটের মধ্যে আসবে বলল!
কোনো ডিসিসান নেওয়ার আগে, ওর পরামর্শ নেওয়াটা খুব জরুরি। দীপ এসেই একটা কোলগেট মার্কা হাসি হেসে বলল,–"একটু দেরী হয়ে গেল দিদি।রাস্তায় জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম।"
ওয়েটার কে ডেকে দু' টো কফির অর্ডার দিল পিয়া।
–"রবিবারে হঠাৎ জরুরি তলব করলে?কি ব্যাপার?" টেবিলের উপর আঙুল বাজাতে লাগল দীপ।
কফি মগে একটা চুমুক দিয়ে পিয়া বলল,–" ডিভোর্স টা আমাকে নিতেই হচ্ছে বুঝলি। গত কালের ঘটনার পর,এছাড়া আর কোনো উপায় নেই আমার কাছে।তুই কি বলছিস, বল?"
চমকে উঠল দীপ।আঙুল গুলো থেমে গেল টেবিলের উপর।
–"কি বলছো?"
–"অনেক ভেবে দেখলাম,এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই আমার কাছে।"
–"আরেকটু ভাবো। একটু ধৈর্য ধরো; পুলিশ–প্রশাসন তো আছে।"
–"না! আমি ভেবে নিয়েছি।এখন তুই কি বলছিস বল?"
–" আমি আর কি বলব! ডিসিসান তো তুমি নিয়েই ফেলেছ। তবে আরেক বার ভেবে দেখতে পারতে।"
–"তুই বল দীপ,–যে নিজের বউ কে বাজারের মেয়েছেলের মতো মনে করে,স্ত্রী কে সন্মান দিতে জানে না-তার সাথে থাকা সম্ভব? জানোয়ােরর সাথে আর থাকতে চাই না।"
পিয়ার চোখে জল চলে এল।একটা যন্ত্রনা,বুকের ভেতর থেকে,মুখ ফুটে বেরিয়ে আসছে।
–" কিন্তু, ডিভোর্সের পরে কি করবে তুমি?"
–" কি আর করব ! এই কাজ টা তো করছি,আর আলাদা একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থেকে যাব।"
–"লোকে কত কিছু বলবে জান?"
–"মানুষের তো ওটা জন্মগত অভ্যাস!"
বিলটা মিটিয়ে দিয়ে কফিশপ থেকে বেরিয়ে এল দুজন।রাস্তায় ভ্যাপারের আলো গুলো ঘিরে পোকার দল ঘুর পাক খাচ্ছে। আকাশ টা কি মনমরা?
কই না তো,–বেশ পরিষ্কার, হাসি–খুশি।

(৪)

একবছর পরের ঘটনা। আগামীকাল পিয়ার ডিভোর্সের দিন ঠিক হয়েছে।
সারা রাত ঘুমোতে পারল না দীপ।এপাশ–ওপাশ করতে লাগল। একটা কষ্ট যেন মনের ভেতর ঝড়ের মতো এগিয়ে আসতে লাগল। সে তো সব সময় পিয়া দির মুখের হাসি টাই দেখতে চাইত, –আর কিছু না।আজ এই শান্ত,নির্জন,নিস্তব্দ, কালো অন্ধকারময় রাতে একলা বিছানায় শুয়ে, পিয়ার জন্য একটা অন্যরকম কষ্ট অনুভুত হল বুকের মাঝে।

পরদিন  বিকালে দু'জনের ডিভোর্স হয়ে গেল। ডিভোর্স পেপারে সই করে বাইরে বেরিয়ে এল পিয়া। সন্ধ্যা নেমে গেছে চারিদিকে। আধফালি কাটা কুমড়োর মতো চাঁদ উঠেছে আকাশে। তারা গুলো ঝিলিক কাটছে।একটা অটো ধরে কফিশপের সামনে এসে থামল পিয়া। দীপ কে আগে থেকেই সে আসতে বলেছিল এখানে। ভেতরে ঢুকে দেখতে পেল তাকে।
–" কি রে কখন এলি? তোকে একটু লেট করে দিলাম।"
দীপ,কফির অর্ডার দিল।
–"আজ,একটা যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেলাম।আর কোনো রাতে,বিছানায় কারো হাতে বন্য জন্তুর মতো নিষ্পেষিত হতে হবে না।আমার খুব কষ্ট হত জানিস!"
কফি মগে চুমুক দিতে দিতে পিয়া বলল।
–"কিরে চুপ করে আছিস কেন? আমি কি কোনো ভুল করছি,বল?"
দীপ নিরুত্তর রইল।টেবিলে আনমনে আঁকিবুঁকি কাটতে লাগল। চাপা একটা উত্তেজনা হচ্ছে বুকের ভেতর। কথাটা কি বলা ঠিক হবে?
পিয়া দি,রাগ করবে না তো?যদি তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়,আর কোনোদিন কথা না বলে!
–"কি রে! কি হয়েছে?"ফের শুধালো পিয়া।
–" দিদি,একটা কথা বলবো?কিছু মনে করবে না তো?" দীপের মুখ টেবিলের দিকে।
–"বল,কি বলবি? কিছু মনে করবো না।"
আশেপাশের টেবিল থেকে সবার কথা ভেসে আসছে।কফি মগে একটা চুমুক দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিল দীপ। তারপর বাচ্চাদের মতো আবদুরে গলায় চাপা স্বরে বলল,–" আমাকে, তোমার সঙ্গে রাখবে সারাজীবন?আমি প্রশান্তের মতো হব না,–খুব ভালোবাসবো তোমায়।"
–"কি বলছিস এসব? এতকিছু জানার পরেও তুই....!! না,এটা হয় না।"
–"কেন হয় না?আমি তোমার থেকে ছোটো তাই?"
দীপের গলাটা কেঁপে উঠল।চশমার ভেতর দিয়ে সরু সরু চোখ দুটো জলে ছল ছল করতে লাগল। এটা তো জল নয়। একটা নিষ্পাপ ভালবাসার বৃষ্টি ঝরে পড়ছে যেন দীপের চোখ দিয়ে।যে ভালবাসায়, সন্মান যেমন আছে,তেমনি আদর মাখানোও আছে। পরিনত,বুদ্ধিমতি পিয়ার সেটা চোখ এড়ালো না।
আলতো করে দীপের হাত টা ধরল পিয়া।মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল।–"চল,বাইরে যাই।ভেতর টা খুব গুমোট!"
সন্ধ্যা নেমে গেছে। আলো–আঁধারি রাস্তা। ল্যামপোস্টের আলোয়, দু'পাশের গাছের ছায়া পড়েছে রাস্তার উপর। দু'একটা গাড়ি ছুটে যাচ্ছে।দীপের হাতটা,পিয়ার হাতের মধ্যে শক্ত করে ধরা।পাশাপাশি হেঁটে চলেছে দু'জন। আজকের আকাশ টা যেন, অন্যদিনের তুলনায় আরও অনেক বেশী পরিষ্কার।

স্বদেশ কুমার গায়েন(২০১৫)

No comments

Powered by Blogger.