|| প্রেম || ছোটগল্প ||~স্বদেশ কুমার গায়েন



(১)

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে'বছর কলকাতায় নূতন কলেজে ভর্তি হল বিদিশা। শিয়ালদহের কাছে বঙ্গবাসী কলেজ। স্কুলের পুরানো বন্ধু -বান্ধব ছেড়ে আবার নূতন একটা জগত। অচেনা জায়গা,অজানা পরিবেশ।বিদিশা ছোট থেকেই মফস্বলে মানুষ। জায়গাটা মফস্বল হলেও শহুরে একটা ছোঁয়া অলিতে গলিতে লেগে থাকে। প্রথমে ভেবেছিল, একটা মন খারাপ এসে তার বন্ধু হবে। কলকাতার  এই নূতন কলেজে মানিয়ে নিতে পারবে তো!  কিন্তু সে'সব কোথায়? নূতন বন্ধুদের সাথে খুব সহজেই মিশে গিয়েছিল বিদিশা। তবে সব থেকে ভালো লেগেছিল,  নূতন একজন মানুষ কে। তারই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক তীর্থাঙ্কর সেন। ছ'ফুটের কাছে লম্বা চেহারা,ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙ, কামানো দাঁড়ি-গোঁফ,মাথা ভর্তি কালো চুল। খুব বেশি হলে তিরিশের কাছাকাছি তার বয়েস হবে।কালো জোড়া ভুরুর নীচে একটা আকাশী রঙা ফ্রেমের চশমা। এরকম হ্যান্ডসাম স্যার কলেজের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে আছে, কি?  নেই মনে হয়।মনে মনে ভাবে বিদিশা। এক ক্লাস ছাত্র-ছাত্রীর সামনে তীর্থাঙ্কর দাঁড়িয়ে যখন 'শেষের কবিতা' উপন্যাস সম্পর্কে লেকচার দেয়, তখন বিদিশা যেন স্বপ্নের জগতে হারিয়ে যায়। মনে হয়, ক্লাসটিতে কেউ নেই- শুধু সে আর স্যার। 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের প্রতিটা পাতায় মিশে যায় তার মন। তার সামনে দাঁড়িয়ে 'অমিত' আর সে 'লাবন্য'। পাশাপাশি তারা হেঁটে চলেছে সবুজ ঘাসের চাদরে ঢাকা এক অজানা রাস্তা দিয়ে। তারপর বন্ধুদের হঠাৎ ধাক্কায় সেই রাস্তা হারিয়ে যায়। আবার ক্লাসের পড়ার জগতে ফিরে আসে।



দক্ষিন চব্বিশ পরগনার ছোট্টো মফস্বল শহর চম্পাহাটি তে থাকে বিদিশা। স্টেশন থেকে তার বাড়ি কাছেই। হেঁটে মিনিট দশেকের পথ। সেই হাঁটা পথে, হাঁটতে হাঁটতে তীর্থাঙ্করের  কথা মনে পড়ে তার। কলকাতার সেই ক্লাসরুম, লেকচার, কখনো কখনো চোখে, চোখ রাখা - আরও কত কিছু। ভাবতে ভাবতে কখন বাড়িতে পৌঁছে যায় খেয়ালা থাকে না।
সেদিন একটু তাড়াতাড়া  কলেজে গেল বিদিশা। তার প্রিয় বান্ধবী নন্দিনী কে জিজ্ঞেস করলো,-" এই, টি.এস স্যার টিউশন পড়ান না? "
নন্দিনীর বাড়ি কলকাতায়। কলেজ থেকে খুব বেশি একটা দূরে নয়। বেশ ফর্সা, লম্বা,চটপটে স্বভাবের মেয়ে। বিদিশার দিকে চোখে টিপে বলে,-" কেন রে? আজকাল বড্ড স্যারের খবর নিচ্ছিস যে!.. কি ব্যাপার, ডিয়ার?" ভুরু নাচালো নন্দিনী।
শান্ত গলায় বিদিশা বলল,-" ধেত! কি ব্যাপার থাকবে তাই? আসলে টিউশন পড়বো, তাই বললাম।"
-" কেন, তোদের ওখানে কেউ বাংলা পড়ায় না? সেখান থেকে এতদূরে পড়তে আসবি!"
-" কত দূর আর তাই!...বল, না তুই!" আবদুরে সুর বিদিশার গলায়।
বিদিশার কথায় নন্দিনী হেসে বলল,-" বেশ বেশ। আমিও পড়তে যাই স্যারের বাড়ি। তুই ও চলে আসিস। আমি সব বলে রাখবো স্যার কে।"
-" উমম...মা। থ্যাঙ্ক ইউ রে। " নন্দিনীর গালে একটা চুমো খেলো বিদিশা।


(২)

কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে বছর দু'য়েক চাকরীটা পেয়েছে তীর্থাঙ্কর। কলেজে চাকরী পাওয়ার পর টিউশন পড়ানোর কোনো ইচ্ছে ছিল না তার।  কিন্তু ছাত্র- ছাত্রীরাই তাকে ছাড়লো না। কেউ কেউ বললো, তীর্থ দা, আপনি টিউশন না পড়ালে আমরা কোথাও পড়বো না। এত মহা মুসকিল! তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই টিউশন টা পড়ানো।
প্রথম দিনই  টিউশন পড়তে গিয়ে তীর্থাঙ্করের মনের এক কোনে জায়গা করে নিল বিদিশা। এমনিতে পড়াশুনাতে মন্দ নয় সে। বেশ ভালো। আর পড়াশুনায় ভালো ছাত্র-ছাত্রী রা স্যার দের মনে সবার আগে জায়গা করে নেয়।তার উপর হাসি-খুশি মনের মেয়ে বিদিশা। সবার সাথেই হেসে হেসে কথা বলে।
এভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো। একটু একটু করে কখন যে মনের ঘরে তীর্থাঙ্কর কে নিয়ে একটা স্বপ্ন এঁকে ফেলল তা নিজেই বুঝতে পারলো না বিদিশা। রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে রোজ ডায়রী আর কলম টা নিয়ে বসে পড়তো সে। তারপর মনের কল্পনার কত কথার বুনোট কলমের ডগা দিয়ে ডায়রীর পাতায় লিখে রাখতো।আর প্রতি পাতার নীচে একটাই লাইন লেখা থাকতো, - " আমি তোমাকে খুব ভালবাসি, তীর্থ দা।"

দেখতে দেখতে কখন যে একটা বছর কেটে বোঝাই গেল না। কল্পনায় ভেসে থাকলে বোধ হয় সময়ের খেয়াল থাকে না। বিদিশাও কল্পনায় ভেসে চললো তীর্থাঙ্করের সাথে। বিদিশার খুব ইচ্ছে করে মনের কথাটা জানাতে। কিন্তু সে ভয় পায়। যদি তীর্থ দার মনে এসব না থাকে! যদি খারাপ ভাবে তীর্থ দা! আর ভালো করে কথা না বলে!...  তাহলে সে বাঁচতে পারবে না। একটু একটু করে শেষ হয়ে যাবে। এরকম অনেক কথা মনে আসে তার। তার থেকে না বলাই ভালো। এরকমই তো ভালো আছে।
প্রথম বর্ষে বেশ ভালো ভালোই রেজাল্ট করলো বিদিশা। পঁইষট্টি শতাংশের উপরে নাম্বার। মোটেই খারাপ নয়। কিন্তু ঘটনাটি ঘটলো দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকে। সেদিন সকালে টিউশন পড়তে গেল বিদিশা। একটা নোট বোঝানোর পর তীর্থাঙ্কর বলল,-" তোমাদের একটা নিউজ দেওয়া হয়নি।"
-" কি নিউজ !" একসাথে বলে উঠল সবাই।
-" সামনের মাসের পনেরো তারিখ আমার বিয়ে। কার্ড ছাপানো হয়ে গেছে, এসে গেলেই তোমাদের দেওয়া হবে।"
-" সে কি, তীর্থ দা! আপনার গার্লফ্রেন্ড ছিল বলেন নি তো!" পাশ থেকে একটা মেয়ে বলল।
তীর্থাঙ্কর হাসলো। হেসে বলল,-" না, কোনো গার্লফ্রেন্ড নয়। আমার মায়ের দেখা মেয়ে।হঠাৎ  করেই হয়ে গেল তাই তোমাদের বলাও হয়নি। "
ব্যাচের সবথেকে বকাটে মেয়ে সুজাতা, চোখ গুলো মোটা করে বলল,-" কি বলছেন! আপনি বাংলা পড়িয়ে ও প্রেম করেন নি!.. এখানে এত পূর্বরাগ, অনুরাগ,....আমার তো পড়তে পড়তে পড়তে প্রেম পায়।"

হো হো হো হেসে উঠলো সবাই। শুধু বিদিশা হাসলো না। সে, একমনে খাতার উপর লিখে চললো। আর তার বুকের ভেতর টা যন্ত্রনায় ভেঙে ভেঙে যেতে থাকলো।


(৩)

পরের রবিবার পড়তে গেল না বিদিশা। আরও তিন দিন কলেজ বন্ধ। ফোন নাম্বার ডায়েল করলে সুন্দর করে সুইচড অফ বলে। তিন দিন পর ক্লাসে যেতেই বান্ধবীরা ধরলো,-" কি রে কলেজ আসিস নি কেন? ফোন ও বন্ধ করে রেখেছিস? "
মৃদু হসে বিদিশা বলল,-" আর বলিস না! হঠাৎ দিদিমার শরীরটা খারাপ হওয়ায়, গ্রামে যেতে হল। আর সেখানে কোনো নেটওর্য়াক ছিল না।
-" ওহ!.  তো এখন কেমন আছেন? এদিকে স্যার তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল।"
আনমনে বিদিশা উত্তর করলো,-"ভালো। "

যে জিনিষ টা কে ভুলতে চাওয়া, হয় সেটাই যেন মনে পড়ে বেশি। বিদিশাও অনেক ভুলতে চেষ্টা করেও পারলো না। একদিন ক্লাস শেষে বিদিশা কে ডেকে তীর্থাঙ্কর বলল,-" কলেজ শেষে  একবার আমার বাড়ি যেতে পারবে!... কিছু নোট পাওনি তুমি। আর কয়েকটা কথা আছে।"
-"আচ্ছা।" মাথা নীচু করে বলল বিদিশা।

কলেজের শেষ পিরিয়ড টি শেষ হতেই বেরিয়ে পড়লো বিদিশা। গেটের কাছে দাঁড়িয়েছিল তীর্থাঙ্কর। সেখান থেকে গাড়ি ধরে তার বাড়ি।  একটা অস্বস্তি যে হচ্ছিল না-তা নয়। আজ প্রথম একা একা তীর্থ দার বাড়িতে যাচ্ছে সে।  হঠাৎ যেন সমস্ত দু:খ কে বা, কারা কিডন্যাপ করে নিয়ে চলে গেছে। মন টা অনেকটা হালকা লাগছে।
এসে গাড়ি থামলো তীর্থাঙ্করের বাড়ির একদম সামনে। গাড়ি থেকে নেমে ওরা দু'জন ভিতরে ঢুকলো। তীর্থাঙ্করের বেডরুম টা ভালোই সাজানো। একপাশের দেওয়ালে বই এর পাহাড়। এঘরে আগে কখনো ঢোকেনি সে। সোফার এক প্রান্তে বসে চারিদিকে চোখ ঘোরাতে লাগলো।
তীর্থাঙ্কর ব্যাগটা রেখে হেসে বলল,-" এই তুমি কফি বানাতে পারো?"
-" কফি!  পারি... কিন্তু। " তীর্থাঙ্করের দিকে তাকালো বিদিশা।
-"যাও, তবে তোমার আর আমার জন্যে বানিয়ে আনো। কিচেনে চা, কফি, সব কিছু আছে। তোমার যা ইচ্ছে তাই বানাও। তারপর খেতে খেতে গল্প হবে, কেমন।"
বিদিশার মনে মনে হাসি পাচ্ছে। ভালোও লাগছে যেন। অন্য কোনো স্টুডেন্ট কে স্যার এত ভালোবাসে না। বাথরুম থেকে চোখে মুখে জল দিয়ে, কিচেনে  গিয়ে ঢুকলো বিদিশা। তারপর কফি বানিয়ে কাপ দুটো দু'হাতে করে ধরে এনে বলল,-" কফি রেডি, তীর্থ দা।"
সোফার উপর বসে ছিল তীর্থাঙ্কর।কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে বলল,-" বাহ! বেশ কফি বানাতে পারো তো।"
-" থাক। অত তারিফ করতে হবে না।" হাসল বিদিশা।
-" তারিফ নয়। খুব ভালো হয়েছে।... আচ্ছা,যেটা বলছিলাম, কয়েকদিন ধরে তোমাকে মনমরা, আনমনা দেখছি। পড়াশুনাও করছো না বোধহয়।  কেন?"
-" কিছু না, তীর্থ দা। এবার থেকে আর হবে না। "
-" কোনো প্রবলেম থাকলে, আমাকে বলতে পারো।"
-" না, কোন প্রবলেম নেই। এবার থেকে দেখো, আগের মতো পড়বো।"
-" গুড গার্ল।" হাসল তীর্থাঙ্কর।
তারপর উঠে গিয়ে টেবিলের উপর থেকে কতকগুলো নোট এনে বলল,-" এগুলো নিয়ে যাও। জেরক্স করে নিও।আর মাঝে মাঝে কফি করে খাইয়ে যেও।" শেষ কথাটা বলে হো হো হো করে হাসলো তীর্থাঙ্কর।  সেই সাথে বিদিশা ও। কিছু সময় হাসার পর বলল-"নিশ্চয় খাওয়াব।"
-" ও হ্যাঁ, আর একটা কথা, ..আমার বিয়েতে তোমাদের সবাই কে যেন দেখতে পাই। "
মুচকি হেসে বিদিশা বলল,-" আপনার এত ছাত্রী, যদি বৌদি দেখে চমকে যায়!"
-" না.. না । "
আরও কিছুক্ষন কথা বলার পর উঠে পড়লো বিদিশা। তীর্থাঙ্করের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা শিয়ালদহে স্টেশনে চলে এল।

সত্যিই, মনটা অনেক হালকা লাগছে আজ।


(৪)

সমস্ত মন খারাপ সরিয়ে তীর্থাঙ্করের বিয়েতে গিয়েছিল বিদিশা। তার মন খারাপ করেনি। কেনই বা করবে? কারন একটু একটু করে তাকে 'প্রেম'-'ভালোবাসা' শব্দটির মানে বুঝতে শিখিয়ে ছিল তীর্থাঙ্কর। তীর্থাঙ্কর মনে করে, 'প্রেম'-'ভালোবাসা' মানে শুধু পাওয়া নয়। হারানোটাও এক প্রকার 'প্রেম'-'ভালোবাসা'। কাউকে হারিয়েও যদি সারাজীবন তাকে মনে রাখা যায় তবে, সেটাই হল আসল 'প্রেম'-' ভালোবাসা'। আর তীর্থাঙ্কর সেটা তেই বিশ্বাসী। গত বছরে পড়া 'শ্রীকান্ত' (প্রথম পর্ব) উপন্যাসের শেষ লাইন টা মনে পড়লো বিদিশার, -" বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, ইহা দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।"


কলেজের পাঠ শেষ। তেষট্টি শতাংশ নাম্বার নিয়ে ফার্স্ট ক্লাস পেল বিদিশা। রেজাল্ট বেরোনোর পর তীর্থাঙ্কর একদিন তাকে একা ডেকে আলাদা করে খাইয়েছিল।কলেজের পড়া শেষ হলেও তীর্থাঙ্করের সাথে বিদিশার যোগাযোগ নষ্ট হয়নি। বিদিশাকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে কলকাতা ইউনির্ভাসিটি তে মাস্টার ডিগ্রী তে ভর্তি করে দিয়েছিল তীর্থাঙ্কর।সেখানে অনেক শিক্ষকের সাথে তার আগে থেকে  পরিচয় ছিল। বিদিশা কে ও সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। যেকোনো সমস্যায় তীর্থাঙ্কর তার পাশে থাকতো। কখনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে, সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ডেকে বুঝিয়ে দিত।

সময় থেমে থাকে না। এভাবে আরও এক বছর কেটে গেল।নিজের ভাই-বোন বলতে বিদিশার এক দাদা ছিল। সেই দাদার বিয়েতে তীর্থাঙ্কর কে নিমন্ত্রন করলো বিদিশা।একদিন বিকালে সটান তীর্থাঙ্করের বাড়ি গিয়ে হাজির। আবদুরে গলায় বলল -"বৌদি, তোমাকে আর তীর্থ দা কে যেতেই হবে। আমি কোনো না শুনতে চাই না।"
তীর্থাঙ্কর বাড়িতেই ছিল। হেসে বলল,-" নিশ্চয় যাব। যদি কোনো ইমার্জেন্সী কাজ না এসে পড়ে।"
-" কোনো কাজের, কথা শুনবো না। আপনাদের যেতে হবে তাই জানি।"

না, কোনো কাজ পড়েনি সেদিন। বিয়ের রিসেপসানের দিন তীর্থাঙ্কর আর তার স্ত্রী দু'জন বিদিশার বাড়ি পৌঁছে গেল। বাড়ির সবাই খুব খুশি। সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল বিদিশা। তার  মা বলল,-"স্যার কে,  নিয়ে উপরের তোর ঘরে যা। অনেক দূর থেকে এসে একটু রেস্ট করে নিক।"
অনেক গল্প হল সারক্ষন । তীর্থাঙ্করের স্ত্রী কে সাথে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে দেখালো বিদিশা। তার নূতন বৌদির সাথে আলাপ করিয়ে দিল। তারপর রাতের খাওয়া -দাওয়ার পর শেষ ট্রেনে চলে গেল তীর্থাঙ্কর আর তার স্ত্রী।

সমস্ত কাজ মিটে গেলে, মাঝরাত পেরিয়ে নিজের ঘরে এসে ঢুকলো বিদিশা। টেবিলের উপর থেকে জলের বোতল টা হাত বাড়িয়ে নিতে গিয়েই চমকে উঠল। তার ডায়রী টা টেবিলের উপর রাখা। কে বের করলো, ডায়রী! ....কেউ পড়েছে নাকি! তার বই- খাতা তে এমনি বাড়ির কেউ হাত দেয় না। তবে কে বের করলো ডায়রী? জল খেল না বিদিশা। বোতল টা রেখে, ডায়রী টা হাতে নিল সে। ডায়রীর প্রথম পৃষ্টা খুলতেই একটা সাদা কাগজের চিরকুট দেখতে পেল সে। তার উপর চোখ রাখলো। কিছুক্ষন পর চোখ দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটার মতো জল গড়িয়ে পড়লো কাগজের উপর। কখনো কখনো আনান্দেও চোখে জল আসে। কিন্তু এ জলের কারন বোঝার উপায় নেই।কাগজের উপর নীল কালি দিয়ে এক লাইন লেখা। বিদিশা কাগজ টি যখন হাতে পেয়েছে, সেই থেকে পাঁচ মিনিট হতে চললো-তবুও সেই একটাই লাইন বার বার পড়ে চলেছে। মাঝে মাঝে এরকম হয়। হাজার লাইনের থেকে একটাই লাইন বার বার পড়তে ইচ্ছে করে। একটা ছোট্ট লাইন দিয়েই, একটা উপন্যাস, গল্প সম্পুর্ন হয়। চিরকুটের উপর হাতের লেখাটি দেখে চিনতে অসুবিধা হল না। এ লেখা তীর্থ দার।-" আমি তোমাকে,সারা জীবন মনে রাখবো,বিদিশা।"

তীর্থাঙ্করের বলা প্রেম-ভালোবাসার সংজ্ঞা টা মনে পড়লো বিদিশার।কাগজ টা  বুকের উপর চেপে ধরে চোখ বন্ধ করলো সে।

স্বদেশ কুমার গায়েন ( মার্চ, ২০১৭)

ডাউনলোড করে নিন 'গল্পপড়ুয়া' অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। আর ব্লগের সব গল্পপড়ুন আপনার হাতের মুঠোয়। ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন। http://www.mediafire.com/file/no8rm8bza5xaqnf/Golpoporuya.apk

No comments

Powered by Blogger.