|| ফিউচার || ছোটগল্প || ~স্বদেশ কুমার গায়েন





(১)

আজ আমার মন খারাপ।মাঝে মাঝে যে মন খারাপ করে না–তা নয়।কিন্তু আজ মনটা একটু বড্ড বেশী খারাপ হয়ে গেল।এতদিন তাহলে একটা মিথ্যে,ভুল ধারনা আঁকড়ে ধরে বসে ছিলাম.............!

সুমন দু'হাতে,দুটো গোল গোল লাল পাথর নাচাতে নাচাতে বলল,–"ভাই,তাহলে এবার একটু ফিউচারের কথা মন দিয়ে ভাব।এরকম করলে কিন্তু ফিউচার টাই থাকবে না! পুরো বরবাদ হয়ে যাবি।আর তখন,বসে বসে হাত কামড়াবি।"


আমি আর সুমন প্রতিদিন বিকালে এদিকটাতে ঘুরতে আসি।বিকালে আমাদের টিউসন থাকে না,তাই সময় কাটাতে এখানে আসি।লঞ্চ ঘাট টি অনেক দিনের পুরানো। নতুন লঞ্চ ঘাট টি তৈরী হওয়ার পর,এই ঘাটে আর লঞ্চ আসে না। সেই থেকে লঞ্চ ঘাট টা,শীতকালের মড়া কাশফুলের মতো পড়ে আছে–কেউ আর ফিরেও তাকায় না।খুব কম লোকজনই এদিকটাতে আসে। তবে, বিকাল বেলা,প্রেমিক–প্রেমিকাদের আড্ডার আর্দশ স্থান এটাই। সামনে বিরাট বড় নদী। এপার থেকে ওপার দেখা যায় না।ধোঁয়ার মতো লাগে।বিস্তৃত খোলা আকাশের মাঠে সাদা সাদা মেঘ গুলো চড়ে বেড়ায়। ঠান্ডা নোনা বাতাশ জলের উপর দিয়ে উড়ে এসে মুখে লাগে। সূর্য টা পশ্চিমের আকাশে বড় বড় গাছের আড়ালে চলে যেতেই,নদীর জল একটু একটু করে কালো হয়ে আসে। সুমনের কথায়,ওর মুখের দিকে ঘুরে তাকালাম।ও এক দৃষ্টে নদীর গভীরে তাকিয়ে আছে। আমরা একই সাথে স্কুলে পড়ি–সেই ছোটো বেলা থেকে।এগারো ক্লাসে উঠেও সেই বন্ধুত্বের ছাড়াছাড়ি হয়নি।আমাদের স্কুলের সামনে দিয়ে একটা বড় কালো পিচের রাস্তা চলে গেছে, সোজা স্টেশনের দিকে।এই রাস্তা থেকে ডানদিকে নেমে গেছে একটা ছোটো কংক্রিটে মোড়া গলি পথ। গলিটার প্রথম দুটো বাড়ির পর দোতালা বাড়িটা সুমনের।আর তার ঠিক তিনটে বাড়ি পর,পাঁচিল ঘেরা বাড়িটি আমার।
আমি সুমনের মুখের দিকে তাকিয়ে করুন সুরে বিন বাজালাম,–" কি করব,তাহলে?"
–"নেকুপনা করিস না তো! যেটা বলেছে,সেটাই কর।মনের মতো ফিউচার পেতে গেলে,একটু কষ্ট করতে হবে ভাই!" সুমন দাঁত খেঁচালো।

সুমন আমার থেকে বেশী স্মার্ট।ওর বুদ্ধি গুলোও বেশ ধারালো–সেটা আমি ভালরকমই জানি। তাই যেকোনো বিষয়ে ফান্ডা নিতে,ওই কাছেই ছুটে আসি। সেবার বায়োলজি ল্যাবে ব্লাড গ্রুপ টেস্ট করতে গিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। ম্যাডাম কড়া গলায় হুকুম দিলেন যে,প্রত্যেকের আঙুলে একটু সূঁচ দিয়ে রক্ত বের করে করে কাঁচের উপর রাখতে। ম্যাডামের কথা শুনে আমার মাথা বোঁ করে ঘুরে গেল।এ কি সমস্যায় পড়লাম! অগত্যা উপায় না দেখে সুমনের শরনাপন্ন হলাম।তিন সেকেন্ডেই একটা সলিউসান করে দিল।হাত দিয়ে ল্যাবের একটা কোনার দিকে দেখিয়ে বলল,– ওখানে গিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাক।মশার রক্ত খাওয়া কমপ্লিট হয়ে গেলে,সেটাকে মেরে,সেই রক্ত টা কাচের প্লেটের উপর রেখে ম্যাডাম কে দেখিয়ে দে।"
আমার মুখ টা হাঁ হয়ে গেল।বলে কি ছেলেটা?
–"মশার রক্ত!"
–"তুই কি গাধা! ওটা মশার রক্ত কি করে হল?তোর রক্ত টাই তো মশা খেল।"
আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। যাইহোক সেবার কি করেছিলাম, সেটা আর বললাম না। এই হল সেই সুমন।আজকেও আমার ফিউচার নিয়ে পড়েছে। আপনারা কি ভাবছেন? সুমন আমাকে,ক্যারিয়ার,ভবিষৎ– ফিউচার,এই সব নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে! একদমই না।এ 'ফিউচার',সে ফিউচার নয়।আমার তো ফিউচার বলতে একজনই–সে হল দিশা। পুরো নাম দিশা সেনগুপ্ত। আর এখানে এই 'ফিউচার' নিয়েই আলোচনা টা চলছে।

আমাদের স্কুল টা দশম শ্রেনী পর্যন্ত শুধু বয়েজ।একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনী কো–য়েড অর্থাৎ ছেলে ও মেয়ে একসাথে। আমরা সবাই অপেক্ষা করে থাকি– কখন দশ ক্লাস পেরিয়ে, এগারো ক্লাসে উঠব।তারপর মেয়েদের পাশে বসব,আড়চোখে তাকাবো, মেয়েগুলো একটু মিটি মিটি হাসবে–আর আমাদের বুকের ভেতর টিও সেই তালে তালে দপ দপ করে উঠবে।এসব চিন্তা ভাবনা আমাদের প্রত্যেকের মনের ভেতরে ঘুরপাক খেত। কিন্তু এসব ভেবে কি হবে?এত ছেলেদের মাঝে,মাত্র পনেরো–কুড়ি জন মেয়ে! রেসিও টা একটু বেড়ে গিয়েছিল। তার উপর আজকের দিনে,কেউ আর ফাঁকা থাকে না।সবাই ব্লকিং মোডে।শুধু একজনই বোধহয় ফাঁকা ছিল–সে হল দিশা।দিশাকে কোনোদিনই কোনো ছেলের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে কথা বলতে দেখিনি। প্রথম যেদিন ও কে দেখলাম,সে দিনই আমার বুকের ভেতর টা যেন কেঁপে উঠেছিল।চামড়ার নীচে ঠান্ডা হয়ে এল।মনে হল ঠক ঠক করে হাত–পা কাঁপিয়ে জ্বর আসবে।মনে প্রথম ভালবাসা জাগলে জ্বর আসে নাকি?আসেনা বোধহয়। কিন্তু আমার সেরকম অনুভুতি হল। দিশার চোখে একটা পাতলা ফ্রেমের চশমা,ঘাড়ের নীচ পর্যন্ত ছড়ানো কালো চুল গুলো মাথায় একটা লাল ব্যান্ড দিয়ে আটকানো।উচ্চতা মাঝারি। ফর্সা হাতে,একটা সোনালি রঙের সরু চেনের ঘড়ি।কালো রঙের ব্লাউজ এবং গোলাপি রঙের শাড়ি পড়ে দোতালার বারান্দা দিয়ে হেঁটে ক্লাসে ঢুকতো,–তখন আমার বুকের করিডরে সে পদধ্বনি শোনা যেত।মনে হত,ওই শান বাঁধানো বারান্দাটার কি সৌভাগ্য! আমি কেন মানুষ হতে গেলাম? আমিও শান হব।আমা বুকের উপর দিয়ে দিশা হেঁটে যাবে।আমি ওর পা দুটো জড়িয়ে ধরবো।এরকম কত সব চিন্তা মাথায় আসতো। ক্লাসে আড় চোখে বার বার তাকিয়ে দেখতাম।কয়েকবার চার চোখও এক জায়গায় হয়ে গেল।বেশি দিন আর এভাবে নিজের সাথে,' ঠান্ডা লড়াই' চালানো গেল না।

একদিন বায়োলজি ক্লাসের আগে সুমনের পাশে গিয়ে উসখুস করতে শুরু করলাম।
–"কি হয়েছে রে?" সুমন আমার এরকম ন্যাকা মার্কা ভাব দেখে রেগে গেল।
–"আমার কি হবে,সুমন? আমি তো বেশী দিন বাঁচবো না।মরে যাব মনে হয়!"
সুমন চমকে উঠল।–"কেন কি হয়েছে?"
–"দিশার তো, কোনো কূল–কিনারা, দিশা খুঁজে পাচ্ছি না।একটু পারসোনালি দেখ না,আমার কেস টা।"
–"ও! এই ব্যাপার।তলে তলে তো অনেক দূর জল গড়িয়েছে!"সুমন বইটা বন্ধ করল।
আমি লজ্জায় মুখ নীচু করলাম।–"দেখ ভাই, আমার সোজা কথা,প্রথমেই এরকম নেকু নেকু ভাব ছাড়তে হবে।সব সময় প্রেম প্রেম ভাব নিয়ে ঘুর ঘুর করলে হবে না। প্রথমেই বন্ধুত্ব! তারপর ধীরে ধীরে দেখে শুনে পা ফেলতে হবে।বুঝলি কিনা?"
সুমন এমন বিজ্ঞের মতো ভাব করে কথাটা বলল–যেন বিশ– পঁচিশ টা প্রেমের অভিজ্ঞতা নিয়ে বসে আছে। তবে বিশ–পঁচিশ টা না হোক একটা তো আছে! নিবেদিতা কে পটাতে ওর কম বেগ পেতে হয়নি।শেষ পর্যন্ত হিমেশ রেশমিয়া ছেড়ে রবীন্দ্রনাথের গান শোনা,কবিতা পড়া শুরু করল।
আমি চোখ গুলো বড় বড় করে বললাম,–"ধীরে ধীরে পা ফেলবো কেন?"
সুমন হাত দু'টো কে পেছনের বেঞ্চে প্রসারিত করে বলল,–"প্রেমের পথে অনেক কাঁটা বিছানো থাকে বুঝলি। তাই একটু দেখে শুনে হাঁটতে হবে।"
–"আবার কাঁটা! তা হোক।ফুটে যাক।রক্ত বেরুক।যন্ত্রনা হোক। তবুও আমার দিশা কে চাই।"
–"বেশি নাটক করিস না তো।আগে যেটা বললাম সেটা কর–বন্ধুত্ব!" সুমন ধমকে উঠল আমার উপর।
দু'দিন পর দিশাকে লাইব্রেরি রুমে বই পড়তে দেখলাম।ইংরাজী বিষয়ের, অরুন স্যার আসেনি।তাই পুরো ক্লাস ফাঁকা।বায়োলজির প্রাকটিক্যাল খাতা টা জমা দিতে গিয়ে চোখে পড়ল।যদিও লাইব্রেরি তে আমি দরকার ছাড়া ঢুকি না,তবুও আজ ঢুকতে ইচ্ছে হল। ম্যাডামের,কাছ একটা গল্পের বই নিয়ে দিশার ঠিক সামনের বেঞ্চে এক পাশে সরে বসে পড়লাম।গল্পের বই নেওয়ার কারন হল,সুমন। সুমন বলে,মেয়েরা নাকি গল্প–কবিতা খুব ভালবাসে।দিশা এক মনে একটা মোটা মত ফিজিক্সের বই দেখছে।
কি সুন্দর লাগছে চোখ দু'টো!
কি সুন্দর মুখ!
কি সুন্দর বুক..!
কি সুন্দর...
–"তুই লাইব্রেরি তে এসে গল্পের বই পড়িস?
চমকে উঠলাম।চোখ সরিয়ে নিয়ে, থতমত খেয়ে বললাম,–"হ্যাঁ! গল্প তো আমার খুব প্রিয় জিনিষ। তোমার ও নিশ্চয় প্রিয়?"
–"আমার সব থেকে বোরিং লাগে এ সব গল্প–কবিতা।"দিশা বই টা বন্ধ করে উঠে পড়ল।
যা! একি হল।সব তো উলটে গেল। কি বলি এখন?কেন মিথ্যে বলতে গেলাম?সত্যিটাই বললে হত। যাই হোক, কথা তো বলেছে!

দিশার বাড়ি আমাদের এখানে নয়। বাইরে থেকে পড়তে এসেছে। আমাদের স্কুলের পিছন দিকে একটা মেয়েদের মেস আছে।বাইরে থেকে যে সব মেয়েরা আসে তারা প্রায় সব এই মেসে থাকে। দিশা ও ওই মেসের মেম্বার।বাইরের মেয়ে হলে কি হবে,এখানে এসে,ক্লাসের মেয়ে গুলোর সাথে তৃতীয় দিন থেকেই ভাব জমিয়ে নিয়েছে।কিছু মানুষ আছে,যারা খুব তাড়াতাড়ি ভাব জমাতে পারে–দিশা ও তাদের মধ্যে পড়ে।বেশ কিছুদিন পর বুঝতে পারলাম,এ মেয়ে যত চটপট কথা বলে–তার থেকে আরও তাড়াতাড়ি ফিজিক্সের প্রবলেম গুলো সলভ করে দেয়।অংকে আরও ব্রেলিয়ান্ট।আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। এই গোবর ভরা মাথা নিয়ে,এই মেয়েকে ভালবাসি! সুমন ভাব বুঝে বলল,–"ভাই! সাইড হয়ে যা।এ মেয়ে তোর জন্যে নয়।"
মন টা খারাপ হয়ে গেল।শেষ পর্যন্ত দিশা কে ভুলে যেতে হবে? পারব না আমি।

সেদিন টিফিনে ক্লাসে বসে সুমনের সাথে গল্প করছি।দিশা একটা প্রাকটিক্যাল খাতা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল।আমার দিকে তাকিয়ে বলল,–"তুই নাকি ভাল ছবি আঁকতে পারিস, সুনিতার কাছে শুনলাম।আমার বায়োলজির ছবি গুলো একটু এঁকে দে না, প্লিজ!"
মেয়েদের মুখে প্লিজ শব্দ টা শুনলে ছেলেদের সব বাঁধন ছিঁড়ে যায়।আমার ও গেল।সুযোগ! এই সেরা সুযোগ।হাত ছাড়া করা যাবে না। প্রেমের দিব্যি!আমার প্রতিভার পরিচয় দিতেই হবে।খাতাটা হাতে নিয়ে বললাম,–" ঠিক আছে।"
একটা থ্যাঙ্ক ইউ বলে দিশা চলে গেল।দিশা চলে যেতেই সুমন মুখ খুলল,–"বন্ধু,আর দেরি নয়। এবার মনের কথা টা জানিয়ে দে।"
–"কিভাবে?"
–"খাতা,ফিরিয়ে দেওয়ার সময় আলাদা করে ডেকে,'ভালবাসি' কথা টা বলে দিবি।"
মন্দ নয় প্লান টা।বলতেই হবে আমাকে।যেভাবেই হোক! বাড়ি ফিরে খাতা নিয়ে ছবি আঁকতে বসে গেলাম।শুধু পেনসিল দিয়ে নয়,তার সাথে ভালবাসা মিশিয়ে। পড়াশুনা বাদ দিয়ে শুধুই ছবি আঁকলাম।মনের ভেতর টা যেন আনন্দে টগবগ করে ফুটছে।ছবি পছন্দ হলেই কেল্লাফতে!
আমাদের স্কুলের বিল্ডিং এর পাশে একটা বড় মেহগনি গাছ।ঝাঁকড়া ডালপালায় বিকেলের রোদ নেমেছে।সুমনের কথা মতো ছুটির শেষে, দিশাকে ডেকে বললাম,–" তোমার খাতা টা।"
–"এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল?"
দিশা অবাক হয়ে তাকালো।মনে মনে বললাম, প্রেমিকার খাতায় ছবি আঁকতে গেলে এরকমই হয়।খাতাটা দিশার হাতে দিয়ে বললাম,–"একটা কথা ছিল তোমার সাথে!"
–"বল।" দিশা খাতার পেজ গুলো উলটে উলটে ছবি দেখতে লাগল।–"কি দারুন এঁকেছিস তুই!"
আমার হাত পা গুলো কাঁপছে।বুকের ভেতরের হৃদপিন্ড টা পিং পং বলের মতো লাফাচ্ছে। জিভের ডগায় এসে বেঁধে যাচ্ছে বার বার কথা টা। না! ভয় পেলে চলবে না।
–"কি হল, বল!" দিশা আমার চোখের দিকে তাকালো।
সর্ব শক্তি একত্রিত করে বলে ফেললাম,–"আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।"
দিশা হাসল।আমার বুক টা তখনও কাঁপছে। বলল,–"তুই খুব ভাল। অতিরিক্ত ভাল।এত ভাল ছেলে কে আমি ভাল বাসতে পারব না।"
–"কেন?" আমার মুখে করুন সুর বাজলো।
–"তুই, বিড়ি,সিগারেট খাস?"
–"মানে?"
–"রঙিন জল খাস,মানে মদ?"
আমার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল।কি বলছে মেয়েটা?
–"না,আমি কোনো নেশা করি না তো।"
–"আমি করি।মদ খাই,মেসের সকলে মিলে। তাইতো বলছি,তুই খুব ভাল ছেলে।তুই পারবি না এসব।"
আমি হাঁ করে দিশার দিকে তাকিয়ে রইলাম। বোকার মতো।দিশা খাতা টা নিয়ে চলে গেল। এই মেয়ে মদ খায়? সিগারেট খায়? নিজের কান কে ও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

তাই আজ আমার মন খারাপ।এত দিনের বদ্ধ ধারনায় আজ চোট লাগল।ছোটো থেকেই জেনে এসেছি,মেয়েরা নেশামুক্ত ছেলেদের বেশি পছন্দ করে।কিন্তু এ যে উলটো কেস!
সন্ধ্যা নেমে আসছে নদীর বুকে। সুমন হাতে পাথর নাচাতে নাচাতে বলল,–"দিশা যা বলছে তাই কর! মেয়েরা আজ কাল আর ভাল ছেলে পছন্দ করে না! ওদের একটু এলোমেলো চাই। "
–"আমি সিগারেট খাব!"
–"নে ধর,পকেটে একটা ছিল।"
–"আমি মদ খাব।"
–"এখন হবে না।বাড়ি যাওয়ার সময়।"
–"দিশার জন্যে আমি সব খেতে রাজি!"
নদীর কালো জলে,সন্ধ্যার বাতাশ লেগে কূল কূল শব্দ হচ্ছে।দুজনে উঠে বাড়ির পথে ফিরলাম।


(২)

গত পাঁচদিন ধরে মহড়া চলছে। যাকে বলে কঠোর প্রাকটিস।সুমনই আমার কোচ।নদীর পাড়ে অনেক সিগারেট খাওয়া প্রাকটিস করেছি। সুমনের ঘরে গিয়ে মাঝে মাঝে,চুরি করে রঙিন জলেও চুমুক লাগিয়েছি।মাথা টা ঘুরলেও,দিশার মুখ টা ভেবে দারুন লাগে।দিশা শুধু আমার।ওর জন্য সব পারি।
কিছুক্ষন আগে কেমিস্ট্রির প্রাকটিক্যাল ক্লাস শেষ হয়ে গেছে।পুরো স্কুলটা এখন ফাঁকা।শুধু আমাদের ক্লাসের পঁচিশ ত্রিশ জন ছাত্র–ছাত্রী। দিশা কে ইশারায় ডেকে স্কুলের বিল্ডিং এর পেছনের দিকে নিয়ে গেলাম। এদিকটাতে ঘন গাছ–গাছালি,লতা–পাতায় ঘেরা। তার ওপাশে উঁচু পাঁচিল।বাইরে থেকে কিছু দেখা যায় না। আসে পাশে কেউ নেই।বললাম,–"দিশা, আমি সিগারেট,মদ খাওয়া শিখেছি। এবার ভালবাসবে তো?"
প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেটের খাম,আর ব্যাগ থেকে একটা বিয়ারের বোতল বের করলাম। দিশা অবাক হয়ে গেল।আমার খুব কাছে এগিয়ে এল।
–"তুই সিগারেট,মদ খাওয়া শিখেছিস!"
–"তুমি তো বললে।"
আমার গালে একটা আলতো করে চড় মারল দিশা।আদর করে যেভাবে মারে,ঠিক তেমন। তারপর খুব জোরে বুকে জড়িয়ে ধরল।বলল,–" আর কক্ষনো এসব খাবি না।আমার ভাল ছেলেই পছন্দ।"
আমার সারা শরীর টা কেঁপে উঠল। শীত করতে লাগল।মনে হল,আবার জ্বর আসবে।সুমন টা কিছুই জানে না।মেয়েরা ভাল ছেলেই পছন্দ করে। আস্তে করে একটা হাত দিশার পিঠে রাখলাম।আমার ফিউচার যে ব্রাইট,সেটা স্পর্ষ্ট দেখতে পাচ্ছি।


স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

1 comment:

  1. Sera likhecho dada...ageo pora. Notun kore pore abar valo laglo.

    ReplyDelete

Powered by Blogger.