মৃণাল সরকারের কবিতা গুচ্ছ


কবিতা ২৩


চলো খুঁজবো আলো সবুজতায়
চলো বাঁচবো নরম শিখায়
ছুঁয়ে নিবো রোদের ভাঁজে তোমার কোল
অক্লান্ত বাতাস বইতেই থাকবে,বইতেই থাকবে

হাঁ করে দেখবে শুধু আকাশ,সবার চোখ বন্ধ
ধেয়ে আসবে নতুন আলো ছড়াবে স্নিগ্ধ গন্ধ
প্রতিটা সন্ধ্যে আলো আনবে নিজে থেকে
এক চাঁদ ভালোবাসা জড়িয়ে ধরবে দুজনকে
ফানুস উড়বে আলোর গন্ধে ভর করে
নাম লেখা থাকবে সারা শরীর জুড়ে
হাজার বেলুন ভাসবে আলোর জোয়ারে
প্রতিটা আলো ডাকবে দুজনের নাম ধরে!

৮/১/২০১৭

কবিতা ২৪

শেষ হচ্ছে আরেকটা বছর,সময়ের মাখামাখিতে।
ঘুম-ঘুম চোখ খুঁজছে দু-চোখ,মনের পাড়াপাড়িতে।
স্পর্শকাতর স্বপ্নগুলো ডাকনামের সমুদ্রে
স্নান করছে পাখনাগুলো মেলে ঐ উর্দ্ধে।
শিস ছেড়ে ডাক দিচ্ছে ফেলে আসা সেদিনগুলো।
জানিনা কত রঙিন জড়ো করেছে আগামীগুলো!

পেছনে অনেক দুঃখ ছিল,ছিল অবসাদ;
সেগুলো সব মিটমিটে;আজকের এ রাত,
হাতে নিয়ে সময়ের দোরগোড়া
খেলেছে দেখো অবুঝ-বোঝাপড়া।

চোখগুলো বন্ধ আর কানে আসছে সুর।
অনুভূতি হাঁফাচ্ছে জোরে,
জেগে রামধনুর এ শহরে,
অজ্ঞান গোটা রাত-দুপুর।

মুঠোবন্দি বিশ্বাস ছড়িয়ে সারা শরীর,
আদরে সাজানো কথাদের পাহাড়
লুকোনো হিম-উষ্ণ কিছু আবদার
নিয়ে যাব সাথে গান রাত-পাখির।

চিবুক জুড়ে লালসেমি আলসেমিতে ব্যস্ত;
চলে যাচ্ছে একটা বছর,
পুরোনো তারিখের ভেতর;
নতুন আসছে পা ফেলে;নীল মনটা এখন বেশ শান্ত!

৩১/১২/২০১৬
কবিতা ২৫


একতারা শেষ বিকেলের দিকে ছুটছে
নিষ্পাপ রোদ তোমার চুল জুড়ে বইছে
নাবিক হারাচ্ছে ঐ দূরে,
আলো কমছে নির্জন এই তীরে,
ভয় পেওনা!আমি একবুক আলো নিয়ে আছি
চোখ দিয়ে যে সূর্য দেখছি
তাইতো সামনে অনন্ত আলো

পথে দেখো ধূলো উড়ছে
উড়ছে পাথর মাটি হয়ে
ঝড় কমজোরদের উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে
ওরা ছিল নাটকে পারদর্শী
কৃত্তিমতায় বিশ্বাসী
তাই তো ওরা শেষ আজ মূল থেকে।

উজান এখন ভাটা গিয়েছে
চলো ফিরি আমরাও
তুলি দাও লিখে দিচ্ছি নাম,তোমার এ বিকেলে
তুলি দাও এঁকে দিচ্ছি তোমায়,রোদ্রকে বলে
চারপাশ জুড়ে।

পৃথিবী আমাদের সাজবে আমোদে
তুষারপাতের প্রতি কণায় নাম থাকবে তোমার
বৃষ্টি পড়বে মনমর্জি মতো
কুয়াশা থাকবে চাদরের ন্যায়,রোদ ঝরবে মিষ্টি
তুমি থাকবে আমার পাশে আর খেলবো কাটাকুটি।

১২/১২/২০১৬

কবিতা ২৬

খোঁজ আমাকে
পাল্টাতে চাই রোজ তোরই হাত ধরে
উল্টোপথেই খোঁজ আমাকে ঠিক করে
আবছায়ারা নীল হয়ে আসে
আলো-ছায়ারা খিল দিয়ে হাসে
কপালের দরজায়
চোট লেগেছিল মনে বেজায়
বেঁচে থাকা আশারা হাত বোলায়
হৃদয়ে
চলছে রক্ত দ্রুতগতিতে;থেমে গেছে দৃষ্টি সময়ে
আর আহত অতীতে,বেঁচে আছে শুধু স্মৃতিরা
ভীষণ আদুরে রাঙানো বিকেলের স্মৃতিরা।
(১১/৫/২০১৬)

উৎকণ্ঠা

তাকে দেখতে পাচ্ছি,কিন্তু ছুঁতে পারছি না!
সময় বয়ে না গিয়ে থমকে কেন?
তাকে প্রশ্ন করছি,কিন্তু উত্তর পাচ্ছি না!
শব্দ আজ নিস্তব্ধ কেন?
তাকে স্পষ্ট ভাবছি,কিন্তু অস্পষ্ট দেখছি;
আবেগের গন্ধ মাখা সময়ের বিপক্ষে তার গমন!
রক্ত-মাংসের প্রাণে হচ্ছে কেন বারবার অবনমন?
(২৫/১/২০১৪)

আজব জগৎ

এই জগৎটা আজব!
শুনতে পাই কত গুজব,
এদিক-ওদিক কান দিলেই।
শুনে মনে হয়,
চিন্তা আর ভয়-
বারেবারেই।
ধ্বংসাত্মক ঘাঁটিতে পরিপূর্ণ আজ মগজ;
শান্তির বদলে স্বার্থ অন্বেষণ করা আজ সহজ।
বন্দুক গুলি স্থান পেয়েছে পকেটে;
বাউন্ডারির ছয় আজ পরমাণুর লকেটে।
মারামারি,হিংসা ছাড়া,
বাকী অভ্যাস মাঠে মারা,
করে তুলেছি আমরা।
স্মৃতির চেয়ারে পা তুলেছি,
আর তাতেও শুধু খুঁজেছি,
লাভের বীজ আমরা।
আমরা মানুষ অথচ,
অমানুষী কাজে ব্যস্ত।
শান্তির ধ্বণি আজ পাপপূর্ণ,-
খুঁজেও পাওয়া যায় না পুণ্য।
তবু,কেউ যদি চায় ভাল হতে,
তার ঠ্যাং ধরে টানি।
দাদাগিরি করে টাকা তুলে হাতে ,
করি কেন হানাহানি?
(১৯/১/২০১১)

কবিতা ২৭

হ্যাঁ আমি ক্লান্ত...
আমি ক্লান্ত সময়ের প্রতিটি ধাপে,
শীত দিয়ে আবেগ মেপে-মেপে!
আমি ক্লান্ত নিজের মনের লড়াইয়ে,
চিন্তার সাথে চিন্তা লড়ছে ঝিমিয়ে!
আমি ক্লান্ত আর্দ্রতা ভাঙা বৃষ্টিতে,
ভিজে-ভিজে যাচ্ছি ওই দৃষ্টিতে!
আমি ক্লান্ত হাজার কাগজের ভাঁজে,
খসখসে বর্ণের বিবর্ণতার মাঝে!
আমি ক্লান্ত ব্যাখ্যাহীন অস্থিরতার ফাঁকে,
বারবার নিশ্চুপ হারিয়ে যাওয়ার ডাকে!
আমি ক্লান্ত মনের দেওয়ালের রঙে,
চুনখসানো স্মৃতির দিকভোলানো ঢঙে!
আমার দুহাত ছড়ানো বাতাসের জোর
পারবে কি এনে দিতে এক সুন্দর সাজানো ভোর!
১০/০৯/২০১৬


আমার শহর


ধোঁয়াশা ধূলোয় আমার শহর ডুব মেরেছে কোথায়
নেই চিৎকার,নেই কোনো ডাক,শীত ছুঁয়েছে শিরায়
লেপ চাদরের হামাগুড়ি জড়িয়ে রয়েছে শহর
লোক-শূন্য ফুটপাত রাস্তা কোলাহলের কবর
শহর আমার এমনিতে খুব অশান্ত,কিন্তু আজ চুপ
শহর আমার এইশীতে মাফলারে জড়িয়েছে কুলুপ
ব্যস্ততাগুলো ঘুম পেরেছে,ছুটি আজ ওদের
অলসতা ডাক দিয়েছে সবাইকে খুব লোভের

চায়ের দোকানটা সবে খুলছে,জলের চিৎকার শুরু
আগুনটারও যেন ঘুম ভাঙেনি,পাত্রগুলো শুধু পুরু
আমার সাইকেল রাস্তা পেরিয়ে শীত মেখে চলছে
চারদিক সাদা,গভীর কুয়াশা শরীর নিয়ে ভাসছে

স্টেশন আজ বেশ ফাঁকা,শুধু শব্দ হর্নের
ভেদ করে কুয়াশা জল লাগিয়েছে বর্ণের
চোখটার জল মুছে পা চালিয়ে ট্রেনে
উঠে বেরোলাম শহর ছেড়ে অন্বেষণে

শহর আমার রেখে গেলাম তোকে কুয়াশার এ ঘরে
ফিরে দেখতে চাই তোকে একই রকমভাবে
শহর,চলি এখন তবে আমি স্বপ্ন ছোঁয়ার আঁতুরঘরে
বদলে যাস না,ফিরবো শেষ ট্রেনে এইভাবে

২৬/১১/২০১৬

কবিতা ২৮

আবার রং করেছি আজকে,চুন খসে গিয়েছিলো।
আবার কলম ধরেছি আজকে,মন সব ভুলে ছিলো।
দেওয়ালটা চকচক করছে,কিন্তু,চোখটা ছলছল।
কলম যে কীসব লিখে দিলো আর ডাকলো জল!

কিছু আছে কী আনন্দকে ধরে রাখার জন্য?
কিছু আছে কী!
বলো আমায়।পথ দেখাও।আমি যে আজ বন্য,
অরণ্যে একাকী।

আমি সবুজ দেখতে চাই নীল পায়ে,
আমি রামধনু ছুঁতে চাই চিল হয়ে।
কখনো আবার প্রজাপতি হয়ে যেতে চাই,
কিন্তু,এক ফুলেই পৃথিবী গোটা ছুঁতে চাই।
চাই না হাজার পাপড়ি,হাজার হাত।
চাই না রংবাহারী শুকনো অজুহাত।

কলম যে কি লিখছে বুঝতে গেলাম যেই,
চোখটা বুঝলো,ঘাড়ে হাতটা পেলাম সেই।
ঝিল হয়ে জমে ছিল,আলো হয়ে সাদা ছিল মনটা।
গলে গিয়ে মিশে গেলো,প্রিজমে এখন রামধনু দুইটা!

২৬/১১/২০১৬

কবিতা ২৯

হাত দিয়ে মেপে দেখো,তড়িঘড়ি এবার।
পিন দিয়ে আটকানো ক্লিপটা মেলার।
সময় আর নেই,চলছে মেলট্রেনে।
হাতটা ধরার আগে নাও সব জেনে।
পাতাগুলো খাতার ভরা বন্ধ করো।
হাত দিয়ে মেপে সময় বন্ধ করো।
হাঁটু কাঁপলে কাঁপুক,মাথা নিয়ে চলো।
পায়ের নীচের মাটিকে শক্ত করে তোলো।
শিকর এতো গভীরে নিয়ে যাও যেন
হাজার শত ঝড়েও দুলবেনা যেন।
চিরকুটে লেখা অভিমান থাকুক বন্ধ আপাতত।
পরে কবিতা মিলবে যত চাইবে তত।
গুঁজে নিতে দাও চুল,অনুভূতি থামুক।
শীঘ্রই দেখা যাবে এক বারান্দা সুখ।

(২০/১১/২০১৬)

গভীর নীল

উপছে পড়ছে ঢেউ,আজ বড়ই চঞ্চল সমুদ্র
তীরে জমা পাথর-দুঃখ ভাঙছে ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র
আমরা ভাসাই জাহাজ,আকাশ দেখে জোনাকি
আর সমুদ্রর হা করে গিলে নেওয়ার শুধু বাকি
হাজার ঝড় তুলেছে এ সমুদ্র হাজার সময় ধরে
হাজার ঋতু মেখেছে এ সমুদ্র হাজার জলের ভরে
হাজার জ্যোৎস্নার আলো মিশেছে হাজার সময় ধরে
হাজার বৃষ্টিতে প্রাণ ঢেলেছে এ হাজার জলের ভরে

অনেক বয়স জলকণাগুলোর,আয়ু ওদের তরল
হাজার সময় হাজার ঋতু মানিয়ে সদা ওরা সচল
ওদের গভীর নীল বুকে কত জোনাকি রাতে
ওদের শরীর মুড়ে কত আগুন থাকছে সাথে
কখনো কখনো ফেটে যায় জমা আগুনগুলো
নিয়ে যায় অনেক শ্বাস সহ জমানো মানুষগুলো
অনেক অনেক রহস্য জমানো ওদের শরীর জুড়ে
চামড়ার মরুভুমির স্মৃতিতে আসে বালি উড়ে উড়ে

ক্লান্ত নাবিক পলক ফেলে ভাবে সমুদ্রের অতীত
একসময় ছিল হয়তো বা আবার হবে বালির ভিত
কম্পাস তার দিক দেখায়,তবু সে দিশাহীন
নোঙর যে তার খুঁজছে পোতাশ্রয় প্রতিদিন
সে যেতে চায় তার গন্তব্য,যা সময়ের পারে লীন
সে খুঁজে চলে অতীত ভবিষ্যৎ,যার বর্তমান প্রবীণ
সে জোৎস্নায় নীল বুক দেখে কেঁপে যায়
সমুদ্রের ঝড়ে সে নিজেকে সোঁপে দিয়ে যায়....

!নাবিকের শেষ চিঠি-"তুমি কতদিনের,তবু কত নীল,কত সুন্দর।তুমি প্রবীণ হলেও তুমি অন্যন্য।তোমাকে জানতে আমি তোমার সাথে মিশলাম!"

১০/১১/২০১৬

তারপর

খুঁজে দেখো এখনো জ্বলছে আলো
খুঁজে দেখো এখনো সে বাসে ভালো
কোনো তীরে বসে সে আকাশে বেগুনী রং খুঁজছে দেখো
তার হাতগুলো মুড়ে সে আবার উঠছে দেখো
চোখ দুটো তার স্থির রক্ত তার শীতল
সে আজ আর কাঁপছে না
ফেলছে না চোখের জল দেখো

যুদ্ধটা তার সব কেড়েছে, আস্তানা তার শূন্য
মনটা তার খুব ভেঙেছে, হৃদয়টা তার ক্ষুন্ন
সে ছেড়ে গিয়েছিল তার পরিবারকে
যত্নে সাজানো নিজের ঘরকে
কোলাহলে মাখানো পাড়াকে

কি হলো লড়ে
কি হলো কার্তুজের গন্ধ উড়িয়ে
কি পেলাম গুলি ছুড়ে
কি পেলাম এভাবে শান্তি উড়িয়ে

পারলাম কি ওই মানুষগুলোর থেকে হিংসা দূর করাতে
পারলাম কি শেষমেষ শান্তি বিরাজ করাতে
নাহ্ পারিনি
পারিনি আমরা হিংসা বন্ধ করতে
পারিনি আমরা সন্ত্রাস বন্ধ করতে
পেরেছি শুধু ওগুলো রুখতে
পেরেছি কিছুদিনের জন্য থামাতে

আবার উঠবে সব মাথাচাড়া দিয়ে
উঠবে সব ডুবে থাকা মাথা নিয়ে
আর আবার জ্বালিয়ে দিবে সব
আবার আমরা লড়বো
আবার জিতবো
কিন্তু হারাবো অনেক
হারাবো আবার শত শ্বাস

আবার কবিতারা লাফালাফি করবে কারো কলমে
তারপর ......... চলতে থাকবে ............

১৩/১১/২০১৬

নীল গ্রহের চিঠি

দিক ভুল,প্রান্ত শেষ তবু আমায় খুঁজে দেখো।
আমি তোমার ঠিক পাশে,একটু খুঁজে দেখো।
আমার এক হাতে আলো,অন্য হাতে সময়;
আমার গতি শব্দ ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।
সারা বিশ্ব বিস্ময় আমার চোখে আটকে আছে।
পায়চারি করা চোখের শীতঘুম জাপটে আছে
তোমার স্বপ্নকে।
অনেক লোককে
বলতে দেখেছি বিশ্ব সৃষ্টি ধ্বংসের কথা,
তবু,বেশি ভয় দেখিয়েছে তোমার নীরবতা।
তোমার শিরায় স্রোত প্রবল,সামলানো মুশকিল
জেনেও বলছি তুমিই পাবে আমার সবটা নীল।

(৩/১১/২০১৬)

পাহারার লড়াই

সন্তর্পনে গোলাগুলি চলল এলোপাথাড়ি
চিবুক ফেটে রক্ত ঝরলো সারি-সারি
দিনের নিদ্রায় হাজার পাতার আড়ালে
কার্তুজ ভরে দুপক্ষ লড়ছে তালে-তালে
সম্পূর্ণ অচেনা ওরা তবু যুযুধান
মরলে শহীদ আর মারলে মহান
ভালোবাসা থেকে অনেক দূরে ওরা
গুলির ভরসায় বাঁচে শিরা-উপশিরা
খোলা আকাশ গর্জায়,ফাটে, নামে ধেয়ে
শুকনো মাথা ভেজে সারা শরীর নিয়ে
শান্তির ঘুম নেই,আহার ক্লান্তিতে ক্লান্ত
ওদেরও চোখ ভিজে স্মৃতিরা হয় শান্ত

(৫/১১/২০১৬)

কবিতা ৩০

স্বপ্ন আমার চারবেলা হয়ে আসে ফেরৎ,
নিয়ে আসে শীত-গ্রীষ্ম মাখানো শরৎ।
অনুভূতির অনেক পাহাড়-মালভূমি
পেরিয়ে আসছে অতিথি বাতাস;
যার মেঘকে নির্দ্ধিধায় চুমি,
ছড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির সুবাস।
কোনো এক মেঘলা বিকেল গুনগুন করে,
ক্লান্ত শিরদাঁড়া জাপটে ওই মেঘ ধরে।
হাঁটু কেঁপে যায়,শরীর ভিজে যায় ওই বৃষ্টিতে।
পাতার পর পাতা সাদা খাতা ভরে এই-টিতে।
ভাবনা ছড়ানো গল্পগুলোর নকশা
হৃদস্পন্দনের ছোঁয়ায় হয় ফরসা।
স্বচ্ছ-বৃষ্টির এক কোণার পাশে,
সকালের ভেজা উন্মুক্ত ঘাসে,
স্বপ্নগুলো একদিন পায়চারি করবে;
সম্পৃক্ত মেঘের শরীর বৃষ্টির সুর ধরবে।

৩/১০/২০১৬

কবিতা ৩১


নিস্তব্ধ ধূলোবালি মেখে যাচ্ছে শরীর
সামলাতে হিমশিম ক্ষত গভীর
উন্মুক্ত মুখ শুধু খুঁজে যায় সুখ
মনের কোণে কেন জমে থাকে অসুখ
নিবিড় প্রেম সংজ্ঞাহীনতার শিকার
যন্ত্রণায় যন্ত্র মন করছে স্বীকার
কষ্ট হবে জানি,তবে তার পরে আসবে
সুখ,মাথা উঁচু করে অকাতরে হাসবে
অনেক শুষ্ক স্মৃতি হাঁটু গেড়ে বসবে
বিস্তীর্ণ মন,বুক উঁচু করে হাঁটবে
মিশে যাবে আঙুল,আসবে বসন্ত
থাকবে না কোনো ভুল,না থাকবে অন্ত।।
১৬/১০/২০১৬


কবিতা ৩২


কাঠগুলো পুড়ে গেছে,বাকি শুধু বাড়ি
প্রকৃতি আমাকে খেয়ে ফেলবে খুব তাড়াতাড়ি
পাশের নদীটা নিজের শীত বাড়িয়ে যাচ্ছে
যেন খুব দ্রুত বয়স ক্ষয়ে যাচ্ছে
গভীর রাত্রির নীরব শব্দ
নীরবেই মৃত্যুকে ডাকছে
কখনো-কখনো শেয়ালগুলো
হিসেবের তারা দিচ্ছে
কিছু পাখি পাশ দিয়ে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে
যেন সময় ফাঁক দিয়ে গলি রাস্তা খুঁজছে
আসবাবহীন ঘর দুলছে মর্-মর্
আলোর বাতি ঝিমিয়ে ডাকছে মৃত্যু-স্বর
আশে-পাশের পাহাড় প্রতিধ্বনি করছে
যেন প্রতিনিয়ত সে দূরে যেতে বলছে
পাইনের ঝাড়টা আরও যেন দুলছে
যেন মাথা নাড়িয়ে সে না বলছে।
না বলছে আমার প্রতিটি কাজকে
চোখ প্রতিদিন দেখছে এই সাজ-কে
শীত নেমে-নেমে যেন গর্তে যাবে আজকে
আগুন নেই আমার কাছে,কে বাঁচবে আর মরবে কে
সব পরিষ্কার তাই আলো কমে আসছে
রাত বাড়ছে,স্পন্দন কমে আসছে
হৃৎপিন্ড কত ক্লান্ত,অনেক বছর সে চলেছে
মাথাতে যেন এক বিশাল খাদ সে খুঁড়েছে
হাল ছেড়ে দেওয়ার শেষ মুহূর্তের আগে
কোথা থেকে এলো আলো এক ঝাঁকে
ব্যস!পাহাড় যেন নীরব গান ধরেছে
নদী যেন যৌবন ফিরে পেয়েছে
চারিদিকের মৃত্যু ডাক আর নেই
সবকিছু যেন ঝলমল করছে এখানেই।
৩/১০/২০১৬

বিদায়

গলায় জড়িয়ে আবেগ,
চোখে জল ঝড়ানো মেঘ
তিন বছরের অতীত বহন করছে!


এতে ক্লান্তি ছিল,ছিল রাগ করা মুহূর্ত!
ছিল অনেক প্রতীক্ষা,সেগুলোই করল হঠাৎ গর্ত!
ওই 'কষ্ট'গুলোই আজ কষ্ট দিচ্ছে;
আর আনন্দগুলো বিদায়ের হাত নাড়াচ্ছে!
কলেজের ক্লাস থেকে টিউশনির জমায়েত,
প্রতিটা মুহূর্ত
জমছে মোমবাতির মত;
কিন্তু জ্বলতে দিবনা এই ক্ষেদ।
প্রতিটা স্মৃতিকে জড়িয়ে ধরে,
মন কেমন করা সময় দিয়ে বেঁধে,
রেখে দিব মনের অন্তরে,
কোনো এক খোলা খাঁচার সিন্দুকের মাঝে।
তাকে পালাতে দিবনা কোনোদিন,-
হতে দিবনা বিলীন!
এতো নয় বিদায়;এ এক নতুন শুরু!
তবু,জানি সময়ের শিখাতে আবেগের স্রোতে মন কাঁপবে দুরুদুরু!


লিখেছেন মৃণাল সরকার

No comments

Powered by Blogger.