|| কিলার || সাইকো গল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন





|| কিলার || সাইকো গল্প ||

(১)

—"এই ছাড় তো! কটা বাজে খেয়াল আছে? তোর অফিসের খাবার টা তৈরী করতে হবে না?"– প্রিয়র মুখটা ঠেলে সরিয়ে ব্লাউজের হুক টা লাগাতে লাগাতে দীপা বলে। প্রিয় বাঁধা দেয় । আরোও কোলের কাছে টেনে নেয় দীপাকে।– "আজ তোকে খাবার বানাতে হবে না! আমি অফিসের ক্যান্টিন থেকে খেয়ে নেব।"
– "না, তোকে বাইরের খাবার খেতে হবে না।" দীপা উঠতে গিয়েও উঠতে পারে না।
–" আরেকটু থাক না পাশে।" প্রিয় ,দীপার টোল ফেলা ফর্সা গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। প্রিয়র ঠোঁটের কাছে দীপার সমস্ত শক্তি যেন এক মুহুর্তে দুর্বল হয়ে যায়।
ঘড়িতে সাড়ে সাতটা বাজে। শীতের সকাল।সূর্য টা এখনো কুয়াশার চাদড়ের ভেতর থেকে মাথা বের করতে পারিনি। দীপার পায়ের কাছের জানালা টা খুললে মনে হয়, কুয়াশা ছুটে এসে দুজন কে স্নান করিয়ে দেবে। প্রিয়র আরও কোলের কাছে সরে যায় দীপা। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,–"জানিস প্রিয়, সামনের বাড়ির রমা কাকীমার বর টা না,সারাক্ষন আমার বুকের দিকে কেমন বাজে ভাবে তাকিয়ে থাকে।খুব অস্বস্তি হয় আমার।"

– "কে..? ওই টাকলা টা?" চমকে উঠে প্রিয়। – " আগে বলিস নি কেন,একথা? এতদিনে ওর টাকের চামড়া খুলে, তবলা বানাতাম।"
হাসি পায় দীপার। প্রিয়র হাতে একটা জোরে চিমটি কেটে বলে,– "তোর সব কিছু তেই ইর্য়াকি! টাকলা হলে কি হবে,ওনার স্বভাব চরিত্র নাকি ভাল না! অন্য মেয়েছেলের ঘরে যায়। ঘরে সারক্ষন মদ খায়। এই নিয়ে তো রমা কাকীমার সাথে, সবসময় খুব ঝগড়া হয়।" এক নিশ্বাসে দীপা কথা গুলো বলে যায়।
– "না রে! আমি সহ্য করতে পারি না।" প্রিয়, দীপার একটা আঙুল অালতো করে কামড়ায়।
– " কি সহ্য করতে পারিস না?" দীপা জিজ্ঞেস করে।
প্রিয় দাঁতে দাঁত চাপে।–" তোর দিকে কেউ তাকালে,আমি একদম সহ্য করতে পারি না। মনে হয় তার চোখ দুটো বের করে নিয়ে অস্ট্রেলীয় ওপেন এ টেনিস খেলতে যাই।"
দীপা হো হো করে হেসে উঠে।–" থাক আর টেনিস খেলে লাভ নেই।উঠে স্নান করে নে। আট টা বেজে গেছে।"
– "আমি তোকে খুব ভালবাসি রে। "
দীপা খাটের উপর উঠে বসে, প্রিয়র নাকটা ধরে টানে।–" এই একটা কথা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কতবার বলতে হয় তোকে?"
বিকালে অফিস থেকে ফেরার পথে,কিছু মার্কেটিং করে আনে প্রিয়। বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। দীপা কিচেন রুমে কফি বানাচ্ছে। হঠাৎ বেডরুমের জানালা ধাক্কানোর আওয়াজ পায় দীপা। কিচেন রুম থেকে বেরিয়ে এসে,বেডরুমে ঢোকে । কই ঘরে তো, কেউ নেই! এবার আওয়াজ টা পায় জানালার ওপাশ থেকে,-" এই দীপা জানালাটা খোল?"
দীপা তাড়াতাড়ি জানালা খোলে। জানালার বাইরের কার্নিসে পা দিয়ে, এক দিয়ে জানালার রড ধরে আছে প্রিয়।
– " হাঁ করে কি দেখছিস! নে এগুলো ধর।"
দীপা হাত বাড়িয়ে জিনিষ গুলো নিতে নিতে বলে,-" তুই ওখানে কেন?"
–" পাইপ বেয়ে উঠে এলাম। না মানে, সুপার ম্যান রা তাদের গার্লফ্রেন্ড কে এরকম ভাবে গিফট দেয় তো,তাই আমিও....."
– " তোর আর সুপার ম্যান হতে হবে না। নীচে নেমে ঘরে আয়। ছেলেমানুষি টা এখনো গেল না!" ব্যাগ টা রেখে দীপা আবার কিচেনে ঢোকে।



(২)


পর দিন সকালে রমা কাকীমার কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় দীপার। তাড়াতাড়ি উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। অনেক লোকের ভিড়। দীপা শুনতে পায়,–রমা কাকীমার টাকলা বর টা নাকি,গত কাল রাতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
– " ওই প্রিয় ওঠ না! ওই! " দীপা চাপা স্বরে প্রিয় কে ডাকতে থাকে।
— 'কি হল বলতো?' প্রিয় বিরক্ত হয়ে পাশ ফেরে।
– 'আরে! টাকলা টা নাকি সুসাইড করেছে!'
– 'ভাল হয়েছে আপদ গেছে।কাল সন্ধ্যা থেকে যা ঝগড়া করছে দুজন! দেখ গিয়ে,রমা কাকীমা মনে হয় রাতে অন্য মেয়ের ঘরে যেতে দেয়নি। তাই রাগ করে হয়তো বিষ খেয়েছে।' প্রিয়র চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসে।
আজ রবিবার। অফিস ও ছুটি। তাই প্রিয় কখন বেড থেকে উঠবে,তার কোনো নির্দিষ্ট টাইম নেই। মাঝে মাঝে কিচেন রুম থেকে, প্রিয়র ঘুম ভাঙিয়ে খুনসুটি করা হল দীপার কাজ। দু'হাতে দু'টো কফির মগ নিয়ে খাটের উপর এসে প্রিয়র কোলের কাছে বসে দীপা। জোর করে হাত টেনে উঠিয়ে বসায় প্রিয় কে। একটা কফির মগ ওর হাতে দিয়ে বলে,-" এই প্রিয় ! আজ একটু শপিং করতে যাবি বিকেলে?"
– " তুই বললে, শপিং কেন,সব কিছু করতে রাজী।" কফি মগে একটা চুমুক দেয় প্রিয়।
– " বেশি বকিস না। যাবি কিনা বল?"
– " একশ বার যাব।হাজার বার যাব। তুই যতবার বলবি, তত বার যাব। তোকে কি এমনি এমনি ভালবাসি?"হাতের কফি মগ টা খাটের পাশের টেবিলে রেখে,আবার দীপা কে কাছে টেনে নেয় প্রিয়।

সন্ধ্যায় শপিং সেরে বাইকে করে ফিরছে দুজন। এই রাস্তাটা একটু এবড়ো খেবড়ো। তাই আস্তে আস্তে বাইক চালাচ্ছে প্রিয়। সামনে ক্লাবের সামনে ছেলে গুলো বসে আছে। এই ছেলে গুলোকে একদম পছন্দ হয় না প্রিয়র। সব সময় মেয়েদের টোন– টিটকারি কাটে।ছেলে গুলোর সামনে আসতেই, একটা কোঁকড়ানো চুলের ছেলে বলে উঠল– "কি,বৌদি! দাদার পিঠে চিপকে থাকলে হবে? আমাদের দিকে একটু দেখুন! যা লাগছে না..."
যা ভাবছিল ঠিক তাই! প্রিয়র চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। বাইকের গতি কমিয়ে ছেলেটির দিকে একবার তাকায়। দীপা বাঁধা দেয় প্রিয়কে ।– " ওদের কথায় কান দিস না । নোংরামো করা ওদের কাজ। তুই তাড়াতাড়ি চল।"
বাড়িতে ঢুকে ফ্রেস হয় প্রিয়। তার পর টি.ভি দেখতে দেখতে, দীপা কোলের কাছে বসে বলে,–"তোকে আজ কিছু রাঁধতে হবে না।আমি কিছুক্ষন পর হোটেল থেকে বিরিয়ানি নিয়ে আসব।"
– " কেন বলতো, তুই আমাকে বেশী কাজ করতে দিস না?" দীপা অবাক হয়।
– " আসলে, তোকে কাজ করতে দিতে আমার ইচ্ছে করে না। মনে হয়,সারাক্ষন আমার সামনে তোকে বসিয়ে রাখি।আর একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি তোর ওই চোখের গভীরে।"
– " থাক, অনেক হয়েছে। আর ভাবুক রাজা হতে হবে না।" দীপা ঠোঁট ওলটায়।
হোটেল থেকে খাবার নিয়ে ফেরার পথে, রাস্তায় সেই কোঁকড়ানো চুল ওয়ালা ছেলেটিকে দেখতে পায় প্রিয়। শীতের রাত। রাস্তাঘাট ফাঁকা।রাস্তার পাশে একটা বট গাছ ছাতার মতো রাস্তাটিকে জুড়ে আছে। তার পাশে একটা বড় গভীর পুকুর। মাথটা রাগে কিলবিল করে ওঠে। মনে হচ্ছে এখুনি ধরে কেলিয়ে দেই! রাস্তার পাশ দিয়ে মদ খেয়ে টলতে টলতে তার দিকে এগিয়ে আসছে ছেলেটি।

প্রিয়, রাতে লেপের মধ্যে তীব্র ভাবে জড়িয়ে ধরে দীপাকে। কিছু বলে না দীপা, চুপ করে থাকে। নিশ্বাস– প্রশ্বাস টা যেন আস্তে আস্তে গরম হচ্ছে!
– " এই দীপা!" প্রিয় চাপা স্বরে ডাকে।
– " কি, বল!"
–" মদ, খেয়ে কেউ পুকুরে পড়লে বাঁচে?"
চমকে ওঠে দীপা। –" হঠাৎ আবার এসব কথা কেন?"
– " না রে! এমনি। আমরা যখন গ্রামে থাকতাম, তখন একটা লোক মদ খেয়ে পুকুরে পড়েছিল। সারা রাত ধরে উঠতে পারিনি। সকাল বেলা তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।"
– " ধুর! ও সব গল্প বাদ দে। অন্য কিছু বল।" দীপা প্রিয় কে আরও কাছে টেনে নেয়।


(৩)


পরদিন ঘটনাটা ছড়িয়ে পড়ে। অফিসে যাওয়ার পথে কথাটা শুনতে পায় প্রিয়।বট গাছটার পাশে লোকজনের সমাগম।– 'মাতাল মরেছে ঠিক হয়েছে।'
 লোকাল থানার পুলিশ এসে বডি টা গাড়িতে তোলে। প্রিয় পরিষ্কার দেখতে পায় সেই ঝাঁকড়ানো চুলের ছেলেটি। মনে মনে একটা আনন্দ পায় যেন।– শালা! আমার বউ কে বাজে কথা বলা! ঠিক হয়েছে।
আজ প্রিয়র অফিসে পার্টি । সবাই নেশায় মসগুল। প্রিয় কোনো কিছুরই নেশা করে না। দীপা বারন করে দিয়েছে। বাইক টা স্টার্ট দিতেই রাজীবের সঙ্গে দেখা। নেশায় চোখ ঢুলু করছে। বোঝা যাচ্ছে,অফিসে পার্টি টা শুধু ওই সেলিব্রেট করেছে। প্রিয়র কাছে এসে রাজীব একটা হাই তুলে বলে,–" চল না ভাই! আজ একটু হেঁটে হেঁটে আমার বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আয়।কষ্ট করে আজ ওদিক দিয়ে ঘুরে চলে যাস।"
রাজীব, প্রিয়র পাশের কম্পিউটারে বসে। তার অনেক কাজই করে দেয়। খুব হেল্পফুল ছেলে। অফিস থেকে রাজীবের বাড়ি খুব বেশী হলে সতেরো মিনিটের রাস্তা। ছাতিম গাছের পাশে তিন রাস্তার মোড়ের, সোজা রাস্তা টা রাজীব দের বাড়ি। আর ডান পাশের রাস্তা টা ধরলে প্রিয়র বাড়ি যাওয়া যায়। তাই প্রিয় বাইকটা কে ধরে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যায় রাজীবের সাথে। এদিকের রাস্তা টা একটু গাড়ি ঘোড়া, মানুষজন কম থাকে। গ্যাসবাতি গুলো অনেক আগেই জ্বলে উঠেছে।
শীতের সন্ধ্য। কুয়াশা ঘিরে আসছে। রাজীব হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ বলে ওঠে,–" প্রিয়, তোর বউ টা না, হেব্বি চাবুক। এক কিলোমিটার দুর থেকে দেখলেই, শরীরের ভেতরের সব কলকবজা গুলো জেগে ওঠে । আর তুই সারক্ষন ওর পাশে থাকিস কি করে?"
–" কি বলছিস এসব? চুপ কর রাজীব।" প্রিয় বিরক্ত হয় খুব।
একটা গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে রাজীব। অনেকটা শোক প্রকাশের মতো বলে,–" আমার বউ টা না ঠিক পারে না। তোর টার কি ফিগার বলতো! উফ....!"
প্রিয় বুঝতে পারছে, তার চোয়াল টা শক্ত হয়ে আসছে। শিরা উপশিরার মধ্যে রক্ত ঢেউ খেলতে শুধু করেছে। বাইক টা এখন অসহ্য লাগছে তার কাছে। দীপাকে নিয়ে কেউ বাজে কিছু ভাবলে, তার একদম সহ্য হয় না!
–" দূরে ওই গোল গোল উজ্বল আলো দুটো আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে নাকি রে?" রাজীব, প্রিয়কে চোখ কচলে জিজ্ঞাসা করে। প্রিয় কোনো উত্তর দেয় না। তিন রাস্তার মোড়ে , ছাতিম গাছ পেরিয়ে রাজীবের সাথে সোজা ওর বাড়ির পথে কিছু টা এগিয়ে যায়। উজ্বল আলো দুটো, ওদের দুজনের আরও কাছে এগিয়ে আসে।– মনে হয় একটা মালবোঝাই ট্রাক।

রাতে গিয়ে দীপা কে খুব আদর করে প্রিয়।– " তুই শুধু আমার! তোর দিকে তাকানোর অধিকার শুধু একমাত্র আমার।আর কারও নয়!"

(৪)


সকাল বেলা কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় দীপার। শাড়িটা ঠিক ঠাক পরে নিয়ে ,তাড়াতাড়ি নীচে নেমে দরজা টা খুলে দেয়। তিন জন পুলিশ দাঁড়িয়ে।
– "এটা কি প্রিয়তোষ মুখার্জির বাড়ি?"
– "হ্যাঁ। কেন বলুন তো?" অবাক দীপা।
–" ওনার সঙ্গে একটু কথা আছে। প্লিজ ডেকে দিন ওনাকে।"
একটা আচমকা ভয় ঘিরে ধরে দীপা কে। প্রিয় কে উপর থেকে ডেকে আনে। পুলিশ ভাল ভাবে প্রিয় কে লক্ষ্য করে। তারপর বলে,–" রাজীর মিত্র কে চেনেন?"
– " হ্যাঁ।  চিনবো না কেন? আমার অফিস স্টাফ।" শান্ত ভাবে প্রিয় উত্তর দেয়।
– " কাল রাতে আপনার বন্ধু ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে!"
– "কি বলছেন! আমি আর ও তো কালই অফিসের পার্টি সেরে একসাথে ফিরছিলাম। তার পর তিন রাস্তার মোড় থেকে ,আমি আমার বাড়ির পথে চলে এলাম,আর রাজীব ওর বাড়ির পথে গেল। "
– " আপনার বন্ধু কি নেশা করে ছিল?"
–" অফিস পার্টি। বুঝতেই তো পারছেন। নেশা তো করবেই।" ধীর–শান্ত এবং মুখে একটা বিস্ময়ের ছাপ রেখে কথা গুলো বলে প্রিয়।
–" তবুও আপনাকে একবার থানায় যেতে হবে মি.ঘোষ।"
পুলিশ অফিসার টা হাতের রুল টা ঘোরাতে ঘোরাতে বলল।
এতক্ষন পর মুখ খুলল দীপা।ভয় পেয়ে প্রিয়র দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বলল—" কেন? আমার স্বামী তো কিছু করেনি।"
পুলিশ অফিসার টা এবার দীপার দিকে চাইল। ধীরে ধীরে নীচ থেকে উপর পর্যন্ত ,দীপার শরীরে বার বার চোখ বোলাতে লাগল। তার পর হেসে বলল,–" আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা তো আছি। ইয়ে, মানে আপনার স্বামীকে একটু পরেই ছেড়ে দেব আমরা।"
প্রিয়র চোয়াল টা আবার শক্ত হয়ে উঠেছে। মুখ টা লাল হয়ে যাচ্ছে। হাতের শিরা গুলো আবার শক্ত হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গ পালটাতে প্রিয় বলল,–" আপনারা গাড়িতে বসুন,আমি এখুনি আসছি।"
পুলিশ গুলো গেটের বাইরে, রাস্তায় উপর গাড়িতে গিয়ে বসল। দীপার কাঁধে হাত রাখল প্রিয়। চোখের জল টা হাত দিয়ে মুছিয়ে দিল।
– " ওই পুলিশ টা, তোর দিকে খুব বাজে ভাবে তাকাচ্ছিল ,না?
দীপা মাথা নীচু করল। প্রিয়র গলার স্বর টা খুব কঠিন মনে হচ্ছে।
–" তুই ভাবিস না। ওই পুলিশ টা কেও আমি খুন করে দেবে। আগের তিন জনকে ঠিক যেভাবে, কোনো প্রমান না রেখে খুন করে করেছি।"
চমকে উঠল দীপা। বুকের ভেতরে কেউ যেন হাইভোল্টেজের শক দিল। সারা টা শরীর কাঁপছে তার। মনে হচ্ছে এখুনি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। কোনো কথা বলতে পারছে না। প্রিয়, দীপার দু গালে দু'হাত রেখে বলল,– " ওই টাকলা টাকে মারার জন্যে অনেকদিন ধরে পাইপ বেয়ে দোতলায় ওঠার প্রাকটিস করেছি। তারপর ওর দোতলার ঘরের মদের গ্লাসে বিষ মিশিয়ে দিয়েছি...........! আমি তোকে খুব ভালবাসি রে দীপা। তাই তোর দিকে বাজে দৃষ্টি নিয়ে চাইলে, তোকে বাজে কথা বললে আমি একদম সহ্য করতে পারিনা।"
বাইরে গেটের কাছে, পুলিশের জিপের হর্ন বাজছে। প্রিয়, দীপার ঘর্মাক্ত কপালে, ঠোঁট ছুঁইয়ে চাপা স্বরে হেসে বলল,– "আমি, এখুনি ফিরে আসছি। এসে আর বাকি দু'টো খুনের গল্প করবো।"

স্বদেশ কুমার গায়েন ( ২০১৫)

1 comment:

Powered by Blogger.