একটি ভৌতিক থ্রিলার গল্প " ত্রিকোন " ~ স্বদেশ কুমার গায়েন




একটি ভৌতিক থ্রিলার গল্প " ত্রিকোন "

(১)

চোখ খুলতেই চমকে উঠল রিয়া।গতকাল ও ঠিক এই সময় দেখেছিল।পায়ের দিকে জানালার পর্দার ওপারে যেন একটা ছায়ামুর্তি দাঁড়িয়ে। তাদের কে দেখছে!
ব্লাউজ টা খুলে একপাশে রাখা।বুকের স্ত্যনের উপর,ঋষির উষ্ণ ঠোঁট দুটো ঘষে চলেছে।একটা গরম নিশ্বাস।হাত দু'টো শরীরের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে।মুখের খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি সারা শরীরের চামড়ার উপর যেন হুল ফুটিয়ে দিচ্ছে।
–"ঋষি!"চাপাস্বরে রিয়া ডাকল।
ঋষির ঠোঁট এখন খোলা নাভীর নীচে।শরীর টা কেঁপে উঠল রিয়ার।আনান্দে নয়।ভয় পেয়ে।
জানালার ওপারে ছায়ামুর্তি টা যেন তার কাছে স্পর্ষ্ট হয়ে উঠেছে।ছায়ামুর্তির মুখ টা যেন,তার খুব চেনা।ঘরের ভেতর হাল্কা নাইট ল্যাম্পের আলো ছড়িয়ে আছে।বাইরে আকাশে পূর্নিমার চাঁদ।চারিদিক টা নির্জন,শুনসান। গাছের পাতাও পর্যন্ত নড়ছে না আজ।
–"ঋষি!"
হাত দিয়ে ঋষির মুখ টা,নিজের শরীর থেকে সরিয়ে দিল রিয়া।ঋষি বিরক্ত হল।
–"কি হল,রিয়া?"
–"রোহন!"
–"কোথায়?"

—"ওই জানালার বাইরে।আমি স্পর্ষ্ট দেখতে পেয়েছি।"
ঋষি দ্রুতো উঠে জানালার পাশে গেল।হাত দিয়ে পর্দা টানলো।"কই,কিছু নেই তো!"বাইরের উঁচু উঁচু বাড়ি গুলো দেখা যায় জানালা দিয়ে।সবাই ঘুমন্ত।পর্দা টেনে জানালাটা বন্ধ করে,আবার রিয়ার কাছে এল ঋষি।রিয়ার চোখ–মুখে তখনো ভয়ার্ত দৃষ্টি লেগে আছে।
–"তুই উত্তেজনায় চোখে ভুলভাল দেখছিস।রোহন এখানে কি করে আসবে!"
–"না রে।ভুল হতেই পারে না।আমি স্পর্ষ্ট
দেখেছি।"
রিয়া খুব দৃঢ়তার সাথে জানালো।কি করে ভুল হবে?পর পর দু'দিন তো আর চোখের ভ্রম হতে
পারে না!
–"রোহন কে ভেবে ভেবে,তোর মাথা টা গেছে।চোখ বন্ধ করে থাক তুই।"ঋষি আবার ঠোঁট ছোঁয়ায়।
–"আমার খুব ভয় করছে।"
–"তুই কি পাগল! রোহন আর নেই।আমাদের প্লান মাফিক রোহন কে আমি নিজে হাতে খুন করেছি।ছুরি দিয়ে গলার নলি টা খ্যাচ্।যদিও বা আসে,তাহলে ওর ভুত আসবে।"
হো হো হো করে হেসে উঠল ঋষি।তারপর রিয়ার পাশে চিত হয়ে শুয়ে পড়ল।
–"রোহনের ভুত!" ভয় পেয়ে ঋষি কে জড়িয়ে ধরল রিয়া।চোখ বন্ধ করল।এখানে চলে এসেও শান্তি নেই!
রিয়ার কথায়,ঋষি আবার হেসে বলল,–" রোহন আসবে,আর আমাদের এই অবস্থায় দেখে চলে যাবে।কিছু করতেই পারবে না।"
–"তবুও আমার খুব ভয় করছে।"
রিয়ার সারা শরীর টা একটু একটু করে কাঁপছে।সেটা বুঝতে পেরে খুব কাছে টেনে নিল রিয়াকে।
—"তুই কিছু ভাবিস না তো! এবার এলে ওকে আবার খুন করব।সকালে খবরের কাগজে হেডলাইন ছাপা হবে,–মানুষের হাতে ভুতের মৃত্যু।"
ভয় টা একটু কমেছে রিয়ার।রাত দেঢ় টা বাজতে চলল ঘড়িতে।ব্লাউজ ও শাড়িটা ঠিক করে নিল রিয়া।তারপর চোখ দুটো বন্ধ করার
চেষ্টা করল।


(২)

ভোল বেলা জানালা দিয়ে সূর্যের আলো মুখে পড়তেই ঘুম টা ভেঙে গেল রিয়ার।চোখ মেলে তাকালো।ঋষি কে পাশে দেখল না।হয়তো
অনেক আগেই উঠে পড়েছে।তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা ঋষির অভ্যাস।আর সম্ভবত,
জানালাটা সেইখুলে দিয়েছে।বাথরুমে জল পড়ার আওয়াজ পেল রিয়া।ঋষি বোধ হয় বাথরুমে ঢুকেছে।বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো রিয়া।হাত দিয়ে রড টা ধরল।
নীচের দিকে দেখার চেষ্টা করল দু'বার।বাইরেটা পরিষ্কার,ঝকঝকে।গাছেরা মাথা নাড়াচ্ছে।
রাতের সেই ভয় টা আর নেই।

এবার একটু আগে থেকে বলি।ঘটনার সূত্রপাত কলেজ থেকেই। একই ক্লাসে তিন জন পড়ত।–রোহন,রিয়া আর ঋষি।পড়াশুনা সূত্রেই বন্ধুত্বের শুরু টা হয়। ঋষির সাথে রিয়ার পরিচয় টা আগে থেকেই। কলেজের একটা গানের প্রোগামে।রিয়ার গানের জন্য,একজন গীটারিস্ট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় এসে অবতীর্ণ হয় ঋষি।রিয়া একটু একটু করে ভালবেসে ফেলে ঋষি কে।ঋষিও সেই ভালবাসায় ধরা পড়ে।জমে ওঠে দুজনের প্রেমপর্ব।রোহন ছেলেটিও মন্দ ছিল না।পড়াশুনায় খুব ভাল।রিয়ার পাড়াতেই বাড়ি ভাড়া করে থাকত।এক সাথে এস.বড়ুয়া স্যারের কাছে টিউসন যেত।তাই রিয়ার প্রেমে পড়তেও বেশী সময় লাগল না রোহনের।পাগলের মতো রিয়ার পেছনে পড়ে গেল।অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিল রিয়া।কিন্তু প্রেমে পড়লে,ক'জন বুঝতে চায়!ঝামেলা টা শুরু হয়েছিল খুব জোরালো ভাবেই।তিন জনের মধ্যে।বিশেষ করে ঋষি আর রোহনের।ফাঁকা ক্লাসে যেদিন রিয়াকে জোর করে জড়িয়ে ধরে,চুমু খাওয়ার চেষ্টা করল রোহন,–সেদিন আর চুপ থাকতে পারল না।সপাটে একটা চড় গিয়ে পড়ল রোহনের গালে।কিন্তু ঋষির কানে কথাটা যেতেই,গোলমাল টা আরও জোরে বাঁধল।সে এক হাতাহাতি ব্যাপার ক্লাসের মধ্যে।রোহন ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না। শিকারি বাঘের মতো চোখ দুটো জ্বলছিল দুজনের।কানের পাশ দুটো লাল হয়ে উঠেছিল।নাকের পাশ দু'টো ফুলে ফুলে উঠছিল।সেদিন ক্লাসের সবাই না ঠেকালে,হয়তো একটা রক্তারক্তি কান্ড হয়ে যেত।কথাটা শুনে, রিয়া প্রথমে না বলেছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঋষির জোরাজুরি তে আর না করতে পারল না। মার্ডার! এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।রোহন কে খুন করে,তারপর দু'জন পালিয়ে আসবে এখানে।কেউ জানতে পারবে না।

দরজায় টক টক করে শব্দ হল।চমকে উঠে,পিছনে ঘুরলো রিয়া।ঋষি দাঁড়িয়ে হাসি মুখে।সবে মাত্র বাথরুম থেকে বেরিয়েছে।চোখে মুখে এখনো জল লেগে আছে।
–" কি রে, এখনো দাঁড়িয়ে আছিস?যা,ফ্রেশ হয়ে আয়।আমি একটু বেরোবো।"তোয়ালে দিয়ে মুখের জল মুছতে মুছতে ঋষি বলল।
–"কোথায় যাবি?"রিয়া চোখে মুখে
একটা জিজ্ঞাসা। তারপর ব্রাসে, টুথপেস্ট লাগিয়ে,বাইরে বেরিয়ে গেল।টয়লেটে ঢুকে
আবার হাঁক পাড়ল,–"দুপরের খাবার কি,
হোটেল থেকে আনবি?"
ঋষি যে, কি বলল,সেটা বুঝতে পারল না রিয়া। দ্বিতীয় বার আর জিজ্ঞেস না করে,চুপ হয়ে গেল।



(৩)

ঘড়িতে দুপুর একটা।মাথার উপর সূর্য টা গরম আগুন ঢালছে।জল থেকে লাস টা তুলে,নদীর চড়ে এনে তুলল দু'টো পুলিশ।এদিক–ওদিক করে নেড়ে চেড়ে দেখল।গলার নলি টা কাটা।
সম্ভবত ছুরি দিয়ে নলি টা কাটা হয়েছে। পাথরের ফাঁকে বডি টা আটকে ছিল।তাই জোয়ারের টানে ডেড বডি টা ভেসে যেতে পারি নি।মুখ নীচু করে, ভাল ভাবে বডিটা কে পরীক্ষা করল পুলিশ অফিসার টি।চোখে কালো সানগ্লাস। তারপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কনস্টেবল কে নির্দেশ দিল,–" পকেট গুলো সার্চ করে দেখ!"
–"একটা মানি ব্যাগ আছে স্যার!"
–"বের কর।" পুলিশ অফিসার টি ঝুঁকে পড়ল বডির উপর।
খুব বেশী কিছু পাওয়া গেল না।শ'দুয়েক টাকা,
কলেজের আই কার্ড এবং একটা পাসফোর্ট
সাইজের ফোটো।আই কার্ড টি জলে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে।কলমের কালি দিয়ে লেখা গুলো স্পর্ষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।পাসফোর্ট সাইজের ফোটো টা হাতে নিয়ে উলটে –পালটে ভাল করে দেখল,চমশা পরা পুলিশ অফিসার টি।একটা মেয়ের ছবি।প্রয়োজনীয় জিনিষ গুলো তুলে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসল।তারপর কনস্টেবল দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,–"লাস টি গাড়িতে তুলে, থানায় নিয়ে চলো।পোস্টমর্টেম এ পাঠাতে হবে।"
একটু দুরেই পথ চলতি রাস্তা। রাস্তা থেকে একটা ভ্যান ডেকে নিল কনস্টেবল দু'জন।তারপর লাস টি কে ভ্যানে তুলে থানার দিকে রওনা দিল।
মাথার উপর খট খট করে ফ্যানটা ঘুরছে।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কাগজ গুলো,ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগল পুলিশ অফিসার টি।খুন তো নিশ্চয়!তবে খুন টা চার পাঁচ দিন আগে করা হয়েছে।রিপোর্ট তো সেরকমই বলছে।ডেড বডির পকেটে পাওয়া,কলেজের আই কার্ড টি নিয়ে আবার চোখ বোলালো অফিসার টি।

(৪)

বিকেলের সূর্যটা আকাশে গভীরে ডুব মেরেছে কিছুক্ষন আগে।রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো গুলো একসাথে জ্বলে উঠল।কিছুটা আবছায়া অন্ধকার চারিদিকে।এদিকের রাস্তায় গাড়ি–ঘোড়া খুব একটা চলে না।শুধু পথ চলতি মানুষের হাঁটা–চলা।তাই একটু নির্জন থাকে।ঘরের ভেতর খাটের উপর শুয়ে আছে ঋষি।চুপচাপ উপরের দিকে তাকিয়ে কিছু যেন একটা ভাবছে।বারান্দায় মেলে দেওয়া কাপড় টা তুলতে গিয়ে,থমকে দাঁড়াল রিয়া।গেটের বাইরে আবছায়া অন্ধকারে চোখ যেতেই,শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমস্রোত নেমে গেল।থর থর করে হাত,পা গুলো কাঁপতে শুরু করল।সারা শরীর টা যেন ব্যাঙের মতো ঠান্ডা হয়ে উঠল।গায়ের লোম গুলো সজারুর কাঁটার মতো খাড়া হয়ে উঠেছে।
গলাটা শুকিয়ে আসছে তার। কি করে ভুল হয়!
নিজের চোখেই তো দেখতে পাচ্ছে।স্পর্ষ্ট দেখতে
পাচ্ছে,–রোহন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে।ছুটে ঘরের ভেতর ঢুকে,ঋষিকে টেনে তুলল।
–"ঋষি! এই ঋষি, রোহন দাঁড়িয়ে।"
গলাটা টা কাঁপছে রিয়ার।ভাল ভাবে গুছিয়ে বলতে পারল না।
–"কোথায়?"
–"বাইরে।গেটের কাছে।"
ঋষি ছুটে গেল বাইরে।সঙ্গে রিয়াও ছুটলো।
–"কই! কোথায়?"ঋষির গলায় বিস্ময়।
–"ওখানেই তো ছিল।আমি নিজের
চোখে দেখেছি।" রিয়া একটা মরিয়া চেষ্টা করল,
ঋষি কে বোঝানোর জন্যে।এখনো হাত–পা
গুলো কাঁপছে তার।রিয়া হাত টা ধরে কাছে টেনে নিল ঋষি।খাটের উপর বসিয়ে,জলের গ্লাস টা এগিয়ে দিল।বলল,–"এবার রোহন কে নিয়ে,ভাবনা টা ছাড়।শুধু চোখে ভুলভাল দেখছিস!"চুপ করে রইল রিয়া।মাথা টা ঘুরছে। ধীরে ধীরে বালিশে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ল।
রাত তখন কটা বাজে ঠিক নেই।ঘুম ভেঙে গেল রিয়ার।নি:ঝুম চারিদিক।শশ্মানপুরীর মতো নিস্তব্দতা সারা পাড়াটায়।একটা রাত জাগা
পাখির ও ডাক শোনা গেল না।শুধু সামনের রাস্তা থেকে একটা কুকুরের অনবরত চিৎকার ভেসে এল।যেনকোনো বীভৎস ভয়ে কঁকিয়ে কঁকিয়ে ডাকছে। কান খাড়া করে,ভাল ভাবে শব্দ টা শোনার চেষ্টা করল রিয়া।বাইরে বারান্দায় একটা আওয়াজ হচ্ছে।মনে হচ্ছে কেউ যেন
হাঁটছে।পাশে ঋষি ঘুমোচ্ছে।বেশ কিছুক্ষন আগে তার বন্য আদরশেষ হয়েছে।অন্ধকারে ব্লাউজ টা
খোঁজার চেষ্টা করল রিয়া।খাট থেকে নেমে দরজার গায়ে কান পাতলো।স্পর্ষ্ট একটা
আওয়াজ। মনে হচ্ছে কেউ যেন সিঁড়ি দিয়ে বার বার ওঠা নামা করছে।ভয়ে কেঁপে উঠল বুক টা।সারা শরীর টা ঘামে ভিজে উঠেছে।দরজা খুলতে সাহস হল না রিয়ার।আস্তে আস্তে আবার ঋষির পাশে এসে শুয়ে পড়ল।


(৫)

নীচে গেটের গায়ে ধাক্কা-ধাক্কিতে ঘুম টা ভেঙে গেল রিয়ার।পাশে ঋষি এখনো শুয়ে আছে।
আধো ঘুমে এপাশ–ওপাশ করছে।জানালা দিয়ে সকালের আলো এসে ঢুকেছে ঘরে।কাপড় টা ঠিক করে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল রিয়া।তিন জন পুলিশ দাঁড়িয়ে। একজন
অফিসার আর দুজন কনস্টেবল।রিয়ার পা দু'টো কাঁপতে লাগল।রোহনের খুনের ব্যাপার টা কি তাহলে পুলিশ জেনে ফেলেছে? ঋষি কে কি পুলিশ ধরতে এসেছে?
রিয়া সামনে যেতেই পুলিশ অফিসার টি বলল,–" ঋষি সেনগুপ্ত কে চেনেন?"
–"হ্যাঁ, চিনি।আমার বন্ধু।কেন বলুন তো?" দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিল রিয়া।
–"উনি,চার দিন আগে খুন হয়েছেন।নদীর জলে লাশ টা পাওয়া যায়।পকেটের মানি ব্যাগে এই ফোটো টি পাই আমরা।অনেক খুঁজে খুঁজে তবে আপনাকে পেয়েছি।"
পুলিশ অফিসার টি রিয়ার পাসফোর্ট ফোটো টা নিয়ে,তার সামনে ধরল।পা দু'টো কেঁপে উঠল রিয়ার।বুকের ভেতর টা ছ্যাৎ করে উঠল।
চোখের সামনে,সব কিছু যেন বন বন করে ঘুরছে।উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠল,–"
কি বলছেন আপনারা? ঋষি আমার সাথে এই বাড়িতে আছে।"সিঁড়ি দিয়ে ছুটে উপরে উঠল রিয়া।পেছনে পুলিশ গুলোও।ঘরের ভেতর গিয়ে থমকে গেল রিয়া।
কোথায় ঋষি! এখানেই তো শুয়ে ছিল। ঘর থেকে বেরিয়ে,ছুটে বাথরুমে ঢুকলো। না! সেখানেও দেখতে পেল না।সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে কোথাও পাওয়া গেল না ঋষি কে।ধপ করে কাঁপতে কাঁপতে মেঝের উপর বসে পড়ল রিয়া।
–"আপনি থানায় চলুন,আমাদের সাথে।আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।ঋষি চার দিন আগে খুন হয়েছে।এবং তার খুনিকে ও আমারা ধরে ফেলেছি।" পুলিশ অফিসার টি ঘরের চারিদিকে তাকাতে তাকাতে বললেন।
কোনো কথা বলতে পারল না রিয়া।সারা শরীরটা কম্পমান।থানার সামনেই পুলিশের গাড়িটা এসে থামলো।গাড়ি থেকে নেমে,থানার ভেতরে ঢুকতেই,চমকে উঠল রিয়া।একটা চেয়ারে রোহন বসে আছে। মুখটা থমথমে।পুলিশ অফিসার টি চেয়ারে বসতে বসতে রোহনের দিকে তাকালো।তারপর চশমা টা খুলে বলল,–"এ হল ঋষি সেনগুপ্তের খুনি।"
গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল রিয়ার।নিজের চোখ কে ও যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।

স্বদেশ কুমার গায়েন(২০১৫)


No comments

Powered by Blogger.