একটি ছোটগল্প " বাবরি "



মাঝে মাঝে চোখের সামনে এমন সব ঘটনা ঘটে,তখন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করা যায় না।মনে হয়,আজ কাল চোখে সব উলটো দেখাচ্ছে–যেটা হওয়া উচিত ছিল, সেটা না হয়ে, হচ্ছে অন্যটা।

সন্ধ্যায় অফিস থেকে ঘরে ঢুকতেই,আমার ও সেই অবস্থা হল। হচকচিয়ে গেলাম।পা দু'টো থমকে গেল। একি কান্ডকারখানা?নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারলাম না।সত্যিই তো,এরকম ঘটনা ঘটলে বিশ্বাস করা যায় না! পরমার রুদ্রমূর্তি চেহারা।এরকম রনংদেহী মুর্তি আগে কখনো আমি দেখেনি।হাতে একটা সরু লাঠি।বাঁশ বা কঞ্চি জাতীয় কোনোকিছু হবে। তাই দিয়ে,বাবরি কে বেদম পেটাচ্ছে।সপাৎ সপাৎ আওয়াজ হচ্ছে,মারের তালে তালে।বেশ দেখতে পেলাম,পরমার চোখ,মুখ লাল হয়ে উঠেছে।আর বেচারে বাবরি কিছু না বলতে পেরে মেঝের উপর সটানে শুয়ে আছে।কোনো প্রতিবাদ ও নেই তার মুখে।মুখ বুজে,নীরবে সব সহ্য করছে।
আমি ঘটনাস্থল থেকে হাত সাতেক দুরে দাঁড়িয়ে আওয়াজ করলাম,–" আহা পরমা! কি করছো?বেচারির লাগছে তো।"
আমার গলার আওয়াজ পেয়ে,বাবরি উঠে আমার দিকে চাইল; তারপর ছুটে এসে আমার ঠিক পিছনে,পায়ের কাছে লুকিয়ে পড়ল।বাবরি বুঝে গেছে,এই মুহুর্তে মারের হাত থেকে,যদি কেউ বাঁচাতে পারে, সেটা হলাম আমি। পরমা,আরও রেগে গিয়ে ফনা তোলা সাপের মতো আমার দিকে ছুটে এল।কি সাংঘাতিক সে দৃশ্য!আজ বাবরির শেষ দিন।আমিও বোধহয় বাঁচাতে পারবো না! পরমা,আমার কাছে আসতেই কোনোরকমে জাপটে ধরলাম। –"কি হচ্ছে কি এসব?ও কে মারছো কেন?বেচারি মরে যাবে তো!"
–"মরে মরুক।ছাড়ো আমায়....ওকে আজ মেরেই ফেলবো।" পরমা সাপের মতোই ফোঁস করে উঠল।
আমি আরও শক্তি লাগালাম।কোনোরকমে আঁটকে ধরে রেখেছি। পরমার হাত থেকে লাঠি টা কেড়ে নিয়ে,ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললাম,–"কি ধরনের পাগলামো হচ্ছে এসব?"
–"তুমি জান, ও আজ কি করেছে? ওকে এখনো মেরে ফেলেনি........সেটাই অনেক।"
মেয়েদের একটু তাড়াতাড়ি রাগ তৈরী হয়,আবার সেই রাগ পড়েও যায়,আরও তাড়াতাড়ি।একটু মাথায়,গায়ে,পিটে আদর করে হাত বুলিয়ে দিলেই,রাগ জল হয়ে যায়।আমিও ঠিক সেটাই করলাম।পরমার গায়ে,মাথায় হাত বুলিয়ে একটু শান্ত করে,সোফায় এনে বসিয়ে দিলাম। বাবরি, সেই দূরে দাঁড়িয়ে কালো কালো চোখ গুলো পিট পিট করে তাকাচ্ছে।চোখ গুলোতে একটা ভয়ার্ত দৃষ্টি।জলের মগ থেকে,গ্লাসে জল ঢেলে পরমার দিকে এগিয়ে দিলাম।তারপর পিঠ থেকে ব্যাগ টা নামিয়ে বললাম,–"ও কে অত মারছিলে কেন? কি করছে ও?"
–"মারবো না তো কি,আদর করবো?ওর কি করে সাহস হয়,এরকম কাজ করার?" পরমা মুখ থেকে জলের গ্লাস টা নামিয়ে বলল।
–"কি এমন করেছে?"আমার চোখে মুখে বিস্ময় ঝরে পড়ল।
পরমা চুপ করে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল.........!
এবার একটু গোড়া থেকে শুরু করি।তাহলে আপনারাও বুঝতে পারবেন,আমার বিস্ময়ের কারন। পরমা আমার বিবাহিতা স্ত্রী।মাস তিনেক হল বিয়ে করেছি।আমাদের বিয়ে টা বাড়ি থেকে দেখা শোনা করেই হয়েছে।আর এই তিন মাসেই ওর পাগলামো,আর বাচ্চামো গুলো না বর্ননা করাই ভালো।পরমার বয়স তেইশের কাছাকাছি। যদিও এমন কিছু বয়েস এটা নয়। কিন্তু ওর শুধু বয়স টাই বেড়েছে,মন টা এখনো সেই বাচ্চাদের মতো রয়ে গেছে।বিয়েতে আমার কোনো শর্ত, দাবি–দাওয়া কিছুই ছিল না।কিন্তু শর্তটা দিয়েছিল পরমা।ওর মতো সুন্দরী,পুর্ন যৌবনবতী,হাসিখুশি, বকবকানি,মেয়ের দেওয়া, –বিয়ের পর খাটের নীচে থাকার শর্তেও বিয়ে করতে রাজী আছি।কিন্তু পরমা কি শর্ত দিয়ে বসল?
একটা কুকুর,আমাদের বেড রুমে থাকবে! এমন কি,শুধু পরমার ভরন–পোষনের দায়িত্ব নিলে হবে না,সাথে কুকুর টির ও দায়িত্ব নিতে হবে।  শর্ত টা শোনার পর,মা আর দিদি আপত্তি তুলল। কারন,আমাদের বাড়িতে কোনো কুকুর,বিড়াল, পোষার রেওয়াজ নেই।আর তাছাড়া বাড়ির সবাই কুকুর,বিড়াল দেখলেই ভয়ে লাফালাফি করে।তবু ঘরের বাইরে থাকলে ঠিক ছিল,কিন্তু তাই বলে একেবারে সোজা বেডরুমে!
মা বেঁকে বসল।আমার ও মন সায় দিচ্ছিল না। কিন্তু পরমার,পরম সৌন্দর্যময় মুখটা মনে পড়তেই মাথার ভেতর সমস্ত কলা– কোষ এদিক–ওদিক এলোমেলো হয়ে গেল।-"কুকুর, বিড়াল যা খুশি,যেখানে পারে থাকুক,–আমি তো পরমা কে পাব।"
এই ভেবে,দিদি কে অনেক বুঝিয়ে রাজী করালাম।দিদিও আমার করুন চাহনি দেখে, অনেক কষ্টে মা কে আয়ত্তে আনলো।এই বাবরি হল পরমার সেই আদুরে, পোষা কুকুর।খুব বেশি বড় নয়,সাদা লোমস,গোলগাল চেহারার।লেজটা ফোলা ফোলা।চোখে,মুখে সব সময় একটা শান্ত ভাব।বিয়ের আগে পরমা এক মুহুর্তে কখনো কাছ ছাড়া করিনি বাবরি কে।সারাক্ষন বাবরির সাথে খেলতো।কখনো–সখনো মুখে চুমু ও খেত।আর সেই আদরের বাবরির পিটে,আজ লাঠি দিয়ে সপাৎ সপাৎ আওয়াজ তুলছে। তাহলে,ভাবুন আমি কেন এত অবাক হচ্ছি! কেন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না?
বেশ কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছিলাম,পরমা বাবরির উপর হঠাৎ হঠাৎ কেমন রেগে যাচ্ছে, বিরক্ত হয়ে পড়ছে।কিন্তু তার সঠিক কারন টা আমার বোধগম্য হচ্ছিল না।প্রানের প্রিয় জিনিষের উপর রাগ! ব্যাপার টা বেশ জটিল লাগলো।

আমাদের বিয়ের বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। একদিন রাতে টি.ভি.দেখতে দেখতে জিজ্ঞেস করলাম,–"পরমা, তোমার এ কুকুর কোন দেশের প্রোডাক্ট?"
পরমা খাটের উপর বসে,পা দোলাতে দোলাতে হাসল।তারপর চোখ গুলো বড় বড় করে বলল,–"এই জানো,বাবরি কিন্তু মেয়ে কুকুর। প্যাপিলন,ফ্রান্সের প্রোডাক্ট।"
আমি কিছু না বুঝে,হাঁ করে রইলাম।আসলে কুকুর সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা অতি সামান্য। পরমা কিছুক্ষন থামলো,তারপর আবার হেসে শুরু করল,–" জানতো,বাবা কিছুতেই এত দামের কুকুর কিনে দেবে না।কিন্তু আমি তো জেদ ধরে বসলাম,তাই বাধ্য হয়ে.......!"
–"কত দাম?" আমার চোখে–মুখে জিজ্ঞাসার ছায়া পড়ল।
পরমা সেই একই ভাবে পা দোলাতে দোলাতে বলল,–"কুড়ি হাজার।"
দুম করে একটা বিষম খেলাম।পরমা তাড়াতাড়ি জলের গ্লাস টা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,–"কেন, কুকুরের এত দাম হয়,তুমি জানতে না?এর থেকে আরও কত বেশি দামের কুকুর আছে! আমার তো পঁইত্রিশ হাজার দামের একটা কুকুর খুব পছন্দ হয়েছিল।"
আমি আরও এক ঢোক জল খেয়ে কোনোরকমে বললাম,–"না,জানি।কিন্তু সেই প্রোডাক্ট যে একদিন আমার ঘরে থাকবে, কোনোদিন ভাবেনি।"
পরমা হাসলো।হাসলে ওর মুখটা খুব সুন্দর দেখায়।কিন্তু আমার এই মুহুর্তে হাসি পাচ্ছে না। হাসি রা সব তিন লাফে পালিয়ে গেছে।মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম,–"পরমা শপিং এর বায়না করুক,কিন্তু কুকুর কেনার বায়না যেন না করে।তাহলে পেরে উঠব না।এমনিতেই বাবরির খাওয়া–দাওয়ার পিছনে সব শেষ।"
ছোটো দুধের শিশু যেমন, অপরিচিতের কাছে যেতে চায় না, তেমনি বাবরি ও প্রথমে প্রথমে আমার ধারে কাছে ঘেঁষতো না।সব সময় নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলতো।সারাদিন পরমার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করতো,আর রাতে ঘরের সোফার উপর ঘুমিয়ে পড়তো। আমিও তেমনি বউ এর আদুরে জিনিষ বলে যে,একটু কোলাকুলি, আদুরে ভাব দেখাতে হবে,–সেরকম কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করতাম না।বেশ কিছু দিন পর বাবরি স্বাভাবিক হল।একদিন লক্ষ্য করলাম, বাবরি আমার দিকে সরু গোল গোল চোখ দিয়ে প্যাট প্যাট করে তাকাচ্ছে।বেশ অনেক্ষন তাকালো।তারপর আস্তে আস্তে আমার পাশে এসে বসলো।
সোফার উপর বসে সন্ধ্যা বেলা টি.ভি দেখা আমার অভ্যাস।বাবরির এহেন ব্যবহারে শুধু অবাকই হলাম না,হচকচিয়ে গেলাম।যে কুকুর আমার ধারে কাছে আসে না,তার হঠাৎ কি হল? মিনিট পাঁচেক পর দেখলাম,বাবরি তার সামনের পা দু'টো আমার পায়ের উপর তুলে দিয়েছে। আর লেজ টা নাড়ছে।খুব হাসি পেল আমার। –বন্ধুত্ব!
বাবরি আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইছে।কিচেন থেকে,পরমা ঘরে ঢুকতেই,তাকে এই কান্ডকারখানা দেখিয়ে বললাম,–"পরমা,দেখো তোমার বাবরির কান্ড।"
পরমা হেসে গড়িয়ে পড়ল।খিল খিল করা হাসি। তারপর বাবরির দিকে তাকিয়ে বলল, –"বাবরি, এদিকে আয়।"
কি আশ্চর্য! বাবরি,পরমার দিকে ফিরে তাকালো না।এমনকি উঠেও গেল না।যেমন ছিল,তেমন অবস্থাতেই থাকল। পরমা জোর করে এসে,নিজের কাছে ধরে নিয়ে গেল।
প্রতিদিন অফিস বেরোনোর আগে,ঘরের ভেতর পরমার পাগলামি শুরু হতো।জড়িয়ে ধরে,একটা চুমু না খাওয়া পর্যন্ত ছাড়তো না।আমি পরিষ্কার দেখতে পেতাম,বাবরি তার সরু সরু চোখ গুলো দিয়ে আমাকে দেখছে।চোখে কিছু ভাষা আঁকা আছে কি?
পাঁচিলের গেট পর্যন্ত বাবরি আমার পেছন পেছন আসতো। যতক্ষন না, আমি অদৃশ্য হচ্ছি, ততক্ষন এক ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতো।এরপর থেকে বাবরি,পরমার মতো আমার ও বন্ধু হয়ে গেল।

সেদিন সকালের ঘটনা।পরমার মায়ের ফোন এল।পরমার কাকা– কাকিমা এসেছে অনেকদিন পর,তাই মেয়ে জামাই কে একটু দেখতে চাইছে।আমি পরমাকে বললাম,–" তুমি এবেলা যাও,আমি অফিস থেকে সোজা তোমার কাছে পৌঁছে যাব।"
পরমা রাজী হল।চটপট ব্যাগে কিছু জিনিষপত্র গুছিয়ে নিয়ে বাবরির দিকে তাকিয়ে বলল,–"চল বাবরি, আজ আবার তোর বাড়িতে যাব।"
বাবরি পরমার কথা কানেই নিল না।আমার পেছনে এসে লুকালো।তার মানে বাবরি যেতে চাইছে না! পরমা আশ্চর্য হয়ে আমার দিকে চাইলো।আমি কোনোরকমে হাসি চেপে রাখলাম।এরকম অবস্থায় হাসি একদম ঠিক নয়। পরমা জোরাজুরি শুরু করল আর বাবরি ছটফটানি।আমি বললাম,–" কি হচ্ছে! ও যেতে চাইছে না,থাক না।চলো,তোমাকে বাইকে ছেড়ে দিয়ে আসছি।আজ না হয় একটু লেট হবে।"
–"আরে,আমি একা যেতে পারবো।তুমি আবার কষ্ট করে কেন যাবে?"
পরমার সরু কোমর টা ধরে একটু কাছে টেনে নিয়ে বললাম,–" না বলো না।আমার খুব ইচ্ছে করছে।"
–"আচ্ছা বাবা! ঠিক আছে।"
এবার আমার বাবরির দিকে চোখ পড়ল।লেজ টা এদিক–ওদিক করছে।তার মানে এবার সে যেতে রাজী! পরমা আর বাবরি কে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে,অফিস চলে এলাম।
বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হল।দিন দিন আমার প্রতি বাবরির, ভালোবাসা বেড়ে গেল।পরমা শুধু অবাক হতো না,একটু বিরক্ত হতেও শুরু করলো।সেদিনের ঘটনা টা সত্যিই ভোলা যায় না! বৈশাখের সন্ধ্যা।প্রায় আধভেজা হয়ে অফিস থেকে ঘরে ফিরলাম। হঠাৎ যে কালবৈশাখী নেমে আসবে কে জানতো! ব্যাগে ছাতা ও ছিল না।ভোর রাতে, হঠাৎ বৃষ্টিতে ভেজার ফল পেয়ে গেলাম।শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এল।সারা দিন খাটের উপর।জ্বরের ঘোরে চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলাম।পরমা মাঝে মাঝে কপালে জলপটি দিচ্ছে সেটা টের পাচ্ছিলাম।দিন শেষে,সন্ধ্যার সময়, জ্বরটা একটু কমে এল।কিন্তু শরীর টা খুব দুর্বল লাগলো। চোখ খুলে দেখলাম,বাবরি লেজ গুটিয়ে খাটের উপর আমার পাশে বসে আছে। রাতে,পরমা রুটি আর একটু তরকারি তৈরী করে আনলো। খেয়ে নিয়ে,পরমা কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরলাম।রাত একটা কি দু'টো বাজে। ঘুম ভেঙে গেল।পরমা আমার দিকে পাশ ফিরে আছে।ঘুমোচ্ছে। আমি সোফার দিতে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম।বাবরি প্রতিদিন রাতে ঘুমোয়।কিন্তু আজ ঘুমোয় নি। সোফার উপর বসে আমার দিকে প্যাট প্যাট করে চেয়ে আছে।
–"পরমা! এই পরমা।"আমি পরমার হাত ধরে নাড়ালাম।
–"কি হল! " পরমা ধড়ফড় করে উঠে বসল।
–"ঐ দেখো,বাবরি ঘুমোয় নি।"
পরমার চোখে মুখে বিরক্তি প্রকাশ করলো।ঘুম জড়ানো চোখে বলল, –"বাবরি,যা ঘুমো।"
বাবরি কথা শুনলো না।এক ভাবেই তাকিয়ে থাকল। দু'দিনেই ভালরকমই সুস্থ হয়ে গেলাম। আজ অফিসে বেরোবো, আবার পরমার নতুন পাগলামি শুরু হল।আমার অফিসে যাওয়া জামাটা নিজে পরে বসে আছে।
–"আরে আমার জামা পরেছো কেন?"আমি হেসে বললাম।
পরমা জামাটা খুলে,আমার খুব কাছে এসে আস্তে আস্তে বলল,–" যাতে,আমার শরীরের গন্ধ যেন সব সময় তুমি পাও।"
বাহানা! এসব কথা বলে,চুমুু নেওয়ার বাহানা ছাড়া আর কিছুই না।অফিস যাওয়ার সময় এরকম, দুষ্টমির কথা শুনলে কেমন যেন একটা হয়।পরমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে,ঠোঁটে একটা চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেলাম।তারপর এই অফিস থেকে ফিরতেই এই কান্ড।পরমার রনংদেহী মুর্তি।সোফার উপর বসে রাগে ফুঁসতে লাগলো।
আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম,–" বাবরি,কি এমন করেছে যে,এত মারছো?বেচারির কত লাগছে বলোতো?"
পরমা তেড়ে মেড়ে উঠে বলল,–" লাগছে লাগুক। কি করেছে জানো?
-"সেটাই টো এতক্ষন জানতে চাইছি।"
-" তুমি অফিস যাওয়ার পর দেখি, তোমার একটা জামা গায়ের উপর চাপিয়ে সোফার উপর শুয়ে আছে।"
–"আমার জামা!"আমি অবাক হয়ে পরমার মুখের দিকে তাকালাম।
–"তোমার জামা, ও কেন গায়ের উপর দেবে?শুধু একমাত্র ওটা আমার অধিকার।"

এবার সব কিছুই বুঝতে পারলাম। খুব হাসি পেল আমার।পরমার কাছে,বাবরি আর সামন্য কুকুর নেই। মানুষের প্রতিমুর্তি হয়ে উঠেছে। একটা অন্য নারী;যেন পরমার সতীন!
হাসতে হাসতে পরমার মাথাটা, আমার বুকের কাছে টেনে নিলাম। বললাম,–" পাগলি একটা! ছেলেমানুষি টা গেলো না।আমি সব সময় তোমাকেই ভালবাসি।"
পরমা আমাকে দু'হাতে খুব জোরে জড়িয়ে ধরল। বাবরি তার সরু সরু চোখ গুলো দিয়ে আমাদের দু'জনের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। কিন্তুু লেজটা আর এদিক–ওদিক নাড়াচ্ছে না।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

No comments

Powered by Blogger.