ছোটো গল্প " কাজের মাসী "



প্রথম প্রচেষ্টায় চাকরী টা হয়ে গেল।
কোনোদিন ভাবেনি,এরকম ভাবে হাসতে হাসতে দুম করে একটা কেলো ঘটে যাবে জীবনে। যাইহোক আমার চাকরীটা হল,দক্ষিন-পূর্ব রেলে। ডি-গ্রুপের চাকরী।পোস্টিং হল খড়গপুর। খড়গপুর নামটা বই এর পাতায় পড়েছিলাম। এক সময়ের পৃথীবীর দীর্ঘতম রেলওয়ে প্লাটফর্ম। কোনোদিন ভুল বশত যাওয়া ও হয়নি। আর আজ সেখানেই আমার গন্তব্য হবে,এটা কল্পনাতেও ভাবেনি কখনও।

নির্দিষ্ট দিনে বেরিয়ে পড়লাম।ক্যানিং থেকে ফার্স্ট ট্রেনে শিয়ালদহ।শিয়ালদহ থেকে বাস। সোজা হাওড়া।যখন হাওড়া পৌঁছোলাম,তখন ঘড়িতে পাঁচটা পঁইত্রিশ বাজে।আমার পিঠে একটা কলেজ ব্যাগ।নিজের কিছু জামা-প্যান্ট, কিছু দরকারী কাগজ পত্র ব্যাগে।আর একটা জলের বোতল।তেমন ভারী কিছু নয়।আমার ট্রেন সকাল ছ'টায়।রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস। যথাসময়ে পিঠে ব্যাগ টা চাপিয়ে রুপসী বাংলায় উঠে পড়লাম।ভাগ্যটা ভালোই ছিল,তাই জানালার কাছের সিট টা পেয়ে গেলাম আমি। ঠিক ছ'টা দশে ট্রেন নড়ে উঠল।তারপর ধীরে ধীরে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরোলো।আমি যেসময়ের কথা বলছি,সেসময় রুপসী বাংলা এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়তো।
দুপাশের বড় বড় বাড়ি,কোহাহল কে পিছনে রেখে ট্রেন ছুটলো ঝড়ের গতিতে।জানালার পাশে বসে আমার চোখ দুটোকে বাইরে ফেলে রাখলাম।এটা আমার অভ্যেস বলতে পারেন। যখন ট্রেনে কিম্বা বাসে জানালার পাশে বসি, তখন আমার চোখ দুটো অজান্তেই বাইরে চলে যায়।পাশে কোনো সুন্দরী মেয়ে বসলেও, আমার এই বিচিত্র অভ্যেস বসত তাকে দেখা সম্ভব হয় না।ট্রেন কোলাঘাট পার হল ঝম ঝম শব্দে। দুপাশে বড় বড় বাড়ির পরিবর্তে এখন বড় বড় মাঠ।সবুজ বৃষ্টি ভেজা মাঠ। চোখ জুড়িয়ে যায়।সকাল আট টা বেজে পনেরো মিনিটে ট্রেনের গতি কমে এল।পাশের একজন কে জিজ্ঞেস করলাম,-"দাদা,এবার কি খড়গপুর ঢুকছে?"
লোকটি হ্যাঁ বলে উঠে দাঁড়ালো।আমিও ব্যাগ নিয়ে উঠে পড়লাম।প্লাটফর্মে এসে থামলো ট্রেন। নেমে পড়লাম আমি।আগে থেকে অফিসের ঠিকানা জানা ছিল।তাই অসুবিধা হল না। প্লাটফর্মে নেমে সাবওয়ে দিয়ে বাইরে বেরোলাম। সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা।গাড়ি পার্ক করা। একটা পুলিশ ভ্যান দাঁড় করানো।কিছু মিলিটারি পুলিশ চোখে পড়ল।আর মানুষ জনের কোলাহল। আমার অফিস স্টেশন থেকে কাছেই। পায়ে হেঁটে মিনিট তিনেক।হেঁটেই গেলাম আমি।দোতলা হলুদ রঙের অফিস।সমস্ত কাগজ পত্র ক্লার্কের কাছে দেখাতেই,আমাকে জয়েন করিয়ে নিল।
আবার একটা নতুন জায়গা।অচেনা মানুষজন। হঠাৎ করে মন টা খারাপ হয়ে গেল।ট্রেন থেকে নেমে,প্লাটফর্মের মাইকে শুনেছিলাম,ওয়েলকাম টু খড়গপুর।কিন্তু সত্যি বলছি,এই মুহুর্তে আমার গুডবাই  খড়গপুর বলতে ইচ্ছে করছে।চোখের জল লুকিয়ে রাখলাম।

অনেক বকবক করে ফেললাম।যাইহোক,এবার আসল গল্পে আসি।এক এক করে সমস্য দেখা দিতে শুরু করল।প্রথম সমস্যা হল থাকার যায়গা। কোথায় থাকবো? আপনি যতই অচেনা, যায়গায় যান কেন,যতই অচেনা মানুষ হোক না কেন,কেউ না কেউ ঠিক আপনাকে সাহস্য করতে এগিয়ে আসবে।আমাকেও সাহয্য করতে এগিয়ে এল।অফিসের একজন স্টাফ।তার সাথেই গিয়ে ঘর খোঁজার চেষ্টা করলাম।
খড়গপুর জায়গাটি বেশ বড়।রাস্তায় বেরিয়ে বুঝতে পারলাম,কেন খড়গপুর কে, 'রেল শহর' বলা হয়! এমনিতেই খড়গপুর ডিভিশনের হেড অফিস এখানেই আছে।তার উপর প্লাটফর্ম কে ঘিরে সামনে,পিছনে চারিদিকে রেলের জায়গা। সারি সারি শুধু রেলের কোয়ার্টার।রেলের অফিস।আমার সিনিয়র স্টাফের প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকটা ঘর দেখা হল।কিন্তু ঘর মালিকদের আমাকে দেখে ঠিক পছন্দ হল না।কারন,আমি ব্যাচেলর।তারা প্রায় প্রত্যেকেই বলল,-"ফ্যামিলি হলে ভাল হতো।"
কারন টা বুঝতেই পারলাম।প্রত্যেক বাড়ি একটা সুন্দরী করে টিন এজ মেয়ে আছে। ব্যাপার টা স্বাভাবিক।বাড়িতে যুবতী মেয়ে থাকলে,কোনো অচেনা ব্যাচলার ছেলেকে বাড়িতে থাকতে দিতে একটু তো ভয় করবেই। তাই আমার ভাগ্যে ঘরের শিকে ছিঁড়লো না। এখানে থাকতে থাকতে আমার মনে হয়েছিল,খড়গপুরে,মেয়েদের সংখ্যা বেশি।যত না ছেলে,বাইক নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়,তার থেকে বেশি সংখ্যক মেয়েরা স্কুটি নিয়ে হুস হাস শব্দে পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এখানে কি সবার মেয়ে হয় নাকি! মনে মনে ভাবলাম আমি।
কিছুদিন অফিসেই কাটালাম।অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা ঘর মিলল।কিন্তু এমন রেন্ট হাকিয়ে বসল যে,আমার বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকা তার তার ঘরের পিছনে দিয়ে দিতে হবে।একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল আমার কাছে। এটা এবার আমার কারনে হল না।আমার সিনিয়র স্টাফ ও রাজী হল না।বেশ কিছুদিন হোটেলের খাবার খেয়ে আর অফিসেই রাত কাটাতে হল।দিনের বেলা ডিউটি।ডিউটি থেকে ফিরে,ঘরের খোঁজ।আর রাতে অফিসের স্টাফরুমে ঘুমানো।অবশেষে একটা পাকাপাকি ভাবে ঘর মিলল।

একটা গলি রাস্তার পাশে ফাঁকা ঘাস জমি।তার উপর পাশাপাশি তিনটে ঘর তৈরী।বোধহয় ভাড়া দেওয়ারই জন্যে এমন ভাবে তৈরী।তার একটিতে আমার জায়গা হল।ঘরের পাশেই টয়লেট।স্পেশাল জলের ট্যাব লাগানো। জায়গাটির নাম ইন্দা,বামুন পাড়া।পুরো পাড়াটাই ব্রাহ্মনদের বাস।আমিও থেকে গেলাম বামুন পাড়ায়।প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হল।রান্নার সমস্ত সরঞ্জাম কিনে ফেললাম।আমার অফিস সকাল আটটা থেকে চারটে পর্যন্ত।প্রতিদিন সকাল সাড়ে ছ'টায় উঠি।স্টোভে ভাত টা বসিয়ে দিই। তারপর সমস্ত বোতল গুলোতে জল ভরে নিই। ফ্রেশ হয়ে,তারপর একটা সবজির তরকারী রান্না করি।যেদিন যেমন হয়।তারপর স্নান সেরে, টিফিন টা সেরে নিয়ে,বেরিয়ে পড়ি।
বেশ কয়েক মাস এরকমই চলল।তারপর খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লাম।রান্নার জন্যে নয়,আমার প্রতিদিনের কাজের জন্যে।সকালে উঠে আর রান্না করতে ইচ্ছে করলো না।রান্না করার জন্যে একজন রাখলে মন্দ হয় না!অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘর মালিকের ছেলের প্রচেষ্টায় একজন কে পেয়েও গেলাম।কাছেই বাড়ি তার। যেমনটি চেয়েছিলাম,ঠিক তেমনটিই পেলাম। বয়স্ক মহিলা।তা,প্রায় ষাটের উপর বয়েস।মাথায় কাঁচাপাকা চুল।গায়ের রঙ কালো,চেহারায় একটু বয়েসের ছাপ স্পর্ষ্ট।তবে বেশ পরিষ্কার পরিছন্ন।এবং একপলক দেখলে মনে হবে বেশ অাত্মসন্মান বোধ ভাবাপন্ন মহিলা।গায়ের রঙ কালো হলে কি হবে, মুখশ্রীরটা সুন্দর।তবে বিধবা মানুষ।তারই মুখে শুনেছিলাম,কুড়ি-বাইশ বছর হয়ে গেল তার স্বামী মারা গেছেন।রান্নার জন্যে উনি বারোশো টাকা চাইলেন।আমি রাজী হয়ে গেলাম।আর না করেনি।

আমি তাকে মাসীমা বলে ডাকতাম।আমার দু বেলা রান্না।প্রতিদিন ভোরবেলা চলে আসতেন। আমি গেট টা খুলে দিয়ে,আবার শুয়ে পড়তাম। খাবার নিয়ে আমার কোনো বায়না ছিল না। বায়না একসময় ছিল।ছোটোবেলায়।এখন যা কিছু একটা হলেই হল।তাই ওনার পছন্দ মতো রান্না করে দিতেন।আগের দিনই বাজার করে রাখতাম।তাই কোনো সমস্যা হত না।রান্না করে দিয়ে,আমাকে বলে চলে যেতেন।আবার সন্ধ্যা বেলা আসতেন।
বেশ কাটতে লাগলো দিন গুলো।নিজেও একটু রেস্ট পেলাম।আমি তাকে বারবার বলতাম,বেশি কিছু রান্নার দরকার নেই।একটা তরকারী,আর একটা কিছু ভেজে দিলেই হবে।কিন্তু আমার কথা কে শোনে! বেশিরভাগ দিন দু'টো করে তরকারী বানাতেন।তারপর বাড়ি থেকে আমড়া, এনে তার চাটনী তৈরী করতেন।সকাল বেলা উঠে বাজার যাওয়ার প্রতি আমার খুব অনীহা। তাই মাছ আর খাওয়া হত না।একমাত্র ছুটির দিনই,সকালে মাছ আনতে বাজারে যেতাম। হঠাৎ দেখলাম একদিন উনি মাছ আনলেন। বললেন,প্রতিদিন নিরামিষ রান্না ভালো লাগে! বেশ ভালোই হল।আমি তাকে মাছের টাকা টা দিয়ে বললাম,-"যখন মাছ পাবেন আনবেন। আমি টাকা দিয়ে দেব।"
উনি এনেও দিতেন।
আপন মনে গুন গুন করে গান করতে করতে রান্না করতেন উনি।সকালে আমার সময় হত না।তাই সন্ধ্যায় রান্নার সময় ওনার সাথে একটু গল্প হত।কথা বলে বুঝতে পারলাম,উনি খুব গল্প করতে পারেন।একবার গল্প শুরু করলে,আর শেষ করতে চাইতেন না।বেশ মিশুকে টাইপের মানুষ।তার জীবনের গল্প শোনাতেন।আরও অনেক কিছু।প্রথমে ভেবেছিলাম,ওনার বাড়ি এখানেই।কিন্তু পরে জানতে পারলাম,উনি এখানে মেয়ের বাড়িতে থাকেন।আমিও বেশি কিছু জানতে চাইতাম না।প্রায়দিন নিজে থেকেই গল্প করতেন উনি ।আমি শুধু শুনতাম,আর মাথা নাড়তাম।বেশ হাসিখুশি মনেই গল্প করতেন। একদিন বললেন,-"এখানে তো কিছু রান্না করতেই হয় না!আগে যেখানে রান্না করতাম, সেখানে দশ -বারোটা আইটেম বানাতে হত।খুব বড় বাড়ি।"
আমি হেসে বললাম,-"আমার সে সব ব্যাপার নেই।দুবেলা খেতে পেলেই হল।"
তারপর একটু থেমে জিজ্ঞেস করলাম,-"কত দিন রান্না করছেন আপনি?"
-"তা অনেক দিন হল।অনেক জায়গায় রান্নার কাজ করেছি আমি।"
উনি যে অনেক দিন থেকে রান্নার কাজ করেন সেটা দেখলেই বোঝা যায়।তবে কত দিন কাজ করছেন,সেটা আর জিজ্ঞেস করলাম না।হয়তো স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে রান্নার কাজ করেন বাড়ি বাড়ি।আগেই বলেছিলাম,উনি বেশ পরিষ্কার পরিছন্ন।একটু সৌখিন ও বলতে পারেন। বাসন পত্র সব কিছু নিজের মতো করে গুছিয়ে,পরিষ্কার পরিছন্ন করে রাখতেন।


কয়েক মাস বেশ কাটল।বেশ আনন্দের সহিত কাজ করতে লাগলেন।আমার ও যখন সময় হত, মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় রান্নার সময় গল্প করতাম। একদিন অফিস থেকে ফিরে ঘরে বসে আছি। ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করছি।যখন ফাঁকা পাই এই ফেসবুকই আমার গন্তব্য।যথা সময়ে মাসীমা এলেন।আমি উঠে গিয়ে বললাম,-"মাসীমা,আজ মাংস এনেছি।"
-"ওহ।আদা,রসুন পেঁয়াজ সব আছে তো?" জিজ্ঞেস করলেন উনি।
আমি হেসে বললাম,-"সব আছে।কোনো চিন্তা নেই।"
উনি কাজ শুরু করে দিলেন।আমি ভেতরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।অভ্যেস বসত সেই ফোন নিয়েই পড়লাম।কিছু সময় পর মাসীমা ডাকলেন।আমি উঠে বারান্দায় গেলাম।ফোনের কীপ্যাডে টাইপ করতে করতে বললাম,-"বলুন!"
-"আমাকে চার দিন ছুটি দিতে হবে,বাবা।"
হঠাৎ চারদিন ছুটি শুনে একটু অবাক হলাম। ফোন বন্ধ করে হেসে বললাম,-"সে ঠিক আছে।........কোথাও ঘুরতে যাচ্ছেন নাকি?"
-"ঘুরতে নয়।মেদিনীপুর যাব একটু।"
-"মেদিনীপুর!"একটু অবাক হলাম আমি।
খড়গ পুর থেকে মেদিনীপুরের দূরত্ব বেশি নয়। তিনটে স্টেশন পর।তবুও চারদিন ছুটি!উনি বললেন,-"আমার বাড়ি তো ওখানেই।আর সামনে রথ।মেদিনীপুরে খুব বড় রথের মেলা হয়।"
-"আপনার বাড়ি মেদিনীপুর!"
উনি উপর-নীচে মাথা নাড়িয়ে গল্প শুরু করলেন।-"আমি তো মেদিনীপুরের মেয়ে।খুব ভাল জায়গা মেদিনীপুর।খড়গপুর তো একেবারে যাচ্ছেতাই। ওখানে আমাদের বড় বাড়ি আছে।ওনেক বড় ফ্যামিলি ছিল আমাদের।আত্মীয় স্বজন রা তো সব ওখানেই থাকে।......আমার দুই ছেলে, বৌমা, নাতি-পুতি সব তো ওখানেই থাকে।"
-"ওহ।" হাসলাম আমি।
-"মেদিনীপুরের রথের মেলা দেখোনি?খুব বড় মেলা।নামকরা।অনেক দূর থেকে লোক আসে দেখতে।"
-"না,আমি দেখেনি।"
আজও মেদিনীপুরের সেই রথের মেলা আমার দেখা হয়নি। উনি সেই রথের মেলার, ওনার পরিবারের গল্প করতে লাগলেন।আমি বসে শুনতে লাগলাম। হঠাৎ কি মনে হল,প্রশ্ন টা জিজ্ঞেস করে ফেললাম আমি।-"আপনার ছেলেরা কি করে?"
প্রশ্ন শুনে ওনার মুখ টা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। নির্লিপ্ত মুখে কড়াই তে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বললেন,-"আমার দুই ছেলেই, তোমার মতো চাকরী করে।"
প্রচন্ড জোরে শক খেলাম একটা।বুকের ভেতর ধাক্কা লাগলো।কেঁপে উঠলাম।অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন।আর জিজ্ঞেস করতে সাহস পেলাম না যে, আপনার দুই ছেলে চাকরী করে,আর আপনি বাড়ি বাড়ি এই বয়েসে রান্না করে বেড়াচ্ছেন কেন?


এরপর অনেক দিন কেটে গেল।আমার ও ট্রান্সফার হয়ে গেল।আজ ও তবুও সেই 'কাজের' মাসীমার কথা টা এখনো মনে পড়ে।


স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি: 


No comments

Powered by Blogger.