একটি প্রেমের গল্প " মর্নিং ওয়াক "








(১)


গেট ঠেলে সবেমাত্র শেন বন্ডের মতো বলের ডেলিভারি করতে করতে বাড়ির ভেতর ঢুকেছি, ওমনি এক হাঁকে আমার পা দু'টো থমকে গেল। দিদির গলার আওয়াজ।ভুল হওয়ার নয়।জন্মের পর থেকে এ আওয়াজ শুনে আসছি।আমি স্ট্যাচু অব লিবারটির মতো হাত উপরে করে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
-"এই, থাম.. থাম।এত ভোরবেলা কোথায় গিয়েছিলিস রে?"

সব কিছুতেই দিদির নাক গলানো।ইচ্ছে করে, নাক টা টেনে এক হাত লম্বা করে দিই।এত জবাবদিহি কেন রে?আমি কোথায় যাই,বা না যাই, তাতে তোর এত মাথা ব্যাথা কেন?দিদি হয়েছিস বলে কি,সব সময় একটা দিদি দিদি ভাব নিয়ে থাকতে হবে! কই মা তো কিছু জিজ্ঞেস করে না।বড্ড বাড়াবাড়ি!
আমাদের বাড়িটি দোতলা।চারিপাশে কোমর সমান উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা।দক্ষিন দিকে পাঁচিলের ঠিক মাঝখানে একটা লোহার গেট। গেট থেকে দু'হাত চওড়া একটা লাল খোয়া বিছানো রাস্তা আমাদের ঘরে ঢোকার দরজা পর্যন্ত।রাস্তার ডান পাশে এক ফালি জায়গা। চারকোনা। নানা রকম রঙবাহারি ফুল গাছে সাজানো জায়গাটি।দিদি,নিজের হাতেই যত্ন করে বানিয়েছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই দিদির একটিই কাজ।মোটর টা চালিয়ে, একটা সরু লম্বা পাইপ নিয়ে ফুল গাছে জল দেওয়া।আজ ও জল দিচ্ছিল।আমাকে দেখে জল দেওয়া বন্ধ করে,সামনে এসে দাঁড়ালো।-"কি ব্যাপার বলতো তোর? এই শীতের সময় ভোর বেলা কোথায় যাস?"
আমি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে হাত-পা নাড়িয়ে জগিং করতে করতে বললাম,-"মর্নিং ওয়াক। শরীর চর্চা.. ও সব তোর ব্রেলিয়ান্ট মগজে ঢুকবে না।"
-"চোপ!"দিদি ধমকে উঠল।
আমি থমকে গেলাম।আমার হাত- পা থেমে গেল।
-"যে কোনোদিন সকাল আটটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না,সে কিনা ভোর বেলা মর্নিং ওয়ার্ক যাবে! আর সপ্তাহে তিনদিন তোর কিসের মর্নিং ওয়াক রে? সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সে খেয়াল আছে?টেস্টে যা রেজাল্ট করেছিস,সেটা দেখে বোঝাই যাচ্ছে ফাইনালে কেমন হবে!"দিদি এ পর্যন্ত এসে থামলো।
আমি একটু গুরু গম্ভীর হয়ে বললাম,-" সব সময়,সকালের আবহাওয়া দেখে বোঝা যায় না, বিকালে ঝড় বৃষ্টি হবে কিনা। আর এক দিন মর্নিং ওয়ার্ক করার পর দু'দিন রেস্ট নিতে হয়।শরীর টা ফ্রেস থাকে।"
-"কোন শরীরবিদ বলেছে রে?"দিদি ঝাঁঝিয়ে উঠল।
এ তো বড়ই মুসকিল মে গির গয়া! আমি কাতর স্বরে হাঁকলাম,-"মা..আআআ...দেখো না,দিদি টা!"
মা,ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে,আমাদের দু'জনের মাঝে এসে দাঁড়ালো।অনেক টা ফুটবল কোচের মতো।-"মাঝে মাঝে কি হয় বলতো তোদের দুজনের?"
-"মা,ও ভোরবেলা কোথায় যায়, জিজ্ঞেস করো।"দিদি,মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল।
-"কেন?ও তো সকালে একটু হাঁটতে যায়। .....সারাদিন পড়াশুনা করে, সকাল বেলা একটু আধটু হেঁটে বেড়ালে মন টাও ভাল থাকে..।"
আমি মায়ের কথা থামার আগেই, মায়ের গলা জড়িয়ে আদুরে গলায়  বলে উঠলাম,-"হ্যাঁ। মা, তুমি ঠিক বলেছো।..এই কথাটাই দিদি কে বোঝাতে পারছি না।"
-"সে তো বুঝতেই পারছি, তোমার মাত্র তিন দিন মর্নিং ওয়াক যাওয়ার পেছনে কিছু তো রহস্য আছে!"দিদি আমার দিকে তাকালো।
আমি মায়ের আঁচল ধরে আরও কাছের দিকে সরে গিয়ে আস্তে আস্তে বললাম,-"মা,সৌরভ দার সাথে ওর বিয়েটা ক্যানসিল করে দাও,আমি শার্লক হোমস কে আনার চেষ্টা করছি।সব কিছুতেই রহস্য!"
-"তবে রে.....।" দিদি আমার দিকে ছুটে এল। আমি মায়ের আঁচল ছেড়ে এক ছুটে,দোতলায় ওঠার সিঁড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।পেছন ঘুরে দিদির দিকে তাকিয়ে,জোরে হেঁকে বললাম,-"তোর ওই মাস্টার গিরি সুরবালা বিদ্যাভবনে গিয়ে দেখাবি, এই 'নীরা ভবনে' চলবে না।"
কথাটা শেষ করেই,এক ছুটে সিঁড়ি দিয়ে উঠে নিজের ঘরে এন্ট্রি নিলাম।

(২)

দাঁতে ব্রাস,চোখে,মুখে জল দিয়ে ফ্রেস হয়ে,টেস্ট পেপার টা খুলে বসলাম।কোন দিক থেকে শুরু করবো,মাথায় কিছুই ঢুকছে না। শালা!মাধ্যমিক পাশ করার পর কেন যে,ছুটে নাচতে নাচতে সায়েন্স নিতে গেলাম,সেটা এখন টের পাচ্ছি। পরীক্ষার এখনো মাস দেঢ়েক বাকি।কিন্তু সে চিন্তা আমার থেকে আমার মা,আর দিদির বেশি। আমার শুধু একটাই চিন্তা,বৃহস্পতিবার আবার কবে আসবে?আজ সবে সোমবার। এখনো দু'দিন বাকি।এই দু"টো দিন আমার কাছে দু'বছরের সমান।পৃথিবীটা কি থেমে গেছে,না ঘোরার গতি কমিয়ে দিয়েছে?

সকাল গড়িয়ে দুপুর,দুপুর গড়িয়ে বিকাল, বিকাল গড়িয়ে রাত,আবার রাত শেষে সকাল,-সময় কাটতেই চায় না! বুধবার বার রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইলে এলার্ম দিলাম।এই ডিসেম্বরের ঠান্ডায় ভোর পাঁচ টায় আমার মতো আলসের কম্বল ছেড়ে ওঠা যে কত কষ্টের,সে আমিই একমাত্র টের পাই।তবুও আমাকে উঠতেই হবে।যত কষ্টই হোক।

বুধবার ভোর রাতে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলো কিন্তু চোখ খুললো না।কিছুসময় পর তড়িঘড়ি উঠে টয়লেটে গেলাম। কোথায় টয়লেট করলাম জানিনা, বেরিয়ে এসে জলদি ট্রাকস্যুট,আর শীতের কোট টা গায়ে গলিয়ে নিলাম।মাথায় টুপি,পায়ে রানিং শু,আর কানে ব্লুটুথ এয়ারফোন টা গুঁজে পড়িমড়ি করে ছুটলাম নীচে। গেটের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।বাড়ির সবার এখন ঘুমে অচৈতন্য অবস্থা।
ঘড়িতে পাঁচটা বেজে বারো মিনিট।এই সময় তো মেয়েটা ঠিক আমাদের গেটের সামনে দিয়ে যাবে। ঠিক টাইম টেবল মেনে মেয়েটি সামনে এল। আকাশি নীল রঙের সালোয়াজ কামিজ পরা।তার উপর লাল রঙের শীতের সোয়েটার চাপানো।মাথায় ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করে লাল টুপি।পিঠের কালো ব্যাগেও লাল বডার।যেন রাস্তার এক পাশ দিয়ে একটা ডেনজার জোন তৈরী হয়ে যাচ্ছে।বিপদ সংকেত! মেয়েটির সাথের বান্ধবীটি আমার অচেনা নয়।আমাদের পাড়ার মেয়ে,অদিতি।
আমি গেট খুলে ওদের না দেখার ভান করলাম। পেছন থেকে অদিতি বলল,-"কি আবির দা, আজও মর্নিং ওয়াক নাকি?"
আমি একটু বিস্মৃত মুখ করে ঘুরে তাকালাম। মেয়েটি অদিতির পাশে অন্যদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।-"হ্যাঁ রে..এই আর কি।তো তোরা মানে,তুই কোথায়?নিশ্চয় টিউশন?
অদিতি মাথা উপর নীচে করল।তারপর আবার আমার দিকে চেয়ে বলল,-"বাব্বা!তোমার সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা,তবুও তুমি এত সকালে উঠে শরীর চর্চা করো?
আমি গম্ভীর হয়ে,উঁচু গলায় মেয়েটিকে শুনিয়ে শুনিয়ে জ্ঞানদাতার মতো বললাম,-"শরীর চর্চাই হল আসল।মন ভালো থাকে।শরীর ভালো থাকে। আর মন ভালো থাকলে,পড়াশুনাও ঠিক ঠাক হয়।"
-"বুঝলাম।তোমার তো টম ক্রুজের মতো বডি, একটু শরীর চর্চা না করলে আমাদের পাড়ার টনিদার মতো হয়ে যাবে।"অদিতি, হেসে বলল।
গর্বে আমার বুক একহাত ফুলে উঠল। মনে হল এই মুহুর্তে আমি টম ক্রুজের বাড়ির পাশে। হেসে বললাম, -" হুম। মেয়েদের কাছে তো টমক্রুজ কল্পনার পুরুষ।"
-" হ্যাঁ, তুমি তো সব মেয়েদের খবর নিয়ে রেখেছো।" কথাটি বলে মেয়েটির সাথে সামনে এগিয়ে গেল অদিতি।আমি ওদের থেকে হাত দশেক পেছনে,হাঁটতে শুরু করলাম- থুড়ি, মর্নিং ওয়াক করতে শুরু করলাম।

 মাস খানেক আগের কথা।আমার পাড়ার ছোটোবেলার বন্ধু সৌভিকের বার্থ ডে পার্টি তে মেয়েটি কে দেখলাম।কালো শাড়িতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল।প্রথম বৃষ্টির পর ধুয়ে যাওয়া গাছের পাতার মতো চকচকে মুখে,এক অদ্ভুত মায়াময়তা। চাহনিতে চপলতা।লাইটের আলোয় উজ্বল হয়ে উঠেছে পোষাকটা।তবে তার থেকেও উজ্বল মুখের স্মিত হাসি টা।সত্যি! মেয়েদের হাসির কাছে,তাজমহলের সৌন্দর্য ও ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। সৌভিক কে ডেকে বললাম,-"ওই ব্ল্যাক ডায়মন্ড টা কে রে?"
-"ওই! ও আমার মাসির মেয়ে।এবার থেকে এখানেই থাকবে।"
আমি সৌভিকের কাঁধের কাছের জামাটা জোরে চেপে ধরে বললাম,-"তোর মাসির লকারে, এরকম একটা সুন্দর,দামি ডায়মন্ড রাখা আছে আগে বলিস নি কেন?"
-"ওই,বেশি তাকাস না।ও কে চিনিস না,ছেলেদের একদম সহ্য করতে পারে না।"কথাটা বলে সৌভিক চলে গেল।
সেই থেকেই মেয়েটির পেছনে ফেবিকুইকের মতো সেঁটে গেলাম।তারপর কি খায়,কি পরে, কবে কোথায় পড়তে যায়,এসব জানতে আর বেশি সময় লাগেনি।সোম, বৃহস্পতি আর রবি এই তিন দিন সোনারপুরে টিউসন পড়তে যায়। দু'দিন কেমিস্ট্রি,একদিন ম্যাথ।আর সপ্তাহে ওই তিন দিনই আমিপ্রবল শীতের মধ্যে মর্নিং ওয়াক শুরু করে দিলাম,শুধু মেয়েটি কে একটু দেখার জন্য।

দু'জনের পেছন পেছন আমিও প্লার্টফর্মে গিয়ে উঠলাম।ওরা ট্রেনে গিয়ে বসল।জানালার পাশে। মেয়েটির মুখ দেখা যাচ্ছে।একবার কি আমার দিকে তাকাবে না মেয়েটি?ভুল করেও যদি তাকাতো, তবুও মন টা শান্ত হতো।সবাই বলে মেয়েদের একটি ইন্দ্রিয় বেশী থাকে যেটা দিয়ে ওরা বুঝে যায়,ওদের দিকে কে,কি মনোভাব নিয়ে তাকাচ্ছে।এ মেয়েটির কি নেই?
সৌভিক ঠিকই বলেছিল,ছেলেদের একদম সহ্য করতে পারে না মেয়েটি। ট্রেন হর্ন বাজালো। তবুও আমি তাকিয়ে আছি।একটি বার চোখ তুলে.....।আমার কথাটা শেষ হল না।মেয়েটি আমার দিকে চাইল। কুয়াশা ভেজা ভোরের আলোয় পরিষ্কার দেখতে পেলাম।আমার বুকের ভেতরে যেন এক অসহ্য ভালোলাগা তৈরী হয়েছে। আনন্দে সব দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।ট্রেন টা ধীরে ধীরে প্লার্টফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকলো। নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারালাম।ছুটে গেলাম ট্রেনের সাথে সাথে।মেয়েটি দু'টো হাত দিয়ে জানালার রড ধরে,চোখ দু'টো রডের ফাঁকে গলিয়ে যতটা সম্ভব পারা যায় আমাকে দেখার চেষ্টা করলো।আমি সেই দৃষ্টিবাণে আহত হয়ে থেমে গেলাম।আর সেই শান্ত,বিস্মৃত দৃষ্টি, বুক পকেটে পুরে সুপারম্যানের মতো উড়ে বাড়ি চলে এলাম।

(৩)

গেট দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দিদি ট্যাঁরা চোখে আমার দিকে তাকালো।না দেখার ভান করে সোজা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলাম। আমার প্রেমের পথের একমাত্র কাঁটা আমার দিদি। এ ব্যাটার যে কবে বিয়ে হবে!
আজ অঙ্ক গুলো সব জলের মতো তরল সরল মনে হল।মনের মানুষের একটু তাকানোতেই,অঙ্ক জল হয়ে গেল! আর যদি সে ভালবাসার কথা বলে,তাহলে তো বিশ্ব জয় করে ফেলবো। অঙ্কে নোবেল পাব।মনে মনে ভাবলাম আমি।মেয়েটির সাথে আমার আগে কেন দেখা হয়নি? তাহলে জীবনের সেরা রেজাল্ট টা করে দিদি কে দেখিয়ে দিতাম। বলতাম,দেখ, ভালোবাসার কি ক্ষমতা!

দু'দিন পর রবিবার ভোরে একই ভাবে,তাল,লয় ঠিক রেখে আমার মর্নিং ওয়ার্ক শুরু হল।সামনে ওরা দু'জন হেঁটে চলেছে।নিদিষ্ট দূরুত্বে আমি। হঠাৎ মেয়েটি থমকে দাঁড়ালো। পেছন ঘুরে তাকালো।তারপর আমার সামনে এসে কোনো ভূমিকা না করেই বলল,-" আমায় ভালোবাসো?"
আচমকা এরকম প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলাম। আমার মুখের বুলি বন্ধ হয়ে গেল।হাত-পা প্রচন্ড জোরে কাঁপতে শুরু করলো।মনে হল জ্বর আসবে।
-"কি হাত-পা কাঁপছে তো? " মেয়েটি আবার জিজ্ঞেস করলো।
আমি তবুও নিশ্চুপ।হঠাৎ বোবা হয়ে গেলাম নাকি?
-"বুকের ভেতর ঢিপ ঢিপ করছে?"
মেয়েটি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। অনেক সময় পর মাউথ স্পিকার অন হল।কাঁপা স্বরে বললাম,-" হ্যাঁ,ঢিপ ঢিপ করছে।"
মেয়েটি হাসল।বলল,-"তাহলে ঠিক আছে।তার মানে তুমি আমাকে ভালবাসো।ভালোবাসার মানুষের সামনে পড়লে সব ছেলেদের এরকম কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়।"
আমি মেয়েটির চোখের দিকে তাকাতে পারলাম না।অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম,-"হ্যাঁ ভালোবাসি।'"
মেয়েটি আবার হাসল।ঝরনার মতো স্বচ্ছ হাসি। বলল-"তোমাকে নিয়ে, এর আগে তিরিশ টি ছেলে আমাকে দেখে কেঁপেছিল। কাউকে পাত্তা দেয়নি।ঠান্ডায় তোমার মর্নিং ওয়াক টা আমার দারুন পছন্দ হয়েছে। তাই এই প্রথম তোমাকে ভালোবেসে ফেললাম।পরে পালালে হবে না কিন্তু!"
আর কে পালায়! আমার ভেতরে যেন একটা দোদমা ফাটল।হাজার টা রং মশাল, একসাথে জ্বলে উঠল।মনে হল শূন্যে উড়ে যাচ্ছি।পৃথিবী থেকে মঙ্গলে। মঙ্গল থেকে শুক্রে।শুক্র থেকে বৃহস্পতি........প্লুটো।
-"কি ভাবছো? খুশি তো? আজ আর প্লার্টফর্মে গিয়ে ছুটোছুটি করতে হবে না।তাড়াতাড়ি ঘরে গিয়ে পড়াশুনা করো।"
আমার হাতে হাত রাখলো মেয়েটি।মেয়েটির হাতের স্পর্শে চমকে উঠলাম।কুয়াশার চাদড় এসে মুড়ে ফেললো দুজনকে।মেয়েটি একটা ভালবাসার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চলে গেল।আমি তাকিয়ে রইলাম তার চলার পথে। যতক্ষন না সে, কুয়াশার ভেতর মিলিয়ে গেল।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

No comments

Powered by Blogger.