একটি ভূতের গল্প " ঘাটশিলার আতঙ্ক "




(১)

সেদিন আমাদের আড্ডায় হঠাৎ করেই ভূতের প্রসঙ্গ চলে এল।কি করে এল,কেমন ভাবে এল জানি না।তবে কথা টা প্রথম বলল সৌম্য।সৌম্য কান্ত সরকার।নিজেকে অনেক সময় ভূতের বাপ বলে মনে করে সে।সৌম্যের আগে হয়তো কেউ ভূত নিয়ে কাঠি করেছিল।তাই সৌম্য কথাটা তুললো।সাধরনত আমাদের আড্ডায় ভূতের প্রসঙ্গ কম আসে।বেশিরভাগ পেত্নীর প্রসঙ্গ আসে-মানে মেয়েদের বিষয়।ভূতের কথা উঠতেই, সৌম্য জোর দিয়েই বললো,ভূত বলে কিছু নেই। সেই সাথে তার দলের অমিত হ্যাঁ হ্যাঁ করে উঠলো। অমিত ও ডাকাবুকো ছেলে।সেও নিজেকে ভূতের কাকা বলেই মনে করে।এমনি এমনি এরা ভূতের বাবা-কাকা উপাধি পায়নি। আমাদের পাড়ায় এদের দুজনের সাহসীকতার অনেক পরিচয় আছে।
সন্ধ্যা নেমেছে।সামনের বড় দোতলা বাড়ির মাথার উপর চাঁদ উঠেছে।বড় থালার মতো চাঁদ। সন্ধ্যা বেলা ক্লাবের সামনেটা আড্ডাবাজ রকে পরিনত হয় আমাদের সৌজন্য।লম্বা-লম্বা দু'খানা ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরী বসার বেঞ্চ।সন্ধ্যা নামলেই পুরোটা আমাদের দখলে চলে যায়। আমাদের আট জনের টিম।সবাই একই কলেজে পড়ি।শুধু ডিপার্টমেন্ট আলাদা।আড্ডা টা বেশ জমে ওঠে।আমাদের প্রতিটা বিভাগের আলাদা আলাদা সদস্য আছে। যেমন,সৌম্য আর অমিত মেয়েদের বিষয় টা ভালো বিশ্লেষন করতে পারে।বিশ্ব,আর দেবু ভূত আর রাজনীতি বিষয়ে পাকা।আমার আর টোটনের বিষয় খেলা,আর সিনেমা।আর বাকি দুজন প্রতুল আর ভিকি হল নিরপেক্ষ পার্টি।টনটনে জ্ঞান নিয়ে সবার পিছনে কাঠি দেওয়া এদের কাজ।যেকোনো বিষয়ে এরা বিপরীত ধর্মী আচরন করবে।
এই মুহুর্তে আমরা সাত জন পার্কে বসে আছি। মৃদু ঠান্ডা হাওয়া বইছে। কিছুক্ষন আগে পাশের বাড়ির কাকলি বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাটা বেশ জমে উঠেছিল।সৌম্য বেশ রসিয়ে কষিয়ে বলছিল।বেশ একটা গরম গরম আবহাওয়া।ঠিক সেইসময় হঠাৎ করে কোথা থেকে ভূত বাবাজি ঢুকে পড়ল পরকীয়ার মধ্যে। আর তাতেই সৌম্যর মাথা গরম করে ফেলল। শ্লেষ মাখানো সুরে বলল,-"মানুষের থাকার জায়গা নেই পৃথিবীতে, আবার ভূত!"
সৌম্য কথার চরম প্রতিবাদ জানালো,আমাদের ভূত স্পেশালিষ্ট দেবু। দেবু বললো,-"ভূত যে নেই,তার প্রমান ও কি তুই দিতে পারবি?এই যে এই পৃথীবিতে এক অধিভৌতিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে,তার যথাযত প্রমান কি তোর বিজ্ঞান দিতে পারছে?
পাশ থেকে ফুট কাটলো সৌম্যর পার্টনার অমিত-"এমন ভাবে বলছিস যেন,তুই দু'দশ টা ভূতের কাছে গিয়ে সার্ভে করে এসেছিস!"
বিশ্বও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।ওর কাছে সমস্ত ভুতুড়ে ঘটনার ডিটেইলস থাকে।বললো,-"কিছুদিন আগে কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনাটা কে কিভাবে বিশ্লেষন করবি?তার আগেও খবরের কাগজে দিয়েছিল,ক্যানিং এর সেই অদ্ভুতুড়ে ঘটনা! এছাড়া আরও ভুরি ভুরি ঘটনা আছে আমার কাছে।"
সৌম্য উত্তেজিত হয়ে বলল,-"ওটা একটা বিকৃত
মানসিকতার ঘটনা। আর ক্যানিং এর ঘটনা মানুষের মনের ভুল।"
তর্ক জমে উঠল।আমরা দু'জন চুপচাপ শুধু মজা নিয়ে যাচ্ছি। আমি যে ভূত বিশ্বাস করি,তা নয়।তবে নির্জন অন্ধকার জায়গায় গেলে বুকের ভেতর টা ছমছম করে ওঠে। এই মুহুর্তে ওদের তর্কের মধ্যে আমার ঢুকতে ইচ্ছে হল না। নিরপেক্ষ বাদী ভিকি এখনো একটা কথা বলেনি। এই নিরপেক্ষ বাদ জিনিষ টা সবচেয়ে খতরনাক।এরা কোনোপক্ষেই যায় না।কিন্তু দু'দলের পিছনেই কাঠি মারা স্বভাব।দু'দলের তর্কে যখন রক গরম হয়ে উঠেছে, ঠিক তখন কথা বললো ভিকি।-" আচ্ছা সৌম্য,তুই ঈশ্বর বিশ্বাস করিস?"
ভূত থেকে সরাসরি এরকম প্রশ্নে ডাউন খেয়ে গেল সৌম্য।বললো,-" বিশ্বাস করি।কেন?"
-"তাহলে তো ভূত অবিশ্বাস করার কোনো কারন দেখতে পাচ্ছি না।"বলল ভিকি।
ভিকির কথায় জোর পেল দেবু আর বিশ্ব।-"হ্যাঁ! এবার বল?ঈশ্বর আর ভূত এদের দু'টোরই কেউ চোখে দেখেনি।সঠিক কোনো তথ্য প্রমান কেউ দিতে পারেনি।তবে?"
এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পেল না সৌম্য এবং তার পার্টনার।কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকলো।

ঘড়িতে পৌনে আট টা।আমাদের আড্ডা শেষ হয় পৌনে ন'টা থেকে সাওয়া ন'টার মধ্যে।রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টের শান্ত আলো এসে পড়ছে আমাদের বসার জায়গার উপর।একটা ছায়াছায়া ভাব। আমি সৌমর মুখের ভাব দেখে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে সানি লিওনের 'ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড' মুভির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেও বিফল হলাম। অমিত সেই গোঁ ধরে বসলো।অন্য একটা যুক্তি খাড়া করলো সে।
-"ও সব ভূত -ফূত কিছুই নেই।আর যদি থাকতো তাহলে,অন্তত সব ভূত অবিশ্বাসী দের এসে দেখা দিয়ে যেত।"
-"কেন, প্লানচেটে আত্মা নামে না?" অমিতের কথার উত্তরে দেবু বললো।
-"ওই গাঁজাখুরি প্লানচেটের কথা আমার সামনে বলবি না।অনেকবার আমার ট্রাই করে দেখা হয়ে গেছে।"
-"তাহলে সবাই অন্ধকার দেখলে ভয় পায় কেন?"
দেবুর এই প্রশ্নের উত্তরে অমিত বললো,-"এই ভয় টা আমাদের ছোটোবেলায়,পরিবারের লোকজন আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়।আর সেই ভয়টাই পরবর্তি কালে পেয়ে বসে। একটা বাচ্চা যখন কিছুই জানে না,তখন সে না খেতে চাইলে,না ঘুমোতে চাইলে,বা,একা একা বাইরে চলে গেলে, মা-ঠাকুমারা ভূতের ভয় দেখায়।আর সেই থেকেই ভয়টা পেয়ে বসে।"
এরকম অদ্ভুত সব যুক্তি,তর্কের মধ্যে আরেক নিরপেক্ষ বাদী প্রতুল এসে জুটলো।এসেই এক গাল হেসে বললো,-"বন্ধুগন,কেমন আছো সব? কি এত আলোচনা চলছে?"
প্রতুল ছেলেটা বেশ ভালো।ওর বাড়ি এখানে নয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়।তমলুক শহরে। কলেজে পড়াশুনার জন্যে আমাদের এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে। হঠাৎ ওর আগমনে,আমাদের আলোচনা থেমে ফোকাস টা ওর দিকে ঘুরে গেল।আমি বললাম,-"কি বস! কখন ফিরলি?"
-"এই,একটু আগেই। ব্যাগ রেখে,জামা-প্যান্ট পালটে সোজা এখানে এন্ট্রি নিলাম।"হেসে বললো প্রতুল।
এক দিন আগে কলেজে ওদের জিওগ্রাফি ডিপার্টমেন্ট থেকে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিল ঘাটশিলা। প্রতুল ও গিয়েছিল।তবে ঘুরতে নয়, প্রেমের টানে।যাওয়ার ইচ্ছে খুব একটা ছিল না। কিন্তু যখন শুনলো,মৌমিতা যাচ্ছে,তখন তার লেজুড় হয়ে জুটে গেল। আমার পাশ থেকে টোটন বললো,-"কেমন ঘুরলি?"
-"আগেও গিয়েছি।তবে এবার টা স্পেশাল ছিল। মনে হচ্ছে,এখনো আমি ঘাটশিলা তেই আছি।" হো হো করে হাসলো প্রতুল।
-"সে তো থাকবেই। মৌমিতা সঙ্গে ছিল,না!"আমি হেসে বললাম।
ভিকি বললো,-"আর সেই মালটা ও তো গিয়েছিল।রনদীপ।"
-"ধুর! ক্যালানে টা কে মৌমিতা পাত্তা দিলে তো! মাঝে মাঝে আড় চোখে তাকাচ্ছিল,আর হাতের আঙুল কামড়াচ্ছিল মনে হয়।"
আমরা সবাই হো হো হো করে হেসে উঠলাম। চাঁদের আলো ভাসতে শুরু করলো বড় বড় বাড়ি গুলোর ছাদে।অদ্ভুত মায়াময় পরিবেশ।ঘড়িতে সাড়ে আট টা বেজে গেছে।আমরা আবার আলোচনায় ফিরলাম।ভূত প্রসঙ্গ আমার ইচ্ছে ছিল না।কিন্তু উপযুক্ত একটা তর্কের লোক পেয়ে সৌম্য আবার খোঁচাতে শুরু করলো।
প্রতুল সব শুনে বললো,-"ভাই, ভূত নিয়ে ইয়ার্কি নয়! আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি ভূত আছে।"
-"মাল টেনে আসছিস নাকি? এমন ভাবে বলছিস যেন,ঘাটশিলা থেকে ভূত দেখে এসেছিস?" সৌম্য বললো।
প্রতুল মুখ টা গম্ভীর করে বললো,-"দেখে নয়, ভূতের সন্ধান নিয়ে এসেছি।ওখান কার মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।"
প্রতুলের চোখ মুখ দেখে আমরা সবাই নড়ে চড়ে বসলাম। ব্যাপার টা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমি বললাম,-"কেস টা কিরকম?"
প্রতুল বলতে শুরু করলো.....।
ঘাটশিলা স্টেশন থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটা পোড়ো বাড়ি আছে। লতা-পাতায়,আগাছায় ঘেরা বাড়িটার একপাশ ভেঙে পড়েছে।জায়গাটা একটু নির্জন।খুব একটা মানুষ চলাচল করে না। আমরা কয়েকজন সেদিকে ঘুরতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু স্থানীয় মানুষ আমাদের ও দিকে যেতে নিষেধ করলো।ওদের থেকেই জানতে পারলাম,ওখানে ভূত আছে।ওরা নিজের চোখে দেখেছে।আমাদের মতো কোনো কলেজ থেকে নাকি ঘুরতে গিয়েছিল সেখানে।তারপর ওই বাড়িতেই একটা ছেলে খুন হয়।পরে জানা যায় ওই প্রেম ঘটিত কেস আর কি!ত্রিকোন সম্পর্ক থেকে খুন।সেই থেকে ওই বাড়িতে নাকি,রাতে আলো জ্বলে ওঠে। ছেলেটির চিৎকার শোনা যায়।এসব কথা ওখানকারস্থানীয় মানুষের কাছে শোনা।তবে ওদের মুখের হাব-ভাব দেখে বোঝা যায় ঘটনাটা সত্যি হতে পারে।মিথ্যে নয়।
প্রতুল গল্প শেষ করলো।গল্প শেষ হলে সৌম্য বলে উঠলো,-"ডাহা মিথ্যে।গাঁজাখুরি গল্প।"
একটু ঠান্ডা নিশ্বাস নিয়ে প্রতুল বললো,-সত্যি কি মিথ্যে জানি না।তবে একবার ওখানে গিয়ে দেখলে মন্দ হয় না।কলেজের স্যারেরা ছিল তো তাই আমি আর রিস্ক নেয়নি।"
আর তর্ক- বিতর্ক নয়।আমরা সবাই ঘাটশিলা যাওয়া মনস্থির করলাম। বেশ একটা অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমন হয়ে যাবে! ভ্রমনের সাথে ভূত দেখা ফ্রি।

(২)

কথা মতোই কাজ।একদিন পরই আট জন ব্যাগ-ব্যাগিচা গুছিয়ে হাওড়া স্টেশনে গিয়ে হাজির হলাম। সকাল দশ'টায় হাওড়া-ঘাটশিলা মেমু লোকাল।টিকিট কেটে যথা সময়ে ট্রেনে চেপে বসলাম।এক জায়গায় বসলাম সবাই।জানালার কাছের সিট পেয়ে গেলাম আমি। সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি জার্নি।এমনকিছু সময় নয়। গল্প করতে করতে কেটে যাবে।
দু'পাশে বড় বড় বাড়িকে পিছনে ফেলে সাপের মতো ছুটলো ট্রেন। কিছু সময় পর বড় বড় বাড়ি হারিয়ে গেল।ধূ ধূ সবুজ প্রান্তর। মাঝে মাঝে বড় বড় গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।খড়গপুর যখন পৌঁছলাম,তখন ঘড়িতে বারোটা বেজে পঁইত্রিশ মিনিট।আমাদের ব্যাগে কিছু শুকনো খাবার আছে।বিস্কুট,কেক,আর কিছু চিপসের প্যাকেট।চিপস খেতে খেতে ভিকি বললো,-"ওখানে রাতে থাকার জন্যে হোটেল পাওয়া যাবে তো?"
প্রতুল বললো,-"হ্যাঁ পাওয়া যাবে।আর না পাওয়া গেলে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে থেকে যাব। সারারাত আর.পি.এফ পাহারা দেয়,কোনো ভয় নেই।"
দুপুর একটা পঞ্চাশের দিকে বাংলা বর্ডার পেরিয়ে ঘাটশিলা স্টেশনে এসে ট্রেন থামলো। ঘাটশিলা জায়গাটা ঝাড়খন্ডের মধ্যে পড়ে।ট্রেনে আসতে আসতে দু'পাশে সবুজ পাহাড় দেখলাম। ধোঁয়া ধোঁয়া দেখায় ট্রেনের ভেতর থেকে।ট্রেনের গতির সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটছে তারা।ট্রেন থেকে নামলাম আমরা।ফাঁকা ফাঁকা স্টেশন।কত গুলো আর.পি.এফ কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে।দূরে ছবিতে রং তুলিতে আঁকার মতো পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।একটা হোটেল খোঁজ করে,সেখানেই উঠে পড়লাম আমরা। একটা রাতেরই ব্যাপার!তিন ঘন্টার জার্নিতে প্রতুল ছাড়া আর সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম।ওর এদিকে আসার অভ্যাস আছে,তাই ওর ক্লান্তি ভর করেনি।স্নান সেরে, হোটেল থেকে খাওয়া- দাওয়া শেষ করে খাটের উপর গড়িয়ে পড়লাম সবাই।আমাদের প্লান হল বিকালের দিকে ঘুরতে বেরানো,আর সন্ধ্যের আলো পড়তেই সেই পোড়ো বাড়িতে ভূতের সন্ধানে হানা দেওয়া।
ঘাটশিলা ছোটো শহর হলেও বেশ ভাল।পাশ দিয়ে কুল কুল শব্দে বয়ে চলেছে সুবর্নরেখা নদী। শাল,মহুয়া, পিয়াল,আমলকীর জঙ্গলে ঘিরে থাকা জায়গাটা এক অপরুপ সৌন্দর্যে সজ্জিত।পাশেই ফুলডুংরি পাহাড়ি টিলা। জঙ্গলি, বুনো ফুলের মেলা।আর সব থেকে বড় হল, সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরর স্মৃতি বিজড়িত এ জায়গা টি। আমরা বেশ ঘুরে ঘুরে দেখলাম, আসে পাশে আধিবাসী মানুষদের জীবনযাত্রা।তারপর সন্ধ্যার আলো কমে আসতেই,প্রতুল বললো,-"চল এবার তোদের সেই বাড়িতে নিয়ে যাই।"
আমার ভেতর টা যেন ছম ছম করে উঠল। ভেতরে ভেতরে একটা ভয় যে কাজ করছে না, তা ঠিক নয়। সবাই সাথে আছে,তাই ভয়টা আমাকে থাবা বসাতে পারছে না। পনেরো মিনিট হাঁটার পর,আমরা সেই বাড়িটার সামনে এসে পৌঁছলাম।আসে-পাশে কোনো লোকজন চোখে পড়ল না।বাড়িটার একপাশ ভেঙে পড়েছে।শিস বট, আগাছার জঙ্গলে ভর্তি বাড়ি টা। সন্ধ্যা নেমে গেলেও,এখনো পুরোপুরি আঁধার নামেনি। অস্পর্ষ্ট সব দেখা যাচ্ছে।যদিও অন্ধকার হলেও অসুবিধা নেই।আমাদের প্রত্যেকের পিঠের ব্যাগে একটা করে টর্চ লাইট আছে।গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম আটজন।ঘরের বারান্দায় লোহার মরচে পড়া গেট ঠেলতেই,ক্যাঁচ শব্দ করে খুলে গেল। মাকড়শার জালে ভর্তি বারান্দা টা।আমি হাত দিয়ে সেগুলো সরানোর চেষ্টা করলাম।বারান্দায় উঠে প্রথমেই একটা ঘর।দরজায় চাবি লাগানো। সৌম্য টর্চের আলো জ্বেলে দ্বিতীয় ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।আমরা সবাই তার পেছন পেছন।এ ঘরের দরজায় চাবি নেই।সৌম্য হাত দিয়ে একটু ঠেলতেই দরজাটা খুলে গেল।তারপর ভেতরে টর্চের আলো ফেলতেই,বিকট শব্দে কঁকিয়ে উঠে দু'পা পিছিয়ে এল।
আমরাও মেঝেতে চোখ দিতেই, কেঁপে উঠলাম সবাই।থরথর করে আমাদের সারা শরীর কাঁপছে। বুকের ভেতর দিয়ে একটা ঠান্ডা হিমস্রোত পায়ের দিকে নেমে এল।এ কি দেখছি আমরা?
ঘরের মেঝেতে প্রতুল চিত হয়ে পড়ে আছে। কেউ গলার নলি কেটে তাকে খুন করেছে।কিন্তু প্রতুল তো আমাদের সাথে ছিল! সঙ্গে সঙ্গে পাশে টর্চ মারলাম।প্রতুল নেই।প্রতুল! এই প্রতুল! সবাই হাঁকাহাঁকি শুরু করে দিলাম।ছুটে বাইরে বেরিয়ে এলাম।পাগলের মতো চিৎকার করে ডাকলাম। কোনো সাড়া পেলাম না।টর্চের আলোয়, ঝোপঝাড়, সারা বাড়ির আনাচ-কানাচ তন্নতন্ন করে খুঁজলাম।প্রতুল কে আর কোথাও পেলাম না।ঘরের ভেতর তার নিস্তেজ,ফ্যাকাসে,রক্ত শূন্য শরীর টা একই ভাবে পড়ে আছে। এবার মনে পড়লো,ক্লাবের রকে বসে আমাদের কে বলা, প্রতুলের গল্প টা। ত্রিকোন প্রেম! প্রতুলের জীবনেও তো ত্রিকোন প্রেমেই ছিল!

স্বদেশ কুমার গায়েন  (২০১৬)

2 comments:

  1. ghatshila passenger train ta 12.30 er por kgp dhoke! 11.35 is impossible!! :P

    ReplyDelete
  2. Yea... Tik bolechen ota 12.35 hobe.. My mistake.. Thank u so much.

    ReplyDelete

Powered by Blogger.