নাটক : লঙ্কা কান্ড ( হাস্যরসাত্মক)




লেখাটি হাস্যরস ধর্মী। মূল রামায়নের লঙ্কাকান্ড পর্ব এটি নয়।লেখার সময়কাল ২০০৯ এবং পরে ২০১৫ তে কিছু সংলাপ পরিবর্তন করা হয়। প্রিয় লেখক সুকুমার রায়ের অনুপ্রেরনা ও তার প্রতি সন্মান জানিয়েই লেখাটি শুরু করলাম।

পর্ব ১

[বানর সেনাগন সমুদ্রের কিনারে বসে কিভাবে সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কায় যাওয়া যায় তার তোড়জোড় করছে।]

সুগ্রীব : উফ! কেন যে বালি কে মেরে রাজা হতে গিয়েছিলাম! এখন তার ফল ভোগ করছি। এত বড় সমুদ্র কে যে পার হবে?
বানরগন: যেমন কর্ম তেমন ফল। পাপ করেছেন, ফল তো আপনাকেই ভোগ করতে হবে।
সুগ্রীব : চোপরাও বেয়াদপ! তখন তো আমাকে বুদ্ধি দিয়ে গাছে তুলে দিয়েছিলে। রাসকেল যতসব!

[ জাম্বুমানের প্রবেশ]

জাম্বুমান: এত গোলমাল কিসের?
সুগ্রীব : খুড়ো, কিছু একটা করুন। এত বড় সমুদ্র এখন পার হয়ে সীতা অন্বেষণ করতে যাবে কে?
জাম্বুমান: একটা প্লেনের টিকিট কেটে নিলেই তো হয়!
সুগ্রীব: কি যে বলেন! এই সব বুনো বাঁদর দের প্লেনে উঠতে দেবে না। আর টিকিটের যা দাম! ও ব্যাটা রাম দিতে চাইছে না। বনবাসে এসেছে, সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড আনেনি।
 জাম্বুমান: (অঙ্গদের দিকে তাকিয়ে)এই তুই লাফিয়ে যেতে পারবি না?
অঙ্গদ: (কান্নার ভান করে) দাদু! আমার বয়েস কম, আমি দমে পারব না।
জাম্বুমান: বয়েস কম তা এসেছ কেন? বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে বসে থাক।( হনুমানের প্রতি তাকিয়ে) এই ওই স্টুপিড টা ওখানে বসে কি খাচ্ছে রে?
হনুমান:( কানে হেড ফোন আর হাতে কলা) আজ ব্লু হে পানি পানি, আর দিন ভি সানি সানি....
জাম্বুমান: ওই, ব্যাটা! কান থেকে হেড ফোন টা খুলবি?কেন যে রাম এ টা কে ফোন গিফট করতে গেল! সারাদিন কানে হেড ফোন গুঁজে মড়ার মতো পড়ে আছে।
হনুমান: যে আজ্ঞে, কলা খাচ্ছি।
জাম্বুমান: কলা তোমার খাবিয়ে দেব,— স্টুপিড কোথাকার! মানুষ হলি না, সারাজীবন হনুমান হয়েই থাকবি! তুই এই সমুদ্র পার হয়ে সীতা মায়ের অন্বেষন করতে যাবি।
হনুমান: আজ্ঞে, একবার চেষ্টা করে দেখে আসি, যদি পৌঁছাতে পারি তবে ফিরে এসে আবার যাব।
জাম্বুমান: ননসেন্স একটা! একবার গিয়ে আবার ফিরে আসবি কেন?
হনুমান: এই দেখ খুড়ো! আমাকে ননসেন্স বলবে না। সমাজে আমার একটা ইয়ে আছে,বলে দিলুম।
জাম্বুমান: এই, নে নে তোকে আরও দুটো কলা বেশী দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।
হনুমান: (খুব খুশি হয়ে) নো টেনশন খুড়ো।

[হনুমানের লঙ্কাভিমুখে যাত্রা ]
হনুমান: জয় শ্রী রাম!
( হনুমান কে প্রবল বেগে যেতে দেখে নাগমাতা সুরষার প্রবেশ)
হনুমান: ( মনে মনে) সামনে ওটা কি দেখা যাচ্ছে! মাউন এভারেস্ট নাকি? না! এভারেস্টের লোকেসান টা তো এদিকে নয়!
সুরষা: আমি অনেক দিন অভুক্ত। আজ তোকে আহার হিসাবে গ্রহন করব।
হনুমান: কে বস আপনি? সমুদ্রে কি মাছের অভাব পড়েছে?
( অনেক লড়াই এর পর হনুমান গুগোল এ সার্চ করে জানতে পারে জানতে পারে, ইনি নাগমাতা সুরষা। তারপর নিজের শরীরটাকে ছোটো করে সুষরার মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে কান দিয়ে বের হয়ে যায়।)
হনুমান: মা, আমি জানতে পেরেছি,আপনিই নাগমাতা।আমি সীতা অন্বেষনে যাচ্ছি।
সুরষা: কনগ্রাচুলেশন!



( হনুমানের লঙ্কায় প্রবেশ)

হনুমান: এ আবার কোথায় এলাম রে? সিঙ্গাপুর না, সুইজারল্যান্ড?গুগোল ম্যাপ টা না খুললে পথ চলা মুসকিল হয়ে যাবে।
( রাবনের অনুচরের প্রবেশ)

রাক্ষস ১ : আরে, ঐ লম্বাকরে, চওড়া মতো, লেজ বিশিষ্ট প্রানীটি কে রে?
রাক্ষস ২ : আরে! তাইতো, এরকম মাল তো আগে দেখিনি! মনে হয় মঙ্গল গ্রহের প্রানী ট্রানী হবে।
রাক্ষস ১: আবে গাধা! নিউজ পেপার টেপার পড়িস? মঙ্গলে এখনো পর্যন্ত মানুষ তো দূরের কথা, জলের সন্ধান ও পাওয়া যায়নি।
রাক্ষস ২ : তাহলে জঙ্গি টঙ্গি নয় তো?
রাক্ষস ১ : চ’ শালাকে একটু ধলাই দিয়ে আসি।

(রাক্ষস দুটির হনুমানের দিকে অগ্রসর)

রাক্ষস ১ : ওই ব্যাটা মুখ ভোঁতা! এদিক ওদিক কি তাকাচ্ছিস? তোর নাম কি?
হনুমান : বজরঙ্গি ! এ দেশের এক পয়মাল,
আমাদের এক ইন্ডিয়ান কে নিয়ে পালিয়ে এসেছে।
রাক্ষস ২ : আচ্ছা, পাসপোর্ট আর ভিসা দেখা?
হনুমান: ও সব নেই।
রাক্ষস ১/২ : তবে রে! শালা বাঁদর মুখো জঙ্গি! দেখাচ্ছি তোকে মজা।
( হনুমান কে ধরার আগে, হনুমান ওদের ধরে ছুড়ে সমুদ্রে ফেলে দেয়)
হনুমান : এ কারা রে বাবা! ( মনে মনে)ঐ রাজপ্রাসাদের দিকে গিয়ে দেখি সীতা মাকে পাওয়া যায় কি না!

( হনুমানের রাজপ্রাসাদের দিকে গমন, এবং যে ঘরে রাবন আর মন্দাদোরী শুয়ে আছে, সেই ঘরে প্রবেশ)
হনুমান: ঐ তো সীতা মা! ( মন্দাদোরী কে দেখে) কিন্তু প্রভু যে বলল ছিন্ন ভিন্ন বসন পরিহিতা, দুচোখে জলের ধারা আর মুখে শুধুই রাম নাম, — সেই তোর সীতা মা। কিন্তু এ তো দেখছি বেশ মস্তিতে শুয়ে আছে।
( হনুমান ঘর থেকে বেরিয়ে আরো এগিয়ে যায়। হঠাৎ একটা ঘর থেকে রাম নাম আসতে থাকায় সেই ঘরে উঁকি মারে।)
হনুমান: ( বিভীষণের প্রতি) এ আবার কোন চিজ রে! লঙ্কায় রাবন নাম, না করে রাম নাম করছে। মনে হয় আর দমে পেরে উঠছে না।
( এদিক ওদিক অনেক খোঁজ করে না পেয়ে একটা পাঁচিলের উপর বসে চারিদিক দেখতে থাকে)
হনুমান : সব দিক তো দেখলাম, ওই বনের দিকটাই বাকি শুধু— যাই দেখি।

( হনুমানের অশোক কাননের দিকে যাত্রা)

পর্ব:—২
( স্থান: অশোক কানন। সীতার চারিপাশে,সব রাবনের মহিলা সিকিউরিটি বসে আছে )
মহিলার দল: দেখ সীতা তোমার ভালোর জন্যেই বলছি, রামকে তোমার মন থেকে আনইনিস্টল করে দাও। আর রাবন কে ইনিস্টল কর।
সীতা: ( কাঁদতে কাঁদতে) না! আমি কোনোদিন রাম কে ভুলতে পারব না, সেই আমার স্বামী।
মহিলার দল: আরে ধুর ধুর! কত আমার ভালবাসা রে! আজকাল তো দেখছি, বিয়ের আগেই যত প্রেম। তারপর বিয়ে হয়ে গেলে, বছর চারেক পর ডিভোর্স।
( হনুমানের প্রবেশ। কি ঘটে ভালকরে দেখার জন্য নিজের শরীর টাকে ছোটো করে, একটি গাছের ডালে লুকিয়ে থাকে।)
হনুমান : এটাই সীতা মা হবে। প্রভু বলেছিল,- দুচোখে তার জলের ধারা থাকবে সবসময়।

( এমন সময় রাবনের অনুপ্রবেশ)
হনুমান: ঐ যে শালা! রাবন ব্যাটা ঘুম থেকে উঠেই এখানে চলে এসেছে। চোখে মুখে জল ও দেয়নি মনে হয়! শালা বেকুব কোথাকার!
রাবন: ( সীতার প্রতি) দেখ, সীতে কেন তুমি নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ? রাম তোমাকে কোনদিন তোমাকে নিতে আসবে না! আমি সব ছেলেদের চিনি, নিজের বউ পালালেই বেঁচে যায়। তুমি আমার সাথে চল, - তোমার কান্না আর আমি সহ্য করতে পারছি না! ( রাবন মিথ্যে মিথ্যে চোখ মোছে)
হনুমান:( গাছের উপর থেকে)শালার ঢঙ দেখ। মেয়ে দেখলেই ভালমানুষ সাজার চেষ্টা করে।
সীতা: ওরে রাসকেল! তুই কি ভেবেছিস প্রভু তোকে ছেড়ে দেবে। আমার বিশ্বাস সে এখানে আসবেই।
রাবন: আসুক এখানে, কেটে কেটে পার্সেল করে, ভারতে কুরিয়্যার করে দেব।
( আরও দু একটা কথা বলে রাবন চলে যায়। হনুমান ভাবতে থাকতে সীতা মায়ের সাথে কিভাবে কথা বলা যায় ? হঠাৎ দুরে একটা রাক্ষস চিৎকার করে ওঠায় সবাই
সেদিকে ছুটে যায়।)
হনুমান: এই তো কথা বলার এক্সলেন্ট সুযোগ।
( হনুমান গাছের উপরে ফোনে রাম নাম টা চালায়)
সীতা: এই কে রে?
হনুমান :(গাছ থেকে নেমে) মা, আমি হনু।
সীতা: হনু হও আর মনু হও তাতে আমার কিছু যায় আসে না।রাম নাম করছিলে কেন? নতুন কোনো প্লান আছে নাকি?
হনুমান: না, মা আমি হনুমান, প্রভু রামের অনুচর। এই দেখুন তার হাতের অঙ্গুরি।
( সীতা অবাক হয়ে যায়।অঙ্গুরি দেখে সীতার
বিশ্বাস জমে।)
হনুমান: মা, আমি আপনার দেখা পেয়েছি তার প্রমান সরূপ
কিছু দিন!
সীতা : এই নাও আমার হাতের অঙ্গুরি।
হনুমান: না, মা থাক। আপনি একটু ভাল করে দাঁড়ান, আমি সব কিছু ভিডিও করে নিই। পরে হোয়াটঅ্যাপস এ প্রভুর কাছে পাঠিয়ে দেব।
সীতা: দাও না, তোমার ফোন টা প্রভুর সাথে একটু কথা বলি!
হনুমান: মা, এ বেয়াদপের দেশে নেটওয়ার্ক নেই। (তারপর পেটে হাত বুলিয়ে) মা, খুব খিদে পেয়েছে। ভেতরে ছুচোয় ডন মারছে।
সীতা : আহা রে! কিন্তু আমার কাছে তো কিছু নেই। তবে ঐ যে বন দেখা যাচ্ছে ওখানে অনেক ফলের গাছ আছে।
( হনুমানের প্রস্থান ও অরন্য অভিমুখে যাত্রা)
পর্ব:— ৩
স্থান: অশোক কানন( হনুমানের অশোক কাননে প্রবেশ।চারিদিকে শুধু ফলের গাছ)
হনুমান: বাহ! কি বিউটিফুল। ব্যাটার পরের বউ নিয়ে পালানোর স্বভাব থাকলে কি হবে ,
বনোসৃজনে নজর আছে বলতে হবে।
( হনুমান বনের মধ্যে দাপাদাপি শুরু করে। ডাল পালা ভাঙতে থাকে। তার দাপটে বনের রক্ষী দুটোর ঘুম ভেঙে যায়।)
রক্ষী ১: ( চোখ রগড়াতে রগড়াতে) এই বিটকেল কিরকম একটা শব্দ হচ্ছে যেন?
রক্ষী২: ঠিক বলেছিস পাটকেল, মনে হয় সাইক্লোন আসছে।
রক্ষী১: চোপ বেয়াদপ! ঝড় হলে তো গাছ পালা নড়বে!
রক্ষী২ : তাই তো ঠিক বলেছিস.....।
রক্ষী১ : ঔই দেখ একটা অদ্ভুত জন্তু এদিকে আসছে।
রক্ষী২: সত্যিই তো! চসমাটা দে তো; ভাল করে দেখি এটা কোন প্রজাতির অ্যানিমল?
রক্ষী১ : ( ভয়ে ভয়ে) এলিয়েন নয় তো?

( হনুমান রক্ষী দুজনের সামনে আসে)

রক্ষী১ : এই তুমি কোন গ্রহের প্রানী? বিনা অনুমতি তে আমাদের অরন্যে প্রবেশ করেছ কেন?
হনুমান: তোদের রাজার বাপ আমি...।
রক্ষী২ : ও আচ্ছা। অ্যাঁ!( অবাক হয়ে) উজবুক পেয়েছ, আমাদের রাজার বাপ নেই।
রক্ষী১ : এই, আজে বাজে বকবে না! আমাদের রাজা ধরে না ফাঁসি দিয়ে দেবে।
হনুমান: আরে যা যা! ফাঁসি দেওয়া অত সোজা নাকি।আইন সম্পর্কে কোনো ধারনা আছে তোদের? কম করে আট দশ বছর লেগে যাবে ফাঁসি দিতে।
রক্ষী১/২: ওই বেশী জ্ঞান দিও না। রাজার কাছে চল।
হনুমান: শালা! এক চড় মারব না, সাত জন্ম বসে বসে কাঁদবি। যা, তোদের রাজাকে গিয়ে বল আমাকে ধরে নিয়ে যেতে।

( রক্ষী দুজনের প্রস্থান, ও রাবনের গৃহে প্রবেশ)



(রক্ষী দুজনের রাবনের গৃহে প্রবেশ)

রক্ষী১ /২ :রাজা মশাই, রাজা মশাই অশোক কাননে এক অ্যালিয়েন ঢুকেছে। গাছ পালা সব তচনচ করে দিল।
রাবন: বলিস কিরে! তাড়াতাড়ি ধরে আমার ল্যাবরেটরি তে নিয়ে আয়। আজই পরীক্ষা করতে হবে।
( রাবন দুজন রাক্ষস কে পাঠিয়ে দেয় কিন্তু, হনুমানের হাতে মৃত্যু ঘটে। রাবন এবার রেগে গিয়ে পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে পাঠায়)

ইন্দ্রজিৎ : ( ধনুক হাতে) এই, তুমি কে! আত্মসমর্পণ কর আমার কাছে। নাহলে মেরে কিন্তু বালি চাপা দিয়ে দেব,কেউ টের পাবে না।
হনুমান : এ মাল আবার কে রে!( মনে মনে) তুমি কে বস? তোমার অবস্থা কিন্তু আগের দুজনের মতো সেম করে দেব।
( ইন্দ্রজিৎ রেগে গিয়ে হনুমান কে বন্দি করে ফেলে)
হনুমান: আরে! ব্যাটা তো সত্যি সত্যি বন্দি করে ফেলল। তা ভালই হল রাবনের সাথে একটু সাক্ষাৎ করে আসি।

( ইন্দ্রজিৎ এর প্রস্থার ও পিতার কাছে গমন)

ইন্দ্রজিৎ : পিতা, ব্যাটা এলিয়েন নয়,হনুমান। অশোক কাননে বেঁধে রেখে এসেছি। আপনি এবার ইমিডিয়েটলি অ্যাকশন নিন।
রাবন: এই, তোমরা পাঁচজন সেনা গিয়ে হনু টাকে ধরে আমার রাজসভায় আন।

(রাবনের নির্দেশে পাঁচ রাক্ষস হনুমানের কাছে রওনা দেয়)

হনুমান: উফ! এ তো দেখছি বড়ই সমস্যা। এখনো পর্যন্ত কেউ নিতে এল না! এদের সময় জ্ঞানের খুব অভাব আছে।
সেনাগন: এই হনুমান, রাজসভায় চল।
হনুমান: শালা, উজবুকের দল, আকাট মুর্খ, দেখতে পারছিস না — আমি উঠতে পারছি না। একটু ধরে তোল।
( রাক্ষস সেনা গন হনুমান কে ধরে তোলে)

হনুমান:( হাসতে হাসতে), এই এই এবার ছাড়। কাতুকুতু লাগছে তো।

(হনুমান সহ, পাঁচজন রক্ষী রাবনের রাজসভার দিকে এগিয়ে যায়)


পর্ব :৪

স্থান: রাবনের রাজ সভা
( হনুমানের রাজসভায় প্রবেশ। চারিদিকে রাক্ষসেরা বসে আছে। একটি বড় সিংহাসনে সবার উঁচুতে রাবন বসে আছে)

রাবন: এই, ব্যাটা! কোন দেশের গুপ্তচর তুই? গোপন মিসন টা কি?
হনুমান: স্টুপিড! নিজের বাপকেও চিনতে পারিস না? শালা, কিলিয়ে না, কিল(kill) করে দেব।
রাবন: ( মেঘের মতো গর্জন করে) এই, মুখ ভোঁতা! আমার বাপ তুলে কথা বলবি না, বলে দিলাম। প্রশ্নের সঠিক জবাব দে?
হনুমান:( মনে মনে) আরে এত আবার গর্জন করে। (নরম সুরে) আমি হনুমান স্যার।
রাবন: সে তো চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে! বুনো বানর। তো কোন দেশের?
হনুমান: ইন্ডিয়ান। প্রভু রামের অনুচর।

( রামের অনুচর শুনে রাজসভার সবাই হাসাহাসি করে)

রাবন: রামের অনুচর,- তো এখানে এসেছো কি করতে?
হনুমান: না, তেমন কিছু না! ভাবলাম রাসকেল টা আমাদের দেশে গিয়েছিল চুরি করে, তাই আমিও একটু..........।
রাবন:(গর্জন করে) চোপরাও বেয়াদপ! আমাকে রাসকেল বলা? দেখাচ্ছি মজা তোমার!
হনুমান: ধুৎ, এত জোরে জোরে চিৎকার করবেন না তো! আমার বড্ড কানে লাগে।
রাবন: কান, তোমার ছিঁড়ে নেব হারামজাদা।

( রাবন হুকুম দেয়, হনুমানের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক)

মন্ত্রী : মহারাজ! এ ব্যাটার সাতশো জুতোর বাড়ি মারা হোক।
সেনাপতি: না, না এ বুনো জানোয়ারের জুতোর বাড়ি গায়ে লাগবে না। তার চেয়ে লেজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হোক।
( রাজসভার সবাই এই সিদ্ধান্তে সন্মতি জানায়)

হনুমান:( মনে মনে) জুতোর বাড়ি মারলে তবু সহ্য করতাম! কিন্তু এরা তো পুড়িয়ে মারার প্লান করছে।( রাবনের কাছে অনুরোধ)স্যার! পানিশমেন্ট টা একটু কম করলে হয় না?
রাবন: না না! তোর মতো মর্কটের এই শাস্তিই উপযুক্ত।

( রক্ষী রা কাপড় এনে হনুমানের লেজে বাঁধে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়)
হনুমান: উ: আ: এরা তো সত্যি সত্যি আগুন ধরিয়ে দিল।
( এর পর হনুমানের মাথায় একটা বুদ্ধি আসে, সে একলাফে বারান্দায় বেরিয়ে কাঠের জানালা দরজায় আগুন লাগিয়ে দিতে থাকে। রাজবাড়ির সব কর্মচারী দের
গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়)
রাবন: ওরে ধর ধর ধর.......। না হলে সব পুড়িয়ে শেষ করে দেবে। ওরে তাড়াতাড়ি কেউ দমকল বাহিনী কে খবর দে!
( সারা রাজবাড়িতে আগুন লাগিয়ে হনুমান লেজের আগুন টা নিভিয়ে সীতা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দেশের উদ্দেশ্য রওনা হয়)

পর্ব: ৫
স্থান: সমুদ্রের তীরে ( সব বানর সেনা গন মন মরা হয়ে বসে আছে)
জাম্বুমান: শালা! জানোয়ার টাকে পাঠালাম, এতদিন হয়ে গেল এখনো তার দেখা নেই! রাসকেল টা মানুষ হল না! মর্কট ই রয়ে গেল সারাজীবন।

সুগ্রীব : (রাগে) খুড়ো, আমার মাথা কিন্তু গরম হয়ে যাচ্ছে! ব্যাটা বুনো মার্কা, আজ আসুক জলে ডুবিয়ে মারব.......।
অঙ্গদ: ( দূরে তাকিয়ে) দাদু! ঐ যে চিটিংবাজ টা আসছে মনে হয়!
( সবাই একসাথে হ্যাঁ হ্যাঁ করে ওঠে। )
( হনুমানের প্রবেশ)
জাম্বুমান: কি রে স্টুপিড! এত দিনে কিছু করতে পারলি?
হনুমান: (হাসতে হাসতে)ধুত! স্টুপিড বলো না তো! সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি।
সুগ্রীব : (রেগে গিয়ে) দাঁত ক্যালাতে হবে না তোমার!সীতা মায়ের কি খবর তাই বল; এদিকে উপর মহল থেকে বার বার চাপ আসছে।
সবাই: সীতা মায়ের কি হল!
হনুমান: আরে হয়েছে হয়েছে।(ফোন দেখিয়ে) এই দেখ মায়ের হাতের অঙ্গুরির ছবি তুলে এনেছি, আর সেই সাথে ভিডিও।
( সবাই এক সাথে আনন্দ করে ওঠে । তারপর ধীরে ধীরে রামচন্দ্রের নিকট রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়)
হনুমান: খুড়ো! দাঁড়াও সবাই, একমিনিট!
জাম্বুমান: কি হল আবার তোর?
হনুমান: একটা সেলফি হয়ে যাক।
( সবাই এক সাথে)  চল ব্যাটা সেলফি লে লে রে! জয় জয় বজরঙ্গিবলি!
--------------
সমাপ্ত



স্বদেশ কুমার গায়েন


No comments

Powered by Blogger.