বিখ্যাতদের মজার গল্প


বিখ্যাতদের মজার গল্প


ভন নিউমান :

এক রকেট তৈরী কারী নির্মান সংস্থা একবার বিখ্যাত গনিতজ্ঞ ভন নিউমান কে পরামর্শ দাতা হিসেবে ডেকে এনেছিলেন।ভন নিউমান তাদের অর্ধ সমাপ্ত হওয়া রকেট দেখে বললেন,কারা এটার ডিজাইন করেছে?
ম্যানেজার জানালেন, আমাদের ইঞ্জিনিয়র রা।ভন নিউমান তাচ্ছিল্যর সুরে বললেন, তারা রকেট বানানোর কি জানে হে! রকেট বানানোর গানিতিক সূত্র ১৯৫২ সালে আমার একটা গভেষনা পত্রে রয়েছে।ভালো করে পড়ে নেবেন।সবাই তাড়াহুড়ো করে সেই গভেষনা পত্র পড়ে, তার সূত্র অনুসরন করে বহু অর্থ ব্যায় করে রকেট বানালেন।কিন্তু সেটা আকাশে উড়তে না উড়তেই বিকট শব্দ করে ফেটে, পুড়ে গেল। ম্যানেজার ভীষন রেগে গিয়ে ভন নিউমান কে ফোন করলেন।
শান্ত সুরে ভন নিউমান জবাব দিলেন, ও হ্যাঁ ফেটে তো যাবেই।১৯৫৩ সালে আমার আরেকটা গভেষনা পত্রে এই রকেট ফাটা সমস্যার সমাধান করেছি আমি।সেটা পড়েন নি!

জ্যাক বেনি:

বিখ্যাত কমেডিয়ান জ্যাক বেনি এমন একটা ভাব দেখাতেন তার মতো কৃপন আর কেউ নেই।তিনি একটা রেডিও শো তে কাজ করতেন।সেই শো তে একদিন সবাই শুনতে পেল, জ্যাক বেনি কে এক ডাকাত এসে বলছে, হয় তোমার টাকা দাও, নইলে তোমার প্রান দাও।কিছুক্ষন চুপ থেকে জ্যাক বেনি বললেন, আমি ভাবছি, একটু ভাবছি যে কোনটা দেবো!

ভিক্টর হুগো

১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয় ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত বই “লা মিজারেবল”। তখন এটি নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। নানা সমালোচক এবং নানা খবর পত্র পত্রিকায় আসে। কিন্তু সেখান থেকে ভিক্টর হুগো বুঝতে পারলেন না বইটি বিক্রি হচ্ছে কেমন!

অবশেষে তিনি এর উত্তর জানার জন্য প্রকাশককে খুব ক্ষুদ্র একটা চিঠি দিলেন শুধুমাত্র “?”লিখে। প্রকাশক “?” এর মানে বুঝতে পারলেন এবং জবাব দিলেন “!” ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অর্থিক অনটনের সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ওনাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। একদিন এক মাতাল উনার কাছে সাহায্য চাইতে এলে বিদ্যাসাগর বললেন,আমি কোন মাতালকে সাহায্য করি না।

কিন্তু আপনি যে মধুসুদনকে সাহায্য করেন তিনিও তো মদ খান-মাতালের উত্তর।

বিদ্যাসাগর উত্তর দেন, ঠিক আছে আমিও তোমাকে মধুসূদনের মত সাহায্য করতে রাজী আছি তবে তুমি তার আগে একটি “মেঘনাদ বধ” কাব্য লিখে আন দেখি?


নেপোলিয়ন

১৭৯৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধরত ছিলেন নেপোলিয়ান বেনোপোর্ট।একদিন তিনি সহকারীদের বললেন,১২০০ তুর্কি বন্দীকে মুক্তি দিতে।কিন্তু আদেশ দেয়ার ওই মুহুর্তেই বেদম কাশি শুরু হয় তাঁর।বিরক্ত হয়ে বলেন,“মা সাকরি তাকস”(কি বিদঘুটে কাশি)।সহকারীরা ভুলে শুনলেন,“মাসাকরি তাওস”(হত্যা করো সবাইকে)।সেদিন সামান্য কয়েকটি শব্দের হেরফেরে প্রাণ গিয়েছিলো ১২০০ বন্দীর।

অ্যান্ড্রু কার্নেগী

মার্কিন ধনকুবের অ্যান্ড্র কার্নেগি ছিলেন তার সময়ের সবচেয়ে বড় ধনকুবের। তিনি ছিলেন বস্তির ছেলে। তার বয়স যখন বারো বছর তখন খেলার জন্য একবার তিনি পাবলিক পার্কে ঢুকতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার পোশাক এত মলিন ও নোংরা ছিল যে সেই পার্কের দারোয়ান তাকে পার্কে প্রবেশ করতে দেয়নি। সেদিন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, একদিন তার টাকা হবে আর তিনি এই পার্কটি কিনে ফেলবেন। ধনকুবের হওয়ার পর কার্নেগি ওই পার্কটিই কিনেছিলেন এবং পার্কে নতুন একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে ছিলেন। তাতে লেখা ছিল ‘আজ থেকে দিনে বা রাতে যে কোনো সময়ে যে কোনো মানুষ যে কোনো পোশাকে এই পার্কে প্রবেশ করতে পারবে।’


মার্ক টোয়েন

অনেক বছর আগের কথা। সে সময় আমেরিকান ট্রেনগুলো বেশ ধীরগতিতে চলত। লেট করত ঘণ্টার পর ঘন্টা। সকাল ৮টার ট্রেন রাত ৮টায় আসবে কি না সে বিষয়ে সবাই থাকত সন্দিহান।

এমনই এক সময়ে বিখ্যাত রম্যসাহিত্যিক মার্ক টোয়েন একবার কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে চেপে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর কামরায় উঠল টিকিট চেকার। মার্ক টোয়েন গম্ভীর মুখে চেকারের দিকে একটা 'হাফ টিকিট' বাড়িয়ে দিলেন। বুড়ো মানুষের হাতে 'হাফ টিকিট' দেখে টিকিট চেকার অবাক! তাঁর প্রশ্ন, কী মশাই, আপনি হাফ টিকিট কেটেছেন কেন? গোঁফ-মাথার চুল সবই তো সাদা। আপনি কি জানেন না চৌদ্দ বছরের বেশি হলে তার বেলায় আর হাফ টিকিট চলে না?' মার্ক টোয়েনের সোজা জবাব, যখন ট্রেনে চড়েছিলাম, তখন তো বয়স চৌদ্দই ছিল। কে জানত, ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছতে এত লেট করবে!


জর্জ বার্নাড শ

খ্যাতনামা আইরিশ সাহিত্যিক, সমালোচক ও নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ'র মুখের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তার দাড়ি। একবার একটি ইলেকট্রিক রেজর নির্মাতা কোম্পানির কর্তারা বাজারে আসা তাদের নতুন রেজরের প্রচারণায় শ' র এই দাড়িকে নিশানা করল।
শ' কে তারা এই নতুন রেজর দিয়ে দাড়ি কামানোর অনুরোধ করল। বিনিময়ে দেয়া হবে লোভনীয় অঙ্কের টাকা। শ'  তাদের হতাশ করে বললেন, তার বাবা যে কারণে দাড়ি কামানো বাদ দিয়েছিলেন তিনিও ঠিক একই কারণে এ জঞ্জাল ধরে রেখেছেন। কোম্পানির কর্তারা কারণটি জানতে আগ্রহী হলে বার্নার্ড শ বললেন, আমার বয়স তখন পাঁচ বছর। একদিন বাবা দাড়ি কামাচ্ছেন। আমি তাকে বললাম বাবা তুমি দাড়ি কামাচ্ছ কেন! তিনি এক মিনিট আমার দিকে নীরবে তাকিয়ে থেকে বললেন আরে তাই তো, আমি এ ফালতু কাজ করছি কেন? এই বলে তিনি সেই যে জানালা দিয়ে রেজর ছুড়ে ফেললেন জীবনে আর কখনো তা ধরেননি।


মহাত্মা গান্ধী

মহাত্মা গান্ধী ইংল্যান্ডের রাজার সঙ্গে চা খেয়েছিলেন খালিগায়ে শুধুমাত্র ধুতি পরে। চা খেয়ে ফিরে এলে তাকে ব্রিটিশ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, রাজার সামনে বসে আপনার কী মনে হয়নি আপনার পোশাকের ঘাটতি ছিল? মহাত্মা গান্ধী উত্তর দিয়েছিলেন, আপনাদের রাজা একাইতো আমাদের দুজনকে ঢাকার মতো যথেষ্ট পোশাক পরেছিলেন।


বারট্রান্ড রাশেল

‘পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরছে’ সে সম্পর্কে একবার বক্তৃতা করছিলেন বারট্রান্ড রাসেল। বক্তৃতার মাঝখানে এক বৃদ্ধলোক দাঁড়িয়ে রাসেলের কথার প্রতিবাদ করে বললেন ‘ওহে তরুণ তুমি বেশ বুদ্ধিমান এতে কারো সন্দেহ নেই। তবে পৃথিবী যে চ্যাপ্টা আর তা কচ্ছপের পিঠে করে বয়ে বেড়াচ্ছে তা মনে করেছ আমরা জানিনা!’
রাসেল বৃদ্ধের কথা শুনে অবাক হলেন। প্রশ্ন করলেন ঠিক আছে। তাহলে আপনি এবার বলেন, ওই কচ্ছপটা কিসের ওপর দাঁড়ানো? বৃদ্ধ একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললেন হু, আমি তোমাকে বলে দেই আর তুমি তা শিখে ফেল আর কী!


চার্চিল

এক জনসভায় চার্চিলের বক্তৃতা শুনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের এক মহিলা বিরক্ত হয়ে বলে ফেললেন, যদি আপনি আমার স্বামী হতেন,তাহলে আমি আপনাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতাম।

চার্চিল একথা শুনতে পেয়ে তার দিকে ফিরে হেসে বললেন, ম্যাডাম ! সেক্ষেত্রে আপনি আমার স্ত্রী হলে আমি নিজেই বিষ খেয়ে মরে যেতাম!


রবীন্দ্রনাথ

মরিস সাহেব ছিলেন শান্তিনিকেতনে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অধ্যাপক। একা থাকলে তিনি প্রায়ই গুনগুন করে গান গাইতেন। একদিন তিনি তৎকালীন ছাত্র প্রমথনাথ বিশীকে বললেন, জানো গুরুদেব(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) চিনির ওপর একটি গান লিখেছেন, গানটি বড়ই মিষ্টি।’ প্রমথনাথ বিশী বিস্মিত হয়ে বললেন, “কোন গানটা?তার আগে বলুন, এই ব্যাখ্যা আপনি কোথায় পেলেন?”

উত্তরে মরিস সাহেব জানালেন, ‘কেন, স্বয়ং গুরুদেবই তো আমাকে এটা বলে দিয়েছেন।’

অতঃপর তিনি গানটি গাইতে লাগলেন, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে…।’প্রমথনাথ বিশী মুচকি হেসে বললেন,তা গুরুদেব কিন্তু ঠিকই বলেছেন, চিনির গান তো মিষ্টি হবেই”।


রবীন্দ্রনাথ 

শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক নেপাল রায়কে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, ‘আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য কাল বিকেলে আমার এখানে এসে আপনাকে দণ্ড নিতে হবে।’

চিন্তিত, শঙ্কিত নেপালবাবু পরদিন শশব্যস্তে কবির কাছে উপস্থিত হলেন। আগের রাতে দুশ্চিন্তায় তিনি ঘুমাতে পারেননি। এখনো তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ উত্কণ্ঠার মধ্যেই বসিয়ে রেখেছেন কবিগুরু। অবশেষে পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে আবির্ভূত হলেন কবি। নেপালবাবুর তখন ভয়ে কাণ্ডজ্ঞান লুপ্তপ্রায়। তিনি ভাবলেন, সত্যি বুঝি লাঠি তাঁর মাথায় পড়বে। কবি সেটি বাড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এই নিন আপনার দণ্ড! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন।’


টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা অ্যাডিসনের গ্রামোফোন আবিষ্কার উপলক্ষে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণী তাঁর বক্তৃতায় অ্যাডিসনকে অযথাই আক্রমন করে বসল, ‘কী এক ঘোড়ার ডিমের যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকে। আর তাই নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না…।’

তরুণী বলেই যাচ্ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই।

অ্যাডিসন চুপ করে শুনে গেলেন। বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বললেন, ‘ম্যাডাম, আপনি ভুল করছেন। আসলে সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন ঈশ্বর। আমি যেটা আবিষ্কার করেছি সেটি ইচ্ছেমতো থামানো যায়।’


নীলস বোর

পরমানু মডেলের জনক নীলস বোর এমনিতেই ছিলেন খুব শান্ত শিষ্ট মানুষ । এটা তার ছেলে বেলার ঘটনা।স্কুলে ফাইনাল পরীক্ষা চলছে । তার মা তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। ছেলেটা পরীক্ষা কেমন দিচ্ছে তা কোন দিনই বলেনা। তাই পরীক্ষা থেকে ফিরে এলে মা প্রতিবারই প্রশ্ন করে “কেমন পরীক্ষা দিয়েছ নীলস বোর”। নীলস বোরের বিরক্তমুখে একই কথা “ভালই”। আর কিছুই সে বলত না। তো একদিন যথারীতি পরীক্ষা শেষে মা জিজ্ঞেস করলেন, পরীক্ষা কেমন হয়েছে? নীলস বোর সাথে সাথে তার পরীক্ষার খাতা বের করে বলল, প্রতিদিনই তুমি একই কথা জিজ্ঞেস করো,তাই আজ খাতা নিয়ে আসলাম, এবার দেখ আমি কেমন পরীক্ষা দেই !



  • গল্প গুলি গুগল থেকে সংগ্রহীত।ভালো লাগলে শেয়ার করুন আরও পার্ট আসছে।


No comments

Powered by Blogger.