রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন





          তখন     কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি,
             সকল খেলায়...
            সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি --
আহা,
            কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি,
             নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে...
            বাঁধবে নতুন বাহু-ডোরে,
             আসব যাব চিরদিনের সেই আমি...

        তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
              তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে.....


আজ ২২ শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবি, সাহিত্যিক, চিত্রকার, সুরকার, গীতিকার, দার্শনিক বহু গুনে গুনান্বিত কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে আখ্যায়িত করা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী কবি হিসেবে। বাংলা সাহিত্য ও কাব্যগীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরুস্কার অর্জন করেন ‘গীতাঞ্জলি' (কবিতা গুচ্ছ) রচনা করে। সমগ্র এশিয়ায় তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নোবেল প্রাইজ অর্জন করার গৌরব অর্জন করেন।

রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে লিখেছেন । তাতে ধরা পড়ে শ্রাবণ-বর্ষণের বহুমাত্রিক রূপ। তবে শ্রাবণের দিকেই কবির নজর ছিল বেশি। 'আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে' শ্রাবণ-বর্ষণে তিনি যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক।

তারপর একদিন এই শ্রাবণেই তিনি চলে গেছেন সবাইকে কাঁদিয়ে। অবশ্য কবিগুরু তাঁর কর্মে আমাদের মধ্যে বর্তমান আছেন, থাকবেন চিরদিন। তাঁর ভাষায়, 'জীবনে মৃত্যু করিয়া বহন প্রাণ পাই যেন মরণে।' এবং ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে/ জীবন হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই।’

তিনিই একমাত্র কবি, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। তাঁর সাহিত্যের আবেদন বিশ্বজনীন। তাঁর গান বাঙালির নিত্যদিনের জীবনচর্চায় মিশে আছে গভীরভাবে।

তোমার কাছে খাটে না মোর কবির গর্ব করা,
মহাকবি তোমার পায়ে দিতে যে চাই ধরা।
জীবন লয়ে যতন করি যদি সরল বাঁশি গড়ি,
আপন সুরে দিবে ভরি সকল ছিদ্র তার।

কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি...

লিখেছেন প্রতিমা দে।

No comments

Powered by Blogger.