বিখ্যাতদের মজার গল্প ( পার্ট ৩)



প্যারীচাঁদ মিত্র

এলাকার অন্যতম ধনী দেব নারায়ন দে’র বাড়িতে একটা বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। লেখা হচ্ছিল দেনাপাওনা ও খরচাপাতির ফর্দ। সেখানে উপস্তিত ছিলেন রসিক লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র। খরচের ফর্দ দেখে প্যারীচাঁদ মিত্র বললেন-’ একি মিস্টান্নের জন্য এতো কম টাকা? ব্রাম্মনকেও তো তেমন দেয়া হচ্ছেনা। এসব খরচ কিছু বাড়িয়ে দিন।’
দেবনারায়ন বললেন-’ প্যারীচাঁদ বাবু,আপনি শুধু খরচ বাড়াতে বলছেন। টাকাটা কে দেবে শুনি?’ প্যারীচাঁদ মিত্রের তড়িৎ জবাব-’কেন, আপনি দেবেন। আপনার নামের আগে দে, নামের পরেও দে। দিতে আপনাকে হবেই।

বঙ্কিম চন্দ্র

লেখক বঙ্কিম চন্দ্র এবং দীনবন্ধু মিত্র দুজনে ছিলেন ভালো বন্ধু ছিলেন। দীনবন্ধু ডাক বিভাগে কাজ করতেন। আর সে সুবাদে তাকে প্রায়ই ঘুরে বেড়াতে হতো বিভিন্ন অঞ্চলে। একবার আসামে গিয়ে সেখান থেকে বঙ্কিম এর জন্য কাপড়ের একজোড়া জুতো কিনে এনেছিলেন। লোক মারফত সে উপহার বঙ্কিমের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে একটা চিরকুটে লিখে দিলেন-’জুতো কেমন হয়েছে জানিও।’ বঙ্কিম চিরকুটটি পড়ে হাসলেন। তারপর তার উত্তরে লিখে দিলেন -’ঠিক তোমার মুখের মতো!’

বিখ্যাতদের মজার উত্তর

বিখ্যাতরা প্রায়ই বিভিন্ন প্রশ্নের মজার উত্তর দিয়ে থাকেন। তাই শিরোনাম- বিখ্যাতদের মজার উত্তর। যেহেতু তারা বিখ্যাত।

১. সুপারম্যান খ্যাত অভিনেতা ক্রিস্টোফার রীভকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল -সুপারম্যান আর জেন্টেলম্যান এর মধ্যে পার্থক্য কি?
তিনি গম্ভীর মুখে উত্তর দিলেন- সহজ পার্থক্য। জেন্টেলম্যানরা আন্ডারঅয়্যার পরে প্যান্টের নিচে আর সুপারম্যান পরে ওপরে।

২. কিংবদন্তীমুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে প্লেনে উড়বার আগে সিট বেল্ট বাঁধার কথা মনে করিয়ে দিলেন বিমানবালা। আলী অহংকারী গলায় উত্তর দিলেন- সুপারম্যানের সিট বেল্ট বাধার প্রয়োজন হয়না।
কিন্তু সত্যিকার সুপারম্যানের প্লেনে চড়বারও দরকার হয় না-বিমানবালা চটপট উত্তর দেয়।

৩. স্বামী বিবেকানন্দের বাবা তার বৈঠকখানায় অনেকগুলি হুকো রাখতেন যেন এক জনের পান করা হুকো মুখে দিয়ে অন্যের জাত না যায়। একদিন বিবেকানন্দ সবগুলো হুকোয় একবার করে টান দিলেন।এ তুমি কি করলে -ক্ষেপে গিয়ে ওনার বাবা জানতে চাইলেন।
দেখলাম জাত যায় কিনা-বিবেকানন্দের উত্তর।

৪. একবার এক মহিলা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য কিছু পিঠা বানিয়ে নিয়ে যান। কেমন লাগল পিঠা জানতে চাইলে কবি গুরু উত্তর দেন- লৌহ কঠিন, প্রস্তর কঠিন, আর কঠিন ইষ্টক, তাহার অধিক কঠিন কন্যা তোমার হাতের পিষ্টক।




৬. বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর মেধার তুলনায় চেহারা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। একবার এক সুন্দরী অভিনেত্রী প্রস্তাব দেন-চলুন আমরা বিয়ে করে ফেলি। তাহলে আমাদের সন্তানের চেহারা হবে আমার মত সুন্দর আর মেধা হবে আপনার মত প্রখর।
কিন্তু যদি ঠিক এর উল্টোটা ঘটে তবে কি হবে-আইনস্টাইন নির্বিকার ভাবে উত্তর দেন।


৮. একবার এক ছাত্র মার্ক টোয়েনের কাছে এসে বলল-আমি ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের উপকার করতে চাই।
মার্ক টোয়েন উত্তর দিলেন-তুমি ডাক্তারী পড়া ছেড়ে দিয়ে এমনিতেই মানবজাতির অনেক উপকার করেছ। আর উপকার না করলেও চলবে।

৯. মার্ক টোয়েন একবার উনার এক সাংবাদিক বন্ধুকে বললেন বছর দশেক লেখালেখি করার পর বুঝতে পারলাম এ ব্যাপারে আমার কোনও প্রতিভা নেই।
তাহলে এটা বুঝবার পরও তুমি কেন লেখালেখি চালিযে যাচ্ছ ? -বন্ধু জানতে চায়।
মার্ক টোয়েন উত্তর দেন-কি করব, ততদিনে আমি রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গেছি যে।

১০. সমাধীস্থলের চারদিকেল দেয়ালের জন্য মার্ক টোয়েনের কাছে চাঁদা চাইতে গেলে তিনি উত্তর দেন-সমাধীস্থলের চারদিকে দেয়াল দেয়ার কোন প্রয়োজন দেখি না। কারণ যারা ওখানে থাকে তাদের বাইরে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নেই। আর যারা বাইরে থাকেন তাদের ওখানে যাবার কোন ইচ্ছে আছে বলে আমার মনে হয় না।

টমাস আলভা এডিসন

টমাস আলভা এডিসন যখন টাংস্টেন তারের পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বটি আবিষ্কার করেন তখন তার ল্যাবে ভীষণ ভীড়-ভাট্টা,সাংবাদিক,বন্ধুবান্ধবে গিজগিজ করছে ।বাল্বটি যখন প্রথমবারের মত জ্বলে উঠলো তখন সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো ।এবার এডিসন সাবধানে বাল্বটি খুলে তার চাকরের হাতে দিয়ে বললেন, “সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসো।” সাবধানে বলার কারণেই কিনা এডিসনের বেকুব চাকর পৃথিবীর প্রথম বাল্বটি তৎক্ষণাৎ হাত থেকে ফেলে ভেঙে চুরমার করে দিলো।আশেপাশের সবাই হায় হায় করে উঠলো ।ভয় পেল চাকরটি,শুধু এডিসন কিছু বললেন না।এর কিছুদিন পর দ্বিতীয়বারের মতো এডিসন বাল্বটি তৈরী করলেন ।বলা যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক বাল্ব।এবারও তার ল্যাবে ভীড় আগের মতোই।এবারও বাল্বটি জ্বলে উঠলো সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো এবং এবারও এডিসন বাল্বটি সাবধানে পাশের ঘরে রেখে আসার জন্য তার চাকরকে ডাকলেন ।সবাই আঁৎকে উঠলো, “কি করছেন,কি করছেন,ঐ গাধাটা আবার বাল্বটা ভাঙবে,আপনি নিজ হাতে রেখে আসুন,নইলে আমাদের কারো হাতে দিন।এডিসন স্মিত হেসে বললেন-“ও যদি এবারও বাল্বটা ভাঙে সেটা আমি আবার তৈরী করতে পারবো কারণ এর ম্যাকানিজমটা আমার মাথায় আছে;কিন্তু প্রথম বাল্বটি ভাঙ্গার পর আমার চাকরের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যে চুরমার হয়েছে সেটা জোড়া লাগাতে বাল্বটা এবারও তার হাতেই দিতে হবে”।চাকরটি অবশ্য বাল্বটি না ভেঙ্গে ঠিক জায়গায় রেখে আসতে পেরেছিলো।

দার্শনিক ডায়োজেনিস

দার্শনিক ডায়োজেনিসের আমলে যিনি রাজা ছিলেন, তাঁর নাম ডেনিস। রাজাকে তোষামোদ করতেন না বলে ডায়োজেনিসের জীবন ছিল অত্যন্ত ভোগবিলাসহীন। জীবনযাপন করতেন একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু তাঁর সমসাময়িক অ্যারিস্টিপাস নামের আরেক দার্শনিক রাজাকে তোষামোদ করতেন বলে মালিক হয়েছিলেন প্রচুর বিত্তবৈভবের। একদিন খাওয়ার সময় ডায়োজেনিসকে শুধু শাক দিয়ে রুটি খেতে দেখে অ্যারিস্টিপাস ব্যঙ্গ করে বললেন, ‘আপনি যদি রাজাকে তোষামোদ করে চলতেন, তাহলে আজ আর আপনাকে শুধু শাক দিয়ে রুটি খেতে হতো না।’
জবাবে ডায়োজেনিস হেসে বললেন, ‘আর আপনি যদি শাক দিয়ে রুটি খাওয়া শিখতেন, তাহলে আজ আর আপনার রাজাকে তোষামোদ করে চলতে হতো না।’

উড্রো উইলসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বাছ বিচারহীন সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানকে নিরুৎসাহিত করতেন। তিনি এ প্রসঙ্গে একটি গল্প শোনাতেন। গল্পটি এ রকম—একদিন এক নৈশভোজে অতিসাধারণ এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হলো আমার, যিনি তিন তিনটে সম্মানসূচক ডিগ্রির অধিকারী। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে আমার এক বন্ধু জানাল, তাঁকে তৃতীয় ডিগ্রিটি দেওয়া হয়েছিল কারণ তাঁর দুটো ডিগ্রি আছে। দ্বিতীয়টি দেওয়া হয়েছিল, কারণ ইতিমধ্যেই তাঁর একটা ডিগ্রি আছে। আর প্রথমটা দেওয়া হয়েছিল তাঁর একটাও ডিগ্রি ছিল না বলে !


বিটোফেন

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রখ্যাত এক মেডিসিনের প্রফেসর একবার ক্লাস নেওয়ার সময় মেডিকেল ছাত্রদের জিজ্ঞাসা করলেনঃ
“ধরো বাবা ভুগছেন সিফিলিস রোগে,মা যক্ষা রোগে,এ পর্যন্ত তাদের চারটি ছেলেমেয়ে হয়েছে।প্রথমটি অন্ধ,দ্বিতীয়টি মৃত,তৃতীয়টি কানে শোনে না এবং চতুর্থটি যক্ষা রুগী।মা আবার সন্তানসম্ভবা,সেই মুহুর্তে ঐ দম্পতি তোমাদের কাছে আসলো পরামর্শের জন্য,তোমরা তাদের কি পরামর্শ দেবে?”এবার ছাত্ররা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে আলোচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত প্রফেসর কে জানালো।প্রতিটি গ্রুপই বললো,মহিলার অবশ্যই গর্ভপাত করানো উচিত।সেটা মায়ের জন্য ভালো হবে।তখন প্রফেসর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,“অভিনন্দন তোমাদের,তোমরা এইমাত্র সুরসম্রাট বিটোফেনের জীবনটা নিয়ে নিলে!”

বোঝার ভুল

ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের কোন এক সময় কবি সুকুমার রঞ্জন আর মুজাফফর আহমদ বসে গল্প করছিলেন আর কাছেই বসে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে কবিতা লিখছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।কিছু সময়ের মধ্যেই লেখা হয়ে যায় তাঁর বিখ্যাত “ভাঙার গান” কবিতাটি।সুকুমার রঞ্জন আর মুজাফফর আহমদ দু’জনেই কবিতাটির অসম্ভব প্রশংসা করলেন।কিন্তু সমস্যা বাঁধলো গাইতে গিয়ে।জেলখানায় গানটি গাওয়ার সময় বন্দীরা ভীষণ ক্ষেপে গিয়েছিলো।কারণ গানটির একটি লাইন ‘যতসব বন্দীশালায় আগুন জ্বালা’ বলায় বন্দীরা ভেবেছিলো তাদের শালা বলে গাল দেয়া হয়েছে।অবশ্য পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ভুল ভাঙানো হয়।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গেছেন ময়মনসিংহে তাঁর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে।গ্রামের এক মুরব্বি দেখা করতে এসে জয়নুলকে বললেন, “কিরে তুই নাকি বড় শিল্পী হইছস?দে তো আমার ছাতিটায় নাম লেইখ্যা?”জয়নুল আবেদীন খুব যত্ন করে এবং সময় নিয়ে ছাতায় নাম লিখে দিলেন।প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল গ্রামময়।ব্যস,আর যায় কোথায়,গ্রামের প্রায় সবাই যার যার ছাতা নিয়ে হাজির।আর শিল্পাচার্য কি করবেন,অসীম ধৈর্যের সাথে প্রায় সবার ছাতাতেই নাম লিখে দিয়েছিলেন সেবার।

জর্জ বার্নাড শ

জর্জ বার্নাড শ প্রায় সত্তর বছর পর্যন্ত মাথা ব্যাথায় ভুগেছিলেন।এ ব্যাপারে শ’ উত্তর মেরুর আবিষ্কারক নানসেন কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন:আচ্ছা আপনি মাথা ধরার কোন ঔষধ আবিষ্কার করেছেন কি?
নানসেন তো অবাক।তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, “না তো!” শ’ তখন বললেন, “কি আশ্চার্য্য!উত্তর মেরু আবিষ্কারের জন্য সারাজীবন কাটালেন!অথচ পৃথিবীর কাছে তার মূল্য দু পয়সাও নয়।আপনি মাথা ধরার কোন ঔষধ আবিষ্কারের চেষ্টাও করেননি;অথচ পৃথিবীর সমগ্র মানুষ এই মহৌষধের জন্য কেঁদে কেটে আকুল”।

শরৎ চন্দ্র

ছেলেবেলায় শরৎচন্দ্র একবার তাঁর চার বন্ধুর সঙ্গে বাঘ দেখতে রথের মেলায় গিয়েছিলেন।মেলার একটা ফাঁকা জায়গা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা এক পাশে একটা ছোট গেট।গেটের সামনে টুলের উপর বসে একটা লোক চিৎকার করে ডাকছে,এক পয়সায় বাঘ দেখে যান বাবু,দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
বাঘ দেখার জন্য সবাই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে।বেশ বড় লাইন।এক পয়সা দিয়ে একজন করে ভিতরে ঢুকছে,সে দেখে ফিরে এসে আরেকজনকে ঢুকতে দিচ্ছে।শরৎচন্দ্র বন্ধুদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন।গেটে পয়সা দিয়ে ঢুকবার সময় যে লোকটা বাঘ দেখে বেরিয়ে আসছিল তাকে বললেন,কী মশায় বাঘ কেমন দেখলেন?
লোকটা কিছু বলল না,চুপ করে সরে পড়ল।মনে মনে বললেন,না বলুক,এখনই তো দেখব।ভিতরে ঢুকে গেলেন তিনি।ঢুকে তো অবাক।বাঘের নাম গন্ধও নেই।চারদিকে ফাঁকা,এক জায়গায় শুধু একটা লোক হাঁড়ির ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে মাঝে মাঝে বাঘের গর্জন করছে।লোকটার পাশে ছোট্ট একটা তারের খাঁচার মধ্যে হাতে তৈরী একটা বিড়াল,গায়ে ডোরাকাটা দাগ।শরৎচন্দ্র ক্ষেপে গিয়ে যখন দু’কথা শুনিয়ে দিবেন ভাবছেন তখনই লোকটা হাঁড়ি থেকে উঠে মাথা বের করে এল।এসেই শরৎচন্দ্রের পা জড়িয়ে ধরে কাদতে কাঁদতে বলল,বাবু দয়া করে কিছু বলবেন না।বাড়িতে পনের ষোল জন ছেলে-মেয়ে।দু’ভাইয়ে এই করে আধপেটা খেয়ে বেঁচে আছি।ধরিয়ে দিলে না খেয়ে মারা যাবো শরৎচন্দ্র বেরিয়ে এলেন।বাইরের অপেক্ষমাণ লোকজন জিজ্ঞেস করলো,কী মশায় কেমন দেখলেন?শরৎচন্দ্র চুপ করে সরে পড়লেন।

জর্জ বার্নাড শ

জর্জ বার্নার্ড শ’র বাড়িতে বেড়াতে এসে এক মহিলা অবাক হয়েবললেন, ‘মিস্টার শ, আপনার ঘরে দেখছি একটাও ফুলদানি নেই। আমি ভেবেছিলাম, আপনি এত বড় একজন লেখক; আপনি নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসেন। তাই আপনার বাসার ফুলদানিতে বাগানের তাজা, সুন্দর ফুল শোভা পাবে।’
প্রত্যুত্তরে শ সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, ‘ম্যাডাম, আমি বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকেও ভালোবাসি। তার অর্থ এই নয় যে, আমি তাদের মাথা কেটে নিয় এসে ঘরে সাজিয়ে রাখব।

হুইসলার

চিত্রশিল্পী হুইসলারের খুবই আদরের একটা পোষা কুকুর ছিল। একবার সে কুকুরের গলায় ঘা দেখা দেয়ায় হুইসলার সে সময়কার নামকরা গলার ডাক্তার ম্যাকেঞ্জিকে ডেকে আনলেন। ম্যাকেঞ্জি কুকুরের চিকিৎসা করতে হবে দেখে মনে মনে রেগে গেলেন। কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। যথারীতি কয়েকটা ঔষধ লিখে দিয়ে ম্যাকেঞ্জি বিদায় নিলেন। পরেরদিন ম্যাকেঞ্জি হুইসলারকে তাঁর চেম্বারে ডেকে পাঠালেন। হুইসলার ভাবলেন হয়তো তাঁর কুকুরের ব্যপারে ম্যাকেঞ্জি কথা বলার জন্য ডেকেছেন। হুইসলার ফুরফুরে মেজাজেই ম্যাকেঞ্জির চেম্বারে গেলেন। ম্যাকেঞ্জি হুইসলারের কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর বললেন-'আমার ঘরের সদর দরজার রঙটা একটু চটে গেছে। ওটা একটু রং করতে হবে। আর সেজন্যেই আপনাকে ডেকেছি!'

No comments

Powered by Blogger.