একটি ভূতুড়ে গল্প " রাত নামলেই "






  • ' গল্পপড়ুয়া ' অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন : http://bit.ly/2uC9GWu
  • আপনার প্রিয় বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সমস্ত গল্প-কবিতা পড়ুন ছোট্ট 'সাহিত্য মেলা' অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে।অ্যাপটির  ডাউনলোড  লিঙ্ক: http://bit.ly/2f9jDX

  • রোজ গল্পপড়ুয়াতে মজার তথ্য পড়তে ক্লিক করুন

    ভূতুড়ে গল্প

    -"হাই!"
    চমকে উঠে পাশে তাকাল উস্মিল।কই কেউ নেই তো!  রাতে খাওয়ার পর থেকে একাই বেডরুমে শুয়ে আছে। অবশ্য সন্ধ্যে একজন বন্ধু এসেছিল।কিন্তু সে তো অনেক আগেই চলে গেছে। তবে 'হাই' বলল কে! কথাটা তার কানের কাছেই কেউ যেন বলল।পরিষ্কার শুনতে পেল একটা ছেলের গলা।
    ঘড়িতে রাত সাড়ে বারোটা বাজে।দোতলার এই ছোট্টো ঘরটিতে এই মুহর্তে পুরোপুরি অন্ধকার। বাইরেটাও একই অবস্থা।নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো পাড়াটা।নিস্তব্দ,শুনসান।অন্যদিন তবুও ঝিঁঝি পোকা,রাস্তার কিছু মেঠো কুকুরের ডাক শোনা যায়।কিন্তু আজ তারা গেল কোথায়? একটু আগেই বিদ্যুতের আলোটা দপ করে চলে যাওয়ায় আরও অন্ধকার লাগছে। সাধরনত, বিদ্যুতের আলো হঠাৎ করে এরকম যায় না। কোথাও হয়তো ট্রান্সফরমার বিগড়েছে।আজ রাতে আর আলো আসার সম্ভবনা নেই।মনে মনে ভাবে উস্মিল।

    অন্যদিন বারোটা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়ে সে।এটা তার প্রতিদিনের অভ্যাস।অসুস্থ হবার পর ডক্তার বলে দিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময়ে ঘুমোতে যেতে।কিন্তু সব সময় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। একটা হসপিটলের জুনিয়র ডাক্তার উস্মিল।তাই অনেক সময় রাতের বেলাতেও ডিউটি করতে হয়। তখন শুধু ঘুমের অনিয়ম হয়।কিন্তু যেদিন রাতে ডিউটি থাকে না, সেদিন নিয়মমাফিক বারোটা বাজলেই আলোটা অফ করে,চোখ বন্ধ করে।কিন্তু আজ সেটা বাধ সাধলো,কারেন্ট চলে গিয়ে।উপরে পাখা না ঘুরলে তার ঘুম আসে না। তাই এখনো সে জেগে আছে।বালিশে মাথা রেখে ট্যাবে ইন্টারনেট টা খুলেছিল উস্মিল।ঘরের ভেতর আলো বলতে শুধু এটাই।তার নতুন কেনা সাত ইঞ্চির ট্যাবের স্ক্রিনের হালকা আলো এসে পড়ছিল নিজের মুখের উপর ।ইন্টারনেটে একটা চিকিৎসা বিষয়ক পত্রিকা দেখছে সে।আর ঠিক সেই সময় ডাক টা শুনতে পেল।
    ট্যাবের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে অন্ধকারে একবার ঘরের চারিদিকে চাইলো।যেন কালো রঙে মুড়ে আছে ঘরের ভেতর টা।টেবিলের উপর ইমার্জেন্সী লাইট রাখা আছে।কিন্তু এই মুহুর্তে আর খাট থেকে মশারির বাইরে বের হয়ে সেটা জ্বালাতে আর ইচ্ছে করলো না উস্মিলের। আবার চোখ রাখলো ফোনের স্ক্রিনে।

    -"আজ ঘুমাবেন না?"
    -"কে?" মুখ দিয়ে নিজের অজান্তেই শব্দ টা বেরিয়ে এল উস্মিলের।না,এত তো মনের ভ্রম নয়।পরিষ্কার একটা ছেলের গলার আওয়াজ। এবং আওয়াজ তার এত কাছ থেকে এল যে, মনে হল ছেলেটি তার পাশে একই মশারির ভেতর শুয়ে আছে।তাড়াহুড়ো করে উঠে, খাট থেকে নেমে টেবিলের উপর রাখা ইমার্জেন্সী আলোটা জ্বাললো উস্মিল।ঘরের চারিপাশে ঘোরালো। না,কোথাও কেউ নেই।উজ্বল,সাদা আলোতে এই ছোট্টো ঘরের প্রতিটা জায়গা স্পর্ষ্ট পাওয়া যাচ্ছে।আলোটা নিয়ে খাটের নীচে একবার চোখ রাখলো উস্মিল।ঠিক তখনি আবার গলার আওয়াজ পেল।-"আমাকে দেখতে পাবেন না আপনি।"
    চমকে উঠে খাটের নীচ থেকে চোখ উপরে তুলল উস্মিল।না,আর কোনো মনের ভুল নয়।কেউ আছে এই ঘরের মধ্যে।উস্মিল এমনিতেই খুব একটা ভীতু মেয়ে নয়।কিন্তু এরকম অবস্থায় সবাই ভয় পায়।তাই একটা ঠান্ডা ভয় এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।তবুও সাহসে ভর করে দৃঢ় গলায় সেই অদৃশ্য আওয়াজ কে উদ্দেশ্য করে বলল,-"কে আপনি? সাহস থাকলে সামনে এসে কথা বলুন।"
    -"আমাকে আপনি আগে দেখেছেন।"
    চমকে উঠে ভয়ার্ত গলায় উস্মিল বলল,-"কি! কে আপনি! "
    আর কোনো কথা এল না।টেবিলের পাশে প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা।তার উপর গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল উস্মিল। মনের ভুল নয়তো? বেশ কয়েকদিন কাজের প্রেসার বেড়েছে।তাই হয়তো উলটো পালটা আওয়াজ কানে শুনছে। কিন্তু মানুষের একবার ভুল হতে পারে।চার চার বার তো আর কান মিথ্যে শুনবে না।তাহলে কি এতদিনের সন্দেহটাই ঠিক?কোনো এক অদৃশ্য কেউ এই ঘরে,তার চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু শহরে এত মেয়ে থাকতে তার পাশে আসতে যাবে কেন?


    (১)

    তিন দিন আগের কথা।হসপিটলের পরীক্ষাগার থেকে বেরিয়ে মাথাটা ধরেছিল উস্মিলের। জুনিয়র ডাক্তার হওয়ায় তার উপর এমনিতেই একটু চাপ পড়ে বেশি।সিনিয়র ডাক্তার রা তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় বেশি। তাছাড়া অনেক কিছু শেখার, জানারও আছে।হাতের কজ্বি টা ঘুরিয়ে চোখের সামনে এনে দেখলো ঘড়িতে সাতটা বাজে।তার ডিউটি আট টা পর্যন্ত।কিন্তু এইরকম ঝিম ধরা মাথায় আর হসপিটলের ভেতর থাকতে মন চাইলো না।এক পরিচিত সিনিয়র ডাক্তার কে বলল,-"স্যার,আমার মাথাটা ধরেছে।আজ একটু আগে ছেড়ে দিন।"
    ডাক্তার বলল,-"আচ্ছা,চলে যাও।আর শরীরের যত্ন নাও।"
    ট্যাক্সি ধরে ঘরে ফিরতে রাত আটটা বেজে গেল উস্মিলের।সিঁড়ি দিয়ে উপরের বারান্দায় উঠতেই থমকে গেল সে।বাড়িটির দোতলায় একটাই শোবার ঘর।তার পাশে কিচেন আর বাথরুম অ্যাটাচমেন্ট।সে একাই এই দোতলায় ভাড়া থাকে।বাড়ির মালিক নীচের তলায়।মাঝে মাঝে চেয়ারটা বাইরে বারান্দায় এনে বসেথাকে উস্মিল।সকাল বেলা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।আর যেদিন সকালে ডিউটি থাকে,সেদিন সন্ধ্যায় আলো-আঁধারিতে বসে তারাদের ঝিকিমিকি দেখে।আজ সকালে হয়তো,চেয়ার টা ঘরে ঢোকাতে ভুলে গিয়েছিল। তাই সেটা বাইরে রয়ে গেছে।কিন্তু এ কি দেখছে সে! বাইরের রাস্তার ভ্যাপারের ঝিমোনে আলো এসে পড়ছে বারান্দায়।সেই অল্প আলোয়, উস্মিল দেখতে পেল চেয়ারটিতে যেন কে বসে আছে।কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে সে।অস্পর্ষ্ট একটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছে। চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছে সেই অস্পর্ষ্ট মানুষ টি।
    -"কে?" উস্মিল হাঁকলো।
    কোনো সাড়া নেই।ছায়ামুর্তি টা ঠিক একই ভাবে পা নাড়াতে লাগলো। তার তেমন কোনো বন্ধুও তো নেই যে, সে ঘরে না থাকলে এইভাবে উপরে এসে বসে থাকবে! আর কেউ এলেও তো নীচে বাড়ির মালিক তাকে জানাতো!....হয়তো নীচে কাউকে পায়নি।তাই উপরে এসে বসে আছে। হাবিজাবি কিছু ভাবলো উস্মিল।
    তারপর সিঁড়ির কাছে আলোর সুইচ টা অন করলো।ওমা! না,কেউ তো বসে নেই চেয়ারে। কয়েকপা হেঁটে এগিয়ে গেল চেয়ার টা কাছে। ফাঁকা চেয়ার।তবে চোখে কি ভুল দেখলো? হতেও পারে।সন্ধ্যা থেকে মাথাটা ধরেছে, তাই হয়তো ভুলভাল দেখছে।ব্যাগ থেকে চাবিটা খুলে দরজার তালা খুলল উস্মিল।ভেতরে ঢুকে বাঁদিকের দেওয়ালের সুইচ বোর্ডের সুইচ গুলো অন করে দিল।আলো জ্বলে উঠলো ঘরের ভেতর। বাইরে থেকে চেয়ার এনে টেবিলের পাশে রাখলো।তারপর ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে খাটের উপর গড়িয়ে পড়ল সে।
    মাথাটা দপ দপ করছে।


    (২)

    পনেরো মিনিট পর খাট থেকে নেমে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলো উস্মিল। জলের ট্যাব ছেড়ে স্নান টা সেরে নিল।আগের থেকে অনেকটা ভালো লাগছে এবার।ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথার চুলের জল ঝাড়তে ঝাড়তে দরজার কাছে এসে থমকে গেল উস্মিল।
    কি অদ্ভুত!
    কারেন্ট চলে গেল নাকি?না,বারান্দার আলো তো জ্বলছে।তবে ঘরের লাইট অফ হল কিভাবে? টিউব লাইট টা কি অসময়ে বিগড়ে গেল আবার এই রাতে! বিরক্ত হয়ে দেওয়ালের সুইচে হাত দিতেই উস্মিল দেখলো,সুইচ অফ করা আছে।কে অফ করলো?সে তো এতটা কৃপন নয় যে, কারেন্টের বিল বাঁচালে ঘরের লাইট অফ করে রেখে,স্নান করতে যাবে। সুইচ টা অন করতেই বুকের ভেতর টা স্যাৎ করে উঠলো উস্মিলের।মনে হল,টেবিলের পাশে রাখা চেয়ার থেকে থেকে কেউ উঠে ঘরের ভেতর মিলিয়ে গেল।
    কি হচ্ছে আজ এসব?চোখে এত ভুল দেখছে সে!নিজের হাত দিয়েই মাথায় একটা ধাক্কা মারলো উস্মিল।তারপর টাওয়েলটা এক পাশে রেখে আয়নার সামনে বসলো সাজগোজ করতে।
    রাত তখন একটা কি দু'টো হবে,হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল উস্মিলের। ঘরের ভেতর কালো রঙে মুড়ে আছে।মাথার উপর ফ্যানটা ঘুরছে না।ফ্যান বন্ধ করলো কে আবার? উঠে বসলো উস্মিল। অন্ধকারে দেওয়ালের সুইচ বোর্ডের দিকে তাকালো সে।ইন্ডিকেটরের লাল আলোটা জ্বলছে না। তার মানে কারেন্ট চলে গেছে। হঠাৎই একটা গন্ধ এল তার নাকে।অনেকটা সিগারেটের গন্ধের মতো।ভাল করে নিশ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে দেখলো উস্মিল।না,সত্যিই সিগারেটের গন্ধ।বাড়ির মালিক সিগারেট খায়, উস্মিল সেটা জানে।কিন্তু সেই গন্ধতো,নীচ থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এ ঘরে এসে কোনোদিন ঢোকে না।আর এত রাতেই বা তিনি সিগারেট খাবেন কেন!
    সন্ধ্যা থেকে যে কি সব ঘটে চলেছে!এতক্ষন না হয়,চোখের দোষ ছিল কিন্তু এখন কি আবার নাকের দোষ হল?উস্মিলের মনে হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
    পাঁচ মিনিট যেই একটু পাশ ফিরে শুতে যাবে, ঠিক তখনি আওয়াজ টা শুনলো।না,আর কানের ভুল নয়। পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছে সে, বাইরে বারান্দায় কেউ যেন হাঁটছে। এবার যেন একটু একটু ভয় করতে লাগলো উস্মিলের। বুকের ভেতর টা টিপ টিপ আওয়াজ করছে। তবুও একটা সাহস এনে,খাট থেকে নেমে টেবিলের উপর রাখা ইমার্জেন্সী লাইট টা জ্বালালো উস্মিল।তারপর আস্তে আস্তে কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুললো সে।খট করে একটা আওয়াজ হল।আলোটা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে কিছুই দেখতে পেল না।ইমার্জেন্সী লাইটের আলোয় সমস্ত বারান্দাটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।না,কিছুই নেই। মনে মনে খুব বিরক্ত লাগলো উস্মিলের।ঘরে ঢুকে লাইট টা অফ করে দিয়ে আবার শুয়ে পড়লো।

    (৩)

    সেই থেকে তিনদিন ধরে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে রাত কাটাচ্ছে উস্মিল।রাত নামলেই মনে হচ্ছে যেন এক অদৃশ্য কোনো মানুষ তার সাথে ছায়ার মতো লেগে আছে।তার পিছন পিছন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
    আর আজ সেই সন্দেহ টা একদম সঠিক প্রমানিত হল।কেউ আছে তার ঘরের ভেতর। অদৃশ্য মানুষটি কথা বলছে শুনে উস্মিল একটু সাহস পেল।চেয়ারে বসে আবার হাঁকলো,-"কে আপনি?"
    কোনো উত্তর নেই।দশ মিনিট কেটে গেল।তবুও উত্তর এল না।কারেন্ট এখনো আসেনি।চেয়ার ছেড়ে উঠে ইমার্জেন্সী লাইট টা নিয়ে দরজা দিয়ে বারান্দায় বেরোলো উস্মিল। তারপর টয়লেটে ঢুকলো।ভয় যে করছে না,তা ঠিক নয়। একটা চাপা উত্তেজনা তো আছে।কিন্তু ভূতের এরকম শান্ত কথা বলা দেখে,ভয়ের পরিবেশ টা অনেক কমে গেছে।টয়লেট থেকে বেরিয়ে দরজার কাছে আসতেই উস্মিলের পা থমকে গেল। দরজায় কাপড়ের পর্দা টানানো। ঘরের ভেতর অন্ধকার ময়।পর্দা পেরিয়ে ইর্মাজেন্সীর মৃদু আলো ঢুকছে ঘরের ভেতর।পর্দার বাইরে দাঁড়িয়ে উস্মিল বুঝতে পারলো ভেতরে কেউ যেন কথা বলছে।অস্পর্ষ্ট আওয়াজ।সেই আওয়াজ টা কান্নার মতো শোনালো উস্মিলের কাছে।কান্না জড়ানো গলায় একটা কথা তার কানে এল।
    -"আমাকে কাটবেন না......খুব কষ্ট হয়।প্লীজ আমাকে কাটবেন না।"
    উস্মিলের বুকের ভেতর টা ছম ছম করে উঠল। হাত-পা গুলো থর থর করে কাঁপছে।গলার কাছে শুকনো হয়ে এসেছে।একটা ঢোক চাপলো উস্মিল। তারপর পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বিকট স্বরে চিৎকার করে উঠল সে। দুহাতে মুখ ঢাকা দিল।হাতের আলোয়,পরিষ্কার দেখতে পেল, একটা ছিন্ন-ভিন্ন মৃত শরীর তার খাটের উপর পড়ে আছে। সেই শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সব আলাদা করা।মৃত মানুষটির মুখের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল উস্মিল। মুখটা চেনা চেনা লাগছে তার।তিন দিন আগে এই লাশ টিই তো হসপিটলের মর্গ থেকে বের করে এনে পরীক্ষাগারে কেটে-কুটে অপারেশন করা শিখতে হয়েছিল তাকে।
    কখন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল উস্মিলের মনে নেই।সকাল বেলা বাড়ির মালিকের ডাকাডাকি তে ঘুম ভেঙে গেল তার।দেখল,ঘরের মেঝেতে পড়ে আসে সে।বাড়ির মালিক কারন জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলেনি।গরমের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছিল।তারপর দুপুর দু'টোর সময় হসপিটলে ডিউটি তে গিয়ে সিনিয়র ডাক্তারদের ঘটনাটি বলে লাশ টি কে চুল্লী তে পাঠানোর ব্যবস্থা করলো উস্মিল।

    স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

    No comments

    Powered by Blogger.