Golpo Collection : দুটি ভালোবাসার গল্প 'হিংসে' ও 'কফি উইথ লাভ '

Golpo Collection : দুটি  ভালোবাসার গল্প 'হিংসে' ও 'কফি উইথ লাভ '



Golpo আমাদের কে আনন্দ দেয়, আমাদের জীবনের প্রতিদিনের দু:খ, যন্ত্রনা কে দূরে সরিয়ে একটু হাসি ফুটিয়ে তোলে। আবার, Golpo আমাদের কে, ভাবতে শেখায়, নীতিকথা শেখায়। আমরা অবসর সময়ে একটু সময় পেলেই Golpo বই নিয়ে বসে পড়ি। আমরা সবাই ভালবাসি Bangla Golpo পড়তে। তাই Golpo Poruya আপনারদের জন্যে নিয়ে এল, এক গুচ্ছ Bangla Golpo এর ডালি।

We know, there are so many readers, are searching for Interner for Golpo. But, they can not find the right place for Bangla Golpo Collection. এখানে আপনি প্রতিদিন নিত্যনতুন Golpo, Bangla Golpo, Premer Golpo, Valobasar Golpo, Bangla Kobita,  সবকিছু পেয়ে যাবেন।

Golpo

New Golpo is posted below here. You can get here all types of Golpo, also you can request to,  post your famous writer Golpo. Bangla Golpo collection,  you can read the various types of Golpo here. Today We are sharing with you, tow love Golpo and you can also read many Golpo from listed below.

Golpo - বাংলা ভালোবাসার গল্প



গল্পের নাম:  হিংসে

লিখেছেন : স্বদেশ কুমার গায়েন।

ফেসবুক পেজে আপডেট পান - ক্লিক করুন।


আমার পড়শি রা আমাকে হিংসে করে।

কারন টা বড়ই অদ্ভুত। এমন ও নয় যে, আমার বিরাট বড় বাংলো আছে অথবা, আমার বাড়ি বিদেশী মার্বেল পাথরের তৈরী। বাড়িতে এসি নেই, ব্রান্ডেড জামা প্যান্ট পরি না বা, আমি প্রতিদিন  অডি গাড়ি করে বাড়ি থেকে বের হই না। তবে আমার একটা সাইকেল আছে। যেটি করে মাঝে মাঝে সকালে বাজার করতে যাই, এবং কোনো দিন ইচ্ছে হলে পড়ন্ত বিকেল বেলায় একটু সাইকেল ভ্রমন করে আসি। আর ঘরে থাকলে একা একা বেসুরো গলায় গান গাই। আনন্দে দু:খের গান করি, আবার দু:খে আনন্দের। কখনো আবার সব তালগোল পাকিয়ে যায়। আমার গানের গলা অরিজিৎ সিং এর মত নয়, যে আমাকে সবাই হিংসে করবে!  তাহলে কেন হিংসে করে?

এবার আসল ব্যাপার টা বলি। আমার পড়শি রা আমাকে হিংসে করে কারন, আমি এখনও বিয়ে করি নি। আমি একা একা যে ভালো আছি, খুশিতে আছি সেটা তারা সহ্য করতে পারে না।দু'পাশের বাড়িতে যখন, দাদা- বৌদির মধ্যে তুমুল ঝামেলা চলে, আমি তখন মনের আনন্দে গান করতে করতে রান্না করি। মাঝে মাঝে এটা ওটা ছুঁড়ে ফেলার শব্দ পাই। ঝামেলার আর শেষ নেই। বছরের পর বছর ধরেই তো দেখে আসছি। ছোটো খাটো বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া। তরকারি তে লবন কম হওয়া থেকে শুরু করে, পুজোয় ক'টা শাড়ি কেনা হবে , কোথাও ঘুরতে যাওয়া হবে.... সবেতেই ঝামেলা। আমার এক ছাত্র হীরু দের বাড়ি তে নতুন ফ্রীজ, ওয়াশিং মেসিন,  এসি আসতেই আবার নতুন ঝামেলা শুরু। আর এরকম তুমুল ঝগড়া যখন চলতে থাকে, তখন মনের আনন্দে,  নিজের কাজ করতে করতে আমি গান করতে থাকি।  - ' জনম জনম জনম সাথ চল না ইহুি........।' আর এই আমার এত খুশি তে থাকা, এটা আমার পড়শিরা হিংসে করে।


Golpo - Read More Various Bangla Golpo From Here.


আমার ডান পাশের বাড়ি টি অমিত দার। আর বাঁ পাশের টা বিজয় দার। পড়শি দের সাথে যে, আমার সম্পর্ক খারাপ তা কিন্তু নয়। এ'দুজনের সাথে আমার ভালোই সম্পর্ক। বাড়ির বিভিন্ন অনুষ্টানে আমাকে ডাকে তারা। আমারও দরকারে এগিয়ে আসে। কিন্তু তারা যে মনে মনে হিংসে করে সেটা বেশ বুঝতে পারি। তাদের কথা তেই বোঝা যায়। অমিত দা বলে, -' সমীরন, আর কত দিন একা একা থাকবি,  এবার বিয়ে টিয়ে কর।...  বিয়ে না করলে জীবন পূর্নতা পায় না। ' বিজয় দার ও একই কথা। -' আরে মনের কথা বলার জন্যে, একজনের দরকার হয়। আপদে - বিপদে সবসময় পাশে থাকবে। '  শুধু দাদা রা নয়, বৌদি রাও বলে, এবার বিয়ে কর ঠাকুরপো, শেষ বয়েসে গিয়ে মনে হবে, কেউ একজন থাকলে ভালো হত। কথা গুলো যে শুনতে খাপার লাগে তা নয়, কিন্তু এগুলো যে তাদের উপরের কথা সেটা বেশ বুঝি। কারন, যারা দিন রাত, ঝগড়া করে, তারা যখন এমন কথা বলে, তখন বুঝতে হবে কিছু তো ব্যাপার আছেই!

অমিত দার বিয়ে হয়েছে,  অনেক বছর হয়ে গেল। সরকারি অফিসের ক্লার্ক। একটি পাঁচ বছরের ছেলে আছে। আমাকে অ্যাঙ্কল অ্যাঙ্কল বলে ডাকে। বেশ মিষ্টি ছেলে।  আমার কাছে পড়তে আসে। মাঝে মাঝে চকলেট কিনে দিই। আর বিজয় দার বিয়ে হয়েছে এই বছর চারেক হল। বাবা - মা, আর বৌ কে নিয়ে সংসার। এখনও নতুন অতিথি কেউ আসে নি।
এবার আমার কথা একটু বলি। আমার নাম সমীরন নস্কর। গত মাসেই বয়েস ত্রিশ পার হল। বিয়ে - থা এখনও করিনি। আর করার ইচ্ছে ও নেই। একাই থাকি।কাজ বলতে, সকাল আর বিকেলে টিউসন পড়ানো। পাড়ার বাচ্চা গুলো কে পড়াই। আর একটা বড় ক্লাসের ব্যাচ আছে। মাসের শেষে যা পাই, তাদের আমার বেশ চলে যায়।এপাড়ায় অনেক দিন থেকে আছি।তা প্রায় বছর সাতেক হয়ে গেল। তাই সবাই পরিচিত। ও সবার সাথেই সুসম্পর্ক আছে। তবে আমার পড়শি দু'জনের সাথে একটু বেশিই কথা হয়।

একদিন রাতে লক্ষী পূজোর নিমন্ত্রন ছিল অমিত দার বাড়িতে। বেশ খাওয়ার আয়োজন।সে'দিন একদম জোর করে ধরে বসল। বিয়ে করতেই হবে। এ তো মহা মুসকিল মে পড় গয়া! মেয়ে দেখার দায়িত্ব তাদের। শুধু আমি একবার হ্যাঁ বললেই হয়। সেদিন মন টা কেমন যেন ফুরফুরে ছিল আমার। বিকেল বেলা একটা রোমান্টিক মুভি দেখছিলাম টিভি তে।তাই মনে একটা রোমান্টিক আবহাওয়া বিরাজমান ছিল।  বলেই ফেললাম, আচ্ছা ঠিক আছে মেয়ে দেখো তোমরা। বিয়ে করেই ফেলি তবে।

শেষ পর্যন্ত একটা শুভ দিন দেখে আমার বিয়েটা হয়েই গেল। আজকাল বিয়ের জন্যে মেয়ে পাওয়াই মুসকিল। তবুও কেউ একজন ভাগ্যে ছিল সেই এসে ঝুটে গেল। অমৃতার বাড়ি এই এলাকায়। এক ঘটকের সাথে বেশ পরিচয় ছিল অমিত দার। তারই সহয়তায় মেয়ের দেখা মিলল। অমৃতা কে খারাপ লাগল না আমার। সবসময় বেশ হাসি মুখে থাকে। পড়াশোনা জানা। বেশ বুদ্ধিমতি। বাচ্চা গুলো পড়ানোর দায়িত্ব নিল অমৃতা। আর আমি আরেকটা বড় ক্লাসের নতুন ব্যাচ করলাম।

অমৃতার রান্নাও করতে পারে বেশ ভালো। এতদিন নিজের হাতের রান্না খেয়ে খেয়ে কেমন যেন, একঘেয়ে হয়ে গিয়েছিল ব্যাপার টা। একটা নতুন স্বাদ পাওয়া গেল!  তবে রোজ রোজ অমৃতা কে রান্না করতে দিই না। মাঝে মাঝে আমিও করি। বেশীরভাগ দিনই আমি গান গাইতে গাইতে, সবজি গুলো কেটে ফেলি। তারপর জল দিয়ে পরিস্কার করে দিই। অমৃতা তখন অন্যকাজ করে, আর আমার গান শুনে হাসে। মাঝে মাঝে বলে,-' তোমার গানের গলা কিন্তু বেশ সুন্দর!'
আমি বুঝি একটু বেসুরো লাগছে।তবু বউ এ কমপ্লিমেন্ট কার না, ভাল লাগে বলুন!  কি আর করা যাবে, এতদিনের অভ্যেস।


আমাদের বিয়ের এক বছর প্রায় হতে চলল। সামনের মাসে পঁচিশ তারিখে একবছর পূর্ন হবে। একদিন কি একটা দরকারে অমৃতা তার মায়ের কাছে গেল। আমি সেদিন একাই আছি বাড়িতে। অমিত দা এল। চেয়ার টা টেনে নিয়ে বসল। মনে হল যেন মন খারাপ আছে কোনো কারনে। আমি একটু হালকা জল খাবারের ব্যবস্থা করলাম। মুড়ির সাথে চানাচুর, আর কিছু পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা কুঁচলাম। চা করতে দিল না অমিত দা। মুড়ি খেতে খেতে বলল, -' ভাই, বিয়ে করে লাইফ টা শেষ হয়ে গেল। প্রতিদিন কিছু না কিছু ঝামেলা। আর পারা যায় না। মনে হয়, একদিকে কোথাও চলে যাই। কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে পারি না।.......আচ্ছা, তোদের ঘর থেকে তো কোনোদিন ঝামেলার আওয়াজ পাই না! বৌ এর সাথে কি তোর ঝামেলা হয় না?  এক বছর তো সংসার হতে চলল, একদিন ও কোনো ঝগড়াঝাঁটি শুনতে পেলাম না। কি সুখে আছিস যে তোরা!...  "

দেখলেন, আমি আগেই বলেছিলাম আমার পড়শি রা আমাকে হিংসে করে। তখন বিয়ে করেনি বলে, হিংসে করত। এখন বিয়ের পর ঝগড়া হচ্ছে না বলে, তাতেও  হিংসে। অমিত দার কোথায়, আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, -" বৌ! কে বৌ? ....  অমৃতা তো আমার বন্ধু। ঝামেলা কেন হবে! '

অমিত দা হাঁ করে তাকিয়ে রইল আমার মুখের দিকে।

                   --------- সমাপ্ত ----------

Golpo - Valobasar Golpo 2020


Now,  we are sharing with you the second Golpo, name Coffe with Love.  We know, many readers are love to read Bangla Golpo nowadays. Bangla Golpo 2020 new collection here. You can read daily Golpo, on this Website. If You love this Golpo, then please share with your friends.


Bangla Golpo



গল্পের নাম : কফি উইথ লভ্

লিখেছেন : স্বদেশ কুমার গায়েন

(১)

- ' কি এত পায়চারী করছিস বলত! '
তনয়া ফোনটা নিয়ে একবার স্ক্রিন লক খুলল। তারপর এদিক ওদিক কয়েকবার স্ক্রল করে, আবার লক করে দিল। প্রিয়ন্তিকার দিকে ফিরে বলল, -" জানিস, আমার মন বলছে অভীক মিথ্যে বলছে। আসলে ওর কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। নইলে প্রতি সানডে, একা এসে কফিশপে বসে থাকবে কেন?কখনো মনে হয়, আমার অপেক্ষায় বসে আছে বা, আমার জন্যে টেবিল টা আগে থেকেই বুক করে রেখেছে।"
-' মিথ্যে কেন বলবে! ' প্রিয়ন্তিকার প্রশ্ন।
-' ওটাই তো বুঝতে পারছি না।'
-' তুই কি ভাবছিস, অভীক তোকে ভালবাসে!... কিন্তু কোনো কারনে..'
-' ঠিক এটাই ভাবছি। কিন্তু বুঝে উঠতে পারছি না। '
-' ছাড় তো! এখনও এক মাস হল না, তাতেই এতকিছু ভাবনা।' নাক সিঁটকালো প্রিয়ন্তিকা।
-' এরকম বলিস না প্রিয়ু।একটা উপায় বলে দে প্লীজ। ' প্রিয়ন্তিকার গলা জড়িয়ে ধরল তনয়া।
-' এক কাজ কর,  তুই ও বল তোর বয়ফ্রেন্ড আছে। কথাটা  শুনে অভীক যদি একটু মনমরা হয়, তবে ভাববি, জায়গা খালি আছে। আর যদি স্বাভাবিক থাকে, তবে মনে করবি, তোর জায়গা নেই। '
-' গ্রেট আইডিয়া! পরের রবিবারই পরীক্ষা করছি...। ' লাফিয়ে উঠল তনয়া।

অভীকের সাথে প্রথম পরিচয় হয়েছিল কফিশপে। আজ থেকে ঠিক তিন সপ্তাহ তিন দিন আগে। কিছু কিছু মানুষ আছে, তাদের সাথে পরিচয় হয় হঠাৎ করেই। সেদিন ও তনয়াদের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। রবিবার বিকেল কফিশপে বন্ধুরা মিলে একটু গল্প করবে। প্রিয়ন্তিকার টিউশন। সৌম্যর বাড়ি আত্মীয়রা এসেছে। তাই তারা আসতে পারে নি। কফিশপের সামনে এসে একটি ফোন পেল তনয়া। মৌসুমির দাদুর হঠাৎ করে স্টোক। আর ওদিকে বিক্রমের বাইকে কিক করতে গিয়ে পা মচকে গেছে। অদ্ভুত তো! একদিনে,  একইসময়ে সবার ই বিপদ! কি আর করা যায়! এসেই যখন পড়েছে, এক কাপ কফি খাওয়াই যেতে পারে।  ভিতরে ঢুকল তনয়া। সন্ধ্যার সময় একটু লোকজন বেশী থাকে কফিশপে। ভিতরে ঢুকে একবার চারিদিকে তাকাল। এক কোনায় একটা টেবিল ফাঁকা দেখতে পেল সে। দু'টো চেয়ার। তার একটি তে বেশ লম্বা মত একটি ছেলে বসে আছে। চোখে সাদা কাচের চশমা। পরনে জিনস,  টি- শার্ট। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছে, আর ফোনের ভিতর দেখছে। তনয়া সরাসরি গিয়ে,  ফাঁকা চেয়ার দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল,  -' এখানে কেউ কি আছে? আমি কি বসতে পারি? '
চশমার ভেতর দিয়ে একবার তনয়া কে দেখল অভীক। বলল, - ' না। বসুন।  '
ছেলেটির চোখ গুলো বেশ সুন্দর। একপলক দেখলেই, বেশ ভদ্র - নম্র মনে হবে। চেয়ারে বসতেই ওয়েটার এসে দাঁড়াল। একটি কফি অর্ডার করল তনয়া।
অস্বস্থি যে একেবারে লাগছে না,  তা ঠিক নয়। বেশ কয়েকবার ছেলেটির চোখে,  চোখ পড়ল তনয়ার। আলাপ করা যেতে পারে কি!
-' আপনি কি কারও জন্যে অপেক্ষা করছিলেন? ' জিজ্ঞেস করল তনয়া।
এবার তনয়ার চাইল ছেলেটি। - না,  অপেক্ষা করব কেন! '
-' একা বসেছিলেন তো তাই বললাম। আসলে, এখানে তো তেমন কেউ একা আসে না। '
-' আপনি তো এলেন । '
-' না, আসলে বন্ধুদের আসার কথা ছিল। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম, কেউ আসতে পারছে না। '
-' ওহ! ' কফিতে চুমুক দিল ছেলেটি।
- 'এলে হয়তো আপনার সাথে পরিচয় হত না। যাইহোক আমি তনয়া। ইকোনমিক্স,  থার্ড ইয়ার।'
-' অভীক, অভীক সেন। এমবিএ করেছি। এখন একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করি। '
-' রোজ সানডে এখানে আসেন নাকি! '
-' হু। তা বলতে পারেন। '
-' গার্লফ্রেন্ডের সাথে আসেন বুঝি! ' হেসে কফিতে চুমুক দিল তনয়া।
একটু থেমে অভীক হেসে বলল, -' স্ রবিবারে ওর সময় হয়না। চাকরী করে তো। তাই, রবিবার টা ফ্যামিলির সাথে কাটায়। মাঝে মাঝে আসে।নইলে  আমি একাই আসি। '
-' বাহ!.... আপনার সাথে পরিচয় করে বেশ ভাল লাগল। '
- 'ধন্যবাদ। ওকে, আজ তবে উঠি। '
-' নিশ্চয়। আমাকেও যেতে হবে। ' কব্জি ঘুরিয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল  তনয়া।

কফিশপ থেকে বাইরে বেরিয়ে সেদিন বাড়ির পথ ধরেছিল দু'জন

Golpo - Read More Various Bangla Golpo 


(২)

প্রিয়ন্তিকার কথা মতই কাজ করল তনয়া। আসলে অভীকের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই,  মনটা কেমন উদাসীন হয়ে গেছে। কি যেন একটা টান অনুভব করে। বন্ধুত্বের টান, না ভালবাসার টান বুঝতে পারে না। সেই টানে গত দুটি রবিবারেও কফিশপে ছুটে গেছে তনয়া। আর কথা বলে ততবারই মনে হয়েছে, অভীকের কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই।

আজ কফিশপ টা বেশ আলোয় ঝলমল করছে। হালকা সুরে একটা মিউজিক বাজছে। কি মিউজিক, সেটা আর বোঝার চেষ্টা করল না তনয়া। কফিতে একটা চুমুক দিয়ে তনয়া বলল, -' আজও বুঝি আপনার গার্লফ্রেন্ডের সময় হল না! '
চোখ তুলে তাকাল অভীক।  -' আজ ওর মাসী - মেসো এসেছে বাড়িতে। তাই একটু ব্যস্ত। সকালে ফোন করেছিল। '
-' ওহ।' বেশ চালাকি উত্তর দিচ্ছে অভীক। মনে মনে ভাবল তনয়া।
-' আচ্ছা, আপনি শুধু আমারই কথা শুনে যাচ্ছেন।  আপনার কথা তো বলছেন না কি'ছু! '
-' কিছু তো জিজ্ঞেস করেন না, তো একা আর কি বলব। '
-' এই রে, সত্যিই তো! সরি সরি। ' হেসে বলল অভীক।
-' ওকে। ঠিক আছে।'
-' আপনি কি প্রতি রবিবার এখানে আসেন?'
-' তা ঠিক নয়। তবে এবার থেকে আসব ভাবছি। ' কফি মগে ঠোঁট ছুইয়ে মনে মনে হাসল তনয়া।
-' আচ্ছা, আপনার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই? ' অভীকের প্রশ্ন।
এই সুযোগ অভীককে পরীক্ষা করার। প্রিয়ন্তিকার কথা মত,  বলল - ' আছে তো। তবে বাইরে চাকরী করে সে। উইকেন্ডে আসে। সকালে যাই ওদের বাড়ি। দুপুর টা ওখানেই কাটাই।  বিকেলে ও একটু পাড়ার ক্লাবে খেলতে যায়, আর আমি চলে আসি। তবে সব রবিবার বাড়ি আসে না। মাসে হয়তো একবার এল।... তবে ফোনে রোজ কথা হয়।আর ভিডিওকল তো আছেই।'

কথাটা বলে, অভীকের চোখ মুখ ভাল করে নিরীক্ষন করল তনয়া। কই! তেমন কিছু তো চোখে পড়ল না। কফি মগ টা হাতে নিয়ে,  একটু হেসে অভীক বলল - ' বাহ!..  তাহলে একদিন কফিশপে আসুন তিনজন মিলে, গল্প করা যাবে। '
-' তা মন্দ হয় না। কিন্তু তিনজন কেন? আপনি ও আপনার গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে আসুন, চারজনে বেশ আড্ডা জমবে। '
এবার ঢোক গিলল, অভীক।  - ' না, মানে,  ওর একটু কাজ থাকে তো, তাই সময় হয় না ঠিক।
-' আরে,  হবে হবে। একটা রবিবার তো, ঠিক সময় হবে। প্লীজ, আপনার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসবেন। '
-' আচ্ছা, বলে দেখি ওকে। '
-' বলে দেখি নয়, পরের রবিবার তাহলে অবশ্যই দেখা হচ্ছে। আমার জন পরের রবিবার আসছে।' হাসল তনয়া।
-' ওকে।'

কফিশপ থেকে বেরিয়ে একটা অটো ধরল তনয়া।বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যে সাড়ে সাত টা বেজে গেল। প্রিয়ন্তিকা রান্নার তোড়জোড় করছে। ঘরে ঢুকেই ধপ করে বসে পড়ল বেডের উপর। প্রিয়ন্তিকা কে বলল -' একটা সমস্যা হয়ে গেল যে প্রিয়ু।'
-' আবার কি সমস্যা! '
-' আমার বয়ফ্রেন্ড কে দেখতে চেয়েছে।'
-' তোর বয়ফ্রেন্ড আছে শুনে, ওর মুখের কি চেহারা দেখলি।'
-' বুঝতে পারি নি কিছুই। সেয়ানা ছেলে একটা। তবে আমিও ওর গার্লফ্রেন্ড কে সাথে নিয়ে আসতে বলেছি।
-' এটা তো ঠিক করেছিস।কিন্তু এখন তোর বয়ফ্রেন্ড পাবি কোথায়!'
-' সেটাই তো ভাবছি।....  আচ্ছা, সৌম্য কে বললে কেমন হয়। '
-' বলে দেখ, কি বলে। রাজি হবে বলে তো মনে হয় না। '
-' হবে না কেন!'
রাজি হতেই হবে। মনে মনে বলল তনয়া।

Golpo - Read More Various Bangla Golpo 


(৩)

বাড়ি ফিরে চিন্তুমগ্ন হয়ে গেল অভীক। এত বড়ই মুশকিল! এখন কাকে বলবে গার্লফ্রেন্ড হওয়ার জন্যে। প্রথমদিন তনয়া কে দেখে, কেমন যেন একটা গায়ে পড়া মেয়ে মনে হয়েছিল। তাই বিরক্ত হয়ে বলে দিয়েছিল, তার গার্লফ্রেন্ড আছে। কিন্তু যত দিন গেছে, মনে হয়েছে, তনয়া ভাল মেয়ে। হয়তো তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই প্রতি রবিবার কফিশপে ছুটে আসে। অভীকের ও যেন ভাল লাগতে শুরু করেছে। কিন্তু 'বয়ফ্রেন্ড আছে' শোনার পর থেকে মনটা কেমন,  ফিকে হয়ে গেছে।

এতকিছু চিন্তার মধ্যে অনিন্দিতার নাম ই মনে এল। অনিন্দিতা তার স্কুল ফ্রেন্ড। পাশাপাশি ই বাড়ি। অনিন্দিতা নিশ্চয় না করবে না। কয়েক ঘন্টার তো ব্যাপার। কিন্তু ভয় ও করল, অনিন্দিতা যা বকাটে মেয়ে, যদি সব মাটি করে দেয়!.....  এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। যেভাবেই হোক অনিন্দিতা কে রাজী করাতে হবে।

তিনদিন পর অনিন্দিতার বাড়ি গেল অভীক। নিজের রুমেই জামা কাপড় আয়রন করছিল সে। অভীক ঘরে ঢুকেই দাঁত বের করে হাসল। বলল - 'অনি, কেমন আছিস? আজকাল বড় ব্যস্ত, দেখা -সাক্ষাৎ হয় না। তাই বাড়ি চলে এলাম।'
ভুরু কোঁচকাল অনিন্দিতা। তারপর ইলেক্ট্রিক ইস্ত্রি টা অফ করে  বলল -' সকালবেলা কি পেট পরিষ্কার হয়নি তোর? গতকালই তো সকালে তোদের বাড়ি গেলাম। কথা হল। '
-' ও তাই বুঝি! সেটা গতকাল ছিল, আমার মনে হল গত সপ্তাহে। '
-' নেকামো টা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না! কি দরকার সেটা বল।  '
-' রাগ করছিস কেন, ক্যাডবেরি এনেছি তোর জন্যে। '
ভুরু কুঁচকে এবার অভীকের মুখের দিকে চাইল অনিন্দিতা।  মতলব ভালো নয়। যে কোনোদিন একটা লজেন্স  কিনে খাওয়ায় না, তার হাতে ক্যাডবেরি আজ!
-' কি ব্যাপার বলত তোর! ' বলল অনিন্দিতা।
-' তুই আমার গার্লফ্রেন্ড।'
কথা শেষ করতে দিল না অনিন্দিতা।  বলল, -' দূর হ !... আমার বয়ফ্রেন্ড জানতে পারলে, তোকে জুতো পেটা করবে।'
-' পুরোটা শোন আগে।... একটা সন্ধ্যের জন্যে আমার গার্লফ্রেন্ড হয়ে চল। '
-' কোথায়! ' চোখ গুলো বড় করল অনিন্দিতা।
-' বড় বিপদে পড়েছি রে। '
তার পর প্রথম থেকে পুরো ঘটনা টা বুঝিয়ে বলল অভীক। সবশুনে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে অনিন্দিতা বলল -' সবই তো বুঝলাম। কিন্তু যেতে পারব না। আমার ও বয়ফ্রেন্ড আছে। রবিবার করে দেখা করতে হয়। তোর ওসব ফালতু কাজে, সময় দেওয়ার মত সময় নেই আমার।'
-' ওরম বলিস না প্লীজ। এ সপ্তাহ টা ও কে বলে ম্যানেজ কর। কয়েক ঘন্টার তো ব্যাপার। '

চুপ করে বসে রইল অনিন্দিতা। তারপর কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ফোন টা বেজে উঠল। টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিল। মুখে হাসি। বলল, -' এই দেখ ব্যাটা বাঁচবে অনেক দিন। এখুনি যাকে নিয়ে কথা হচ্ছিলি, সে ফোন করেছে। '
-' কে? তোর বয়ফ্রেন্ড?'
-' হু।'
-' এই বল বল, এই সপ্তাহে দেখা করতে যেতে পারবি না। প্লীজ! '
-' চুপ।  কি বলছে দেখি। '

ফোন রিসিভ করল অনিন্দিতা। - ' বল। '
-' কি করছিস! ' ওপার থেকে প্রশ্ন এল।
-' এই ঘরের কাজ।...  হঠাৎ এরকম সময় ফোন করলি, জরুরি কোনো দরকার নাকি। '
-' না জরুরি ঠিক না। তবে  এই রবিবার আমি বাড়ি থাকব না রে। একটু মাসীদের বাড়ি যাব। তাই যেতে পারব না এই রবিবার। রাগ করিসনা প্লীজ! '
-' ওহ! কেন কেউ অসুস্থ নাকি!..   বাড়ির সবাই যাচ্ছিস?'
-' হু।মাসী কিছুদিন একটু অসুস্থ ছিল।   বাবা - মা ও যাবে। '
-' ওহ। তা ভালো হয়েছে, আমারও একটু কাজ ছিল রবিবারে। তাহলে সেটা করে নেবো। '
-' কি কাজ আবার তোর? '
-' না, তেমন কিছু না। ওই একটু বাড়ির জন্যে শপিং করব। মা, অনেকদিন থেকে বলছিল। আমারও সময় হচ্ছিল না কলেজের জন্যে। '
-' আচ্ছা, তাহলে ভালোই হল। তবে রাখ এখন। রাতে ফোন করব। '
-' ওকে। বাই। '

এ তো মেঘ না চাইতেই জল! ফোন রেখে দিল অনিন্দিতা। অভীকের মুখে হাসি।  - ' যাক এবার তো আর বাঁধা নেই। প্লীজ না করিস না।'
-' ওকে।  যাব। তবে বেশী সময় থাকব না কিন্তু। আর একটা কথা, গার্লফ্রেন্ড দেখাতে গিয়ে, গায়ে ঘেঁষবি কম, নেকামো টা কম করবি।... বাবু বাবু,  সোনা, সোনু যদি করেছিস, পায়ের জুতো হাতে উঠে যাবে, বলে দিলাম। '
-' যথা আজ্ঞা,  দেবী। '

অনিন্দিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটু বাজারের দিকে গেল অভীক।

Golpo - Read More Various Bangla Golpo From Here.


(৪)

রবিবারের পড়ন্ত বিকেল। রাঁজহাঁসের ডানার মত সাদা মেঘের দল আকাশে। মাঝে মাঝে যেন কেউ নীল রঙের তুলি বুলিয়ে দিয়েছে। সৌম্য কে রাজী করাতে কম বেগ পেতে হয়নি তনয়ার। অনেক কষ্টে রাজী করিয়েছে। ঘড়িতে এখন ঠিক পাঁচ টা। তনয়া বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় বেরিয়ে ফোন করে ডেকে নিল সৌম্য কে। তারপর অটো ধরল।

কফিশপের সামনে নেমে অটোর ভাড়া মিটিয়ে দিল তনয়া। তারপর সৌম্য কে নিয়ে কফিশপে ঢুকল। ভেতরে ঢুকেই সেই চিরপরিচিত টেবিলের দিকে তাকাল। আজ একা বসে নেই অভীক। পাশে একটা মেয়েও আছে। তাদের দিকে পিছন ঘুরে বসে আছে দু'জন। সৌম্য কে নিয়ে অভীক দের পিছনে গিয়ে দাঁড়াল তনয়া। - ' হাই! অভীক। '
ঘুরে তাকাল অভীক। -' হাই! বসো। '
তনয়া, সৌম্য কে নিয়ে সামনে যেতেই, তড়াক করে দাঁড়িয়ে উঠল অনিন্দিতা। সৌম্যর দিকে তাকিয়ে বলল, -' তুই এখানে!..  আর কে এই মেয়েটা? '
-' হ্যালো ম্যাডাম !..  ও আমার বয়ফ্রেন্ড।' সৌম্যর হাত ধরল তনয়া।
এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিল সৌম্য -' ধ্যাত! তোর বয়ফ্রেন্ড, হাত ছাড় তো।' তারপর অনিন্দিতার দিকে ঘুরে বলল-'  তুই এখানে এই ছেলেটার সাথে বসে কি করছিস!...এই তোর মাকে নিয়ে শপিং যাওয়া! '
-' আর তুই!.. এই তোর মাসীর বাড়ি যাওয়া!.. আর ক'জন গার্লফ্রেন্ড আছে রে তোর?'
-' বেশি বকিস না, তুই মিথ্যে বলে আরেকটা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কফিশপে এসেছিস!... ক'দিন ধরে চলছে এ'সব? '

কিছু বলতে পারছে না অভীক। বলার সুযোগ দিচ্ছে কই! একবার অনিন্দিতার মুখে তাকায়, আরেকবার সৌম্যর মুখে। ব্যাপার টা আর বুঝতে বাকি নেই তার। কিন্তু এদের এখন কে বোঝাবে! তনয়ার চোখে চোখ রাখল অভীক। হাসল দু'জন। চোখের পলক পড়ছে না। একভাবে তাকিয়ে আছে দু'জন।

ওদিকে অনিন্দিতা আর সৌম্যর ঝামেলা হয়েই চলেছে......।

 --------- সমাপ্ত ----------



বি:দ্র : ভালো লাগলে, গল্পটি নীচের হোয়াটসঅ্যাপ বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে।

Post a comment

0 Comments