Skip to main content

Posts

Showing posts from December, 2016

আত্মীয় ~ পরমানু গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

কেউ পল্টু, কেউ ছোকরা বলে ডাকে     ছেলেটিকে। নিজের নামটা কি, সে জানে না।     রোগা কঙ্কাল চেহারা,পরনে একটা ময়লা ছেঁড়া     গেঞ্জী। স্টেশনে ট্রেন ঢুকলেই ছুটে যায়,"বাবু,     ব্যাগ টা দিন আমি বয়ে নিয়ে যাচ্ছি"। স্টেশন থেকে বাবুদের ব্যাগ মাথায় করে গাড়ী   তে পৌঁছে দেওয়া তার প্রতিদিনের কাজ। এই   ভাবে বিশ- তিরিশ টাকা যা জোটে, তাই দিয়ে   সারা দিন কিছু খেয়ে বেঁচে থাকে সে। যেদিন   কেউ খুশি হয়ে বেশি বকশিস দেয়, সেদিন তার   মুখটা হাসিতে ভরে ওঠে; ভাবে আজ সে   হোটেলে খাবে। বাবা- মা কে সে কোনো দিন   দেখেনি। ছোটো থেকেই সে এই স্টেশনে পড়ে   আছে — স্টেশনের ছেলে হয়ে। একদিন রাতে, দোকান থেকে বাসি পোড়া   পাঁউরুটি কিনে,  স্টেশনের ল্যাম্প পোস্টের   পাকা শানের উপর এসে বসে ছেলেটি । একটু   একটু করে রুটি ছিঁড়ে চিবোতে থাকে। ফাঁকা   স্টেশন,শেষ ট্রেন চলেও গেছে। কোথা থেকে   একটা হাড় জিরজিরে কুকুর এসে তার পাশে   কুঁই কুঁই ডাকতে থাকে। কি যেন মনে হয়   ছেলটির— এক টুকরো রুটি ছিঁড়ে কুকুর টিকে   খেতে দেয়। এক সাথে দুটি প্রানী খেতে থাকে। রাতের স্টেশনের সেই নিয়ন আলোয়,ছেলেটি  যেন তার এক আত্মীয় কে খুঁজে পায়। স্বদেশ কুমার গায়

শকুন ~ পরমানু গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

পাখি গুলো আকাশের অনেক উপরে ওড়ে।  শকুন ওরা। ওদের তীব্র,প্রখর,শানিত চোখ  ভূপৃষ্ঠের মাটিকেও ছুয়ে যায়। কুঁচকুঁচে চোখ  গুলো প্রতি বাড়ির আনাচে-কানাচে; গো ভাগাড়ে  ঘুরে বেড়ায় অথবা, নীচে নেমে এসে শিকারির  মতো ওৎ পেতে বসে থাকে। কোথাও গরু, ছাগল,  ভেড়া,কুকুর মরে পড়ে আছে কিনা খুঁজতে  থাকে। দেখতে পেলে বাজ পাখির মতো শো শো  করে নেমে আসে,তারপর ধারালো ঠোঁট দিয়ে  খুবলে খুবলে খায়। ওদের কোনো বাচ– বিচার  নেই,মাংস হলেই হবে। আজকের দিনে পাখি গুলো কে আর আকাশে  দেখা যায় না। মৃত প্রানী গুলো ভাগাড়েই পচে  পচে শেষ। সবাই বলে শকুন আজ বিলুপ্ত, কিন্তু  ওরা বিলুপ্ত হয়ে যায় নি। ওরা নেমে এসেছে  আমাদের সমাজে,মানুষের মুখোশ পরে।  আমাদের আসেপাশে, তাদের তীব্র, প্রখর চাহনি,  লোপুপ দৃষ্টি ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেন এক মুহুর্তে  গিলে ফেলবে। রাতের স্টেশনে, অন্ধকার  গলিরাস্তায়,বাস,ট্যাক্সি, ট্রেন, ট্রাম সর্বত্র শকুনের  দল লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে ওৎ পেতে বসে আছে।  সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে তার শিকারের  উপর,এক মুহুর্তে টুকরো টুকরো করে ফেলবে  শিকার কে। এরা কোনোদিন বিলুপ্ত হয় না। যুগে  যুগে জন্ম হয় শকুনদের। স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

অভিমানী ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

বৌ ও যেমন, মেয়েও হয়েছে ঠিক তেমন নয়। একাবারে উলটো। দু'জনই দুই মেরুর বাসিন্দা।  একজন উত্তর মেরু, আরেক জন দক্ষিন। আর  মাঝখানে নিরক্ষরেখার মতো নির্বাক চলচিত্র  হয়ে সোজা নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে আছে  অজিত। শুধু রোদে- তাপে পুড়ছে। না যেতে  পারে এদিক, না যেতে পারে ওদিক। একটু উত্তর  দিকে সরে গেলে ওমনি দক্ষিন দিকের বরফ  গলতে শুরু করে। আবার দক্ষিন দিকে গেলে  উত্তরের। কোন দিকে যাবে সে? শুধু পড়ে  থাকলে তবুও শান্তি ছিল। কিন্তু দুই মেরুর  অত্যাচারে হাসি-আনন্দ, শান্তি জিনিষ টা ভুস  করে রকেট বাজির মতো  অনেকদিন আগেই  উড়ে গেছে। সেই যে গিয়েছে, আর এখনো ফিরে  আসেনি। মাঝে মাঝে ক্ষনিকের দেখা দিয়ে গেছে। তবে একটা ব্যাপারে বউ আর মেয়ের  মধ্যে মিল আছে। ওরা যখন ঝগড়া করে, তখন  কেউ কাউকে হারাতে পারে না। আর এই  ব্যাপারটা অজিত তখন মজা নেয়। মাঝে মাঝে  বউ কে গিয়ে শান্ত গলায় বলে, -" আ! করছো কি  পৌলমী! ও এখন বাচ্চা মেয়ে, অতকিছু বোঝে  নাকি? একটু আদর করে বললে তো হয়।  সবসময় বকাবকি করলে চলে, বলো।" মুখ ঝাপটায় পৌলমী।-" তুমি চুপ করো। তুমি শুধু আমার উপর চোট-পাট দেখাও। মেয়েটা কে কিছু বলতে পারো না? লাই দিয়ে দিয়ে মেয়েট

প্রকৃত ভালোবাসার গল্প ~ছোট গল্প [স্বদেশ কুমার গায়েন]

ঝম ঝম শব্দ করতে করতে অজগর সাপের মতো প্লাটফর্ম ছেড়ে ট্রেনটি বেরিয়ে গেল। ছুটতে ছুটতে এসেও অনুপম ট্রেনটি ধরতে পারল না। দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগল। ব্যাগ থেকে বোতল টা বের করে জল খেতে খেতে চোখ গেল পাশের বেঞ্চটার দিকে। একটি মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হয় এতক্ষন তার করুন অবস্থা টি প্রত্যক্ষ করছিল মনোযোগ সহকারে। অনুপমের চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি চোখ সরিয়ে নিল। আবার চল্লিশ মিনিট লেট! সেই ৯ টা ২০ লোকাল।দাঁড়িয়ে না থেকে অনুপম মেয়েটির পাশে গিয়ে বলল,– "একটু বসতে পারি?" -"হ্যাঁ, বসুন না। তবুও তো একজন কথা বলার লোক পাওয়া গেল।" মুচকি হাসলো মেয়েটি। মেয়েটি বেশ মিশুকে মনে হচ্ছে। অনুপম মনে মনে ভাবল। রাতের স্টেশনের নিয়ন আলোয় মেয়েটিকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। স্টেশনের বাইরে কালো কালো গাছ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে সে। আকাশে গোল থালার মতো চাঁদ,জোনাকি পোকারা ঝিক মিক করছে ঐ দুরের বট গাছটিকে ঘিরে। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো জলপরী জোছনা মেখে বসে আছে। – "আপনিও ট্রেন মিস করেছেন বুঝি? " জিজ্ঞেস করলো অনুপম। অনুপমের কথায় মেয়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল। – "আজ, একটু দেরী হয়ে গেল। তবে আপনার মতো ছুটলে ব

দ্য লাস্ট কল ~ অনুগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

হ্যালো! কে.......? -অভীক। -ও ,অভীক দা ! আমার নাম্বার কি করে পেলে? —চুরি করেছিলাম। — চুরি করতে গেলে কেন? — তোমার কাছে চাইতে পারিনি। — ও তাই! — আলিয়া! — বলো। কিছু বলবে? — আমি তোমাকে খুব খুব ভালবাসি। ওপার থেকে কোনো আওয়াজ এল না।নিস্তব্দ কিছুক্ষন। — আলিয়া! তুমি আমাকে কোনো দিন ভালবাসনি? — অভীক দা, আমিও তোমাকে ভাল বাসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি তো সব জান।আমার বাড়ি থেকে কোনোদিন এই সম্পর্ক টা মেনে নেবে না। —তুমি যে আমাকে একটুকুর জন্যেও ভালবেসেছো, এই অনেক আমার কাছে। জানো, আমার আজ খুব ভাল লাগছে। — অভীক দা, এবার রাখি। মা ডাকছে। ফোনটা কেটে দেয় আলিয়া । একটা তৃপ্তির  নিশ্বাস ফেলে অভীক। মনে পড়ে যায় প্রথম  যেদিন সে আলিয়া কে দেখেছিল তার জানালার  পাশের পাকা শান বাধানো পুকুর ঘাটে, যেন  একটা নীল সরোবরে একাকী একটা রাজহংসী  চরে বেড়াচ্ছে। তার দুধ সাদা গায়ের ফোঁটা  ফোঁটা জল অভীকের হৃদয়ের বাঁধ কে এক  ঢাক্কায় ভেঙে দিয়েছিল সেদিন। এর কিছুদিন  পর দুজনের চার চোখ এক হতেই, বিদ্যুৎ খেলে  গিয়েছিল সারা সারা শরীরে। নিজেকে আর ধরে  রাখতে পারেনি সে। একটু পরিচয়, বন্ধুত্ব,  হাসি,তাদের বাড়িতে যাতায়াত হতে হতে দুজন  দুজনের খুব কাছে

তৃতীয় প্রেম ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

ধুর! শালা আর কোনো দিন প্রেমে পড়ব না । অনেক হয়েছে আর না,এত টেনসন আর নেওয়া  যায় না। আসলে আমার মন টাই না বিশ্রী ,দুম  দাম করে যেখানে সেখানে প্রেমে পড়ে যায়। বেশ  তো ছিলাম, খাচ্ছিলাম, ঘুরছিলাম, খেলছিলাম  কিন্তু আমার মন টার তা সহ্য হল না; দুম করে  পপি র প্রেমে পড়ে গেল এই প্রথম বার। পপি  আর আমি এক সাথেই টিউসান পড়ি। যেমন  ফর্সা, তেমন মিষ্টি তার হাসি। ফুলের মতো সুন্দর  একটা মেয়ে,– যেই দেখবে সেই প্রেমে পড়ে  যাবে। ব্যাস, প্রথম প্রথম চোখাচোখি, মিটি মিটি  হাসি তারপর থেকে পাশাপাশি বসা, একসাথে  যাওয়া আসা, গলির মোড়ে ফুচকা খাওয়া; মানে  প্রথম প্রেম একেবারে জমে ক্ষীর। প্রথম প্রেমের  অনুভূতি , ঠিক লিখে প্রকাশ করা যায় না;  অনুভব করতে হয়। আর আপনারা নিশ্চয় সেই  অনুভব টা জানেন। আমার ও ঠিক সেই রকম  হচ্ছিল। কিন্তু শনির দশা চললে যে, কোনোকিছু  ঠিক থাকে না। বেশ কয়েকদিন ধরে দেখছি পপি  একটু অন্যমনষ্ক। একদিন গান শোনা নিয়ে তর্ক  বাঁধল। আসলে আমি খুব গান পাগল, সব ধরনের, সব ভাষার গান শুনি। বাংলা পুরানো দিনের গান ও ভাল লাগে। কিন্তু ও বলে বসল বাংলা পুরানো দিনের গান গুলো কোনো গানের মধ্যে পড়ে না,সোওওওও বোরিং.....। – তুমি, গা

তোমায় দেখেছিলাম ~কবিতা [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

জোছনা রাত্রির একলা ছাদে হাঁটতে হাঁটতে দেখেছিলাম ঐ রাতের মায়াময় নীহারিকা। দেখেছিলাম,আকাশের বুকে চাঁদের মুখ লুকানো; মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলা। না, মিথ্যে কথা; আমি কিছুই দেখিনি সেসব। আমি তোমায় দেখেছিলাম মেঘের ঘাটে বসে থাকতে,চাঁদের তরীতে.... জোছনা সমুদ্রের জলে। আমি,তোমায় দেখেছিলাম সাদা বরফের কোলে,তুষারের কনায়, সমুদ্রের ফেনিল জল তরঙ্গে। শিশির চাদরে ঢাকা সবুজ তৃনকনায়,আর..... বৃষ্টি ভেজানো পিয়াল শালের পাতায়; সকালের রোদ মাখা আদরে,ধূসর অপরাহ্নের আবির রাঙা আকাশ কোনে, সবুজ মাঠের ঘাস ফড়িং এর দেশে। আমি,তোমায় দেখেছিলাম আমার চোখের পাতায়,বুকের করিডোরে জল নুপূর পায়ে; নিঝুম রাতের কান্না ভেজানো,স্যাঁতস্যাতে রাতের বিছানায়। আমি তোমায় দেখেছিলাম...........। স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১২]

সে ~ কবিতা [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

সে আমার প্রথম চাওয়া–পাওয়া সে আমার প্রথম স্বপ্ন–আশা; সে ছিল আমার প্রিয়তমা– সে যে ছিল আমার প্রথম ভালবাসা। –– সে ছিল আমার প্রথম দেখা অপ্সরা সে যে ছিল শিউলি ঝরা রাত, সে ছিল আমার বেঁচে থাকা আমার হৃদয়ের প্রস্ফুটিত গোলাপ। –– সে আমার প্রথম দেখা নীলপরী সে ছিল আমার জীবনের আলো; সে ছিল আমার স্বপ্নের রাজকন্যে, যাকে আমি বেসেছিলাম ভাল। —– সে ছিল আমার কবিতার ভেতর সে ছিল আমার মনের মাঝে, হঠাৎ করে কোথায় গেল চলে এখনো তারে পাইনি আমি খুঁজে।। স্বদেশ কুমার গায়েন (২০০৯)

শূন্য মনে হয় ~ কবিতা [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

ভেবেছিলাম স্বপ্ন ফেলে চলে যাব তোমার কাছে। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়া হলুদ খামে,আজগুবি যত আঁকিবুকি কাটা... মন গড়া শব্দের আনাগোনা, আর ক্লান্ত নি:স্ব রিক্ত এক প্রানের রাতজাগা চোখের জল,ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া নীল পেনের কালি...... ভেবেছিলাম সবাইকে ছেড়ে চলে যাব দিগন্তের পারে, ভেবেছিলাম,তোমাকে নিয়ে যাব নীল নদীটির ওপারে।এক ঝাঁক বালি হাঁস,সাদা বকের সারি..আর কিচ কিচ বালির গভীরে ডুবে থাকা আমার তৃস্নার্ত মন..... ভেবেছিলাম, আর দেখব না সপ্নের মায়াজাল নিষ্টুর বাস্তবতা…মনের নিস্তব্দতায়, ঘিরে থাকা জীর্ন প্রানের শেষ বিন্দু; আর ফিরে ফিরে তাকানো.... তোমার জানালায়; শূন্য মনে হয়.....এই পৃথিবীটাকে শূন্য মনে হয় …...এই জীবনটাকে শূন্য মনে হয়.....এই মন টাকে......।। স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১২]

প্রাক্তন ~ ছোট গল্প ( স্বদেশ কুমার গায়েন)

আবার অনেকদিন পর বাড়িটার সামনে এলাম। তা প্রায় বছর দুয়েক হবে।এর মাঝে একটি বার ও আসেনি।যদিও একসময় এ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই যাতায়াত ছিল আমার,সেই বাড়িতে আজ আবার দু'বছর বাদে।আসার কোনো ইচ্ছে ছিল না,তবুও এলাম।ইচ্ছে ছিল না! –কথাটা মনে হয় ঠিক বললাম না,আসলেও কোন মুখে আসবো এ বাড়িতে? কিন্তু আজ আর না এসে পারলাম না! খুব জানতে ইচ্ছে করছিল। কেন এলাম সে কথা না হয় আপনারা পরেই জানলেন! কোমর সমান উঁচু পাঁচিল ঘেরা,দোতলা বাড়ি। সামনে ঢোকার জন্য লোহার গেট। আগেও ছিল, কিন্তু পাঁচিলের উপরে মালতীলতা তো ছিল না। ফুল গুলো খুব সুন্দর লাগে দেখতে।আমার খুব প্রিয়।একটু অবাক হলাম,আমার প্রিয় জিনিষ এখনও এ বাড়িতে থাকে?না, এগুলো আমাকে লজ্জা দেওয়ার জন্যই! গেট পেরিয়েই লাল খোয়া ছড়ানো সরু রাস্তা। রাস্তার বাঁ পাশে ফুলের বাগান।নানা রকমের ফুল, পাতাবাহারের সমাহার। রঙবাহারি! লাল,নীল,সবুজ,হলুদ,সাদা, গোলাপি কত রঙের।বেশিরভাগ ফুলের নাম আমার অজনা।রাস্তার ডান পাশে একফালি ছোটো ত্রিকোন জায়গা।সবুজ ঘাসে ঢাকা। ছোটো ছোটো করে ঘাস গুলো ছাঁটা।তার উপরে দু'টো চেয়ার পাতা।আগেও ছিল,আর প্রত্যেক বিকেলে ওই চেয়ারের একটা আমার দখলে থাকত। নিজের একটা অস্পর্

যেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম ~ ছোটো গল্প ( স্বদেশ কুমার গায়েন)

(১) আমি কোনো মেয়েকে বৃষ্টি ভিজতে দেখিনি।  খুব ইচ্ছে করে একটা মেয়েকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখতে।  কোনো এক বিকালে আকাশে খন্ড খন্ড কালো মেঘ জমবে। তারপর ঝম ঝম শব্দে বৃষ্টি নামবে।  শান্ত বৃষ্টি,অঝোর ধারায় নেমে আসবে।মনে হবে, আকাশে মেঘ ভেঙে জলের ধারা নেমে  আসছে। ঠিক যেমন নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢোকে।চারিদিক সাদা হয়ে আসবে। আশেপাশের গাছ পালা গুলো শান্ত শিশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। বৃষ্টি ভিজবে তারও।জলভেজা দু'টো ঘুঘু পাখি গুটিশুটি মেরে বসে থাকবে ঘন জলমাখা সবুজ পাতার আড়ালে। চারিদিক শান্ত,নিশ্চুপ।শুধু বৃষ্টির শব্দ।অদ্ভুত সে শব্দ।কান পেতে শুনলে মনের মধ্যে একটা অনুভূতির ঝড় তোলে। মেয়েটি তখন পড়ার  টেবিলে বসে। ক্লাস নোটের খাতা টা বন্ধ করে    দিয়ে,পাশের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাবে। হাত  বাড়িয়ে দেবে বাইরে। এক মুহুর্তে বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে   দেবে তাকে। সারা শরীরে একটা শিহরন। বই-খাতা বন্ধ করে একছুটে সিড়ি দিয়ে উঠে আসবে ছাদের উপর। তখন বৃষ্টির ফোয়ারা ছাদের উপর। ওড়না টা কোমরের কাছে বেঁধে বৃষ্টির কাছে ছুটে যাবে। চোখ দু'টো বন্ধ করে, মুখটা আকাশের দিকে তুলে,হাত দু'টো কে পাখির ডানার মতো মেলে দেবে দু'দিকে। কয়েক পাক ঘুরব

প্রেম ( অনু গল্প)

পুরুলিয়ার ছোট্ট স্টেশন।একটুখানির জন্যে ট্রেন  টা মিস হয়ে গেল।উনিশ– কুড়ি বছর বয়স হলে এক ছুটে ট্রেন টা ধরে নিতাম কিন্তু,এই আটাশ  বছরে আর ছুটতে ইচ্ছে হল না। বাধ্য হয়ে লাল  কাঁকর বসানো প্লাটফর্মের একটা বেঞ্চের উপর   এসে বসলাম। স্টেশন থেকে কিছু দুরে একটা  প্রাইমারী স্কুলে পড়াই আমি,তাই এই স্টেশন খুব  প্রিয় আমার। গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেল,দখিনের  সির সির বাতাশ ঘর্মাক্ত মুখে যেন বরফের কুচি  ছড়িয়ে দিচ্ছে।চা খেতে খেতে দূরের কালো শাল  বন টাকে দেখছি।হঠাৎএকটি মেয়ের গলা— 'এই  দীপ্ত '। চমকে উঠলাম। আমার নাম ধরে কে ডাকল!  পাশের বেঞ্চের দিকে তাকালাম,উনিশ – কুড়ি  বছরের দুটি ছেলে মেয়ে বসে বেশ গল্প করছে।  মেয়েটি বলল— দীপ্ত, কাল কিন্তু সিনেমা দেখতে  যাব। বুঝলাম,ঐ ছেলেটির নাম ও দীপ্ত। আমার ও কেমন ইচ্ছে করল দশ বছর আগে ফিরে  যেতে।.....সোনালী শহুরে স্মার্ট মেয়ে। পড়াশুনা  সূত্রে পরিচয়,বন্ধুত্ব,তারপর প্রেমে পড়া।খুব  ভালবেসে ফেলেছিলাম,কিন্তু বলার সাহস হয়নি।  বুঝতে পারতাম, ও আমাকে ভালবাসে– কিন্তু  ওটা বন্ধুত্ব না ভালবাসা আজও আমি  বুঝিনি।তারপর হঠাৎ চাকরী পেয়ে চলে এলাম  এই লাল মাটির গ্রামে।ফিরে গিয়ে আর খুঁ

একটি প্রেমের গল্প ( ছোট গল্প)

(১) বাথরুমের দরজায় খট করে একটা আওয়াজ হল।নুপুর স্নান সেরে বেরুলো।ভিজে ভিজে শরীর। কোমোরে একটা গোলাপি রঙের টাওয়েল জড়ানো।টেপ টা কোথায় রাখলাম আবার?-"মা,আমার প্যান্টি টা কোথায়?"-হাঁক ছাড়লো নুপুর। -"উফ! আমি জানবো কি করে?আমি কি পরি?মেয়ে একটা হয়েছে আমার!স্নানে ঢোকার আগে কোনো কিছুই ঠিক করে রাখবে না।" কিচেন থেকে বিরক্ত মুখে জবাব দিলেন নূপুরের মা। -"পেয়েছি।".. ঠিক তখনি,অরিজিৎ সিং এর গলা আওয়াজ।না! রিয়েল নয়,'বদলাপুর' থেকে। বেডের উপর রাখা সাত ইঞ্চির ফোন টা বেজে উঠল।-" চাদরিয়া জিনি রে জিনি...।"বিরক্ত হল নূপুর।শিওর বেআক্কেলে রিজুর ফোন।নইলে এরকম বেটাইমে একমাত্র ওই ছাড়া আর কেউ ফোন করে না।যখন সে,আয়নার সামনে ড্রেস চেঞ্জ করবে,কখনো টয়লেটে ঢুকবে, অথবা টয়লেট করে বেরোবে,ঠিক তখনি ওর ফোনটা আসবে।এর আগে এরকম ঘটনা অনেক বার ঘটেছে।আর ফোনটা রিসিভ করলেই,আগে জিজ্ঞেস করবে,-"কি করছিস?" মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বলি যে,আমি ড্রেস খুলছি।নিতান্ত ছোটো বেলার বন্ধু তাই কিছু বলতে পারি না।বিরক্তিকর হলেও তবু ছেলেটি ভাল।একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। যেটা নূপুরের ও ভাল লাগে। আজও নূপুর