Skip to main content

প্রকৃত ভালোবাসার গল্প ~ছোট গল্প [স্বদেশ কুমার গায়েন]


ঝম ঝম শব্দ করতে করতে অজগর সাপের মতো প্লাটফর্ম ছেড়ে ট্রেনটি বেরিয়ে গেল। ছুটতে ছুটতে এসেও অনুপম ট্রেনটি ধরতে পারল না। দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগল। ব্যাগ থেকে বোতল টা বের করে জল খেতে খেতে চোখ গেল পাশের বেঞ্চটার দিকে। একটি মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হয় এতক্ষন তার করুন অবস্থা টি প্রত্যক্ষ করছিল মনোযোগ সহকারে। অনুপমের চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি চোখ সরিয়ে নিল।

আবার চল্লিশ মিনিট লেট! সেই ৯ টা ২০ লোকাল।দাঁড়িয়ে না থেকে অনুপম মেয়েটির পাশে গিয়ে বলল,– "একটু বসতে পারি?"
-"হ্যাঁ, বসুন না। তবুও তো একজন কথা বলার লোক পাওয়া গেল।" মুচকি হাসলো মেয়েটি।
মেয়েটি বেশ মিশুকে মনে হচ্ছে। অনুপম মনে মনে ভাবল। রাতের স্টেশনের নিয়ন আলোয় মেয়েটিকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। স্টেশনের বাইরে কালো কালো গাছ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে সে। আকাশে গোল থালার মতো চাঁদ,জোনাকি পোকারা ঝিক মিক করছে ঐ দুরের বট গাছটিকে ঘিরে। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো জলপরী জোছনা মেখে বসে আছে।
– "আপনিও ট্রেন মিস করেছেন বুঝি? " জিজ্ঞেস করলো অনুপম। অনুপমের কথায় মেয়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল।
– "আজ, একটু দেরী হয়ে গেল। তবে আপনার মতো ছুটলে বেশ ভাল ভাবেই পেয়ে যেতাম।" বলল মেয়েটি।
অনুপমের এবার হাসি পেল। বলল,
–"সেই ছোটো বেলায়, মাস্টারমশাই এর তাড়া খেয়ে একবার ছুটে ছিলাম,আর আজ ও এক বার ছুটলাম; সেদিন মাস্টারমশাই আমাকে ধরতে পারিনি, আর আজ আমি ট্রেন ধরতে পারি নি।"
দুজন এক সাথেই হেসে উঠল। মেয়েরা হাসলে যে এত সুন্দর দেখায় এই প্রথম প্রত্যক্ষ করল অনুপম।

ঝম ঝম শব্দ করতে করতে প্লাটফর্ম কাঁপিয়ে আরেকটি ট্রেন এসে ঢুকল।
"চলুন ট্রেন এসে গেছে।"— অনুপম বলল।
দুজন ট্রেনে উঠে জানালার পাশে সামনা সামনি সিটে বসল। প্রায় ফাঁকা ট্রেন। মেয়েটি শধু কথাই বলে চলেছে।
– "আপনি কি পড়তে এসেছিলেন?"
– "না, এখানে আমার এক আত্মীয় র বাড়ি আছে।"— অনুপম জবাব দিল। "আপনি নিশ্চয় টিউসান পড়তে এসছিলেন?"— অনুপম বলল।
মেয়েটি মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাল। ট্রেনের গতি কমে এসছে । একটি প্লাটফর্মে ট্রেন এসে থামল।
"আপনি কোথায় নামবেন?" — মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করল অনুপম।
–" রাধামোহনপুর" বলল মেয়েটি।
-"আরে আমিও তো ওখানে থাকি। স্টেশনের কাছেই আমার বাড়ি।আপনার?"
– "আমার একটু ভিতরে। প্রায় দু কিলোমিটার হাঁটতে হবে। বাবা কে ফোন করে দিয়েছি, প্লাটফর্মে চলে আসব।"
ট্রেন টি রাধামোহনপুর স্টেশনে এসে থামল। নেমে পড়ল দুজন।
-"আপনার নামটাই তো জানা হল না!" অনুপম জিজ্ঞাসা
করল।
– "অনুরাধা। আপনার?"
– "অনুপম।"
ট্রেন থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে অনুরাধা বলল,— "বা! দারুন মিল তো।" তারপর দুজন দুদিকে চলে গেল।
কিছু কিছু মানুষ আমাদের চারিপাশে থাকে,যাদের সাথে প্রথম কথা বলেও মনে হয় যেন তারা অনেকদিনের পরিচিত। অনুপমের ও ঠিক তাই মনে হয়েছিল, অনুরাধা কে দেখে। চারি পাশে কত মেয়ে আছে কিন্তু কোনো একজনকেই হঠাৎ করে যেন ভাললেগে যায়, আর অনুপমের ও সেটাই হল।

অনুপমদের গলির মাথায় ক্লাব ঘর টা পাড়ার ছেলেদের আড্ডার খনি। সারাদিন শুধু ক্যারাম পেটানো আর চিৎকার, চেঁচামেচি। আজ অনুপমের ক্যারাম খেলায় মন নেই। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাতে লাগল। বুধবার করেই তো অনুরাধা পড়ে ফেরে,ন’ টার ট্রেনে। এই সব ভাবতে ভাবতে একটা সহজ গুটি মিস করে ফেলল। ওপাশ থেকে দিপু রেগে উঠল।
— "কি হয়েছে বলতো, আজ তোর? একটা গুটিও ফেলতে পারছিস না!"
অনুপম, সুমন কে ডেকে বলল,-"ভাই আমার টা একটু খেলে দে; আমি কুড়ি মিনিটে র মধ্যে আসছি।"
ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল অনুপম। মুখ চাওয়া- চাওয়ি করলো সবাই।
প্লাটফর্মে র একটা চায়ের স্টলের ধারে গিয়ে দাঁড়াল অনুপম । ট্রেনটা সবে ঢুকেছে। অনুপমের চোখ ভিড়ের মধ্যে ঘোরা ঘুরি করতে লাগল।ওই তো! অনুরাধা। না দেখার ভান করে এগিয়ে গেল সে।
– "আপনি, এত রাতে প্লাটফর্মে কি করছেন?"
অনুপম এবার অনুরাধার দিকে তাকাল। সত্যি কথাটা বলতে পারল না।– "না, মানে আমার এক বন্ধু আসার কথা ছিল। কিন্তু এ ট্রেনে আসতে পরেনি।"
আজ অনুরাধার বাবা আসেনি। অনুপম ভুলে গেল সব। কথা বলতে বলতে এগিয়ে চলল অনুরাধার সাথে। কারও কোনো খেয়াল নেই' 'আপনি ' ধীরে ধীরে কখন টুপ করে 'তুমি' হয়ে গেল । দুজনই চুপচাপ হেঁটে চলেছে; কোনো কথা নেই।হয়তো যেখানে গভীর ভালবাসা থাকে, সেখানে মনে হয় ভাষা হারিয়ে যায়। এদের দুজনের ও তাই হল। অনুপমের ঘোর কাটল অনুরাধার বাড়ির সামনে এসে।
-"আমার বাড়ি এসে গেছি।" চমক ভাঙলো অনুরাধার কথায়।
মিষ্টি একটা ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকে গেল অনুরাধা। অনুপমের মনের ভিতর যেন একটা তোলপাড় শুরু হল, অজানা এক আনন্দে। অনুপম ক্লাব ঘরে ঢুকতেই বিলু বলল,—"কি বস! কুড়ি মিনিটের নাম করে এক ঘন্টা পার করে দিচ্ছ! মেয়ে কেস টেস নেই তো?"
পাশ থেকে, টোটোন বলে উঠল,-"ভাই কেস থাকলে আগে ভাগে বলে দে, নইলে পাখি ফুরুৎ হয়ে যাবে।"
সুমনের হাত থেকে স্টাইক টা নিয়ে অনুপম বলল,একটা মেয়েকে সে ভালবেসে ফেলেছে।
চমকে উঠলো সবাই।একসাথে মুখ দিয়ে অ্যাঁ শব্দ করে স্ট্যাচু হয়ে গেল। আর স্টাইক টা কাডবোর্ডে তিন বার ঢাক্কা খেয়ে একটা পকেটে পড়ে গেল। সবাই মিলে ঠিক করল পরের বুধবার অনুপম তার ভালবসার কথা জানাবে।

আজ সেই বুধবার । ওরা পাঁচজন বন্ধু মিলে, অনুরাধা দের বাড়ির রাস্তায় অপেক্ষা করতে লাগল। ন'টা বেজে গিয়েছে। ওরা আস্তে আস্তে অনুরাধের বাড়ির দিকে যেতে লাগল।কই! এখনো এল না তো! অনুপম ঘড়ির দিকে তাকালো। সাড়ে ন'টা। ট্রেন তো অনেক আগেই ঢুকে গেছে। আরও কিছুক্ষন অপেক্ষা করল ওরা, দশটা বেজে গেছে;অবশেষে কথাটা বেরুলো দিপুর মুখ দিয়ে,
— "আজ যদি অনুরাধা পড়তে না যায়?"
সত্যি তো! একথা ওরা একবার ও ভাবেনি। পড়তে না গেলে কি করে এখন আসবে?
আরও কিছু সময় অপেক্ষা করে বাড়ির দিকে ফিরতে লাগল ওরা। এদিকের রাস্তাটা আলোআঁধারি। রাস্তার পাশে বুনো লতার ঝোপ ঝাড় । হঠাৎ একটা গোঁগানির অস্পষ্ট শব্দ পেল পাশের কোনো ঝোপ থেকে। পাঁচজনেই থমকে দাঁড়াল। সুমন মোবাইল টর্চটা অন করে ঝোপের মধ্যে উঁকি দিল। একটা মেয়ে পড়ে আছে। গায়ের জামাটা অনেক ছেড়া। চুলগুলো এলোমেলো। মুখটা লাল হয়ে আছে। মনে হয় কামড়ানোর দাগ।
— "রেপ!" সুমন জোরে বলে উঠল। বাকি সবাই ঝোপের ভেতর উঁকি দিল।
মেয়েটিকে দেখে অনুপমের ভিতরটা চমকে উঠল। পা টলতে লাগল । দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না,বসে পড়ল মেয়েটির পাশেই। অস্ফুটে বলে উঠল,— "অনুরাধা!"
কি বলছিস! ভাল করে দেখ,— সবাই এক সাথে বলল।
অনুপম মেয়েটিকে কোলে করে রাস্তার পাশে ঘাসের উপর আনল।–"এই দেখ, সেই জামা, সেই ঠোঁট, সেই চোখ,সেই মুখ....।" অনুপমের বুক ফেটে যেন কান্না বেরিয়ে আসছে।
-"রেপ কেস! ভাই ফেঁসে যাব; চল আগে পুলিশে খবর দিই।"— সুমন বলল।
অনুপম শুনল না। সবাই মিলে অনুরাধাকে ওদের ক্লাব ঘরে নিয়ে গেল। নিজের জামা খুলে পরিয়ে দিল অনুরাধা কে। ঘন্টাখানেক শুশ্রূষা র পর অনুরাধা চোখ মেলে তাকাল। অনুপম কে দেখে চিনতে পারল। মাথা নীচু করে দরজার দিকে পা বাড়াল। অনুপম , অনুরাধার হাত টা ধরে কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরল,
– "কোথাও যাবে না তুমি। আমি তোমাকে ভাল বাসি, আর সারা জীবন ভালবাসব। আমি সারা জীবন তোমার সাথে থাকব।"
সিনেমার মতো এক নিমেষে ঘটনাটা ঘটে গেল চোখের সামনে। বন্ধুরা হতবাক হয়ে চেয়ে আছে। অনুরাধা অসহায় চোখে,অনুপমের দিকে তাকাল,দুজনরই চোখ বেয়ে জল পড়ছে।
বন্ধুরা অনুপম কে টেনে ক্লাব ঘরের বাইরে নিয়ে গেল।– "কি বলছিস তুই জানিস? এ ঘটনা সবাই জেনে যাবে। কাকুর পাড়ায় একটা সন্মান আছে। সারা পাড়া ঢি ঢি পড়ে যাবে। সবাই ছি ছি করবে.....।"
অনুপম কারও কথা শুনলো না,শুধু আকাশের দিকে চেয়ে মনে মনে বলে উঠল,—            ভালবাসা  নীল আকাশে মতো। মন্দির, মসজিদ,গীর্জা,ফুলের বাগান,নোংরা,আবর্জনা, বেশ্যাখানা যেখানেই দাঁড়িয়ে দেখ না কেন, ঐ একই নীল আকাশ কে দেখতে পাবে। অনুরাধা আমার কাছে নীল আকাশ।"
স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১২)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা