Skip to main content

Posts

Showing posts from January, 2017

রাতের বিভীষিকা ~ছোট গল্প [স্বদেশ কুমার গায়েন]

এঘাটে-ওঘাটে ধাক্কা খেতে খতে অবশেষে রেল পুলিশে একটা চাকরী পেলাম। আমার পোস্টিং হয়েছিল খড়গপুর। বাড়ির সবাই তো খুশি। আমারও যে খুব একটা খারাপ লাগছিল তা নয়। কিন্তু বাড়ি ছেড়ে অত দূরে গিয়ে চাকরী করতে হবে ভেবে কষ্ট হচ্ছিল। যাইহোক,নিদিষ্ট দিনে বাক্স,প্যাঁটরা গুছিয়ে রওনা দিলাম খড়গপুর। চাকরীতে যোগ দেওয়ার পর, আমার ডিউটি পড়ল খড়গপুর থেকে টাটানগর লাইনে যেতে ঠিক তিনটি স্টেশন পর একটা ফাঁকা মাঠের মধ্যে। — কি, অবাক হলেন তো! আমিও প্রথম অবাক হয়েছিলাম। একটা ফাঁকা মাঠের মধ্যে আর.পি.এফ. এর কি ডিউটি থাকতে পারে? আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস অ্যাক্সিডেন্টের কথা। তারিখ টা ২৮ মে, ২০১০। একটা ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনা পশ্চিমমেদনীপুরের খেমাশুলি ও সারদিয়া স্টেশনের মাঝে। হ্যাঁ, খবরের কাগজে পড়েছিলাম সেই সময়,কিন্তু সেই দুর্ঘটনাগ্রস্থ এক্সপ্রেস ও মালগাড়ীর বগি পাহারা দেওয়া আমার ডিউটি হবে, সেটা কখনো কল্পনাতেও ভাবিনি। দুপুরে দুজন পুলিশ আমাকে পৌছে দিয়ে গেল আমার ডিউটি স্থানে। যদিও আমি একা নই, একজন সিনিয়র পুলিশ ও থাকবেন আমার সাথে। আমার ডিউটি স্থানে পৌঁছে, চারিপাশে যতদুর দূর চোখ যায় একবার তাকালাম। ফাঁকা, ধূ ধূ মাঠ।মাঝে

আমার অদ্ভূত যত শখ ~ স্বদেশ কুমার গায়েন

শখ জিনিষ টা বড়ই অদ্ভূত। অনেকটা নেশার  মতো মাদকতা ঢেলে দেয় মনের মধ্যে। একটা আনন্দের শিহরন জাগায় মনের কোনো।শখের  বসে মানুষ কত কি যে করে ফেলতে পারে, তার   কোনো দিশা নেই। আর শখের জিনিষ হারিয়ে   গেলে? এর থেকে মনে হয় বেশি কষ্ট মানুষ আর  পায় না। আমার যেমন শখের কোনো অন্ত ছিল না।    অদ্ভূত অদ্ভূত সে সব শখ। বিভিন্ন জিনিষের প্রতি    বার বার আকর্ষিত হয়েছি আমি। আর শখের    জিনিষ হারিয়ে যাওয়ার যন্ত্রনা-দু:খ বার বার     অনুভব করেছি।কোনো দামি জিনিষ হারিয়ে   গেলে, এতটা কষ্ট আমি বোধহয় অনুভব করেনি।    ছোটো বেলায় যেমন একসময় ফুলের বাগান    তৈরী  করার নেশা চেপে বসেছিল। কি অদ্ভূত সে    নেশা! নানা জায়গা ঘুরে ঘুরে ফুলের চারা সংগ্রহ   করে  বাড়িতে এনে একটা নিদির্ষ্ট জায়গাতে   লাগানো।  কত রকমের গাঁদা ফুল, জবা ফুল,   ঘাস ফুল,  বেল ফুল, অপরিজিতা, টগর,   মোরগজটা,   দোপাটি...। সকাল বেলা ঘুম থেকে   উঠেই জল  বালতি আর মগ টা নিয়ে বাগানে    চলে যাওয়া।  তারপর সেই গাছে ফুল ফুটলে    এক অনাবিল আনন্দে শিহরন জাগতো মনে।  কিন্তু একদিন এক  ছাগলে, সব  লোপাট করে  দিল।  কষ্ট হয়েছিল  সেদিন। তখন আমার বয়েস অনেক কম। হঠাৎ একদিন বাজনা বাজান

নন্দিনী,তোমায় নিয়ে গল্প হোক ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

[ এই লেখাটির সম্পর্কে কিছু কথা : গল্পটির মূল ঘটনা কাল্পনিক নয়। শুধু লেখার ধরনে ও প্রেক্ষাপটে কল্পনার ছোঁয়া আছে। গল্পটি আমার এক বন্ধু নন্দিনীর জীবনের গল্প। নন্দিনীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ফেসবুকে। তারপর তার মুখেই এই ঘটনা গুলো আমার শোনা। ] ছেলের কথা শুনে নন্দিনী বলল,-" আর কোনো, প্রশ্ন নয়।আমি কিছু বলবো না।" আজ ফাদার্স ডে উপলক্ষে স্কুলে একটা অনুষ্ঠান ছিল।অনুষ্টান শেষ হওয়ার পর,পার্কিং এর জায়গা থেকে গাড়ি বের করলো নন্দিনী।তারপর স্টার্ট করে,কালো রঙ ঢালা সোজা পিচ রাস্তা ধরল।সে নিজেই ড্রাইভ করছে।সফট ইংরেজী মিউজিক চলছে গাড়ীর ভিতরে।একদম নীচু স্বরে। পাশের সিটেই বসে আছে ছেলে প্রিন্স। প্রিন্স ক্লাস এইটে পড়ে।শহরের একটা নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। মায়ের কথায় জেদ ধরল প্রিন্স। বলল,-"না,আজ তোমায় বলতে হবে,আমার বাবা কে?" -"আমি তো তোমাকে আগেই বলেছি,তোমার মা আমি,বাবা ও আমি।" -"মোটেও না,বাবা রা আলাদা হয়। তাদের গোঁফ-দাঁড়ি থাকে।" হেসে ছেলের মাথায় হাত বোলালো নন্দিনী।-"আচ্ছা,তবে কাল থেকে আমি গোঁফ-দাঁড়ি পরে ঘুরবো।" -"তাহলে,সবাই যেটা বলে সেটা ঠিক।" চমকে উঠল ন

প্রেমিকা ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

প্রেমিকা ~ছোট গল্প  (১) এই নিয়ে পাঁচবার রিং হয়ে গেল। তবুও ফোন টা তুললো না। এ মেয়ে টা কে নিয়ে সত্যি পারা যায় না।বিরক্ত হয়ে আরও একবার নাম্বার টা ডায়েল করলাম।সেই ঘ্যান ঘ্যানানি বিরক্তিকর শব্দ হতে হতে ফোনটা কেটে গেল। সাড়ে ন'টা বেজে গেছে অনেক আগেই।এতক্ষন ওর অফিস ও ছুটি হয়ে গেছে।তবুও ফোন টা কেন ধরছে না? আমি শিওর ও নিশ্চয় ওখানে আছে। আসলে আমি জানি, এই রাতে ও কোথায় থাকতে পারে।ওই একটাই জায়গা ওর এখন ভালো লাগে। কি করি এখন এই রাতে? টেবিলের উপর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি,রাত সাড়ে দশটা।জলদি প্যান্ট টা পায়ে,আর জামাটা মাথায় গলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।নীচে সিড়ির কাছে আমার বাইক রাখা আছে।লাইট জ্বালানোর সময় নেই। অন্ধকারে কোনোরকমে সেটা বের করি।তারপর দু'বার কিক মেরে স্টার্ট দিই। মফস্বল শহর।তবুও কলকাতার কাছাকাছি হওয়ার জন্য,শহুরে প্রভাব টা একটু বেশি। কলকাতার মতো একটা আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আছে।মেয়েরা বাইরে কাজে যায়, অফিস করে,রাতে বাড়ি ফেরে। পোষাক-পরিচ্ছদে আধুনিকতার ছোঁয়া। রাতের রাস্তায় এই মুহুর্তে খুব একটা লোক চলাচল করছে না।ফাঁকা ফাঁকা রাস্তা।দু'পাশে ল্যাম্পপোস্ট গুলো বোকার মতো মাথা নত করে একাকি দাঁড়িয়

ভালবাসার ভাল মন্দ ~ ছোট গল্প

                —"চিনতে পারছিস বন্ধু?" ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম। একটা অচেনা লোক। লোক বলা ভুল।বয়েস খুব বেশী হবে না, আমারই বয়েসি। এই ছাব্বিশ কি সাতাশ। চোখ দুটো বসা, গলার হাড় দুটো বেরিয়ে গেছে, লম্বা চওড়া চেহারা,মাথায় উসকো খুসকো চুল। দেখলে বোঝা যায় একসময় চেহারা খুব ভাল ছিল, শরীরের প্রতি যত্ন না নেওয়ার ফলে এখন এরকম হয়েছে। মফস্বলের ছোট্টো স্টেশন ।বিকেলের প্লাটফর্মে বসে দূরের লালচে আকাশটিকে দেখছিলাম। সূর্য টা যেন ধীরে ধীরে সবুজ মাঠের ওপারে ডুবে যাচ্ছিল। দুরের কালো কালো বাঁশবনের উপরে সারি সারি বক পাখির দল যেন বক ফুল হয়ে বসে আছে। আর সেই সাথে দখিনের সমীরন ঘর্মাক্ত মুখে বরফ ছিটিয়ে দিচ্ছিল, মনে মনে একটা রোমান্টিক পরিবেশ সৃষ্টি করে বসে ছিলাম। আর ঠিক এমন সময়ে, এই রকম এক আধ পাগল ছেলের ডাক আমাকে স্বর্গ থেকে ভূপৃষ্ঠে নামিয়ে আনল। অবাক হয়ে ছেলেটিকে দেখছি, চোখ দুটো কেমন চেনা চেনা লাগছে। — "চিনতে পারছিস না?" আবার জিজ্ঞেস করলো ছেলেটি। আমার পাশে বসে ছেলেটি। কেমন যেন অস্বস্তি হয়। আমতা আমতা করে বলি, — "চেনা চেনা লাগছে অনেকটা।" — "কেমন আছে বিথি?" চমকে উঠি আমি। আমার স্ত্রীর নাম

আমার গল্পের নায়িকা ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

সোঁ সোঁ শব্দে ঝড় টা এসে এক ঝাপটায় ঘরের টেবিলের উপর কাগজ পত্র গুলো এলোমেলো করে দিল আর সেই সঙ্গে মেঘ ভেঙে ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। উড়তে থাকা গল্পের পান্ডুলিপি গুলো কুড়িয়ে হাতের ঘড়ির দিকে চাইলাম।ঘড়িতে দশ টা বেজে বিশ মিনিট। উফ! কি জোরে বৃষ্টি নামল রে।  তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে দিলাম। বাইরে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি, আর মেঘের গজরানি বেড়েই চলেছে। এত কিছুর মধ্যে বিদ্যুৎ এর আলো টা যে যায়নি, এটাই অনেক। গল্পের পান্ডুলিপি গুলো একের পর এক সাজিয়ে আবার লিখতে বসলাম। এবার আমার একটু পরিচয় দিই। আমার নাম রনদীপ সেন, বয়েস আঠাশের কাছাকাছি। একটা সরকারি স্কুলে পড়াই, আর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একটু লেখালেখি করি। জন্মের পর ঘরের দেওয়ালের ছবিতে বাবাকেই দেখেছিলাম, আর বছর দুই হল মা ও গত হয়েছেন। তিনকুলে কেউ না থাকায়, একাই সংসার চালাচ্ছি বেশ ভালই। আমার এই আগোছালো জীবনে দ্বিতীয় কাউকে আর আনার প্রয়োজন ও মনে করিনি। নতুন একটা গল্প লেখা শুরু করছি, পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধে। বেশ কিছু পেজ লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি টা এসে সব পন্ড করে দিল। আমার গল্পটি একটু বড়,পর্যায় ক্রমিক, নারী কেন্দ্রিক।— একটা মাতৃহারা মেয়ের জীবনযুদ্ধের কাহিনি।

একটি প্রেমের গল্প ( ছোট গল্প)

(১) বাথরুমের দরজায় খট করে একটা আওয়াজ হল।নুপুর স্নান সেরে বেরুলো।ভিজে ভিজে শরীর। কোমোরে একটা গোলাপি রঙের টাওয়েল জড়ানো।টেপ টা কোথায় রাখলাম আবার?-"মা,আমার প্যান্টি টা কোথায়?"-হাঁক ছাড়লো নুপুর। -"উফ! আমি জানবো কি করে?আমি কি পরি?মেয়ে একটা হয়েছে আমার!স্নানে ঢোকার আগে কোনো কিছুই ঠিক করে রাখবে না।" কিচেন থেকে বিরক্ত মুখে জবাব দিলেন নূপুরের মা। -"পেয়েছি।".. ঠিক তখনি,অরিজিৎ সিং এর গলা আওয়াজ।না! রিয়েল নয়,'বদলাপুর' থেকে। বেডের উপর রাখা সাত ইঞ্চির ফোন টা বেজে উঠল।-" চাদরিয়া জিনি রে জিনি...।"বিরক্ত হল নূপুর।শিওর বেআক্কেলে রিজুর ফোন।নইলে এরকম বেটাইমে একমাত্র ওই ছাড়া আর কেউ ফোন করে না।যখন সে,আয়নার সামনে ড্রেস চেঞ্জ করবে,কখনো টয়লেটে ঢুকবে, অথবা টয়লেট করে বেরোবে,ঠিক তখনি ওর ফোনটা আসবে।এর আগে এরকম ঘটনা অনেক বার ঘটেছে।আর ফোনটা রিসিভ করলেই,আগে জিজ্ঞেস করবে,-"কি করছিস?" মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বলি যে,আমি ড্রেস খুলছি।নিতান্ত ছোটো বেলার বন্ধু তাই কিছু বলতে পারি না।বিরক্তিকর হলেও তবু ছেলেটি ভাল।একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। যেটা নূপুরের ও ভাল লাগে। আজও নূপুর

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

কৃপণ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

—" আজ বাড়ি ফেরার সময় বাজার থেকে ইলিশ মাছ আনবে, বাবু খেতে চেয়েছে। আর শোনো , সেন দের দোকান থেকে আমার জন্যে দুটো শাড়ি,আর বাবুর জন্যে দু সেট জামা প্যান্ট মার্কেটিং করে আনবে।" সকালবেলা উঠে গিন্নির মুখ ঝামটা আর ফর্দ শুনে বিমলবাবুর কপালে ভাঁজ পড়ল। খবরের কাগজটা বন্ধ করে চায়ের কাপে চুমুক দিলেন। চা টা যেন কেমন বিস্বাদ লাগল। বিরক্ত হয়ে বললেন,— "চা য়ে একটু বেশি করে চিনি দিতে পার না?" রান্নাঘর থেকে গিন্নির গলার আওয়াজ উঠল, — "চিনি থাকলে ঠিক দিতুম। আড়াইশো চিনি এনে পনেরো দিন চালাতে বলবে,তো কি করে চলবে, শুনি?" গিন্নির মেজাজ এখন খুব গরম আছে,তাই চুপ করে যাওয়াই মনস্থির করলেন। যদিও প্রতিদিন ই এরকম মুুখ ঝামটা শুনতে হয়, অন্য দিন হলে মাসের শেষ বলে কাটিয়ে দিতেন কিন্তু আজ তো মাসের প্রথম; বেতন তোলার দিন। চায়ের কাপে দ্বিতীয় চুমুক না দিয়ে, আবার খবরের কাগজ টা খুললেন বিমলবাবু। রান্না ঘর থেকে চিনির কৌটা টা এনে বিমল বাবুর সামনে রাখলেন গিন্নি।— "সব নেবে না। বাবুর দুুধে ও একটু দিতে হবে ।" গিন্নির এই একটা জিনিষ তার খুব ভাল লাগে। যতই মুখ ঝামটা , কথা শোনাক না কেন, ভালবাসা

অমানুষ~ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

ফোনের রিং এর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল আকাশের। ঘুম জড়ানো চোখেই ফোনটা রিসিভ করল সে।— "হ্যালো!" ওপার থেকে দিদির গলার আওয়াজ শুনতে পেল।— "ভাই, তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়। বাবার শরীর টা ভাল নেই রে।" অনেকদিন ধরেই আকাশ শুনে ছিল বাবার শরীর টা ভাল যাচ্ছে না।বয়েস ও অনেক হয়েছে। মন টা খারাপ হয়ে গেল আকাশের। তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে, ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ল। পাঁচ টা তিরিশের শিয়ালদহ লোকাল, তারপর আবার শিয়ালদহ থেকে বারুইপুর লোকাল। স্টেশনে ঢুকেই ট্রেনের হর্নের শব্দ পেল আকাশ। ছুটতে ছুটতে কোনোরকমে, একটা কামরায় উঠে জানালার ধারে সিটে বসে পড়ল। প্লাটফর্ম ছেড়ে দিয়েছে ট্রেন,একরাশ ঠান্ডা বাতাস জানালা  ঘর্মাক্ত মুখে আছড়ে পড়ল। হঠাৎ কথাটা মনে পড়ল আকাশের।— আজ তো আরোহী কে হসপিটল থেকে আনার দিন। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে কথাটা বেমালুম ভুলে গিয়েছে সে। এবার একটু আগে থেকে শুরু করা যাক। আরোহী সেন, আমার গল্পের নায়িকা। ইংরেজী অনার্স, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, সুশ্রী, শহুরে স্মার্ট মেয়ে। গায়ের রং ধবধবে সাদা না হলেও, একেবারে আবার কালো ও বলা যায় না। চিকন চেহারা, মুখটা একদম বাচ্চাদের মতো। গ্রাজুয়েশন শেষ করে একটা হাইস্কুলে চাকরী পেয়েছ

মেঘ–রৌদ্দুর ~ ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

(১) ক্লাস ঘরের জানালার পাশের বেঞ্চটিতে বসে আছে মিতালি। এরকম টিফিন আওয়ারে,সে ঘরে বসে থাকার মেয়ে নয়।তবু আজ বসে আছে। জানালার বাইরে একটা বড় পেয়ারা গাছ, মাথা দোলাচ্ছে। সেটার দিকে তাকিয়ে মুখ গুমরে গুমরে কাঁদছে মিতালি। মা,বাবা বকাবকি করলে অনেকসময় একটা শিশু যেমন করে, ঠিক তেমন।কোনো শব্দ হচ্ছে না।শুধু চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে।মাঝে মাঝে হাত দিয়ে চোখের জল টা মুছে নিচ্ছে।কিন্তু মিতালি তো বাচ্চা নয়! সে এবার ক্লাস নাইনে উঠেছে । যতেষ্ট বড়,তাকে দেখলে কেউ বাচ্চা বলবে না। যেদিন তার মা বলে দিয়েছে,–পাড়ার ছেলে গুলোর সাথে আর মেলামেশা বন্ধ কর,তুই এখন বড় হয়ে গেছিস। সেদিনেই মিতালি বুঝে গেছে,সত্যি সে হয়তো বড় হয়ে গিয়েছে।কিন্তু তার কান্নার কারন কি? টিফিনের আগের পিরিয়ডে শিক্ষকরা কি বকাবকি করেছে?– না সেরকম তো কিছু ঘটেনি।তবে কি প্রেম ঘটিত কেস? না, সেটাও নয়। তবে এই বয়েষে একটা মেয়ে কি কারনে কাঁদতে পারে? টিফিনের সময় তার সব বন্ধুরা একে একে বাইরে চলে গেল,কিন্তু সে না গিয়ে,বেঞ্চে বসে বসে চোখের জল ফেলছে। স্কুল টা সরল রেখার মতো সবুজ মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে। দোতলা বিল্ডিং।নীচের তলার, ক্লাস নাইনের ঘরের ঠিক পাশেই টিচার্স রুম।

শাস্তি~ ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]

– "আমার একটা ছেলে চাই!" রাতে ঘরে ফিরে জামাটা খুলতে খুলতে নরেন বলল। মিনতি খাটের উপর শুয়ে শুয়ে শরৎচন্দ্রের একটা গল্পের বই পড়ছিল। নরেনের কথা শুনে কেউটে সাপের মতো ফোঁস করে উঠল,-" কেন,ছেলে কেন? আমার একটা মেয়ে হলেই হবে।" বিয়ের চার বৎসর পর মিনতি যখন সন্তানসম্ভবা হলো,তখন বীরেন্দ্র নাথের বাড়ি,একপ্রকার উৎসবের ধুম পড়ল। বীরেন্দ্রনাথ মুখুজ্জে,গ্রামের সব থেকে ধনী ব্যক্তি।পৈতৃক ভিটে বাড়ি, জমি– জমা মিলিয়ে প্রায় ষাট বিঘে মতো সম্পত্তি। তার উপর নিজ চেষ্টায় চার–পাঁচ রকমের ব্যবসা সাজিয়েছেন। বাজারে বড় বড় দুটো গারমেন্টস এর দোকান, রাসয়ানিক সারের দোকান,এছাড়া ডেকোরেটিং এর জিনিষপত্র তো আছেই।নিজে লোকজন নিয়ে জমি জায়গা গুলো দেখাশোনা করেন। আর ছেলে নরেন্দ্রনাথ ব্যবসা–বানিজ্য একা হাতে সামলায়। বি.এ পাশ করানোর পর ছেলেকে আর লেখা পড়া করান নি। বাবার এত সম্পত্তি, ব্যবসা–বানিজ্য দেখা শোনা করার তো একটা লোক চাই? তার ছেলেকে না পড়িয়ে ব্যবসার কাছে লাগিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে গৃহকর্তা বীরেন্দ্রনাথের দাপট অনেক খানি। ছেলে নরেন্দ্রনাথ ও বাবার সামনে মুখ তুলে কথা বলতে পারে না। শুধু বাড়ি বলে নয়, পাড়ায়ও তার দাপট দেখার মতো।