Skip to main content

কবিতা:

তিস্তা রায়ের কবিতা পড়ুন 'কঙ্কাবতী'


ছিদাম ভাওরার বিটি আমি
কঙ্কাবতী নাম
কেলাসে কেলাসে ফার্স্ট হইতাম
কইরতাম বাড়ির কাম।

গরিব ঘরের বিটি আমি
বড় হইবোক বটে
কী কইরা বাপ টাকা জোগাইবেক
ছাউনির কাজ মোটে।

তখুন বয়স পনের বছর
দেকতি আমার গ্রাম
শহর থিকা এক সাহেব আইলেন
জাইনলেন মোর নাম।

ছিদাম ভাওরার বিটি আমি
পায়ে ফেইলবোক ঘাম
ওঁরাও চাষার মাইয়া হলেও
জানি শিক্ষার দাম।


সাহেব শুনে খুশী হইলেন
কইলেন বাপটারে
শহরে গিয়া যদি পড়াশুনা করি
নিয়ে যাইবেন আমারে।

মা বাপেরে কাঁদাই বোঝাই
কইলকাতায় এলাম
সাহেবের কোয়ার্টার থাইকা
নতুন ইস্কুল গেলাম।

পড়াশুনায় বছর ঘোরে
তিনি চাওয়ার আগেই দ্যান
সাহেব আমার দেবতা সমান
ভালোবাসি তাঁরে,করি সম্মান।

উচ্চমাধ্যমিকে জেলায় প্রথম
কলেজ ভর্তি এইবার
হঠাৎ বাপ মোরে নিতি আইসলো
গেরামে যাবার দরকার।

খুশিমনে তখন ট্রেনে চড়লাম
বাড়ি ঢুইকবার আগেই
জানতে পারলাম বিয়ে আমার
দশদিন পর,মাঘেই।

শিউরাই উঠি তখুনি মুই
দরজা দিলাম ঘরে
সাহেবের দেওয়া ফোনডা লইয়া
কল কইরলাম তারে।

জানা নেই বাপ কী কইয়াছিলো
তাঁরে দিলে মুই ডাক
তিনি কইলেন"যাব বিয়ে খেতে"
আমি স্তব্ধ,নির্বাক।

ফোনডা কাইড়া,বন্দী কইরা
বিয়ে আমার হলো
ছিদাম ভাওরার বিটি আমি
দেকতে শুনতে ভালো।

রোজ রাইতে তাই পিশাচ আসে
মদের গন্দ মুখে
যন্ত্রনা আর চিৎকারে মুই
দিন কাটাইতাম সুখে।

একটা বছর গড়াইলো তবু
শেষকালে এক রাতে
স্বামীদেব মোর ঘরে আইসলেন
রক্তমাখা হাতে।

মোর মতনই কোন মাইয়া নাকি
পড়ালিখা করেছিলো
সালিশির পর সাতপশু মিলা
তারে শ্যাষ করে এল।

সেই রাইতেই গ্রাম ছাড়লাম
পুলিশের কাছে যাব
ভাইবতে পারিনি একভাবে আমি
আরো ধর্ষিতা হব।

মোর পোড়া দেশে মেয়ে হইয়াছি
মরণ আমার লাই
তিনদিন পরে ধুঁইকতে ধুঁইকতে
সাহেবের বাড়ি যাই।

দেইকলাম তাঁর ভাবী স্ত্রীরে
লালরঙা চারচাকা
সাহেবের মুখে শুদু সুখ ঝরে
চারিদিকি ঘিরে টাকা।

তবু মরি লাই,মইরবোক ক্যান
কুত্তারা সব হন্যে
মেয়ে ইস্কুলি রান্না ধইরলাম
বাঁইচবো নিজের জন্যে।

এরপর গেলো বছর তিরিশ
রান্নার মাসি লয়
রাইজ্যের এক নারী প্রতিনিধি
দিকে দিকে মোর জয়।

ছিদাম ভাওরার বিটি নয়কো
কঙ্কাবতী আমি
মোর কাছে আজ প্রতিবাদই তাই
শিক্ষার চেয়ে দামী।।

~

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা