Skip to main content

নীলাঞ্জনার প্রেম - মিষ্টি প্রেমের ছোটো গল্প

বাংলা প্রেমের ছোটো গল্প ( Bengali Love Story)   - নীলাঞ্জনার প্রেম


প্রেমের ছোটো গল্প

[ গল্প টি সম্পর্কে : 'নীলাঞ্জনার প্রেম' একটি কলেজ মিষ্টি প্রেমের ছোটো গল্প। গল্পটি লিখেছেন - স্বদেশ কুমার গায়েন ]


প্রেমের গল্প - 'নীলাঞ্জনার প্রেম '


(১)

নীলাঞ্জনার মুখে এরকম একটা কথা শুনে, আমার ভিরমি খাওয়ার অবস্থা হল।আরেকটু  হলে বেঞ্চের উপর থেকে উলটে নীচে পড়ে যেতাম....।

নীলাঞ্জনা আমার বন্ধু। একদম ছোটোবেলার বন্ধু। নীলাঞ্জনা কে যখন আমি দেখি,তখন দু'জনই কথা বলতে শিখিনি।বসতে শিখিনি,দাঁড়াতে শিখিনি।প্যান্ট ও পরতাম না।সেই রকম বয়েস থেকে আমাদের এক সাথে বড় হওয়া। আমাদের পাশের বাড়িটা নীলাঞ্জনা দের।ছবির মতো সাজানো গোছানো বাড়ি। অনেক পাহাড়ি বাংলোর মতো।কোমর সমান উঁচু পাঁচিল ঘেরা বাড়িটার ঢোকার পথেই ছোটো একটা ফুলের বাগান। তার ভেতর বসার জায়গাও করা। বিকালে বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য। ওর বাবা মানে,শোভন কাকু পুলিশের বড় অফিসার।মা ও নাকি স্কুলে চাকরী পেয়েছিল।কিন্তু সংসারের ব্যস্ততায় করা হয়ে ওঠেনি। বীরভূম থেকে ট্রান্সফার হয়ে এখানে আসার পর,আমাদের বাড়ির পাশেই জায়গা কিনে ঘাঁটি গেড়ে বসে যায়। জায়গাটা আমাদেরই ছিল।মোট ছ'কাঠা জায়গা।তিন কাঠা জায়গা বাবা শোভন কাকুর কাছে বিক্রি করে দেয়।বাবা মনে করতো,বাড়ির পাশে একটা বড় পুলিশ অফিসারের ঘর থাকলে মন্দ হয় না! অনেক কিছু সুবিধা,সেফটি পাওয়া যায়। আর সেই জায়গা কেনা-বেচার সূত্রে বাবার সাথে শোভন কাকুর বন্ধুত্ব।শুধু বন্ধুত্ব নয়,একেবারে জমাটি বন্ধুত্ব।একদম গলায় গলায় ভাব।

আরও পড়তে ক্লিক করুন : ছোটো গল্প ' গার্লফ্রেন্ড'

আমার থেকে ছ'মাসের ছোটো নীলাঞ্জনা। না,ছ'মাস কুড়ি দিন হবে। একদিন অঙ্ক কষে নীলাঞ্জনা বলেছিল।গড়পড়তা মেয়েদের থেকে একটু লম্বা চেহারা,ফর্সা, চিকন, পাতলা শরীর,টোল ফেলা গাল, টানা টানা চোখ,সাজানো ভুরু, মাথায় কালো চুলে ভরা।পাতলা ঠোঁটের ফাঁকে সাদা ঝকঝকে দাঁতের সারি।এত কিছু না বলে এক কথায় বিউটিকুইন বলে দিলেই মিটে যেত। তাহলে আপনারাই ধারনা করে নিতে পারতেন, নীলাঞ্জনা কতটাই আকর্ষনীয়।হ্যাঁ,ওর চোখের আকর্ষন আছে,হাসির আকর্ষন আছে, ঠোঁটের আছে,শরীরের ও একটা আকর্ষন আছে।তবে আমার কাছে ওর কোনো কিছুর আকর্ষন নেই। এগুলো আমি ওর চারিপাশে আগাছার মতো ঘিরে ঘুরপাক খাওয়া কলেজের ছেলে গুলোর চোখ,মুখ,ঠোঁট দেখে বুঝতে পারি।
ছোটো বেলা থেকেই আমরা এক সাথেই পাশাপাশি।নার্সারি,হাইস্কুল,কলেজ, খেলার মাঠ,সব জায়গায় একইসাথে।নীলাঞ্জনা ছেলেদের একদম সহ্য করতে পারে না।মনে হয়,গত জন্ম থেকে ছেলেরা ওর শত্রু ছিল!
নেহাত,আমি ছোটো বেলার বন্ধু তাই ওর পাশে আজও টিকে আছি।ছোটো থেকে আজ পর্যন্ত যত গুলো ছেলে ও কে লাভ লেটার দিয়েছে,সব গুলো তাদের সামনেই কুচিকুচি করে ছিড়ে দিয়েছে।কলেজে ওঠার পর একদিন একটা ছেলে ও কে প্রেম নিবেদন করেছিল।নীলাঞ্জনা তাকে সবার সামনে বলেছিল,-"প্রেম করার বয়েস হয়েছে তোর? আগে সোজা হয়ে দাঁড়া,তারপর প্রেম করতে আসবি।"
ছেলেটি লজ্জায় আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি।আর সেই নীলাঞ্জনার মুখে আজ যখন প্রেমে পড়ার কথা শুনলাম,তখন আমার ভিরমি খাওয়ার অবস্থা হল।আরেকটু হলেই বেঞ্চ থেকে উলটে পড়ে যাচ্ছিলাম।

(২)

সেদিন পি.যাদব স্যারের ক্লাস শেষ হতেই আকাশে মেঘ করে এল। টিপ টিপ করে বৃষ্টিও পড়তে শুরু করেছিল বেশ কিছু সময় আগে থেকে।এরপর কম্পলসারি বাংলা ক্লাস।তাই ক্লাস রুম থেকে সবাই বেরিয়ে পাশের ক্লাসে চলে গেল বাংলা ক্লাস করতে।শুধু নীলাঞ্জনা গেল না।লাস্ট বেঞ্চে বসে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে এক মনে তাকিয়ে যের বৃষ্টির ফোঁটা গুনছিল। নীলাঞ্জনা কেন গেল না?এরকম তো কোনোদিন করে না মেয়েটা!
আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম।ও আমার দিকে একবার তাকালো।তারপর আবার জানালা দিয়ে বাইরে চোখ রাখলো।জানালার বাইরে
বেল ফুলের ঝাড়।সাদা সাদা ফুল ফুটে আছে।হাওয়ায় তার গন্ধ ভেসে এসে ক্লাসরুম টি ভরিয়ে দেয়।সেই সাথে বৃষ্টির গন্ধ।টিপ টিপ করে এখনো বৃষ্টি পড়ে চলেছে সবুজ পাতাগুলোর উপর।
আমি হেসে বললাম,-"কি ব্যাপার! বাংলা
সিনেমার নায়িকার মতো এরকম উদাস নয়নে বাইরে তাকিয়ে আছিস কেন?ক্লাসে গেলি না?"
আমার দিকে না তাকিয়েই নীলাঞ্জনা উত্তর
দিল,-"ভালো লাগছে না কোনো কিছু।"
সবারই এরকম হয়।কখনো কখনো কিছু করতে ভালো লাগে না।বিরক্তি লাগে।অস্বস্তি হয়।গায়ে ঝালাপালা ধরে।কিন্তু নীলাঞ্জনা কে ছোটো থেকে এরকম অবস্থায় কখনো দেখিনি।মাঝে মাঝে একটু রাগ করেছে,এই যা।তাই ওর কথা শুনে একটু অবাকই হয়ে গেলাম আমি। বললাম,
-"কি হয়ছে বল না?"
-"আমি মনে হয়
প্রেমে পড়েছি!"বলল নীলাঞ্জনা।
আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল।চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল।-"বলিস কি রে!কবে,কোথায়,কখন,
কিভাবে?"
আমার দিকে ট্যাঁরা চোখে তাকিয়ে সে বলল,-"বেশি হেঁয়ালি করবি, তো কিছুই বলবো না।"
-"আচ্ছা করবো না।তো কার প্রেমে পড়লি?"
-"কার আবার! একটা ছেলের প্রেমে।"
-"ছেলে কেন? মেয়ের প্রেমে পড়তে পারিস না!"
কথাটা বলে আমি হাসলাম।কটমট করে তাকালো নীলাঞ্জনা।বলল, -"দীপ! এরকম করবি তো আর কিছু বলবো না।"
-"সরি।বেশ আর করবো না।এবার বল ছেলেটা কে?"
-"আমাদেরই কলেজে পড়ে।"
-"আমাদের কলেজে!"
-"হুম।"
-"ভালোই তো।তবে তার জন্যে এরকম ক্লাস বন্ধ করে,উদাস নয়নে বাইরে তাকিয়ে থাকার মানে কি?এত সুখবর!কোথায় ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খাওয়াবি,তা নয়..।"
-"বুঝতে পারছি না, ছেলেটি আমাকে
পছন্দ করে কিনা!"
-"তোকে পছন্দ করবে না এরকম কোনো ছেলের এখনো জন্ম হয়েছে?এরকম টুকটুকে সুন্দরী মেয়ে কে,বুড়োরা থেকে শুরু করে আজ যে জন্মেছে সে ও পছন্দ করে ফেলবে।"আমি হেসে ওর থুতনি টা ধরে একটু নাড়িয়ে দিলাম।
-"ধাৎ! তুই খুব বাজে বকিস!"বলল নীলাঞ্জনা।
-"আচ্ছা! আর বকবো না।তো, ছেলেটা দেখতে শুনতে ভাল তো?দেখ,ছেলে যদি রাজপুত্র না হয়,
তাহলে আমি কিন্তু তোর বিয়েতে রাজী হবো না।"
-"মোটামুটি ঠিক আছে।আর দেখতে খারাপ হলেও বা কি,আমি তো ও কে ভালোবেসে ফেলেছি।কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছি না,ছেলেটির মনে কি আছে আমার জন্যে!"

আরও পড়তে ক্লিক করুন : ছোটো গল্প ' কাশফুল'

আমার হাসি পায় নীলাঞ্জনার কথা শুনে।এ অনেকটা ভুতের মুখে রাম নাম শোনার মতো।মেয়েটা সত্যিই এবার পাগল হয়ে গেছে।
আমি টেবিলের উপর আঙুল বাজাতে বাজাতে
বললাম,-"তুই ছেলেটির দিকে আড় চোখে দেখিস?"
-"হ্যাঁ,দেখি।"
-"তখন ছেলেটি তোর দিকে তাকায় না?"
-"তখন তাকায় না।তবে অন্যসময় তাকায়।"
-"তোর দিকে তাকিয়ে হাসে?"
-"ওর মুখটাই কেমন যেন হাসি হাসি। তাই বুঝতে পারি না।কি যে করি?"
নীলাঞ্জনা চিন্তাগ্রস্ত মানুষের মতো কথা গুলো বললো।খুব বিষন্ন লাগলো ও কে।আমারও কষ্ট হল ওর সুন্দর মুখে,এরকম কালো বিষন্নতার ছায়া দেখে।ছোটোবেলার বন্ধু,তাই ওর যেকোনো সমস্যায় আমি পাশে থেকেছি আজ পর্যন্ত।
একটু ভেবে আমি বললাম,-"এক কাজ কর,ছেলেটির নাম বল,আমি কথা বলে দেখছি।"
-"যদি ইগনোর করে?"
-"তোকে! তোকে ইগনোর করবে
এমন কেউ আছে!"
-"আমার ঐ ভয় টাই তো করে।"
-"তাহলে,এত ভ্যানতাড়া না মেরে,সরাসরি নিজে গিয়েই ছেলেটির কাছে গিয়ে ভালোবাসার কথাটা জানিয়ে দে।তোর মুখ দেখে আর না করতে পারবে না।"
-"যদি আমাকে না বুঝতে চায়?.....এত করে বোঝানোর চেষ্টা করি, আড় চোখে তাকাই,তবুও ব্যাটা বুঝতে পারে না মনে হয়!ক্যাবলা মনে হয় একটা!"বলল নীলাঞ্জনা।
এবার আমার ছেলেটির উপর রাগ হল।প্রচন্ড রাগ।রেগে গিয়ে বলি,-"তোকে বুঝতে চাইবে না মানে?না বুঝতে চাইলে,ঠাটিয়ে সপাটে গালে একটা চড় কষিয়ে দিবি।এক পাশের দাঁত নড়ে গেলেই তবে সব বুঝতে পারবে।"
-"ঠিক বলেছিস তুই।"

কথাটা বলে নীলাঞ্জনা কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকলো।উঠে দাঁড়ালো।তারপর সপাটে আমার গালে একটা চড় মেরে ঝড়ের মতো দরজা দিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
এটা কি হল!
আমি চড় খাওয়া গালে একটা হাত দিয়ে দরজার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে বোকার মতো চেয়ে রইলাম।বাইরে বৃষ্টির শব্দ।ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে অশ্বথের পাতায়।


বি:দ্র : ভালো লাগলে, গল্পটি নীচের হোয়াটসঅ্যাপ বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে।

স্বদেশ কুমার গায়েন(২০১৬)

Tag :
বাংলা ছোটো গল্প
প্রেমের গল্প
মিষ্টি প্রেমের গল্প।
Bengali Love Story
Love Story in Bengali.
Short Love Story in Bengali.
Bangla Love Story
Bangla Premer Golpo 2020
Bhalobasar Golpo 2020. 

Comments

Post a comment

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ভূতুড়ে প্রেমের গল্প " ভূত হওয়ার পর "

(১) শালা! মরেও শান্তি পেলাম না! এই দেখুন,ভূত হয়ে বাবলা গাছের ডালে বসে আছি।এখন রাত ক'টা বাজে,কে জানে! ঘুম ঘুম পাচ্ছে।একটা ঘড়ির ব্যবস্থা যদি থাকত, তবে অন্তত বুঝতে পারতাম,ভোর হতে আর কত বাকি? সদ্য ভূত হয়েছি,তাই এখনো রাতের বেলা ঘুমের নেশাটা কাটেনি।তারপর মাথায় উপর টেনসন,বালির বস্তার মতো চেপে আছে। শালা! বলে কিনা,এখন প্রেম করতে হবে! আরে প্রেম কি,কলম করা গাছের আম নাকি? যে, গাছের নীচে গিয়ে দাঁড়ালাম,আর টকাস করে হাত দিয়ে পেড়ে খেয়ে নিলাম।জীবিত অবস্থায় যেটা হল না,সেটা নাকি এখন মরে গিয়ে করতে হবে! আবার বড় গলায় বলা,এটা এখানকার রুল। অপূর্ন কাজ গুলো এখানে পূর্ন করা।গুলি মারি তোর রুলের পিছনে....। আপনাদের মাথাও নিশ্চয় গুলিয়ে যাচ্ছে,আমার কথা শুনে।আমারও গিয়েছিল।তাহলে একটু আগে থেকে বলি শুনুন।যেদিন ট্রেনে তলায় মাথা দিয়ে,মাটির সাথে চিপকে গেলাম,হাড়-মাস সব দলা পাকিয়ে গেল-সব লোক তখন এসে আমার আইডেনটিটি খুঁজতে লাগলো,আর তখন আমি সোঁ সোঁ করে উড়ে যাচ্ছি।কোথায় যাচ্ছি,আমি নিজেও জানি না।শুধু উড়ছি। এতক্ষন নিশ্চয় নীচে আমার খন্ড খন্ড বডি নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে।কেউ বলবে সুসাইড,কেউ বলবে অ্যাক্সিডেন্