Skip to main content

আমরা তিনজন ও একটি প্রেমিকা ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



নিজের গলায় আজ নিজেরই ছুরি বসাতে ইচ্ছে করল। খুন করতে ইচ্ছে করল নিজেকে। সেই সাথে দেবু আর সুমন কে। আমার সবথেকে রাগ হল দেবুর উপর,ওর জন্যই তো অনু কে আজ আমার এরূপে দেখতে হল। আমাদের তিনজনের যৌবনের খামখেয়ালিপনা,রেষারেষি, ঠান্ডা লড়াইয়ে আহত হল অন্যজন। নিজের প্রতি আজ ঘেন্না করতে লাগল।
ছোটোবেলা থেকেই আমরা তিনজন অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধু,– দেবু, আমি আর সুমন। একসাথে বড় হওয়া, খেলাধুলা,সিনেমা দেখা, মেয়েদেখা সব কিছু। একই স্কুলে, একই ক্লাসে আমরা পাশাপাশি তিন জন। স্কুলের গন্ডি শেষ করে সেই একই কলেজে, একই ক্লাসে। অন্য বন্ধুরা মজা করে বলত,তোরা তিন জন মিলে একটি মেয়ে কে বিয়ে করিস। আর সবাইকে আবাক করে সেই কথাটি অর্ধেক সত্যি হয়ে গেল। তিনজন একসাথে একটি মেয়ের মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম। আমাদের ক্লাসের বান্ধবী অনুরাধা। সদ্যফোটা গোলাপের পাপড়ির মতো মোলায়েম অনুরাধার শরীর টা,আর তার উপর যখন সূর্যের রশ্মি এসে পড়ত , আমাদের চোখে তখন ঝিলমিল খেলে যেত। যেমন ফর্সা,তেমনি লম্বা। সোনালি রঙের চুল গুলো যখন ওর মিষ্টি মুখের উপর এসে পড়ত,তখন আরও বেশি সুন্দর হয়ে উঠত; সারাক্ষন শুধু কথা বলে যেত রেডিও জকি দের মতো । সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমাদের তিনজনের পাশে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিল। কখনো দেবুর চুল টেনে ধরত, কখনও বা আমার কান। একবার তো সুমনের তলপেটে হাটুর গুতো মারল-উফ! সেবার সুমনের কি অবস্থা!

কি করে যেন থার্ড ইয়ারে এসে সেই অনুরাধার প্রেমে পড়ে গেলাম আমরা তিন জন। এই প্রথমবার আমরা তিনজন অনুরাধা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে শুরু করলাম, রঙিন স্বপ্ন দেখতে লাগলাম।আলাদা করে কাছে পেতে চাইলাম। আর এই কথা টা আমরা তিনজনেই জানতাম। নিজেদের মধ্যে শুরু হল এক লড়াই, এই প্রথমবার আমরা একে অন্যকে হিংসে করতে শুরু করলাম। না! অনুরাধা তিনজনের হতে পারে না, ও যেকোনো একজনের। আমি ওকে নিয়ে স্বপ্নের মধ্যে হারিয়ে যেতাম রূপকথার দেশে। সবুজ ঘাসের প্রান্তরে ওর কোলে মাথা রেখে গল্প করতাম। জানিনা! দেবু আর সুমন ওই একই জিনিষ ভাবত কিনা?
আর সহ্য হল না আমাদের এই যন্ত্রনা। ক্লাস শেষে একদিন অনুরাধা কে তিনজন মিলে ডেকে নিয়ে গেলাম, অন্য একটা ঘরে। – "অনু,তুই কাকে সবথেকে ভালবাসিস বল?"— সুমন বলল।
– "কি বলছিস তোরা, আমি তোদের তিন জনকেই ভালবাসি। তোরা তিন জনেই আমার ভাল বন্ধু।" অবাক হয়ে বলেছিল অনুরাধা।
-"না, অনু বন্ধুত্ব ছাড়,তুই শুধু আমার। আর কারও না।"— দেবু বলল।
সুমন অনুর হাত টা টেনে ধরে বলল – "আমি তোকে ভালবাসি অনু, তুই আমার সাথেই থাকবি।"
হাত ছাড়িয়ে নিল অনু। – "আর তুই?" আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল অনু।
– "জানিনা! তবে তুই আমার সাথে না থাকলে খুব কষ্ট পাব রে!" বললাম আমি।
কষ্ট আমরা দুজন ও পাব– সুমন আর দেবু এক সাথে বলে উঠল।
অনু হতবাক হয়ে গেল আমাদের তিনজনকে দেখে। আসলে পৃথিবীতে সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় কিন্তু নিজের ভালবাসা কে কখনও না। অনু চিৎকার করে আমাদের কে থামিয়ে বলেছিল,– "আমি তোদের কারও না। বুঝলি?"
একপ্রকার খুশি হয়েছিলাম আমরা তিন জনই। কিন্তু দেবুর একটু রাগ হল,—"ও আচ্ছা! ঠিক আছে, তুই যখন আমাদের কারও না; তখন অন্য কারও হবি না ।"
হয়তো আবেগের বশেই কথাটা বলেছিল কিন্তু কথাটা আমার পছন্দ হয়নি। একদিন অনু কে আড়ালে ডেকে নিয়ে বলেছিলাম,– "দেখ অনু, ওরা তোর মন কে নয়, শরীর কে ভালবাসে।"
সপাটে একটা চড় মেরে অনু বলেছিল,—" ছি! তোর লজ্জা করল না,নিজের বন্ধুদের সম্পর্কে এরকম কথা বলতে। আমি তোদের কারও মনে দু:খ দিতে পারব না।"
আমি আর কোনো কথা বলতে পারিনি। পরে অবশ্য আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল,— সরি রে, জয়!"


এরপর সাত টা বছর কেটে গেছে। ওই সব কথা হয়তো কারও আজ মনে নেই। কলেজ শেষ করে আমরা যে যার কর্মক্ষেত্র ঢুকে পড়লাম। দেবু এখন মুম্বই তে বড় কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করে। মোটা বেতন,এক ছেলের ও বাপ হয়ে গেছে। আর সুমন ব্যাঙ্গালোরে, ওর এক মেয়ে সুখের সংসার। আমিও কাজ পেলাম ট্রাভেল এজেন্সিতে, বিদেশে বিদেশে, ঘুরে বেড়ানো আমার কাজ। তাই বিয়ে থা করিনি। আসলে অনুরাধা র ঘটনা টা আমাকে কষ্ট দিয়েছিল, ওকে ভোলাও সম্ভব ছিল না। তাই ওর থেকে দূরে থাকার জন্য ট্রাভেল এজেন্সির কাজ টাই বেছে নিয়েছিলাম। দীর্ঘ সাত বছর বাইরে বাইরে ঘুরে আজ দেশের জন্য একটা টান অনুভব করলাম, অনু কে একবার খুব দেখতে ইচ্ছে হল। সেই কলেজ জীবনের পাগলামির কথা মনে পড়তেই হাসি পেত আমার।

 কলকাতায় ফিরে আজ সেই সব কথা মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠল আবার, আর সেই সাথে অনুর মিষ্টি মুখ টা। পুরানো ঠিকানায় পেলাম না ওকে ।এত বড় শহরে কোথায় খুজে পাব? জানিনা কোথায় আছে? হয়তো বিয়ে করে, চলে গেছে অন্য শহরে, সুখে ঘর সংসার করছে।
দু'তিন দিন শুধু ঘুরে ঘুরে দেখছি চেনা শহরের, অচেনা গলি, আর মনে ভাসছে পুরানো স্মৃতি। একদিন হঠাৎ বাগান ঘেরা একটা বাড়িতে চোখ আটকে গেল। গেটের কাছে সাইনবোর্ডে লেখা,– অনাথ আশ্রম। বাড়িটির বারান্দায়, সাদা নীল পাড় শাড়ি পরা একটা মেয়ে। আর তাকে ঘিরে ছোটো ছোটো বাচ্চারা বই খাতা নিয়ে বসে আছে। মেয়েটিকে ভাল করে দেখার একদম গেটের কাছে চলে গেলাম। এবার মুখ টা স্পর্ষ্ট নজরে এল,আর সেই সাথে চমকে উঠল ভেতর টা। নিজের অজান্তেই বলে উঠলাম,—"অনু! কি অবস্থা তোর!"
ভোরের শিশির ভেজা কপি পাতার মতো চকচকে যে শরীর টা ছিল, তার দিকে এখন আর তাকানো যায় না। এই তিরিশ বছর বয়েষেই যেন অনু বুড়ি হয়ে গেছে। চোখে চশমা উঠেছে,চুল গুলো অবিন্যস্ত। বুঝলাম, নিজের শরীরের প্রতি আর যত্ন নেয় না। ওকে এরকম অবস্থায় দেখে সত্যি আমার কান্না পাচ্ছিল।
গেট টা ঠেলে ভিতরে ঢুকছি আর, অনুকে দেখছি। মাথায় সিঁদুর , হাতে শাখা কিছুই নেই। কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই,আমার দিকে চোখ তুলে চাইল।
– "অনু, চিনতে পারছিস?" ভারী গলায় জিজ্ঞেস করলাম আমি।
কোনো কথা বলতে পারল না অনু। শুধু চেয়ে রইল। বাচ্চা গুলোকে ছুটি দিয়ে আমাকে নিয়ে পাশের ঘরে বসালো। অনেক দিন পর পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা হলে যা হয়,– কেমন আছিস, কবে এলি, দেবু ও সুমনের সাথে তো আর যোগাযোগ নেই, ওরা কেমন আছে,ইত্যাদি ইত্যাদি নানান প্রশ্ন শুরু হল।
আমি একটু দম নিয়ে বললাম,–"দেবু, সুমন বড় কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করে, সংসার হয়ে গেছে, আর এক ছেলেমেয়ের বাপ ও হয়ে গেছে.....।"
আমার কথা থামিয়ে দিয়ে অনু জিজ্ঞেস করল,– "আর তুই?"
-"আমার কথা ছাড়। কিন্তু তুই চেহারার এ কি হাল করেছিস? তোকে তো চেনাই যায় না। তোর ঘর সংসার....?"
অনু আমার চোখের দিকে তাকল,সেই চেনা দৃষ্টি যেন আবার ফিরে এল,"– তোরাই তো বলেছিলি, আমি যেন অন্য কারও না হই। তাই আর অন্য কারও হয়নি।"
চমকে উঠলাম আমি। সেই কথাটা আজও অনু মনে রেখেছে। আমার ভেতর টা কেঁদে উঠল, নিজের উপর ঘেন্না করতে লাগল,খুন করতে ইচ্ছে হল নিজেকে, দেবুর উপর খুব রাগ হল আমার । জল এসে গেল চোখে। অনু চোখ থেকে চমশা খুলে টেবিলের উপর রাখল। বলল, – "আমি তোদের কাউকে দু:খ দিতে চাইনি। কিন্তু আমি জানতাম,তোদের মধ্যে কেউ একজন আমাকে সত্যিকারের ভালবাসিস; সে একদিন না একদিন আমার খোঁজে আসবেই। সেই অপেক্ষায় তো এতদিন অন্য কারও হইনি ।"
নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলাম না। অনুকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলাম। কোনো বাধা দিল না সে। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। ওর বন্ধ চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পড়তে লাগল। আজ আরও একবার সেদিনের মতো বলতে ইচ্ছে করল,– "অনু, তুই শুধু আমার। আর কারও না।"
স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

  1. Osadharon. Tomar lekha niye just kichu bolar nei.

    ReplyDelete
  2. অনেক ধন্যবাদ ভাই।

    ReplyDelete

Post a comment

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা