Skip to main content

ভালবাসার ভাল মন্দ ~ ছোট গল্প

               


—"চিনতে পারছিস বন্ধু?"
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম। একটা অচেনা লোক। লোক বলা ভুল।বয়েস খুব বেশী হবে না, আমারই বয়েসি। এই ছাব্বিশ কি সাতাশ। চোখ দুটো বসা, গলার হাড় দুটো বেরিয়ে গেছে, লম্বা চওড়া চেহারা,মাথায় উসকো খুসকো চুল। দেখলে বোঝা যায় একসময় চেহারা খুব ভাল ছিল, শরীরের প্রতি যত্ন না নেওয়ার ফলে এখন এরকম হয়েছে।

মফস্বলের ছোট্টো স্টেশন ।বিকেলের প্লাটফর্মে বসে দূরের লালচে আকাশটিকে দেখছিলাম। সূর্য টা যেন ধীরে ধীরে সবুজ মাঠের ওপারে ডুবে যাচ্ছিল। দুরের কালো কালো বাঁশবনের উপরে সারি সারি বক পাখির দল যেন বক ফুল হয়ে বসে আছে। আর সেই সাথে দখিনের সমীরন ঘর্মাক্ত মুখে বরফ ছিটিয়ে দিচ্ছিল, মনে মনে একটা রোমান্টিক পরিবেশ সৃষ্টি করে বসে ছিলাম। আর ঠিক এমন সময়ে, এই রকম এক আধ পাগল ছেলের ডাক আমাকে স্বর্গ থেকে ভূপৃষ্ঠে নামিয়ে আনল।

অবাক হয়ে ছেলেটিকে দেখছি, চোখ দুটো কেমন চেনা চেনা লাগছে।
— "চিনতে পারছিস না?" আবার জিজ্ঞেস করলো ছেলেটি।
আমার পাশে বসে ছেলেটি। কেমন যেন অস্বস্তি হয়। আমতা আমতা করে বলি,
— "চেনা চেনা লাগছে অনেকটা।"
— "কেমন আছে বিথি?"
চমকে উঠি আমি। আমার স্ত্রীর নাম এই ছেলেটি কেমন করে জানল! ভাল করে ছেলেটির দিকে এবার তাকাই।ওর সারাটা শরীরে চোখ বোলাই, তারপর আমার বুকের ভিতর টা ছাৎ করে ওঠে।
— "সমর না তুই?"
ছেলেটি এবার মৃদু হাসে।
—" কি হাল হয়েছে তোর! কি চেহারা করেছিস? তোকে তো চিনতেই পারেনি!"
সমর মিত্র, আমার স্কুল লাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড। ক্লাস ফাইভ থেকে কলেজ পর্যন্ত কখনো আলাদা হয়নি। খুব ভাল স্টুডেন্ট ছিল সমর। প্রতি ক্লাসে এক থেকে তিনের মধ্যে রোল করত। অংকে ছিল দারুন মেধা, ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব হওয়াটা দারুন একটা ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। আমি মাঝারি মানের ছাত্র ছিলাম, তাই পড়াশুনার ব্যাপারে ও খুব হেল্প করত। তারপর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে, কলেজ জীবন তবুও পাশাপাশি দুজন। হঠাৎ কলেজ শেষ হওয়ার পর ওকে আর খুঁজে পেলাম না।কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কর্মজীবনে ব্যাস্থ হয়ে পড়লাম। আজ পাঁচ বছর আবার দেখা....।
— "তাহলে, অবশেষে চিনতে পারলি?"
লজ্জায় পড়ে গেলাম আমি।— "বিশ্বাস কর ভাই, তোকে একদম আর চেনা যায় না, কি চেহারা করেছিস?"
একটা ক্ষীন হাসি হাসার চেষ্টা করল সমর।— "তো বল, কেমন আছিস? বিথি কেমন আছে? ওকে অনেকদিন দেখিনি। আমি জানি ও তোকে কোনোদিন ছাড়তে পারবে না। তোর মনে পড়ে দীপ, কলেজে ওকে রোগা বলে কি ভাবে ক্ষেপাতাম! "
আমি হেসে বললাম,— "ভাট, এখন মোটা হয়ে গেছে।"

আসলে এই গল্পটি হল দুই বন্ধুর ভালবাসার গল্প। তাই এবার ছোটো করে আমার গল্পটা একটু বলি। আমি আর সমর দুজনেই কলেজে উঠে প্রথম প্রেম পড়েছিলাম। আমি বিথির ,আর ও বিদিশা র। কলেজে প্রথমদিন, নাম প্রেজেন্ট এর সময় এক সাথে আমি আর বিথি দাঁড়িয়ে উঠেছিলাম,— ইয়েস ম্যাম বলে। সেখানেই হয়েছিল প্রথম শুভদৃষ্টি। ওর চোখ দেখে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল আমার শরীর । তারপর একটু, একটু কথা, বন্ধুত্ব থেকে কখন যেন দুজন দুজনকেই ভালবেসে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস করুন, বিথিই আমাকে পাগলের মতো ভালবাসত। ও ছিল আমার কাছে ঈশ্বরের পাঠানো পরী, তাই শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম। আজ আমার গলায় টাই, গায়ে কোট,পায়ে বুট ; সরকারি অফিসের একটা সন্মান জনক পদে চাকরী করি— সব টা ওরই জন্য। ও আমার জীবনে আসার পর থেকে, আমি যেন বদলে গেলাম, ওর ভালবাসা, আদরে এমন একটা জাদু ছিল যেটা আমাকে একটা শক্তি যোগাতো। ওর হাসি দেখলে গনিতের জটিল সমীকরন ও জলের মতো সমাধান হয়ে যেত।
বিথিই আমাকে অনেকটা জোর করে বিয়ে করে। আজ আমার বাড়ি, গাড়ি, টাকা, পয়সা সব তো ওরই জন্য,ওর ভালবাসা ছাড়া আমার কোনো অস্বিত্ব নেই... শূন্য আমি । সকালে অফিস বেরোনোর সময় ও একটা আলতো করে চুমু দেয়, আমি সারাদিন সেটা বুক পকেটে রেখে দিই। রাশিফলে বিশ্বাস করি না আমি, আমার একটাই রাশি ' চুমু রাশি', — বিথির থেকে যেটা পেলে আমার সারাদিন টা ভাল যায়,না পেলে খারাপ।
মনে মনে একটু হাসি পেল। সমরের দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম, — "তোর কি খবর বল ? কি গভেষনায় ব্যস্ত ভাই ? শরীরের দিকে যে একদম নজর নেই!"
মৃদু হাসল সমর। হাসি না পেলেও যদি কেউ হাসে,তবে সেটা যেমন দেখতে লাগে ; ঠিক সেই রকম হাসি। বিদিশা কে ও পাগলের মতো ভাল বাসত। অতটা ভাল আমি বিথি কেও বাসতে পারিনি কোনোদিন। কারন বিথি ই আমাকে এত ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিল, যে আর কোনো যায়গা ছিল না ওকে ভালবাসার।
— "এই, বিদিশার কি খবর ? ওকেও দেখিনি অনেক দিন। ভাইপো, ভাইঝি কিছু হল?" মুচকি হেসে ছোট্টো একটা ইয়ার্কি মারলাম।
তারপর সমর ওর নিজের মুখে যে গল্পটা শোনালো সেটা তুলে দিলাম—
হয়তো ভাল আছে। তবে আমিও ওকে অনেকদিন দেখি নি রে।  কলেজ শেষ করার পর, আমি যখন চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি তে ব্যস্ত, তখন ও একদিন একদিন বলল— "এই সমর, বাড়ি থেকে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। ছেলে সরকারি হসপিটলের ডাক্তার। প্লিজ, তুই কিছু কর।"
ওর কথা শুনে আমার বুকের মধ্যে কেউ যেন পেরেক পুঁতে দিল। দিশাহারা হয়ে গেলাম । অসহায় ভাবে বিদিশার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
- "প্লিজ, চুপ করে থাকিস না"
আমি নিরুত্তর। ওর চোখে জল ভাসতে লাগল। কি বা করতাম বল! ওকে নিয়ে পালিয়ে যেতেও পারতাম না। কোথায় যাব? কি খাব? সম্পুর্ন বেকার আমি তখন। আর তুই তো জানিস, পালিয়ে বিয়ে করাটা আমি পছন্দ করি না। সেদিনের আমার নিশ্চুপ বসে থাকা দেখে একরাশ ঘৃণা ছুড়ে দিয়েছিল বিদিশা। কয়েক মাস সময় চেয়েছিলাম ওর কাছে, কিন্তু সেটা ও দিতে পারিনি। এক মাস পর ওর বিয়ে হয়ে গেল, আমার সামনে দিয়ে। শুধু ওকে হারালাম না, নিজেকে ও হারিয়ে ফেললাম।— ওর কাছ থেকে আমার আর ফিরে আসার কোনো রাস্তা ছিল। ভালবাসা হারানোর যন্ত্রনা টা বুঝতে পারলাম সেদিন। আর যন্ত্রনা রা আমায় উইপোকার মতো কুঁরে কুঁরে খেতে লাগল। একটা জীবন্ত লাশ হয়ে গেলাম। পড়াশুনা, ক্যারিয়ার, বাবা, মা, পরিবার সব যেন বিরক্তিকর হয়ে উঠল। ছেড়ে দিলাম সব কিছু, আগে একটা বেসকারি কোম্পানি তে ইন্টারভিও দিয়েছিলাম; তার কল লেটার আসল। মোটা বেতন, ইচ্ছা হল না; সেটাও ছেড়ে দিলাম। কার জন্যে করব চাকরী? হাসতে ভুলে গেলাম, শুধু কাঁদতে ইচ্ছা করত। সুসাইড করতে গেলাম, পারলাম না। একটা ভীতু, কখনো সুসাইড করতে পারে না। পাগলের মতো অবস্থা হল আমার, আস্তে আস্তে ইট কাঠ, পাথরের মতো জড় বস্তুতে পরিনত হয়ে গেলাম........।
কথা গুলো বলতে বলতে সমরের গলা ভারী হয়ে এল। এ পর্যন্ত বলে থামল ও।
বুঝতে পারলাম, আমার ও চোখে জল এসে গেছে, গলা শুকিয়ে উঠেছে। কখন রাত হয়ে গেছে খেয়াল নেই। স্টেশনের নিয়ন আলোগুলো জ্বলে গেছে। ওর হাত টা ধরলাম, অনেকদিন পর। আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল। সামনে দিয়ে আমার বাড়ি যাওয়ার একটা ট্রেন চলে গেল। উঠতে ইচ্ছে হল না, বন্ধু কে ছেড়ে। তিল তিল করে একটা, ছেলে, একটা ভালবাসা, একটা স্বপ্ন,একটা ইচ্ছা, একটা ক্যারিয়ার কি করে মৃতপ্রায়, কি করে জীবন্ত লাশ হয়ে পড়ে আছে সেটা দেখছিলাম। আসলে ভালবাসার ভাল টা যারা পায় তাদের কে কেউ বেঁধে রাখতে পারে না, তাদের কেউ হারাতে পারে না। আর ভালবাসার ভাল টা যাদের কপালে জোটে না, তারা নিজেরাই শিকলে বাঁধা পড়ে, নিজেরাই ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, জীবন থেকে।
আজ পাশাপাশি দুজন প্রেমিক বসে আছি, স্টেশনে সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চটিতে। আজ আমরা দুজন দুই জায়গায় পৌঁছেছি, - যার একটাই কারন 'ভালবাসা' নয় কি?
আকাশে পূর্নিমার বড় গোল চাঁদ উঠেছে। একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখছি । আজ যেন চাঁদ টিকে আমার বড্ড ফ্যাকাশে মনে হল, কোনো হাসি নেই, কোনো রঙ নেই......।।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা