Skip to main content

মহালয়ার ভোরে ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



মেঝের উপর ভাঙা চৌচির রেডিয়ো টার দিকে এক পলক চেয়ে থেকে, চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল রুপা। রাগে তার সারাটা শরীর জ্বলছে। নিজের স্বামী বলে আজ কিছু বলল না,নইলে অন্যকেউ হলে আঁচড়ে, কামড়ে রক্তারক্তি কান্ড বাঁধিয়ে ফেলত। ছোটো বেলার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ল রুপার– তখন সে ক্লাস এইটে পড়ে। ছোটো থেকেই বাবার পাশে শুয়ে ভোরবেলায় রেডিয়ো তে মহালয়ার মন্ত্র শোনা তার অভ্যাস। সেবার রুপার ভাই রাতে বদমাসি করে রেডিয়োর ব্যাটারি টা খুলে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছিল। –ভাইকে, কি মার দিয়েছিল সেদিন। সাত দিন মতো রুপার সাথে কথা বলিনি তার ভাই।
আরও একটু ছোটো বয়েসে,স্কুলের 'যেমন খুশি সাজো'প্রতিযোগিতায় সে দুর্গা সেজেছিল আর তার এক বান্ধবী মহিষাসুর। ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছিল সেবার। সবাই বলছিল,রুপার চোখ দুটো নাকি একদম দুর্গার মতো। ছোটোবেলার সেই রেডিয়োতে মহালয়া শোনার অভ্যাস টা আজও রয়ে গেছে রুপার। মহালয়ার ভোরে, দেবী দুর্গার আগমন বার্তা না শুনলে কিছুই ভাল লাগে না তার। টি.ভি তে ওই সব অভিনয় দেখতে, তার একদম ইচ্ছে করে না।


রান্না ঘরে ঢুকে আলুর খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে রাগে ফুঁসতে থাকে রুপা। মনে মনে ভাবে,– বাবা, মা মানে রুপার শ্বশুর শাশুড়ি বাড়ি না থাকলে, সেদিন ও বাঘের মতো ভাব নিয়ে থাকে। অথচ বাবা, মা ঘরে থাকলে বাঘ তখন বেড়াল হয়ে যায়। রাগের মধ্যেও মনে মনে হাসি পায় রুপার।
একবছরের একটু বেশী হল তাদের বিয়ে হয়েছে। একটা দুর্গাপূজা কেটে আরেকটা দুর্গাপূজা আসতে গেল।কিন্তু শুভকে একদম বুজে উঠতে পারে না রুপা। যদিও তার সাথে কোনোদিন খারাপ ব্যবহার করিনি। কিন্তু খুব যে ভালবেসেছে তা ও না। শুভ যেন শুধুই তার দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে যায়।– একলা পেয়ে, কোনোদিন তাকে জড়িয়ে ধরেনি, অফিস বেরোনোর সময় জোর করে কখনও তার ঠোঁটে, ঠোঁট রাখেনি.....তার বুকে মাথা রেখে কোনোদিন ঘুমাই নি। অথচ, আবার তার ভাত কাপড়ের অভাব ও রাখেনি। যখন যেটা চেয়েছে, সেটা এনে দিয়েছে।তাই এইসব কারনে রুপা, শুভকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না যে, তাকে সত্যি ভালবাসে, না শুধু স্বামীর কর্তব্য পালন করে চলেছে। এই নিয়ে অনেক বার শুভর সাথে ঝগড়া মতো করেছ রুপা। কিন্তু তাতে বিশেষ কিছুই লাভ হয়নি। কারন, রুপার বার বার মনে হয়েছে, এ ছেলের সাথে ঝগড়া করা বেকার। এত কিছু কথা শোনাবার পর ও যদি কেউ চুপচাপ বসে থাকে, তাহলে কতক্ষন এক মুখে ঝগড়া করা যায়?

আলু গুলো কাটা হয়ে গেলে, বাজারের ব্যাগ থেকে ফুল কপি টা বের করে পাতা ছাড়াতে লাগল রুপা। আজ রবিবার।শুভর অফিস নেই। তাই সকালে বাজারে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি বাজার করে এনেছে। ব্যাগ থেকে সবজি গুলো বের করতে করতে, রুপা দেখল,– তার প্রিয় জিনিষ পুঁই শাক আর চিংড়ি মাছ ও এনেছে । ছেলেটিকে সত্যিই বোঝা অসম্ভব! তাকে ভালকরে কোনোদিন আদর করেনি, আবার বাজার থেকে বেছে বেছে তার পছন্দের জিনিষ গুলোই কিনে আনে। রুপার, বিয়ের আগের জীবনের কথা গুলো খুব মনে পড়ল। তার বাবাও বাজার থেকে, তার প্রিয় জিনিষ গুলো কিনে আনত। আর মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো, মেয়ে তো আর আমাদের কাছে সারা জীবন থাকবে না, তাই এখন শুধু ওর পছন্দ মতো বাজার হবে। ভাই এর কথা একদম কানেই তুলতো না।

রুপা ফুলকপি টা ছেড়ে আগে পুঁইশাক গুলো কে হাতে নেয় । বটি দিয়ে পুঁইশাকের খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে আবার ভাবনার গভীরে নিমগ্ন হয়।– সত্যিই তো! শুভর, তাকে না ভালোবাসাটাই স্বাভাবিক। কারন, তাদের বিয়েটা শুভর অমতেই হয়েছিল। শুভর বাবা– মা ই তাকে জোর পূর্বক বৌমা করে এই ঘরে এনে তুলেছিল।আর রুপার মুখে হাত রেখে বলেছিল,–"আমার এইরকম ই লক্ষী মেয়ে চাই।"
কিন্তু আজ সকাল বেলা বাজার থেকে এসে শুভ যে কাজ টা করল, তাতে রুপা নিশ্চিত হয়ে গেল– শুভ তাকে সত্যিই ভালবাসতে পারেনি।
আগামীকাল ভোরবেলা মা দুর্গার আগমনী। মহলায়ার সেই মন কেমন করা সুর। আজ সকাল বেলা উঠে,রুপা রেডিয়ো টা হাতে নিয়ে চ্যানেল গুলো ঠিক করছিল। এখন তো কারো বাড়িতে রেডিয়ো সেরকম দেখা যায় না। কিন্তু রুপা তার পছন্দের জিনিষ সযত্নে গুছিয়ে রেখেছে। একটু পুরানো হয়ে গেছে কিন্তু তবুও আওয়াজ টা ঠিক বের হয়। রান্না ঘরে বাজার টা রেখে শুভ ঘরে ঢুকল। রুপার হাতে রেডিয়ো দেখে বলল,– "ভোরবেলা ,ওই ভাঙা রের্কড টা তুমি চালাবে না।"
রুপা রেডিয়োটা টেবিলের উপর রেখে, শুভর কাছে এসে বলল,–" কেন?"
– "আমি বলেছি তাই চালাবে না। কেন আবার কি? আর তাছাড়া আমার ঘুমের অসুবিধা হয়।"
রাগে সাপের মতো ফোঁস করে উঠল রুপা। বলল– "বেশী অসুবিধা হলে বাইরে গিয়ে থাকো।"
কান্ডটা ঘটল এবার। শুভ রেডিয়ো টার পাশে গিয়ে, বিরক্ত হয়ে হাত দিয়ে একটা ধাক্কা মারল।-'ধেত তেরি।"
পুরানো রেডিয়ো অত উপর থেকে মেঝে পড়ে একেবারে ফেটে চৌচির হয়ে গেল। রাগে, দু:খে রুপার চোখে জল চলে এল। কিছু না বলে, হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

সবজি গুলো জল দিয়ে পরিষ্কার করে, গ্যাস টা অন করল রুপা। বেডরুম থেকে টি.ভির আওয়াজ আসছে। টি.ভি তে নিউজ দেখছে শুভ। আর সহ্য হল না রুপার।মাথার মধ্যে রাগের পোকা গুলো কিল বিল করে উঠল। প্রেসার কুকারে ভাতটা গ্যাসের উপর বসিয়ে দিয়ে গট গট করতে করতে ঘরে ঢুকল। সোজা গিয়ে রিমোট টা হাতে নিয়ে, সজোরে মেঝের উপর এক আছাড় মারল। শুভ ভ্যাবাচাকা খেয়ে বলল,– "এটা কি হল?"
– "বেশ করেছি।" কথাটা বলে রুপা আবার রান্না ঘরে এসে ঢুকল।
রান্না ঘর থেকেই শুভর গলার আওয়াজ পেল রুপা।–"আরে যাও যাও।টি.ভি র গায়ে চ্যানেল পাল্টানোর সুইচ আছে।"
তাই তো! এটা তো ,সে ভেবে দেখিনি। রুপা ঠিক করল, এবার গিয়ে টি.ভি টা তুলে এক আছাড় মারবে। কিন্তু পরক্ষনে তার ভাবনা থামিয়ে দিল। মনে মনে ভাবল– শুভ, টি.ভি দেখতে খুব ভালবাসে। থাক ওটা আর
ভেঙে লাভ নেই।

বিকাল বেলা কিছু না বলে শুভ বেরিয়ে গেল। দোতালার বারান্দায়, চেয়ারে বসে সামনের আকাশ টা দেখছিল রুপা। সারা আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে যাচ্ছে নৌকার মতো, ঘাটে ঘাটে ফেরি করতে করতে। সূর্যটা মাঝে মাঝে মেঘের ঘাটের পিছনে লুকিয়ে পড়েছে, যেন অনেকটা লুকোচুরি খেলার মতো। বারান্দার রেলিং এর ফাঁক দিয়ে একটা হাল্কা বাতাশ এসে রুপার গায়ে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে সারাটা শরীর যেন সির সির করে উঠল। চোখ বন্ধ করে বাতাশের গন্ধ নিল রুপা,– পূজোর গন্ধ মেখে আছে বাতাশের ধূলিকনা গুলো। চেয়ার থেকে উঠে রুপা,লোহার রেলিং টা ধরে দাঁড়াল। সাদা মেঘের মধ্যে সাদা ডানা মেলে বক পাখির দল গুলো উড়ে গেল তার চোখের সামনে দিয়ে। পূজোর আমেজ টা মনে হয়,মানুষের থেকে প্রকৃতির মনে আগে চলে আসে।
রাত ন' টার সময় রান্না ঘরে রুটি করতে করতে, শুভর ঘরে ঢোকার আওয়াজ পেল রুপা। আজ সারাদিন শুভর সাথে কথা বলেনি সে। দশটার সময় খাবার টেবিলে,শুভর জন্য রুটি আর তরকারি ঢেকে রেখে,নিজে কিছুটা মুখে দিয়ে ঘরে গিয়ে,খাটের উপর শুয়ে পড়ল। মনটা একদম ভাল নেই। শুভ ঘরের লাইট টা অফ করে বাইরে বেরিয়ে গেল। খাবার টেবিল থেকে আওয়াজ এল রুপার কানে। বুঝতে পারল,– শুভ খেতে বসেছে।
পনেরো মিনিট পর বেডরুমের দরজায় ছিটকিনি দেওয়ার আওয়াজ পেল। চাদর মুড়ি দিয়ে সব বুজতে পারছে রুপা।

শরতের শেষ, আর হেমন্তের শুরুতেই কেমন যেন একটা শীত ভাব চলে আসে। ভোরের দিকে সাদা কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখে জানালার বাইরের গাছ গুলোকে। কিন্তু ফ্যানটা ফুল স্পিডে না দিয়ে শুভ ঘুমোতে পারে না। তাই, আলাদা করে একটা চাদর গায়ে দেয় রুপা। কারন ফ্যানের হাওয়া সে একদম সহ্য করতে পারে না। শুভ তার পাশে এসে শুয়ে পড়েছে। রুপা আজ আর কোনো কথা বলল না। চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল।
ভোর বেলা একটা শব্দে রুপার ঘুম ভেঙে গেল। চমকে উঠল সে। পরিষ্কার শুনতে পেল সেই চির পরিচিত শব্দ গুলো।–যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরুপেন সংস্থিতা নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমো নম: যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরুপেন সংস্থিতা নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমো নম: যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরুপেন সংস্থিতা নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমস্থ্যৈ নমো নম:"
চাদরের ভেতর থেকে মুখটা বাইরে বের করল রুপা। ঘরের লাইটটা জ্বলছে। টেবিলের উপর চোখ রাখতেই দেখতে পেল,– একটা নতুন রেডিয়ো রাখা সেখানে। আর সেটা থেকেই আওয়াজ টা আসছে। দ্রুতো পাশ ফিরে,শুভর দিকে চাইল রুপা। শুভ জেগে আছে। কি করবে রুপা, কিছুই বুঝতে পারল না। আনন্দে তার চোখে জল এসে এসে পড়েছে। শুভ আস্তে আস্তে রুপার চাদরের ভিতর এসে ঢুকল; রুপার পিঠে হাত রেখে বলল,– সারা বাজার ঘুরে ঘুরে তোমার জন্য নতুন একটা রেডিয়ো কিনে এনেছি।
রুপা মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারল না। শুধু শুভর মুখটা খুব জোরে নিজের বুকের দিকে টেনে নিল। মা দুর্গার আগমনী সুর তখন সারাটা ঘর জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।

তিস্তা রয়ের কবিতা পড়তে এখানে ক্লিক করুন

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫ )

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা