Skip to main content

কাজের ট্রেন~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



শিয়ালদহ দক্ষিন শাখার ইলেক্ট্রিক বোর্ডে লাল রঙে ক্যানিং লোকাল লেখাটি উঠতেই, ছোটো  একটা ব্যাগ হাতে তুলে আর  বাচ্চাটা কে কোলে  নিয়ে দশ নাম্বার প্লাটফর্মের দিকে ছুটলো  বিনীতা। ছোটা ঠিক নয়। জোরে জোরে হাঁটা।  ভিড়ে টাসা জনতা কে কাটিয়ে যতটা সম্ভব  তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেল।

বিকেল তিনটে পঁইত্রিশ এর ক্যানিং লোকাল।  এক্সপ্রেস ট্রেন গুলোর যেমন আলাদা আলাদা  নাম থাকে, তেমনি লোকাল গুলোতে মানুষের  যাতায়াতের ভিত্তিতে এক একটা নাম তৈরী হয়ে  যায়। যেমন, ভোর থেকে সকাল সাত টা পর্যন্ত  বা, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সব ট্রেন গুলো  শহরতলী থেকে, শিয়ালদহ যাতায়াত করে,  সেগুলোতে বেশিরভাগ কাজের মানুষ চলাফেলা  করে-তাই এই সব লোকাল ট্রেন গুলোর নাম  কাজের ট্রেন। সকাল সাতটার পর থেকে ন'টা  পর্যন্ত ট্রেন গুলোতে অফিসযাত্রী বেশি চলাফেরা  করে তাই,সেগুলোর নাম অফিস ট্রেন। ন'টা  থেকে পরের ট্রেন গুলোতে আবার বেশির ভাগ  কলেজের ছাত্রছাত্রী রা সব কলেজে যায়-তাই  সেইসব ট্রেন গুলোর নাম কলেজ ট্রেন। ঠিক  সেই নিয়মে এই মুহুর্তের বিকেল ৩.৩৫ এর  লোকালটি কাজের ট্রেন।  কারন সকালে  কলকাতায় কাজে আগত মানুষ রা বেশিরভাগ  এই ট্রেনেই ঘরে ফেরে।

আগে থেকেই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেন।  বিনীতা জোর পায়ে হেঁটে তাড়াহুড়ো করে একটা  জেনারেল কামরার সামনে দাঁড়ালো। নিশ্বাস  ফেললো বড় করে। উফ বাবা! হাঁফ ধরে গেছে  এটুকু আসতেই। দরজার কাছেও আসতেই  হুড়োহুড়ি-কে আগে সিটে বসবে, তাই নিয়ে যেন  এখুনি মারপিট লাগবে। আসলে আমাদের  অভ্যেস এটা। ট্রেন যতই ফাঁকা থাক না কেন,  হুড়োহুড়ি করে ওঠা আর নামা, আমাদের  অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। বিনীতা ভিড় কমার  জন্যে একটু অপেক্ষা করলো। কিন্তু ভিড় কমে  কই? আর কিছুসময় অপেক্ষা করলে, ভেতরে  গিয়ে বসার সিট টাই পাওয়া যাবে না। দেরীও  করলো না বিনীতা। বাচ্চাটা কে বুকে জোরে  জড়িয়ে ধরে ধাক্কা খেতে খেতে কোনোরকমে  ট্রেনে উঠে পড়ল। বছরখানেকের বাচ্চা তার  কোলে। এখনো বুকের দুধ ছাড়েনি। ঘাড় ঘুরিয়ে  এদিক-ওদিক চাইলো। কোথাও জানালার পাশে  সিট ফাঁকা আছে কিনা! ফাঁকা দেখতে পেল না  কোথাও। শেষে জানালার পাশের সিটের পরের  সিটে গিয়ে বসে পড়ল। উফ! কি ভ্যাপসা গরম!  নিজের হাত টা একবার মুখের সামনে পাখার  মতো করে টানলো। জানালার পাশের সিটে  একটা লোক বসে আছে। ঠিক তার পাশেই  বিনীতা। তাকে বলবে একটু সরে বসতে? কিন্তু  লোকটির দিকে তাকাতেই ভয় পেল সে।  কিরকম দেখতে সব। সামনের চ্যানেলে এদিক - ওদিক ফিরে আরও জনা চারেক লোক।  জানালার ফাঁক দিয়ে সামন্য হাওয়া ভিতরে  ঢুকছে। কিন্তু সেটা এতটাই যৎসামন্য যে তার  আঁচ টুকুই পাওয়া যাচ্ছে না।

যথা সময়ে নড়ে উঠল ট্রেন। তারপর ধীরে ধীরে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেল। পার্ক সার্কাস আসতেই আবার হুড়োহুড়ি। কে আগে উঠতে পারে ট্রেনে! বিনীতা নিজের কাপড় টা ঠিক করে জড়িয়ে, বাচ্চা টা কে কোলের ভেতর করে নিয়ে ভালোভাবে বসল। বালিগঞ্জ ছেড়ে যাদবপুর পৌঁছাতেই সারা কামরাতে আর পা রাখার মতো জায়গা রইল না। সবাই মাথাটা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছে বিনীতার। জানালা প্রায় বন্ধ। অন্ধকার হয়ে এসেছে ভেতরটা। উপর থেকে ফ্যানের ভ্যাবসা গরম হাওয়া নামছে। তার সামনের চ্যালেলে এখন দশ-বারো জন লোক এপিট- ওপিট করে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ যেন তার গায়ের উপর উঠে আসার চেষ্টা করছে। দু'টো পুরুষের মাঝে বসে অস্বস্তি তে তার গা- মাথা ঘিন ঘিন করে এল। ট্রেনে যখন উঠেছিল তখন সামনের সিটে একজন মহিলা কে দেখেছিল। একটু সাহস পেয়েছিল মনে।  কিন্তু এখন ভিড়ের চাপে সেই সামনের মহিলাটা কে দেখা যাচ্ছে না। এদিক ওদিক মাথা ফিরিয়ে একবার দেখলো বিনীতা। কোনো মহিলা কে আর দেখা গেল না।

যত স্টেশন যায় ততই চাপ বাড়ে। একসময় এমন অবস্থা হল,যেন গায়ের উপর উঠে বসবে সব। কি করে মেয়ে রা এই সব ট্রেনে যাতায়াত করে?  মনে মনে ভাবলো বিনীতা। সামনের কালো করে চুপসানো মুখের একজন কে বলল,-" ভাই একটু ঠিক করে দাঁড়াও না, বাচ্চা আছে আমার কোলে।"
ছেলেটা একটু ঠিক হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু কতক্ষন? কিছুসময় পেরোতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে এল। পাশেই চার জন লোক দাঁড়িয়ে ওই হুড়োহুড়ির মধ্যে তাস খেলে যাচ্ছে। কি সব গল্প মুখে! মেয়েদের নিয়ে এদের আলোচনা কানে শোনা যায় না। ছি! বিনীতা ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক -ওদিক চাইছে মাঝে মাঝে। একটু একটু ভয় ও পেতে শুরু করলো এবার। এত গুলো পুরুষ মানুষের মাঝে সে একা মেয়ে সে। যদি কিছু....। কিরকম চাহনি যেন লোক গুলোর। দেখলেই বুকের ভেতর টা ছমছম করে ওঠে। এক পলক দেখলেই সব গুলোকে মদখোর বলে মনে হয়। অপরিষ্কার চেহারা, জামা-প্যান্ট,চোখ গুলো ভেতরে ঢুকে গেছে, এলোমেলো চুল, কালো ঠোঁট, তোবড়ানো গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। কতদিন বাদে বাদে চুল দাঁড়ি কাটে - ওরা হয়তো নিজেরাই ভূলে যায়। এই রকম সব মানুষ গুলোর সাথে সাথে এক অসহ্য ভ্যাবসা গরম চামড়ার উপর পিন ফোটাচ্ছে।

দূর ছাই! কখন যে তালদি স্টেশন টা আসবে? কান্না পাচ্ছে বিনীতার। এবার তার সব রাগ গিয়ে পড়ল সৌনকের উপর। মনে মনে আচ্ছা করে গালাগালি ঝাড়লো। কি দরকার ছিল বাড়ি থেকে চাকরী করার? কলকাতায় একটা ফ্লাট নিয়ে, বাবা- মা কে নিয়ে এলেই সব ঝামেলা মিটে যেত। এই কথাটা অনেকবার বলেও ছিল সৌনক কে। কিন্তু তার কথা হল, এই প্রাইমারীর চাকরী করে কলকাতার ফ্লাটে থাকা যায় না। বিনীতা বলেছিল,-" আমিও একটা চাকরী করবো। তখন কোনো সমস্যা হবে না।" সৌনকের উত্তর কি ছিল? পরে দেখা যাবে, একটু গুছিয়ে নেই। কিছু আর বলেনি বিনীতা।
কি অদ্ভূত নাম! তালদি! নাম শুনলেই কেমন তাল তাল গন্ধ পাওয়া যায়। বিনীতা প্রথমে ভেবেছিল কোনো তালবাগানের ভেতর তার বাড়ি হবে। মনে মনে একটা কল্পনার ছবিও এঁকেছিল। তালবাগানের সারি, বড় ঝিল পুকুর, শান বাঁধানো ঘাট-সেই ঘাটে বসে সৌনক আর সে স্নান করবে-এরকম সব নানারকম ভাবনা। কিন্তু কোথায় সেসব! কিচ্ছুটি নেই। সব কল্পনাই বৃথা।
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর, সৌনকের সাথে বিনীতার প্রথম পরিচয়। সৌনকের তখন তৃতীয় বর্ষ। সেই পরিচয় এক বছরেই প্রেমে পরিনত হয়েছিল কখন, সেটা বুঝতেই পারেনি বিনীতা। সৌনক কলেজ ছাড়ার পরই বুঝতে পারলো। বিয়েটা প্রায় মা-বাবার অমতেই করেছিল বিনীতা। বিয়েতে মা-বাবার অমতের কারনটিতে যুক্তি ও ছিল-কলকাতায় থেকে যার অভ্যাস,সে ওই মফস্বলের গ্রামে গিয়ে কি করে থাকবে? কোনো যুক্তি মানে নি বিনীতা। আসলে সত্যি প্রেমের কাছে সব যুক্তি হার মানে। সব কষ্ট আনন্দে পরিনত হয়। এরপর গ্রাজুয়েশন শেষ হতেই সৌনক কে বিয়ে করলো। তার ঠিক এক বছর পরেই কোলে বুন্টি এল।


ট্রেন টি সোনারপুরে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে। ভিড় আগের থেকে আরও বেশি। সোনারপুর পেরোলেই একটু একটু করে ভিড় কমতে থাকবে। সকালে বিনীতা অনেকবার সৌনক কে বলেছিল, -" তুমি চলো আমার সাথে,আজ স্কুলে যেতে হবে না। অসুস্থ মেয়েটা নিয়ে আমি একা যেতে পারবো না। তাছাড়া ডাক্তার কি বলে, তোমারও জানা দরকার।"
কিন্তু শুনলো সে কথা একবার? -" স্কুলে আজ ইনেসপেকশন আছে। যেতে হবেই।.... তোমার দাদা তো থাকছেই, চিন্তা করছো কেন?" গম্ভীর গলায় বলেছিল সৌনক। আরে বাবা! বাচ্চা আগে না, চাকরী আগে?

কোলের মধ্যে মেয়েটির দিকে একবার তাকালো বিনীতা। ঘুমিয়ে আছে তাই একটু বাঁচা। যা অসহ্য গরম! কিছুসময় দাঁড়িয়ে থাকার পর হর্ন বাজালো ট্রেন। সোনারপুর ছাড়ছে। প্লাটফর্ম ছাড়তেই কোলের ভেতর বুন্টি নড়ে উঠল। ঘুম ভেঙে গিয়েছে। তারপর ঘুম ভাঙতে চিল-চিৎকারে কান্না শুরু করলো। মেয়ের কান্না সম্পর্কে অজানা ছিল না বিনীতার। একবার সুরেলা মিউজিক শুরু হলে আর থামে না। তার উপর এই অসহ্য ভ্যাবসা গরমে।
প্রথমে বিনীতা মেয়েটি কে বুকের উপর নিয়ে পিট চাপড়ালো। কাঁদে না মা, কাঁদে না....এই তো এসে গেছি। কিন্তু আরও জোর বেড়ে গেল কান্নার। ঘেমে উঠেছে রাঙা ফর্সা মুখ টা।এদিক - ওদিক তাকলো বিনীতা। সবাই তার দিকে ফিরে ফিরে চাইছে। পাশের সেই ভয় ধরানো মুখের লোকটি বলল,-" যা গরম, বাচ্চারা আর সহ্য করতে পারে! "
তারপর জানালার পাশে বসে থাকা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল,-" এই তুই ওখানে বসে আছিস কেন? এই মেয়েটাকে জানালার ধারে দে- বাচ্চাটা কাঁদছে দেখতে পাচ্ছিস না?"
ছেলেটি উঠে জায়গা করে দিল। জানালার পাশে গিয়ে বসল বিনীতা। একটু একটু হাওয়া ঢুকছে জানালা দিয়ে।  কিন্তু কান্না থামলো না বুন্টির। চম্পাহাটি পেরিয়ে গেল ট্রেন। সবাই এখন বিনীতার দিকে তাকিয়ে। একজন বলল,-" কি হল, বাচ্চা টা এত কাঁদছে কেন? থামাতে পারছো না?"
অনেক চেষ্টা করলো বিনীতা। কিছুতেই কিছু হল না। সামনের একজন বললো,-" গরমে জল তেষ্টা পেয়েছে মনে হয়!"
ব্যাগ হাতড়ালো বিনীতা। ছোটো বোতলের জল অনেক আগেই শেষ। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ছেলে উপরের ব্যাঙ্কারে রাখা
ব্যাগ থেকে একটা জলের বোতল নিয়ে বিনীতার হাতে দিল। বোতলের ঢাকনা খুলে অল্প জল মুখে দিল বুন্টির। জল খেলো না সে। কি করবে এবার?
দিশেহারা অবস্থা হল বিনীতার। নানারকম কসরত করলো। কোনো কসরত ই কাজে দিল না। একজন বয়স্ক করে লোক বলল,-" ও মেয়ে বাচ্চা টাকে দুধ দাও না। খিদে পেয়েছে মনে হয়।"
ঠিকই,খিদে পেতেও পারে। অনেকক্ষন ধরে কিছু খায়নি। কিন্তু 'দুধ খাওয়ানোর' কথায় অস্বস্তি তে পড়লো বিনীতা। চারিদিকে সবার দিকে তাকালো। সবাই এখন তাকিয়ে আছে তার দিকে। কি করে বাচ্চা কে 'দুধ খাওয়াবে'এখন? খুব অস্বস্তি লাগছে তার।'দুধ খাওয়ালো' না বিনীতা।
আরও কিছু সময় কাটলো। চেষ্টার কমতি রইল না। ঝমঝম করে ট্রেন ছুটে চলেছে। ভিড় একটু একটু করে কমতে শুরু করলো। জানালা দিয়ে মাঝে মাঝেই গরম ঝলকানি ঢুকছে। বুন্টির কান্না দেখে, সবাই বলল,-" ও মেয়ে শুনতে পাচ্ছো না, মেয়েটাকে দুধ দাও। খিদের চোটে কাঁদছে মনে হয়।"
সামনের সিটে বসা বয়স্ক মাসী টি বলল,-" বাচ্চা টা কে কিছু খেতে দাও, মা। খিদে পেয়েছে বেচারার। কাঁদছে দেখো কেমন করে ঠোঁট ফুলিয়ে।"
অস্বস্তি সরিয়ে আঁচলের নীচে বুন্টির মাথা  ঢেকে ব্লাউজ তুলে বুকের দুধে মেয়ের মুখ  ধরলো বিনীতা। দুধ খেলো না বুন্টি। ঠোঁট ফুলিয়ে আরও জোরে কান্না-কাটি শুরু করলো। আসেপাশের সবাই এখন তার মেয়ের দিকে ফিরেছে। কেউ কেউ বলল, কেন কাঁদছে বলোতো মেয়েটা? একজন বিনীতার উদ্দশ্যে বলল,-" মেয়েটা আমার কোলে দাওতো, দেখি। "
বুন্টি কে কোলে নিয়ে, লোকটি প্রথমে নানা রকম মজার অঙ্গভঙ্গি করলো। -" ওলে বাবা!..  কি হইছে? এত কান্না-কাটি কিসের?" আসেপাশের আরও অনেকে তখন মোবাইল ফোনে ভিডিও গান, ছবি বের করে বুন্টির চোখের সামনে ধরলো। মুখে নানারকম হাসির আওয়াজ করলো। সবার এখন একটাই লক্ষ্য বুন্টির কান্না থামানো। সবার প্রচেষ্টা সফল হল। একটু একটু করে কান্না থামালো বুন্টি।


ট্রেনের গতি কমে এসেছে। একটু পরেই তালদি প্লাটফর্মে এসে থামলো ট্রেন। সেই অচেনা, অপরিষ্কার লোক গুলোর কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে প্লাটফর্মে নামলো বিনীতা। ইস! কত খারাপ ভেবেছিল লোক গুলোকে। একটা আত্মগ্লানি তার মন টা কে ছেয়ে ফেলল। মন খারপ করলো যেন তার। তারপর একটু একটু করে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালো।

স্বদেশ কুমার গায়েন ( জানুয়ারী, ২০১৭)

Comments

Post a comment

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা