Skip to main content

আমার গল্পের নায়িকা ~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]





সোঁ সোঁ শব্দে ঝড় টা এসে এক ঝাপটায় ঘরের টেবিলের উপর কাগজ পত্র গুলো এলোমেলো করে দিল আর সেই সঙ্গে মেঘ ভেঙে ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। উড়তে থাকা গল্পের পান্ডুলিপি গুলো কুড়িয়ে হাতের ঘড়ির দিকে চাইলাম।ঘড়িতে দশ টা বেজে বিশ মিনিট। উফ! কি জোরে বৃষ্টি নামল রে।  তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে দিলাম। বাইরে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি, আর মেঘের গজরানি বেড়েই চলেছে। এত কিছুর মধ্যে বিদ্যুৎ এর আলো টা যে যায়নি, এটাই অনেক। গল্পের পান্ডুলিপি গুলো একের পর এক সাজিয়ে আবার লিখতে বসলাম।

এবার আমার একটু পরিচয় দিই। আমার নাম রনদীপ সেন, বয়েস আঠাশের কাছাকাছি। একটা সরকারি স্কুলে পড়াই, আর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একটু লেখালেখি করি। জন্মের পর ঘরের দেওয়ালের ছবিতে বাবাকেই দেখেছিলাম, আর বছর দুই হল মা ও গত হয়েছেন। তিনকুলে কেউ না থাকায়, একাই সংসার চালাচ্ছি বেশ ভালই। আমার এই আগোছালো জীবনে দ্বিতীয় কাউকে আর আনার প্রয়োজন ও মনে করিনি। নতুন একটা গল্প লেখা শুরু করছি, পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধে। বেশ কিছু পেজ লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি টা এসে সব পন্ড করে দিল। আমার গল্পটি একটু বড়,পর্যায় ক্রমিক, নারী কেন্দ্রিক।— একটা মাতৃহারা মেয়ের জীবনযুদ্ধের কাহিনি।


মেয়েটিই হল আমার গল্পের নায়িকা। চরিত্রটির নাম প্রিয়ংবদা। আর এখানেই একমাত্র আমি, নিজের মনের মতো, নিজের পছন্দের মেয়ের মতো, আমি আমার গল্পের নায়িকা কে একটু একটু তিল তিল করে গড়ে তুলি। আমার মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে সাজাই।—আমিই জন্মদাতা তার,সে একান্তই শুধু আমার। গল্প লিখতে লিখতে কেমন করে যেন তার প্রেমে পড়ে যাই, খুব ভালবেসে ফেলি চরিত্রটাকে। কল্পনার সমুদ্রে হারিয়ে যাই ওকে নিয়ে,— যেখানে সমুদ্রের নীল জল আর সন্ধ্যার সূর্য টা মিশে গেছে। সেই দিগন্ত রেখা পার হয়ে আরও দূরে, বহুদূরে।
আজও লিখতে বসেছিলাম তাকে নিয়ে। বাইরে ঝড় বৃষ্টি সেই একই ভাবে চলছে। হঠাৎ নীচের দরজায়, ঠক ঠক আওয়াজ। অবাক হলাম একটু। এত রাতে, এই ঘোর ঝড়, জলে আবার কে এল? বিরক্ত হয়ে নীচে নেমে সিঁড়ির লাইট টা অন করে দরজা খুললাম।— একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টির জলে পুরো ভিজে গেছে। জামাটা শরীরের সাথে পুরোপুরি ভিজে চুপসে আছে, হাত দুটি বুকের কাছে ভাঁজ করা। দরজা খুলতেই কোনো কথা না বলে ভিতরে ঢুকে গেল।
— "কি করছেন? চেনা নেই, জানা নেই হুট করে ঘরে ঢুকে গেলেন?"
মেয়েটি সিড়ি উপর উঠতে লাগল।— "কি মানুষ আপনি! একটা মেয়ে এই ঝড় জলের রাতে বিপদে পড়েছে, কোথায় তাকে একটু আশ্রয় দেবেন; তা না করে অদ্ভুত প্রশ্ন করছেন?"
একটা ছোটো বাচ্ছা মেয়ে হলে তবুও কিছু, কিন্তু একটা একুশ বাইশ বছরের মেয়েকে এই রাতে কিভাবে আশ্রয় দিই বলুন তো! যদিও আমার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু সকালে যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে কি ভাববে সবাই?
আমি মেয়েটিকে কিছু বলতে যাব,কিন্তু আমাকে থামিয়ে বলল,— "বাথরুম টা কোনদিকে?"
— "না, দেখুন বাথরুমে যাবেন না। বাথরুম টা আমার একান্ত ব্যাক্তিগত। ওখানে মেয়েদের কোনো অ্যালাও নেই।"
গত তিন মাস হল,বাথরুম টাকে নতুন করে সাজিয়েছি। নামি দামি বিদেশী বিকিনি মডেলের ছবি লাগিয়েছি দেওয়াল জুড়ে। আমাকে আর দেখাতে হল না, মেয়েটি নিজেই চলে গেল সোজা বাথরুমে। মনে হচ্ছে এ ঘরের সব কিছু তার চেনা, কোন সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়, কোনদিকে বাথরুম।সব কিছুর সাথে যেন তার অনেক দিনের পরিচয়।
আমি বিরক্ত হয়ে সোফায় বসে পড়লাম। সবে মাত্র আমার গল্পের নায়িকা কে নিয়ে একটু স্বপ্নে ভেসেছিলাম,আর তার মধ্যেই এই উটকো জামেলা এসে ঝুটলো। প্রায় দশ মিনিট পর বাথরুমের দরজা দিয়ে মেয়েটি বাইরে মুখ বের করল।— "একটি টাওয়েল দেবেন ? আর সেই সাথে আপনার একটা জিনস, ও টি শার্ট দেবেন। প্লিজ .....প্লিজ।"
আমি অবাক হয়ে, জিনিষ গুলো নিয়ে বাথরুমের কাছে গিয়ে মেয়টির হাতে দিলাম।— মেয়ে টি আমার জিনিষ চাইল কেন? ও কি জানে এ বাড়িতে কোনো মেয়ে থাকে না!
পাঁচ মিনিট পর বাথরুম থেকে মেয়েটি বেরিয়ে সোজা আমার বেডরুমে ঢুকে, গুড নাইট বলে, দরজা টা বন্ধ করে দিল। ঘটনাটি চোখের নিমেষে ঘটে গেল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই। বোকার মকো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম। মাথাটা কোনো কাজ করছে না, ও দিকে আমার গল্প লেখা মাথায় উঠেছে। এখন কোথায় শোবো রাতে,—সেটাই ভাবতে লাগলাম। অগত্যা শেষ ঠিকানা হল ডাইনিং টেবিল।

কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম জানি না। ঘুম ভেঙে উঠে দেখি অনেক আগেই সকাল হয়ে গেছে। ঘরের জানালা গুলো খুলে দিলাম। পরিষ্কার আকাশ, সূর্যি মামা জানালার পাশের সেগুন গাছটির ফাঁক দিয়ে উঁকি ঝুঁকি মারছে।মেয়েটির কথা মনে পড়ল এবার। ডোর লক টা ঘুরিয়ে আমার বেড রুমে উঁকি দিলাম। একটা খোলা জানালা বাইরের আলো মেয়েটার শরীরে এসে পড়েছে । চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে সে। কাল রাতে ঠিক ভাবে মুখ টা দেখিনি। ঘুমন্ত অবস্থায় মুখ টাকে অদ্ভুত সুন্দর মায়াময় লাগছে, অবিনস্ত্য চুল গুলো কপালের উপর ছড়িয়ে পড়েছে, জামাটা নাভির উপর উঠে আছে।— কাছে গিয়ে ঠিক করে দিই জামাটা, না থাক কি ভাববে ঠিক নেই !
বাইরে দাঁড়িয়ে কয়েকবার ডাকলাম,— "এই যে শুনছেন?"
কোনো সাড়া নেই। ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকে মেয়েটির হাত স্পর্শ করে, আবার ডাকলাম।— "উফ! এত গরম কেন হাত টা?"
মেয়েটি চোখ মেলে থাকাল। আমাকে দেখেই জামাটা ঠিক করে নিল। মেয়েটির কপালে হাত রাখলাম।— "আপনার গায়ে তো জ্বর বইছে।"
চুপ করে রইল মেয়েটি। কাল রাতে ভিজে নিশ্চয় জ্বর এসেছে। এ আবার কি সমস্যায় পড়া গেল! ড্রয়ার থেকে একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, আর কিছু জলখাবার এনে মেয়েটিকে বললাম, খেয়ে নিন। মেয়েটি টয়লেট থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ওষুধ টা খেয়ে নিল।
আমি মেয়েটিকে বেশ ভাল ভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছি। দেখে তো মনে হয় কোনো ভদ্র ঘরের মেয়েই হবে।
—"ও রকম ড্যাব ড্যাব করে কি দেখছেন?"
লজ্জিত হয়ে চোখ টা সরিয়ে নিয়ে বললাম,— "কে আপনি? কি নাম আপনার?
—" বলবো না।"
— "মানে?"
— "মানে, আমার ইচ্ছা।"
মাথাটা গরম হতে শুরু করল।— "আমি কিন্তু পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হব।"
— "তা দিন, পুলিশ এলে বলব ,আপনি আমাকে সারা রাত আটকে রেখে,আমাকে...."
কথা শেষ হল না, বুকের ভেতর টা ধক করে উঠল। চোখের সামনে পুলিশের রুল টা ভাসতে লাগল। মেয়ে রা অনেক কিছু পারে। তাই প্রসঙ্গ টা চেপে গেলাম।
—"দেখুন আপনি যেই হন, আমার জানার দরকার নেই। আমি একটু পরেই বেরোবো,সেই বিকালে ফিরব। জানালার পাশে,কিম্বা ছাদে দাঁড়াবেন না। ব্যাচেলার মানুষ আমি,এ পাড়ায় আমার একটা সন্মান আছে। এটুকু অনুরোধ আশা করি রাখবেন।"
মেয়েটি হেসে রাজি হল। দুপুরে দুজনের খাবার বানিয়ে স্কুলে চলে গেলাম। বাড়ি ফিরে দেখি মেয়েটি টি.ভি. দেখছে। জ্বর ও একটু কমেছে মনে হয়। কয়েকদিন থাকতে থাকতে মেয়েটির প্রতি আমার কেমন যেন একটা মায়া জন্মে গেল। ওকে চলে যেতে বলতেও ইচ্ছা হল না। ওর সাথে গল্প করতে করতে আমার মনে একটা অন্যরকম অনুভুতি হত। এতদিন আমার গল্পের নায়িকারাই ছিল আমার জগৎ। তাদের সাথে মনে মনে গল্প করতাম বসে, হাঁতটাম তেপান্তর পেরিয়ে... রূপকথার দেশে। আর এখন এই মেয়েটির সাথেই গল্প করি। বেশ ভালই সময় কেটে যায়। আমার যানতে ইচ্ছে হয় না ও কে? কোথা থেকে এসেছে? তবে ছাদে আমি ওকে উঠতে দিই না, বাইরেও বেরোতে দিই না।

এদিকে আমার গল্প টা লেখা শেষ করতে হবে। সম্পাদক মহাশয় তাড়া লাগিয়েছেন। তাই আজ রাতের খাবার টা খেয়ে পড়ার ঘরের টেবিলে খাতা পেন টা নিয়ে বসলাম। আজ সত্যি আমার মন টা খুব খারাপ লাগছে। এতদিন ধরে তিল তিল করে আমার স্বপ্নের মতো করে গল্পের নায়িকা কে গড়ে তুলেছি; আজ তাকে নিজের হাতে মেরে ফেলতে হবে গল্পের প্রয়োজনে। মনটা খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু কি করব! অনেক সময় মিলনের থেকে ট্রাজেডি কেই অনেকদিন মনে রাখে পাঠক রা।
একমনে একের পর এক বাক্য সাজিয়ে যাচ্ছি, হঠাৎ পিঠে একটা হাতের স্পর্শ পেলাম। আরেক টু হলে ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠতাম,সামলে নিলাম নিজেকে,দেখি মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে।
— "কি আগোছালো আপনি?"
মেয়েটি আমার বই খাতা সব সাজিয়ে রাখতে শুরু করল।
— "না, না সাজিয়ে রাখবেন না। আগোছালো না থাকলে আমার লেখা লেখি করতে অসুবিধা হয়। তুমি ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। কাল আমার ছুটি, তোমাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাব।"
মেয়েটি ঘর থেকে খুশি মনে চলে গেল। আর আমিও একরাশ দু:খ নিয়ে আমার গল্পের নায়িকা প্রিয়ংবদা কে মেরে ফেলে গল্পটিকে সমাপ্ত করলাম।

সকালে ঘুমটা তাড়াতাড়ি ভেঙে গিয়েছিল। বাইরে থেকে মেয়েটিকে কয়েকবার ডাকলাম। কোনো সাড়া এল না। দরজা খুলে ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখি মেয়েটি নেই। ভাবলাম বাথরুমে গিয়েছে হয়তো। অনেকক্ষণ হয়ে গেল,বাথরুম খুলে দেখি নেই। ভয় লাগল আমার, ছুটে নীচে গেটে গিয়ে দেখি গেটের দরজা তো বন্ধই আছে, আর তাছাড়া চাবি তো আমার কাছেই থাকে। সারা বাড়ি, ছাদ তন্ন তন্ন করে খুজলাম। না! কোথাও পেলাম না।
আবার আমার বেডরুমে এসে ঢুকলাম। মাথাটা ঘুরতে লাগল আমার। এই ছোটো বাড়ির মধ্যে লুকোবার জায়গা তো নেই। হঠাৎ চোখ গেল আমার বেডের উপর। একটা ছোটো চিরকুট ভাঁজকরে রাখা। তাড়াতাড়ি চিরকুট হাতে নিয়ে খুলে পড়তে শুরু করলাম। ফাঁকা ফাঁকা করে চার পাঁচটা লাইন লেখা আছে-"আপনি আমার জন্মদাতা ,একটু করে করে আপনার আদর, যত্নে আমাকে গড়ে তুলেছিলেন।"
বলে কি মেয়েটা! আমি বিয়ে করিনি তো জন্মদাতা কি করে হব? পরের লাইনে চোখ রাখলাম.....
— "বেশ তো ছিলাম আপনার যত্নে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজে হাতে আমাকে মেরে দিলেন গত রাতে।"
আমার মাথাটা ঘুরতে লাগল। খুন! না, আমি খুন করতেই পারিনা। মেয়েটি মিথ্যা লিখেছে।
দ্রুতো নীচের দিকে চোখ বোলালাম.....
— "এই ভাবে মারতে আপনার কষ্ট হল না? আমাকে মেরেই যখন ফেলেছেন, তখন আর আপনার ঘরে থাকব কি করে? আপনার সাথে আর বেড়াতে যাওয়া হল না । তাই চলে যাচ্ছি মৃতের দেশে।"
ইতি..
আপনার গল্পের নায়িকা প্রিয়ংবদা।

চিরকুট টা হাতে নিয়ে আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলাম দু মিনিট।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা