Skip to main content

বিবাহিত রা পড়বেন না~ ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



গল্পপড়ুয়া ফেসবুক পেজে লাইক করুন:
 http://www.facebook.com/golpoporuya

বিবাহিত রা পড়বেন না 

(১)

অভীকের গলার কাছে মুখ টা লুকানো শ্রীপর্নার।ডান হাতের আঙুল দিয়ে অভীকের আনাবৃত বুকের উপর অদৃশ্য দাগ কাটতে লাগলো। এলোমেলো দাগ।একটা পা,অভীকের পায়ের উপর তুলে রাখা।
এখন বৃষ্টির সময়।ভোর রাতে একবার খুব জোরে বৃষ্টি হয়ে গেছে। বাইরেটা এখন শান্ত।জোরে বৃষ্টি হওয়ার পর চারিপাশ টা অদ্ভুত রকম শান্ত হয়ে যায়।একটা কাকের কর্কশ গলায় কঁ কঁ ডাক শুনতে পেল শ্রীপর্না।সকাল হয়ে গেছে অনেক আগেই।ঘড়িতে আট টা বাজে।কিন্তু শ্রীপর্না হয়তো বুঝতে পারিনি। এরকম ও হতে পারে হয়তো,শ্রীপর্না বোঝার চেষ্টা করেনি।রবিবার এলে এমনিতেই একটু কম কম বোঝার চেষ্টা করে শ্রীপর্না।রাতে ঘড়িটাকে বন্ধ করে দিতে ইচ্ছে করে।অন্যদিন হলে, এতক্ষন হয়তো বিছানা ছেড়ে উঠে পড়তো।কিন্তু আজ যে রবিবার! আজ সব কিছু উলোট-পালট করে দিতে ইচ্ছে করে শ্রীপর্নার।মনে হয়, সারা দিন না খেয়ে,বরকে কোলে টেনে নিয়ে শুয়ে থাকতে।খুব করে আদর করে দিতে।করেও তাই।কিন্তু এই সকাল বেলা আর কতক্ষন আদর দেওয়া যায়?তবুও ভাগ্য ভাল ছেলেটা বাড়ি নেই।সমু বাড়িতে থাকলে,দু'জনের মাঝখানে একটা শৈলরেখা টেনে শুয়ে পড়ত।
টকাস করে অভীকের গালে একটা চুমু খায় শ্রীপর্না।তারপর অভীকের কানের লতি টা হালকা করে কামড়ে দিয়ে আবদুরে গলায় বলে,-"তুমি আর আগের মতো রোমান্টিক নও একদম!ভালো করে আদর ও করো না।অত তাড়াহুড়ো করলে হয় নাকি!"

অভীক ও বোঝে,আজকাল একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে বেশি। শ্রীপর্নার কথায় অভীক কিছু বলে না।শুধু হাসে।তারও এরকম ছুটির দিনে বউ কে ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না।শুধু ছুটির দিন বলে নয়, কোনো দিনই উঠতে ইচ্ছে করে না। তবুও উঠতে হয়।বউ ছেড়ে সকাল বেলা বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ার দু'টো কারন থাকতে পারে ছেলেদের।প্রথমত,যদি বউকে পছন্দ না হয়,আর দ্বিতীয়ত হল কাজ। অভীকের প্রথম সমস্যা নেই।শ্রীপর্নাকে তার খুব পছন্দ।আজ থেকে নয়,সেই কলেজ লাইফ থেকে পছন্দ। শ্রীপর্না তখন কলেজে নতুন। প্রথম বর্ষ,বাংলা অনার্স।কলেজের একটা সাংষ্কৃতিক অনুষ্টানে তার গান শুনেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিল অভীক।তখনও শ্রীপর্নাকে দেখিনি অভীক। অডিটোরিয়ামের বাইরে থেকে শুধু গান টা শুনেছিল।এখনো মনে আছে সেই গানটা।মাঝে মাঝে শ্রীপর্নাকে গাইতেও বলে।-"দাঁড়িয়ে আছো, তুমি আমার গানের ওপারে।"
গান শুনে অডিটোরিয়ামের মধ্যে ছুটে গিয়েছিল অভীক। গলা বাড়িয়ে এক পলক দেখেছিল মেয়েটিকে। মাঝারি উচ্চতা,শ্যামলা গায়ের রঙ,টানা টানা চোখ,মাথায় কোকড়ানো কালো চুল।এই হল প্রথম দেখা! তারপর প্রেম।আরও কয়েক বছর পর বিয়ে। তাই শ্রীপর্নাকে অপছন্দের কোনো কারন নেই।তবে বউ ছেড়ে, অভীকের সকাল বেলা উঠে পড়ার কারন কি?একটাই কারন,কাজ।
একটা বেসরকারি কর্পোরেট সংস্থায় চাকরী করে অভীক।ভালো পদ। বেতন ও মন্দ নয়।তাই সকাল ন'টা সময় তাকে বেরিয়ে হয়। আর ঘরে ফিরতে রাত দশটা। শ্রীপর্না,এবার হাত টা বুক থেকে সরিয়ে,অভীকের গাল টা ধরে নিজের ঠোঁটের দিকে ফিরিয়ে নিল।
-"কি গো! চুপ করে আছো যে! কিছু বলো, এরকম মিষ্টি একটা সকালে।"
শ্রীপর্নার কাছে সবই মিষ্টি।সকাল মিষ্টি,বিকাল মিষ্টি,সন্ধ্যা মিষ্টি,..... হাসি মিষ্টি।আরও অনেক কিছু মিষ্টি।
শ্রীপর্নার চোখের দিকে তাকিয়ে এবার মুখ খুলল অভীক। নাকে নাক ঘষে দিয়ে বলল,-"কোথায় চুপ! আমি তো তোমাকে দেখছি।"
-"শুধু দেখলে হবে!"অভীকের একটা হাত নিয়ে,নিজের কোমরের উপর  রাখলো শ্রীপর্না।
কে শুধু দেখতে চায়!...কিন্তু আজ কাল কিছু করতে গেলেই একটা বাধা এসে সামনে হাজির হয়। শ্রীপর্নাও জানে বাধা টা কি! অনেক বার তার সম্মুখীন হতে হয়েছে তার। অভীকের চুপ করে থাকা দেখে শ্রীপর্না আবার বলে,-"আজ সমু বাড়িতে নেই।শুধু তুমি আর আমি। আজ কিন্তু কোনো অজুহাত শুনবো না!"
জানালার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে লুকোচুরি খেলছে বিছানার উপর। বউ এর নাক টা টেনে অভীক বলল,-"আচ্ছা,ঠিক আছে। এবার উঠে পড়তো দেখি।দু'কাপ কড়া করে দুধ দিয়ে চা বানাও।"
শ্রীপর্নার হেসে উঠে পড়ে।তারপর ফ্রেশ হয়ে সোজা কিচেনে গিয়ে ঢোকে।
(২)
বিয়ের আট বছর পার হয়ে গেছে শ্রীপর্নার।দুই বছরের মধ্যে সমু কোলে এল।শ্রীপর্নার ইচ্ছে ছিল না,এত তাড়াতাড়ি বাচ্চা-কাচ্চা নেওয়ার। কিন্তু অভীকেই জোর করে বসল।তাই নেওয়া।আর সমু হওয়ার পর থেকেই,সব কিছু যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেল।
বিয়ের প্রথম এক বছর সবারই দারুন কাটে। শ্রীপর্নার ও বেশ ভালোই কেটেছিল। বেশ স্বপ্ন, স্বপ্ন ভাব।মনে মনে কল্পনার রঙিন ফানুস ওড়ানো।
গ্যাস ওভেন টা অন করে চায়ের জল বসালো শ্রীপর্না। চা,দুধ,আর চিনির কৌটা টা মিটকেসের মধ্যে থেকে বের করে আনলো। বিয়ের প্রথম বছরের কথা ভাবলে আজও কেমন গা শিরশির করে শ্রীপর্নার।তা একটু গা শিরশির করা ভালো।বিয়ের আট বছর পর যদি গা শিরশির না করে,তবে সেটা ভালোর লক্ষন নয়।ফুটন্ত জলে চায়ের পাতা ফেলল শ্রীপর্না।
অভীকের কাছে 'বাধা' বলতে এই একটা কারন। ছেলেটা বড় হচ্ছে দিন দিন।আজ কাল সব কিছু বুঝতেও শিখেছে।এখনকার বাচ্চা রা সব কিছু আগে আগে বুঝে যায়।তাই রাতে অনেক সাবধান থাকতে হয়। সমুর প্রশ্নও সব অদ্ভুত।বার বার অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়,শ্রীপর্না কে।এই তো সেদিন,সন্ধ্যাবেলা টিভি তে নিউজ চ্যানেল দেখতে দেখতে বলল,-"মাম্মি,ঐ দেখ বড় সাপ।"
শ্রীপর্না বলেছিল,-"হ্যাঁ,খুব বড়।"
তারপরের প্রশ্ন শুনে শ্রীপর্নার মুখ হাঁ হয়ে গিয়েছিল।-"মাম্মি,জাপানি তেল কি করে?"
টিভির রিমোট ঘোরাতে এক সেকেন্ড দেরি করেনি শ্রীপর্না।সেই থেকে নিউজ দেখাই তাকে ছাড়তে হয়েছে। এরকম আরও সব অদ্ভুত অদ্ভুত প্রশ্ন সব।সেদিন রাতে তিন জন টেবিলে খেতে খেতে হঠাৎ সমু বলল,-" মাম্মি,আমার ক্লাসমেট ঝুমুর বলছিল,ওর দাদা-বৌদি নাকি হানিমুনে গেছে।খুব মজা হয় নাকি হানিমুনে।কি মজা হয়?"
শ্রীপর্না,ছেলের কথায় কি উত্তর দেবে ভেবে পায় না। অভীকের দিকে তাকিয়ে বলে,-"আজকাল কার বাচ্চা গুলোকে দেখেছো,ক্লাসে হানিমুন নিয়েও আলোচনা করে!"
তবে সেবার ঘটনা ছিল আরও অস্বস্তিকর। সেদিন বাড়িতে মা আর ভাই এসেছিল শ্রীপর্নার।হাসতে হাসতে শ্রীপর্নার মা,সমু জিজ্ঞেস করেছিল,-"দাদুভাই,আমার কাছে থাকবি না মায়ের কাছে?"
সমু বলেছিল,-"তোমার কাছে দিদুন।"
-"কেন?মা বকা দেয় শুধু?"
-"না।মা,রাতে আমার পাশে থাকে না।আমাকে ঘুম পাড়িয়ে বাপির পাশে গিয়ে থাকে।"
কি অস্বস্তিকর অবস্থা!
ভাই আর মায়ের সামনে কি করবে বুঝতে পারছিল না শ্রীপর্না।গলার স্বর চড়িয়ে বলেছিল,-"তুমি বড্ড পাকা হয়ে গেছ,সমু! যাও পড়তে বসো।"
এরকম ছেলে থেকে তাই খুব সাবধানে থাকতে হয় দু'জন কে। পাশের ঘরটা অবশ্য ফাঁকা। সেখানেও যেতে পারে দু'জন। গিয়েছিলও তো সেদিন রাতে দু'জন।কিন্তু কি হল?
সবে মাত্র যেই মুড টা এল,অমনি পাশের ঘরে কান্নাকাটি।মা,মা...করে চিৎকার।কি আর করা যায়! শ্রীপর্না কে ছুটতে হল।আর সারারাত ছেলে তাকে কাছছাড়া করিনি।
আজ অবশ্য সমু বাড়ি নেই।কাল বিকালে শ্রীপর্নার মা এসে নিয়ে গেছে তাকে। শ্রীপর্নার বাবার বাড়ি কাছেই।হেঁটে কুড়ি মিনিট লাগে।তাই মাঝে মাঝে ইচ্ছে করলে,সমু ফোন করে দিদুন কে ডেকে নেয়। তারপর দিদুনের সাথে চলে যায়। কয়েকদিন থেকে আবার চলে আসে।মন মর্জি ব্যাপার।
ওভেন বন্ধ করে দিল শ্রীপর্না।তার মানে চা কমপ্লিট।দু'টো কাপে চা ঢেলে,চিনি দিয়ে ভালো করে চামচ দিয়ে ঘোরাতে লাগলো শ্রীপর্না।ও ঘর থেকে অভীক হাঁকালো,-"কি গো,তোমার চা হল?"
-"আরে একটু দাঁড়াও না বাবা।একটু দেরি হলেই যেন বাবুর সহ্য হয় না।" শ্রীপর্না ও জোর গলার বলল।
তারপর চায়ের কাপ দু'টো হাতে করে নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে গেল।
(৩)
সন্ধ্যা থেকেই আকাশের মনটা খারাপ।কালো হয়ে আছে। যেকোনো মুহুর্তে ঝড় বৃষ্টি আসতে পারে।বৃষ্টির মরসুমে সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আকাশের মন খারাপ থাকলে কি হবে,শ্রীপর্নার মনটা বেশ ভালো। ফুরফুরে টাইপের।মন তো ভালো রাখতেই হবে। মন,মেজাজ খারাপ থাকলে এসব কাজ একদম ভালো হয় না।শুধু নিজের মন নয়, অভীকের মন টাও ভালো রাখতে হবে।
দু'জন সোফায় বসে টি.ভি দেখছে। অভীকের চোখ টিভির পর্দায়। টিভিতে খেলা হচ্ছে।লাইভ ফুটবল খেলা।শ্রীপর্না, অভীকের একদম কাছে ঘেঁষে বসে বলল,-"শুধু কি টিভি দেখবে,আমার দিকে একটু দেখো।"
-"উফ! দাঁড়াও না,খেলা দেখছি তো!"
অভীক বিরক্ত হয়ে বলে। শ্রীপর্না দুষ্টমি থামালো না,-"ওহ! তোমার শুধু খেলা দেখতেই ইচ্ছে করে বুঝি! আর খেলা করতে?"
-"ধুত! তুমি খেলা দেখার মুড টাই নষ্ট করছো।"অভীক মুচকি হাসে।
শ্রীপর্না চুপ করে যায়।এখন রাগানো একদম ঠিক নয়।মুড খারাপ হলেই গেল!
বিছানা টা ভালো করে সাজিয়েছে শ্রীপর্না। অন্যদিনের মতো আগোছালো নয়।বেশ পরিপাটি। সারা ঘরে পারফিউম ছড়িয়ে দিয়েছে।একটু সুগন্ধ ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরের ভেতর।ডিনার কমপ্লিট দুজনের।বারান্দায় এসে দাঁড়ায় অভীক।একটা সিগারেট ধরিয়ে, ধোঁয়া ছাড়ে।রাতে খাওয়ার পর বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটাই সিগারেট খাওয়া অভ্যাস তার।পাশে শ্রীপর্না দাঁড়িয়ে।বৃষ্টি হব হব,করেও এখনো হয়নি।তবে চারিপাশ টা ঘুমোট মেরে আছে। শান্ত,নিশ্চুপ।আকাশের দিকে চেয়ে অভীক বলল,-"রাতে ঝড় উঠতে পারে।"
ঝড় তো উঠবেই। বাইরে ও উঠবে, ঘরের ভেতরেও উঠবে।মনে মনে কথাটা বলে হাসলো শ্রীপর্না। সিগারেট টা শেষ করে অভীক বলল,-"চলো,ঘুম আসছে।"
-"ঘুম!..ঘুম তোমার বের করছি!" চোখ মোটা করে অভীকের পেটে একটা ঘুষি মারলো শ্রীপর্না।
ঘরে ঢুকলো ওরা দু'জন।বুকের ভেতরটা কেমন যেন ঢিপ ঢিপ করতে শুরু করছে।সেটা টের পেল শ্রীপর্না।তা একটু করা ভাল।অভীক শুয়ে পড়েছে। শ্রীপর্না এখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। কিছুক্ষন ঘুরলো ফিরলো,নিজেকে দেখলো আয়নার ভেতরে।তারপর ঘরের লাইট টা অফ করে অভীকের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল।আজ আর কোনো বাধা নেই।
যেই মাত্র অভীকের হাত টা ধরে বুকের কাছে টানলো,ঠিক তখনি সুপর্নার ফোনটা বেজে উঠল।ভয় পাওয়ার মতো অবস্থা দু'জনের।এত রাতে আবার কার ফোন!তাড়াহুড়ো তে ফোনটা সাইলেন্ট করতেও ভুলে গেছে!
বিরক্ত হয়ে ফোন টা হাতে নিয়ে দেখল,মায়ের ফোন।ফোনটা রিসিভ করতেই,ফোনের ওপার থেকে
শ্রীপর্নার মা বলল,-"সমু,হঠাৎ খুব কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।আর একদম এখানে থাকতে চাইছে না। শুধু বলছে,মায়ের কাছে যাব,মায়ের কাছে যাব।...তুই অভীক কে গাড়ি নিয়ে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দে।আমি আর কান্না থামাতে পারছি না।"
ফোন টা কেটে দিল শ্রীপর্নার মা। শ্রীপর্না কি বলবে,সব গুলিয়ে গেল।অন্ধকারে,অভীকের মুখের দিকে চেয়ে বসে থাকলো।
অভীক বলল,-"কি হল গো?কার ফোন ছিল?"
খাট থেকে নেমে,লাইট আবার জ্বালালো শ্রীপর্না। ফ্যাকাসে মুখ।
আবার জিজ্ঞেস করল অভীক,-" কি গো,কার ফোন?কি হয়েছে?"
শ্রীপর্না হেসে বলল,-"বাইকটা নিয়ে তাড়াতাড়ি,ও বাড়িতে যাও। সমু খুব কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। একদম আর ওখানে থাকতে চাইছে না।"
বোকার মতো কিছুক্ষন শ্রীপর্নার মুখের দিকে চেয়ে থাকলো অভীক। হাসল।তার পর জামাটা মাথায় গলিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

স্বদেশ কুমার গায়েন(২০১৬)

Comments

  1. Chokher samne vobissoy drisyoman ��

    ReplyDelete
  2. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি থ্রিলার গল্প " খুনি "

বাংলা থ্রিলার গল্প - ' খুনি '  আমি একটা খুন করেছি। ভুল বললাম,একটা নয় দু'জন কে।নৃশংস খুন যাকে বলে,ঠিক তেমন।তবে খুন টা বড় কথা নয়। খুন তো যে কেউ করতে পারে।আমার মনে হয়েছিল,ওদের দু'জনের বেঁচে থাকা উচিত নয়, তাই খুন করেছি।কিন্তু মজার ব্যাপার হল,পুলিশ আমাকে ধরতে পারছে না।প্রতিদিন পুলিশের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি,খুনি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও বলে দিচ্ছি, কিন্তু তার পরে ও পুলিশের ধরার ক্ষমতা নেই।এই দেখুন,এখন থানায় এসে বসে আছি....। (১) গল্পটা তাহলে একটু আগে থেকেই বলি।বছর খানেক আগের কথা।সেদিন আমাদের বিবাহবার্ষিকী।এক বছর পুর্ন হল আমাদের বিয়ের।সকাল থেকে মন টা বেশ ভালোই।এদিন সবারই মন ভালো থাকে।আমারও আছে।এ দিন এলেই বিয়ের সেই কথা মনে পড়ে।বাড়ি জুড়ে কত মানুষ জন,আলোর রোসনাই,সানাই এর সুর, মেয়েদের উলুধ্বনি,সাত পাকে ঘোরা,শুভদৃষ্টি, কান্নাকাটি আরও অনেক কিছু।সবেমাত্র এক বছর,তাই হয়তো আমার এত কিছু মনে আছে। পুরানো হলে হয়তো থাকবে না।আবার থাকতেও পারে। ভোর থেকে উঠেই ব্যস্ত অসিত।আমার দিকে তার থাকানোর সময় নেই।ঘড়িতে আট টা বাজে। এখনো পর্যন্ত শুধু একটা মাত্র চুমু।ভালো লাগে এরকম! রাতে অসিত