Skip to main content

তোর জন্য সব পারি ~ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]


- এই কাল আসবি না?
- আবার? গত সপ্তাহেই তো গেলাম!
- আমার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে রে। সবাই হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে ধরে।
- আবার ঢপ মারা শুরু করেছিস! মিথ্যে মিথ্যে আর কত বার হাসপাতালে যাবি বলতো? এ পর্যন্ত তোর পঞ্চাশ বার হাসপাতালে যাওয়া হয়ে গেছে। শনিবার টা এলেই তুই কিছু না কিছু একটা অজুহাত দেখাস।
- এ বার আয়! প্লিজ! সত্যি বলছি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।
- এ রবিবার যেতে পারব না রে। অফিসের একটা স্পেশাল কাজ পড়ে গেছে।
আর কিছু না বলে, রিয়া ফোনটা কেটে দেয় । আমি কিন্তু একটুকুও অবাক ও হয়নি বা বিরক্তি বোধ করিনি। এটা ওর অভ্যাস, এ সপ্তাহে বাড়ি যাচ্ছি না তাই ওর রাগ হয়েছে। রাগ কমে গেলেই ও নিজে থেকেই ফোন করবে। আর কি মিথ্যেবাদী মেয়েটা দেখতে পারছেন ! প্রতিবারের মতো আবার প্লান এঁটেছে, আমাকে সপ্তাহের শেষে একবার দেখার জন্য।
রিয়াকে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম,সেদিন দুজনরই পরনে কোনো জামা প্যান্ট ছিল না।না! খারাপ ভাববেন না, - একেবারে সেই ছোটো বেলায় প্রথম দেখা। তখন জামা প্যান্ট না পরলেও চলত। কি বড় বড় চোখ!
একবার আমার নাকি, চোখের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আরেক বার ,তখন সবে একটু একটু দাঁড়াতে শিখেছি-আমাকে একলা পেয়ে নাকি, ঠাস ঠাস করে চড় মেরে গাল লাল করে দিয়েছিল,—ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিয়েছিলাম; তখন কথা বলতে শিখিনি , তাই কে মেরেছে শুধু হাত দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলাম মা কে । সেই থেকে আমার মা, আমাকে আর ওর পাশে নিয়ে যেত না। এমন কি আমার যখন পাঁচ বছর বয়েষ তখনও আমাকে ওর থেকে দুরে থাকতে বলত। কিন্তু এখন ওর পাশে যেতে কেউ আর বারন করে না। কারন ও আমাকে ভালবাসে, আর আমিও ওর বড় বড় করে ভয় দেখানো চোখ দুটোকে ভালবাসি। তবে ওর মতো বদমাস মেয়ে আমি খুব কম দেখেছি। এই পঁচিশ বছর বয়েষে ও সেই একই রকম আছে।
আর একটা জিনিষ খুব ভাল পারে,- সুন্দর করে গুছিয়ে মিথ্যে কথা বলা। ওর জন্যেই আমাকেও সেটা শিখতে হয়েছে। সেই নার্সারি থেকে,— একটু ভুল বললাম,সেই নার্সিংহোম থেকে চাকরী পাওয়ার আগে পর্যন্ত এক মুহুর্ত আমাকে চোখের বাইরে হতে দিই নি। সারাটা সময় আমাকে চোখে চোখে রাখত।কিন্তু আজ বেশীরভাগ দিনই ওর চোখের বাইরে থাকতে হয়। আমি বুঝতে পারি রিয়ার কাছে এটা কত কষ্টের!
যে দিন রেলে চাকরী পেয়ে চলে আসি এই বাঁকুড়া জেলার ছোটো মফস্বল শহরে,তার আগের দিন সকাল থেকে আকাশ টা মেঘ করে ছিল। সকাল থেকে সারাদিন রিয়া আমার সাথে কথা বলিনি,কিছু খাই ও নি। দরজা বন্ধ করে বালিসে মুখ গুঁজে কেঁদেছিল। সন্ধ্যাবেলা অনেক কষ্টে আমার ডাকাডাকিতে দরজা টা খুলেছিল। আমি ঘরে ঢুকতেই ,রিয়া দরজাটা বন্ধ করে দেয় । কিছু বলার আগেই, আমার মাথাটা খুব জোরে ওর বুকে চেপে ধরে। এতদিন ওর বন্ধুত্ব, খুনসুটি,মারপিটের স্পর্শ পেয়েছি কিন্তু আজ ওর ভালবাসা আর আদরের স্পর্শ প্রথম অনুভব করলাম। আমার দুচোখের জল একটু, একটু করে ওর জামার ভিতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করছে। ওর উষ্ণ ঠোঁটের বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করতে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লেগেছিল।
পরদিন সকালে হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস যখন বড় বড় বাড়ি, গাছ পালা,ধূ ধূ সবুজ মাঠ গুলোকে পেছনে ফেলে ঝড়ের গতিতে ছুটছিল, তখন বার বার মনে হচ্ছিল চেন টেনে মাঝপথে নেমে এক ছুটে ওর কাছে চলে যাই। বুঝতে পারছিলাম আমার চোখ দু টো কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে.....।
প্রতি সপ্তাহে একদিনের জন্যে হলেও ওর কারনে আমাকে বাড়ি যেতে হয়। না যেতে চাইলেও,রিয়া কিছু না কিছু একটা মিথ্যে গল্প সাজিয়ে আমাকে ঠিক টেনে নিয়ে যায়। ওর কারনেই অফিসে আমার নাম হয়েছে ঢপবাবাজি। ওর আবদার মেটাতে গিয়েই আমাকে হাজার টা মিথ্যে কথা বলতে হয় অফিসার কে ছুটি নেওয়ার জন্য। এই দু বছরে আমার মা কে পনেরো বার, বাবা কে দশ বার আর বুড়ি ঠাকুমা কেও সাত বার মিথ্যে মিথ্যে হাসপাতালের বেডে নিয়ে গেছি। শুধু আমার বাবা মা কে না, ওর নিজের বাবা মা কে ও রিয়া ছাড়েনি। ওর বাবা, মা র মিথ্যে অসুস্থের কথা শুনিয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেছে পাঁচ বার। কতবার ও কে বলেছি,-" তোর এরকম মিথ্যে বলতে বিবেকে বাঁধে না?"
রিয়া তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে,- তোর জন্যে, তোকে একটু খানি দেখার জন্যে, আমি সব করতে পারি।
আর আমি ওর এই ছেলেমানুষি আবদার মেটাতে গিয়ে একটার পর একটা অজুহাত দিয়ে যাচ্ছি অফিসে। অফিসার কে বলতেও পারিনা, - স্যার! আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে প্রতি সপ্তাহে দেখা করতে যেতে হয়।
তাই বাধ্য হয়েই বাবা, মা কে হাসপাতালে পাঠাতে হয়। একবার তো একটা মজার ঘটনা ঘটনা ঘটল । আমি শনি বার বাড়ি যেতেই রিয়া বলল,
- এবার তোকে তিন দিন ছুটি নিতে হবে?
- অসম্ভব! আমি সোমবার গিয়ে অফিস ধরব।
— তোর তো পায়ে, মচকা লেগেছে, তুই যাবি কি করে?
- মানে?
মানে টা বোঝাতে গিয়ে, আরেকটু হলেই আমার পা টা ভেঙে দিত রিয়া।
- আ! লাগছে তো! ছাড়। বুঝে গেছি,আরেকটা ঢপ দিতে হবে তাইতো?
যা হবার তাই হল,ফোন করে অফিসে বলে দিলাম,- সিড়ি থেকে পড়ে আমার পা মচকে গেছে। তিন দিন পর পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে অফিসে গেলাম। আরও চারদিন আমাকে মিথ্যে মিথ্যে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হল।
কিন্তু মিথ্যে আর কতদিন চলবে! একদিন, আমার এক কলিগ ভুল করে মচকা লাগা পায়ের উপর পা তুলে দিল। কোনো গুরুত্ব দিলাম না।
- এই তোর পায়ে ব্যাথা না? আহহ...উহহ কিছুই করলি না তো!
ব্যাস ধরা পড়ে গেলাম। সেই থেকে নাম হয়ে গেল ঢপবাবাজি। ভাগ্যিস কথা টা অফিসারের কান পর্যন্ত যাইনি। যদি মিথ্যা কথা বিক্রি করা যেত তাহলে রিয়ার জন্যে এই দু' বছরে যত মিথ্যে কথা বলেছি , সে গুলো বিক্রি করে এতদিন আমি পৃথিবীর ধনীব্যক্তি দের মধ্যে একজন হয়ে যেতাম।
আজ ও দেখুন সকাল সকাল ফোন করে ঢপ দিতে শুরু করেছে রিয়া। আমার ও খুব মন চাইছে যেতে, কিন্তু অফিসার মোটেই ছাড়ছে না! সকাল গড়িয়ে দুপুর,দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেল , - রিয়া আর ফোন করিনি। মনে মনে ভাবলাম,- এত সময় তো রাগ করে থাকার মেয়ে ও নয়!
রিয়ার নাম্বারে ফোন লাগাতেই সুইচড অফ বলল। আমি যাচ্ছি না, শুনে, মনে হয় একটু বেশিই রেগে গেছে।
সন্ধ্যার আকাশ টা যেন মন গুমরে বসে আছে। কোয়ার্টারের জানালা দিয়ে পেছনের পুরো আকাশ টা দেখা যায়। কালো কালো গাছ গুলোও একটু একটু করে মাথা নাড়ছে। খবরের কাগজের পাতায় চোখ বুলোতে বুলোতে হঠাৎ টেবিলের উপর ফোন টা দপ দপ শব্দ করে উঠল।
রিয়ার ফোন। কিন্তু ফোনটা রিসিভ করতেই যেন রিয়ার বাবার গলার আওয়াজ পেলাম,
- দীপু!,তোর জেঠু বলছি। রিয়ার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে সকালে! এখন অনেকটা ভালই আছে।তোর কথা বলছে বার বার!
আমার বুকের ভেতরে কে যেন পেরেক পুঁতে দিল। তাহলে সকালে ফোন করে রিয়া ঠিকই বলেছিল। আর এক মুহুর্ত দেরী না করে, জামাটা গায়ে গলিয়ে, ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। অফিসার কে ফোন করে বললাম,- আমার খুব শরীর খারাপ। জ্বর এসছে একশো তিন ডিগ্রী । খুব দরকার না পড়লে কাল ডাকবেন না।


প্লাটফর্মে গিয়ে যে এক্সপ্রেস পেলাম উঠে পড়লাম। সোজা হাওড়া, তারপর বাসে শিয়ালদহ। রিয়াদের বাড়ি যখন ঢুকছি তখন বারোটা বাজতে দশ মিনিট বাকি। সোজা ঝড়ের মতো ঘরের ভেতর ঢুকে,
- জেঠু! রিয়া কেমন আছে?
- দীপু! তুমি এত রাতে! হঠাৎ না জানিয়ে চলে এলে?
- মানে! আপনি ফোন করে বললেন যে,রিয়ার
অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে!
- কখন? রিয়া তো ওর ঘরেই আছে। যাও গিয়ে দেখে এসো।
তিন লাফে রিয়ার বেডরুমে ঢুকে দেখি,— দিব্যি বসে বসে কমপিউটারে গেম খেলছে। আমি কি বলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
- কি রে! আসবি না বললি যে?
- তোর অ্যাক্সিডেন্টের খবর শুনেই তো চলে এলাম।
— কে খবর দিল?
- জেঠু!
কমপিউটারের স্ক্রিন থেকে মুখ টা সরিয়ে আমার দিকে তাকাল,
- ওরে গাধা! ওটা আমিই বলেছিলাম। এই প্রযুক্তির যুগে ফোনে ভয়েস চেঞ্জ করে কথা বলা টা কোনো ব্যাপার নয়।
মাথাটা আমার ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। রাগ ও হচ্ছে খুব, - তোর জন্যে আমার মিথ্যে মিথ্যে একশো তিন ডিগ্রী পর্যন্ত জ্বর তুলতে হয়েছে!
- তাই? তাহলে তুই তো এখন ঠান্ডায় কাঁপছিস! আমার কাছে আয় ঠান্ডা টা একটু কমিয়ে দিই।
- ধাৎ! তুই না একটা যাচ্ছেতাই। কোনোদিন আর তোর কথা বিশ্বাস করব না!
- এ কথা আর বলিস না! আগেও তোর মুখে অনেকবার শুনেছি।
- দেখেনিস এবার!..কাল সকালে দেখা হবে।
আর কথা না বাড়িয়ে ওর বেড রুম থেকে বেরিয়ে যাই। এখনো ওর সেই হা হা করে হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা