Skip to main content

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]



মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম,— "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।"
কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।"
ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।"
পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?"
রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।"
হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।"

ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম,— "মদ খেলে আমার, তোদের মতো দু টো শিং আর চার টে পা গজায় না। ঠিক যেতে পারব।"
রাতের আকাশ টা পরিষ্কার। পূর্নিমার বড় চাঁদ উঠেছে। ক্লাব থেকে বেরোতে বেরোতেই সাড়ে সাতটা বেজে গেল। জানি আজ বাড়ি ঢুকলে কথা শুনতেই হবে। দু'সপ্তাহ হয়নি বিয়ে করেছি, কিন্তু বিয়ের পর দিন থেকে সময় নির্ধারিত হয়ে গেছে, - রাতে সাড়ে সাত টার পরে আর বাইরে থাকা যাবে না। একটু দেরি হলেই বউ রিভালবার হাতে নিয়ে বসে থাকে।

মোড়ের মাথার দোকান থেকে চার পাঁচ টা চুইংগাম কিনে এক সাথে মুখে পুরে চিবোতে লাগলাম। বাড়ি ঢুকলে কেউ যেন বুঝতে না পারে যে - আমি মদ্যপান করেছি। মাথাটা কেমন যেন ঘুরতে লাগল,অনেক দিন পর খেলাম তো। কলেজে থাকতে দাদাদের ভয় পেয়ে একবার খেয়েছিলাম আর আজ বউ এর ভয় কাটাবার জন্য খেলাম।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ব্যাচেলার জীবনের কথা গুলো বার বার মনে পড়ছিল। সারা দিন ক্লাবে বসে আড্ডা দেওয়া আর বাড়ির খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। হিরোর মতো চোখে চশমা লাগিয়ে হিরো বাইকে চড়ে ঘুরে বেড়ানো ছিল আমার কাজ। বাপের বড় বিজনেস, তার উপর একটা মাত্র ছেলে বলে কথা! একটু রংবাজি না থাকলে হয়?
বাড়িতে আমার কথাই ছিল শেষ কথা। পড়াশুনায় একেবারে খারাপ ছিলাম না।ভূগোলে মাস্টার ডীগ্রী শেষ করে আর পড়তে চায়নি, বাউন্ডুলে জীবন টাই যেন ভাল লেগে গিয়েছিল। আর লাগাটাই স্বাভাবিক, পয়সার অভাব না থাকলে বোঝা যায় না কষ্ট কি জিনিষ! এমনকি বাপের বিজনেস ও দেখতাম না,শুধু মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে একটু মালপত্র এনে দিলেই বাবা সন্তুষ্ট হয়ে যেত। আমার এই উড়নচন্ডী হাবভাব দেখে প্লান টা ছকে ফেলল,- মা আর দিদি; পরে এসে যোগ দিল বাবা।
অনেক টা ভয় পেয়ে সে দিন জোর পূর্বক বিয়ের পিঁড়িতে বসলাম। খুব একটা ভীতু আমি ছিলাম না, কিন্তু হঠাৎ করে পুলিশে ভয় আমাকে ধরে বসল। নইলে জয়িতা কে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। দিদির হাতে পায়ে পড়লাম,— ওই পুলিশ মেয়েকে আমি বিয়ে করব না। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনলো? আমার কোনো কথা শুনল না।
জয়িতার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল একটু নাটকীয় ভাবে।  তিন চার দিন ধরে বেশ গন গনে রোদ পড়ছিল। আকাশ টা মনে হয় আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে,আর সেই আগুন ঝরে পড়ছে ভূপৃষ্ঠতলে। পিচ গলা রাস্তার উপর মরুভূমির মতো মরীচিকা সৃষ্টি হয়েছে। এরকম একটা দুপুরে দিদিকে বাইকের পিছনে বসিয়ে স্টেশনে ছাড়তে যাচ্ছি।আমার বাড়ির মোড়ে পোট্রোল পাম্প টা পেরিয়ে একটু সামনে তিন রাস্তার মোড়ে বড় শিরিশ গাছ টার নীচে বাইক টা থামালাম। সামনে আরও কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির কাগজ ও হেলমেট চেক হচ্ছে। বাইকের উপর বসেই দেখলাম কিছুটা দুরে একটা মেয়ে পুলিস স্কুটির উপর বসে কাগজ পত্র দেখছে। ফর্সা মুখ টা রোদের ঝলকানি তে টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। চোখে একটা হালকা কালো রঙের সানগ্লাস। একদম সিনেমার হিরোইনের মতো লাগছে। খাঁকি রঙের পোষাক টা শরীরের সাথে পারফেক্ট মানিয়েছে।
দিদি বাইক থেকে নেমে দাঁড়াল। পুলিশ তো কি? হাজার হোক মেয়ে তো! এই এলাকায় বাড়ি আমার। একটু রংবাজি দেখিয়ে আসাই যায়। বাইকে স্ট্যান্ড টা লাগিয়ে স্মার্ট ভাব নিয়ে মেয়েটির সামনে গেলাম। আমার দিকে না তাকিয়েই বলল,- "আপনার গাড়ির কাগজ টা দেখান?"
- "বাড়িতে আছে।"
আমার দিকে মেয়েটি এবার চোখ তুলে তাকাল,
- "হেলমেট দেখি?"
- "সেটাও বাড়িতে ম্যাডাম।"
কিছু বলল না আমাকে। শুধু দু টো পুলিস কে নির্দেশ দিল,—আমার গাড়িটা আটকে রাখতে। অবস্থা ভাল নয় বুঝে,একটু কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বললাম,— "ম্যাডাম! আপনার রেট কত? ইয়ে মানে এই সব কাজে কত নেন? দেড়শো না,দু'শো?"
আরেকটু হলে চড় টা গালেই পড়ত,কিন্তু হাতটা এসে আমার গালের কাছেই অজানা কারনে থেমে গেল। মনে মনে ভাবলাম , বোধ হয় আমাকে ভয় পেয়েছে। তাই জামার কলার টা একটু ঝাঁকালাম। উইইই তেরি! - সেই ঝাঁকানো কলার ধরেই হিড় হিড় করে টানতে টানতে আমাকে জিপে নিয়ে তুলল। আমার ভেতরের সিংহ গর্জন টা এক মুহুর্তে কর্পূরের মতো উবে গেল। ভয় পেয়ে গেলাম যেন!
দিদি এসে আমার বাড়ির ঠিকানা, না বললে, সেদিন আমার জীবনে প্রথম বারের মতো লকাপের মুখ দেখতে হত। আমার বাড়ির ঠিকানা শুনে মেয়েটি আমাদের কেন ছেড়ে দিল তার কারন টা বুঝতে পারলাম পরদিন সকালে।
পরদিন সকাল ন'টায় বাজারে যাওয়ার জন্য বাইকটা নিয়ে বেরিয়েছি, দেখি— পাশের রমেন কাকুদের বাড়ি থেকে সেই মেয়ে পুলিশ টি স্কুটি নিয়ে বের হচ্ছে। গত কালের কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতর টা কেঁপে উঠল। তাড়াতাড়ি হেলমেট টা মাথায় ঢুকিয়ে নিলাম। সে দিনের সেই ভয় টা আমায় পেয়ে বসল,আর ঘাড় থেকে নামাতে পারলাম না।
রমেন কাকুর সাথে আমার বাবার বন্ধুত্ব অনেক দিনের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম,মেয়েটি রমেন কাকুর শালীর মেয়ে। আমাদের লোকাল থানার নতুন ইনেস্পেকটর হয়ে এসেছে। ব্যাস্ মা আর দিদি উঠে পড়ে লেগে গেল।আমাকে শায়েস্তা করতে এরকম একটা বৌমা দরকার। ছোটোবেলা থেকে রমেন কাকু আমাকে চিনত,— যতই বাউন্ডুলে মতো আমি ঘুরে বেড়াই না কেন, চরিত্রহীন বা বাজে কাজের কোনো সার্টিফিকেট আমার নামের আগে পড়িনি। তাই দুপক্ষই রাজী হয়ে গেল।শুধু মাঝখান থেকে ফেঁসে গেলাম আমি। বুক কাঁপা, হাঁটু কাঁপা, মাথা যন্ত্রনা সব এক সাথে শুরু হয়ে গেল। বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছে,তত আমার ব্লাড প্রেসার লো থেকে হাই হচ্ছে। যেন বিয়ে করতে নয়, ফাঁসি কাঠে মাথা দিতে যাচ্ছি।
মা, দিদি কে বলে যখন কোনো কাজ হল না, তখন ঠিক করলাম মেয়েটি কেই বলব। এক দিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। মেয়েটি স্কুটি নিয়ে আমার পাশে এসে থামল। মনে হয় ডিউটি থেকে ফিরছে। মাথা থেকে হেলমেট টা খুলে বলল,- "দাঁড়িয়ে কেন? বাড়ি যাবে তো?"
ভয়ে হাত পা শুকিয়ে গেল আমার। কোনো রকমে বললাম,- "না...মানে হ্যাঁ।"
- "পিছনে এসে বসো।"
—" না, আপনি যান।"
- "যেটা বলছি, সেটা কর।"
আর না বলতে পারলাম না।পিছনের সিটে উঠে বসলাম। মেয়েটি তার হেলমেট টা আমার হাতে দিয়ে বলল,-"মাথায় পরে নাও।"
বাধ্য ছেলের মতো সব শুনে যাচ্ছি।কিছুক্ষন পর কথাটা বলেই ফেললাম,— "একটা কথা ছিল, আপনার সাথে।"
- "বলো।কিন্তু আপনি বলবে না ।"
- "বলছি, এ বিয়েটা না করলেই নয়?"
সামনের কাঁচে দেখতে পেলাম,মেয়েটি হাসছে।
- "পুলিসের খাতায় একবার নাম উঠে গেলে,সে নাম কাটতে যেমন সমস্যা হয়,তেমনি আমার খাতায় তোমার নাম উঠে গেছে।"
বুঝে গেলাম,বিয়ে আমাকে করতেই হচ্ছে। কিছুদিন পর করেও ফেললাম বিয়ে।

বাড়ির গেটের কাছে আসতেই পা দু'টো যেন টলতে লাগল। দরজা ধাক্কা দিতেই মা দরজা খুলে দিল। কোনো কথা না বলে সোজা বেড রুমে চলে গেলাম। জয়িতা খাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পত্রিকা পড়ছে,- "আজ এত দেরি হল?"
চুপ করে রইলাম। পত্রিকা টা বন্ধ করে খাট থেকে নেমে জয়িতা বলল,-" ভাত খাবে চলো।"
- "খিদে নেই। কিছু খাব না।"
-" তুমি মদ খেয়েছ!"
- "হ্যাঁ।খেয়েছি।"
- "কেন?"
- "তোমার ভয় কাটানোর জন্যে। সারক্ষন আর ভয়ে ভয়ে থাকতে পারছি না।"
জয়িতা আমাকে ধরে খাটের উপর বসালো। জামার বোতাম গুলো খুলে দিতে দিতে বলল,- "কি বলছ ,এসব?"
- "ঠিক বলছি। তুমি আমাকে ভালবাসো না, সারক্ষন শুধু ভয়ে ভয়ে আর শাসনে রাখো।"
নেশাটা ভালই ধরেছে। আসলে খাওয়ার অভ্যাস না থাকলে যা হয় আর কি। চোখ দুটো ঘুমে ঢুলু ঢুলু করতে লাগল। আর কোনো কথা না বলে খাটের উপর এলিয়ে পড়লাম। রাতে ঘুমটা মনে হয় ভালই হয়ে ছিল। কিছু বুঝতে পারি নি। সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি,আমার গায়ে গেঞ্জী টা নেই। জয়িতার মাথাটা আমার বালিশেই,ওর ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটের খুব কাছে।আর ডান হাত দিয়ে আমার গলাটা জড়িয়ে রেখেছে।
খুব অচেনা লাগছে ওকে। এরকম ভাবে আগে কোনোদিন ওকে দেখিনি।
—না,থাক! ঘুম ভাঙিয়ে লাভ নেই।
কিন্তু আজ কি, ও ডিউটিতে যাবে না...?

স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১৫]

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ভূতুড়ে প্রেমের গল্প " ভূত হওয়ার পর "

(১) শালা! মরেও শান্তি পেলাম না! এই দেখুন,ভূত হয়ে বাবলা গাছের ডালে বসে আছি।এখন রাত ক'টা বাজে,কে জানে! ঘুম ঘুম পাচ্ছে।একটা ঘড়ির ব্যবস্থা যদি থাকত, তবে অন্তত বুঝতে পারতাম,ভোর হতে আর কত বাকি? সদ্য ভূত হয়েছি,তাই এখনো রাতের বেলা ঘুমের নেশাটা কাটেনি।তারপর মাথায় উপর টেনসন,বালির বস্তার মতো চেপে আছে। শালা! বলে কিনা,এখন প্রেম করতে হবে! আরে প্রেম কি,কলম করা গাছের আম নাকি? যে, গাছের নীচে গিয়ে দাঁড়ালাম,আর টকাস করে হাত দিয়ে পেড়ে খেয়ে নিলাম।জীবিত অবস্থায় যেটা হল না,সেটা নাকি এখন মরে গিয়ে করতে হবে! আবার বড় গলায় বলা,এটা এখানকার রুল। অপূর্ন কাজ গুলো এখানে পূর্ন করা।গুলি মারি তোর রুলের পিছনে....। আপনাদের মাথাও নিশ্চয় গুলিয়ে যাচ্ছে,আমার কথা শুনে।আমারও গিয়েছিল।তাহলে একটু আগে থেকে বলি শুনুন।যেদিন ট্রেনে তলায় মাথা দিয়ে,মাটির সাথে চিপকে গেলাম,হাড়-মাস সব দলা পাকিয়ে গেল-সব লোক তখন এসে আমার আইডেনটিটি খুঁজতে লাগলো,আর তখন আমি সোঁ সোঁ করে উড়ে যাচ্ছি।কোথায় যাচ্ছি,আমি নিজেও জানি না।শুধু উড়ছি। এতক্ষন নিশ্চয় নীচে আমার খন্ড খন্ড বডি নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে।কেউ বলবে সুসাইড,কেউ বলবে অ্যাক্সিডেন্