Skip to main content

রুম নং ১৩ ~ ছোটোগল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন ]



(১)

সিমরনের কথা শমীকের বিশ্বাস হল না।গোঁ ধরে বসলো।-"না,এটা নয়। তুমি এতটা নিশ্চিত কি করে হচ্ছো?"
-"না বললে,হবে?আমার এখনো পরিষ্কার মনে আছে।এটাই সেই হোটেল। তিন তলা বিল্ডিং, বিস্কুট কালারের মতো রঙ,কালো কাচের জানালা,সামনে খয়রি রঙ করা বড় লোহার গেট।" সিমরন খুব জোর দিয়ে বলল।
চারিপাশ টা একবার ভাল করে তাকালো শমীক।চেনা চেনা লাগছে অবশ্য।কিন্তু তবুও কেমন যেন একটা অচেনা। সিমরন কি ঠিক বলছে? বলতেও পারে।ওর স্মৃতিশক্তি খুব প্রখর।


সেবার মাসীর বাড়ি যাচ্ছিল শমীক। মাসীর কোনো ছেলে-পুলে নেই। মেসোমশাই অসুস্থ হলে তাই শমীক কেই ছুটতে হয়।সেবারও মেসোমশাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শমীক কে ছুটতে হল। যাওয়ার পথে বাসের ভেতরই প্রথম দেখেছিল সিমরন কে।লম্বা চেহারা, হালকা ফর্সা গায়ের রঙ,পাতলা গড়ন। রবার পাতার মতো পুরু ঠোঁট, মাথার কালো চুলে ক্লিপ লাগানো।শমীক দেখে বুঝতে পেরেছিল,বয়েসের তুলনায় চেহারা বেড়ে গিয়ে বেশি বয়েস দেখাচ্ছে মেয়েটিকে। আর কথাটা সত্যি প্রমানিত হয়েছিল সিমরনের সাথে আলাপ করে।স্পর্ষ্ট কথার,মিষ্ট ভাষী মেয়ে। শমীক জেনেছিল, সিমরন ক্লাস টুয়েলভে পড়ে। তার বাড়ি ও শমীকের মাসীর বাড়ির পাড়ায়। এরপর আবার দেখা হয়েছিল দু'মাস পর।মাসীর বাড়ি গিয়ে।শমীক প্রথমে চিনতে পারি নি। রাস্তার পাশে একটা ছোটো দোকানে সিগারেট কিনছিল শমীক।সিমরনই তাকে দেখে এগিয়ে আসে।বলেছিল,-"চিনতে পারছো?"
শমীক একটা সিগারেট ধরিয়ে,ভাল করে তাকালো সিমরনের দিকে।-"চেনা চেনা লাগছে!"
শমীকের এই একটাই রোগ।সব কিছু তার চেনা চেনাই লাগে।কিন্তু হুট করে চিনতে পারে না।
-" চিনতে পারছো না! দু'মাস আগে বাসের ভেতর আমাদের কথা হয়েছিল।" সিমরন হেসে বললো। এবার মনে পড়ল শমীকের।একটু লজ্জাও পেল।

সেই থেকে শমীক জানে সিমরনের স্মৃতি শক্তি খুব প্রখর।
 -"চারিদিকে তাকিয়ে অত কি ভাবছো? আরে, আমার পরিষ্কার মনে আছে,এটাই সেই হোটেল।" শমীকের কাঁধে হালকা একটা ধাক্কা মারলো সিমরন।
-"না,একটু দেখে নিচ্ছি,তুমি ঠিক বলছো কিনা।"হাসলো শমীক।
-"আমি ঠিকই বলছি।বিশ্বাস না হয় দেখো,রাস্তার ওপারে সেই বড় মিষ্টির দোকান টা আছে। তার পাশে ঘড়ির দোকান টা।তুমিই তো ওই দোকান থেকে আমার হাতের এই ঘড়িটা কিনে দিয়েছিলে।"
সিমরন ঘড়ি পরা হাত টা নিয়ে, শমীকের চোখের সামনে নাড়লো।-"এই যে এই ঘড়িটা।"
এবার মনে পড়লো শমীকের।সিমরন কে সে একটা ঘড়ি কিনে দিয়েছিল। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে শমীক হেসে বললো,-"এবার মনে হচ্ছে, তুমি ঠিক বলছো।"
-"হু! আমি ঠিকই বলি।বলেছিলাম না,আমাদের বিয়েটা আমার বাড়ি থেকে কেউ মেনে নেবে না।আর ঠিক সেটাই হল।পালিয়ে বিয়ে করতে হল।"
শমীক হেসে বলল,-"কবে বলেছিলে বলো তো?"
সিরমন একটা কিল মারলো শমীকের পেটে।-"ধুর! তোমার খুব ভুলো মন। ছ'মাস আগেই এই হোটেলে রাত কাটালাম,আর সেদিন তো তোমার বুকে মাথা রেখে ওই কথা টা বলেছিলাম,আর তুমি এর মধ্যেই ভুলে গেলে!"

দ্বিতীয় বার শমীকের সাথে আলাপ হওয়ার পর, সিমরনের ভালো লেগে গিয়েছিল শমীক কে। তারপর ভালোবাসা তৈরী হতে আর সময় লাগেনি। সিমরনের নরম হাতের কিল খেয়ে শমীক হাসল।এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল সিমরন কে।-"চলো,তবে হোটেলের ভেতরই যাওয়া যাক।"
দু'জন গেট দিয়ে হোটেলের ভেতরে ঢুকলো।

(২)

হোটেলের ভেতর ঢোকার মুখেই একটা চেয়ারে সিকিউরিটি গার্ড বসে আছে।হালকা নীল রঙের জামা, কালো প্যান্ট পরনে। সিকিউরিটি গার্ড কে দেখে চিনতে পারলো সিমরন।ছ'মাস আগের সেই দিনটি তেও এই গার্ড টি ছিল।
হোটেলের ভেতর সেই একই আলো লাগানো। একই জায়গায় রিসেপসান,গোল করে সাজানো টেবিল-চেয়ার। ছ'মাসে তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।কি করে হবে? ছ'মাসে কিছু পরিবর্তন হয় নাকি আবার! নিজেকে বোকা বোকা ভাবলো সিমরন।
ম্যানেজার বাবু মোটা চেহারার মানুষ।চোখে মোটা কাচের চশমা। ফর্সা,বেঁটে গোলগাল মোটা চেহারা।মাথায় চুল উঠে গিয়ে,টাক হয়ে গিয়েছে। চশমার উপর দিয়ে সিমরন আর শমীকের দিকে তাকিয়ে বললেন,-"তোমাদের যেন চেনাচেনা লাগছে?"
সিমরন হাসলো।শমীকের দিকে তাকিয়ে বলল,-"বলেছিলাম না, ছ'মাস আগে আমরা এই হোটেলে এসেছিলাম।এবার বিশ্বাস হলো তো তোমার?"
শমীক উপর-নীচে মাথা নাড়লো। ম্যানেজার বাবুও যখন চিনতে পেরেছেন,তখন এরপর আর বিশ্বাস না করে পারা যায় না।সিমরন হেসে ম্যানেজারের দিকে তাকালো। বলল,-"আমরা, ছ'মাস আগে এই হোটেলেই একরাত কাটিয়ে ছিলাম। তখন বিয়ে হয়নি।এবার বিয়ে করেই এসেছি।"
ম্যানেজার বাবু মাথা নেড়ে বললেন,-"হু!সেই জন্যেই কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। তো বলো, তোমাদের জন্য কি করতে পারি?"
-"আমরা এখানে থাকবো।তবে আমাদের কিন্তু সেই ঘরটাই চাই-রুম নাম্বার ১৩।যেখানে আমরা প্রথম রাত কাটিয়ে ছিলাম। তুমি কি বলো?" কথাটা বলে শমীকের দিকে তাকালো সিমরন।
শমীক হোটেলের ভেতরটা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছিল। সিমরনের কথার জবাবে বলল,-"হলে তো মন্দ হয় না! তবে দেখো ফাঁকা আছে কিনা!"
ফাঁকা থাকবে না কেন? সিমরন ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে বলল,-"আমাদের কিন্তু রুম নাম্বার ১৩ চাই।আপনাকে যে করেই হোক দিতে হবে।"
ম্যানেজার বাবু রেজিস্টার খাতা বের করে পৃষ্ঠা উলটালো।চোখ নামিয়ে পৃষ্টার উপর আঙুল বুলিয়ে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দেখলো।এক পৃষ্টা দেখা হলে পরের টা।মাঝের এক জায়গায় আঙুল থামিয়ে বললেন,-"এই তো পেয়েছি! যাক তোমাদের ভাগ্যটা খুব ভাল। সকালেই ঘর টা ফাঁকা হয়ে গেছে।"
ম্যানেজারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে সিমরন দ্রুতো চলে গেল।সাথে সাথে শমীক ও।চাবি দিয়ে তালা খুলে,ভেতরে ঢুকলো দু'জন।চোখ বন্ধ করে,পাখির ডানার মতো দু'হাত ছড়িয়ে একটা বড় করে প্রশ্বাস নিল সিমরন।-"এখনো যেন সেদিনকার গন্ধ টা লেগে আছে!" সিমরন বলল।
শমীক বেডের উপর ব্যাগটা রেখে দিয়ে এলিয়ে পড়ল। বলল,-"ঠিক বলেছো, এবার যেন আমার সব চেনা চেনা লাগছে।বাড়িতে মিথ্যে কথা বলে, এখানে বেড়াতে এসে একসাথে,একঘরে রাত কাটানো। সারারাত তোমাকে বুকে জড়িয়ে রাখা। প্রথমবার শরীরে শরীর মেলানোর কত স্মৃতি লেগে আছে বলো তো?"
সিমরন দক্ষিনের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।এখান থেকে অনেকদুর পর্যন্ত আকাশ দেখা যায়। এখন বিকাল।হলুদ মাখা আকাশ। সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে সিমরন বলল,-"ঠিক বলেছো।এ ঘরে আমাদের অনেক স্মৃতি লুকিয়ে আছে।ভাগ্যিস ঘর টা পেয়েছিলাম! নইলে আমি অন্য ঘর ভাড়া করতাম না।এই ঘরের জন্য অপেক্ষা করতাম।"
সিমরনের কথায় হাসলো শমীক।পুরুষালি হাসি।হাসি থামিয়ে বেড থেকে উঠে,জানালার পাশে গেল শমীক।সিমরনের কাঁধে হাত রেখে বলল,-"তুমি একটা পাগল।"

রাত ন'টা বাজলো।রুমবয় এসে খাবার দিয়ে গেল।মটন বিরিয়ানি। ওরা খেতে খেতে গল্প করলো।তারপর খাওয়া শেষে শুয়ে পড়লো দু'জন।


(৩)

ঘটনাটা ঘটলো সকালে।সাড়ে সাতটায় রুমবয় ব্রেকফাস্ট দিতে গিয়ে দেখল,দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।হাত দিয়ে কয়েকবার ধাক্কা মারলো।-"হ্যালো স্যার! শুনছেন, আপনাদের ব্রেকফাস্ট এনেছি।......হ্যালো ম্যাডাম!...শুনতে পাচ্ছেন!"
ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ এল না।রুমবয় আরও কয়েকবার দরজায় ধাক্কা মারলো।তবুও কোনো সাড়া শব্দ এল না।বিরক্ত হয়ে রুমবয় নীচে ম্যানেজার বাবু কে খবর দিল।নীচ থেকে ছুটে এলেন ম্যানেজার বাবু। নিজেও কয়েকবার দরজা ধাক্কালেন। তবুও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ নেই।সবাই মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো।ম্যানেজার বাবু ভয় পেয়ে হোটেলের অন্য সব স্টাফ দের ডাকলেন।দরজা ভাঙার ব্যবস্থা করা হল।
দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই,ম্যানেজার বাবুর রক্ত হিম হয়ে গেল।বীভৎস সেই দৃশ্য দেখে তার গলা শুকিয়ে মুহুর্তের মধ্যে কাঠ হয়ে গেছে।হাতে পায়ের লোম গুলো কাঁটার মতো সোজা হয়ে গেছে।চোখ দুটো বিষ্ফারিত।থর থর করে কাঁপতে লাগলেন তিনি। কপাল বেয়ে দর দর করে ঘাম নীচের দিকে গড়িয়ে পড়তে লাগলো।তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সবারই অবস্থা তথৈবচ।এ কি দেখছেন তিনি!
দু'টো কঙ্কাল বেডের উপর শুয়ে আছে।মনে হচ্ছে, তারা যেন পরষ্পর কে জড়িয়ে ধরে আছে।কঙ্কাল দু'টোর কাছে পড়ে থাকা খবরের কাগজের দিকে চোখ গেল ম্যানেজার বাবুর। তিনি এগিয়ে গিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে খবরের কাগজ টা হাতে তুললেন।পাঁচ মাস আগের খবরের কাগজ।একটা হেড লাইনের উপর লাল কালি দিয়ে গোল করে দাগ দেওয়া। সেখানে চোখ গেল ম্যানেজার বাবুর।

-"বাড়ির অমতে ভিন্ন ধর্মে বিয়ে,নবদম্পতি খুন।"

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা