Skip to main content

Posts

Showing posts from February, 2017

|| ভালোবাসি বলে যাও || ছোটগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন

স্টেশন থেকে বেরোনোর গেটের কাছেই একটা বট গাছ। পুরানো বট গাছ।সরু সরু পাকানো পাটের সুতোর মতো ঝুরি নেমেছে।সবুজ, হলুদ রঙ মাখানো পাতা।ডালে ডালে মিলেমিশে আছে। তার নীচে ছোটো একটা শিব মন্দির।এই বট গাছ আর মন্দির টা অনেকদিনের পুরানো। কত দিনের পুরানো আমি নিজেও জানি না।সেই মন্দিরের কাছেই দাঁড়িয়ে আছে অনু।অনুমিতা পাত্র।পিঠে কলেজ ব্যাগ।সেই পটলচেরা চোখ, চিকন শরীর,পাতলা ঠোঁট,সরু কোমর,ঘন কালো চুল পাট পাট করে সাজানো ঘাড়ের একটু নীচ পর্যন্ত।পরনে সাদার উপর,সবুজ সুতোর কারুকার্য করা কামিজ।ফুল আঁকা।এই কামিজ টা অনুর খুব পছন্দের।ওড়না দিয়ে বুকটা ঢাকা নয়।গোলাপি রঙা ওড়না টা গলার কাছে পেঁছানো।অনু সবসময় ওড়না এরকম ভাবেই রাখতো।তখন খুব সুন্দর দেখায় ও কে। সবেমাত্র ডাউন ট্রেন ঢুকেছে।তাই প্লার্টফর্ম জুড়ে মানুষ জনের হুড়োহুড়ি।হকার,স্টেশন দোকানি দের হাঁকাহাকি। সন্ধ্যার ট্রেন গুলোতে মফস্বলের এই স্টেশনটি তে এরকম ভিড়,জটলা হুড়োহুড়ি লেগে থাকে।সকালের কাজে যাওয়া মানুষ গুলি সন্ধ্যায় ঘরে ফেরে সব। কিছুক্ষন আগে অনু ট্রেন থেকে নেমেছিল। পিঠের ব্যাগটা বুকের উপর রাখা।ঘর্মাক্ত মুখ। ভিড়ে এলোমেলো চুল।এক গুচ্ছ চুল কপালের উপর থেকে নেমে এসে বাঁদিক

|| তিনটি অনুগল্প পড়ুন || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন

অভ্যাস সকালে একটু দেরীতে ঘুম ভাঙল রুনুর।এটা রুনুর অভ্যাস নয়।প্রতিদিন সে খুব সকালেই উঠে পড়ে।কিন্তু এটা কাল রাতে দেরী করে ঘুমোতে যাওয়ার ফল।খাট থেকে হাত বাড়িয়ে উত্তরের জানালাটা খুলতেই একরাশ কুয়াশা এসে মুখে ঝাপটা মারল।একটা ঠান্ডা প্রবাহ নেমে গেলে শরীর বেয়ে।জানালার বাইরের বুড়ো আম গাছটিকে, কুয়াশা চাদড়ের মতো জড়িয়ে ধরেছে ।লম্বা সবুজ পাতার কিনারা থেকে টুপ টুপ করে হিম পড়ছে। টেবিল ক্লকের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল রুনু।সাড়ে সাতটা বেজে গেছে।শীত কালে ঘড়ি কি দ্রুতো চলে? হবে হয়তো।শুভর তো এখন ঘুম থেকে ওঠার সময়।ও কি ঘুম থেকে উঠেছে? যা ঘুম কাতুরে! ওর তো অফিসে যেতে হবে! রুনু বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে তোলে। শুভর নাম টা খুঁজে খুঁজে ডায়াল করে। বাপের বাড়ি এলে,রুনু এটা করবেই।আগেও প্রত্যেকবার করেছে।সব সময় শুভর খোঁজ খবর না নিয়ে থাকতে পারে না। একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। ওই তো রিং হচ্ছে! শুভ ফোন টা রিসিভ করেছে বোধ হয়! – "হ্যালো! হ্যালো!...তুমি ঘুম থেকে উঠেছো? সাড়ে সাতটা বেজে গেছে কিন্তু!" রুনুর গলায় অভিমানের সুর। – "জল টা হিটারে গরম করে নিও।একদম ঠান্ডা জলে স্নান করবে না; তোমার এমনিতেই তাড়াতাড়ি ঠান্ড

প্রিয়ঙ্কন চ্যাটার্জীর ছোটগল্প পড়ুন 'বিচার@নিহত গোলাপ'

-"আর পাঁচ মিনিট। খাতা রেডি করে ফেলো সবাই।"- কানে ভেসে এলো বিজিতবাবুর গলা। এদিকে চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে, বার্ষিক অঙ্ক পরীক্ষার খাতা, যার পুরোটাই প্রায় ফাঁকা। কানের মধ্যে ভেসে আসছে, মায়ের গলা, "এবার যদি আশি শতাংশের এর কম মার্কস পেয়ে বাড়ি আসিস, বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবো। সমাজে আমার স্ট্যাটাস বলে কিছু একটা তো আছে। সেটা এভাবে তোর বাউণ্ডুলেপনার জন্য আমি নষ্ট হতে দেবোনা।"- আর সেই সাথে আতঙ্কিত ভাবে দেখছিল ওর অঙ্ক পরীক্ষার খাতার দিকে আর ভাবছিল, এর পর কি হতে পারে। ভাবনায় ছেদ ফেললো পরীক্ষার ফাইনাল বেল। বিজিতবাবু যখন খাতাটা জমা নিলেন, তখনো অভীক খাতার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে। সবকটা আজ চেনা প্রশ্ন ছিলো। উপপাদ্য গুলো কাল রাতেও প্র্যাকটিস করার পরেও আজ কিছুতেই একটাও নামাতে পারলোনা। যেটুকু পিছনের বেঞ্চ থেকে সাম্য হেল্প করলো, সেটাই সম্বল। আর নিজে ত্রিকোনমিতির কিছু পেরেছে কিন্তু এই সব মিলিয়ে খুব বেশী হলে ৫০-৫৫ হবে। কিন্তু মা যে বলেছে আশির কম হলে.... নাহ আর ভাবতে পারেনা সে। অভীক যে পড়ায় খুব বাজে তা নয়। সে দারুন আঁকতে পারে। বাংলাতেও সে খুব ভালো। খুব ভালো কবিতা লেখে।

একটি প্রেমের গল্প ( ছোট গল্প) ~ স্বদেশ কুমার গায়েন

(১) বাথরুমের দরজায় খট করে একটা আওয়াজ হল।নুপুর স্নান সেরে বেরুলো।ভিজে ভিজে শরীর। কোমোরে একটা গোলাপি রঙের টাওয়েল জড়ানো।টেপ টা কোথায় রাখলাম আবার?-"মা,আমার প্যান্টি টা কোথায়?"-হাঁক ছাড়লো নুপুর। -"উফ! আমি জানবো কি করে?আমি কি পরি?মেয়ে একটা হয়েছে আমার!স্নানে ঢোকার আগে কোনো কিছুই ঠিক করে রাখবে না।" কিচেন থেকে বিরক্ত মুখে জবাব দিলেন নূপুরের মা। -"পেয়েছি।".. ঠিক তখনি,অরিজিৎ সিং এর গলা আওয়াজ।না! রিয়েল নয়,'বদলাপুর' থেকে। বেডের উপর রাখা সাত ইঞ্চির ফোন টা বেজে উঠল।-" চাদরিয়া জিনি রে জিনি...।"বিরক্ত হল নূপুর।শিওর বেআক্কেলে রিজুর ফোন।নইলে এরকম বেটাইমে একমাত্র ওই ছাড়া আর কেউ ফোন করে না।যখন সে,আয়নার সামনে ড্রেস চেঞ্জ করবে,কখনো টয়লেটে ঢুকবে, অথবা টয়লেট করে বেরোবে,ঠিক তখনি ওর ফোনটা আসবে।এর আগে এরকম ঘটনা অনেক বার ঘটেছে।আর ফোনটা রিসিভ করলেই,আগে জিজ্ঞেস করবে,-"কি করছিস?" মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বলি যে,আমি ড্রেস খুলছি।নিতান্ত ছোটো বেলার বন্ধু তাই কিছু বলতে পারি না।বিরক্তিকর হলেও তবু ছেলেটি ভাল।একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। যেটা নূপুরের ও ভাল লাগে। আজও নূপুর

|| যতীন || অনুগল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন

প্লাটফর্মের মাইকে সুমিষ্ট মেয়েলি কন্ঠে শিয়ালদহ লোকালের নাম ঘোষনা হতেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল যতীন। হাতের কাগজ টা ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে নিল। সামনে দিয়ে কয়েকটি ছেলে হন্তদন্ত হয়ে 'শিয়াল আসছে, শিয়াল আসছে' বলে ছুটে গেল। ঘড়িতে আট টা বেজে পঁই ত্রিশ মিনিট। প্রতিদিন এই ট্রেনে বারুইপুর থেকে কলকাতায় কাজে যায় যতীন। কাজ বলতে কলেজ স্কোয়ারে একটা বই প্রকাশনীর অফিসে কাজ করে সে। খুব বড় পদ না হলেও তার কাজের দায়িত্ব একে বারে অস্বীকার করা যায়। আসলে সবার কাজ মেটানোই এখন তার কাজ। কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়লেই অফিসের সবাই আগে যতীন দার খোঁজ করে। কম দিন তো হল না! তা প্রায় ছ' সাত বছর হতে গেল এই অফিসে। অনেক ঝামেলা, মতান্তরের পরেও এই অফিস ছাড়েনি যতীন। তার মূল কারন হল বই এর প্রতি ভালোবাসা। যতীনের বয়েস এখন চল্লিশের কাছাকাছি। একটু একটু করে মাথার চুল, দাঁড়ি সাদা হতে শুরু করেছে।বেঁটে-খাটো চেহারা। বেশ মোটা সোটা।চোখের চশমার পাওয়ার দেখে বোঝা যায়,  হয়তো একটু কমই দেখে চোখে। তীব্র জোরে হর্ন বাজিয়ে প্লাটফর্মে এসে থামলো ট্রেন। এসময় ট্রেন অবশ্য ফাঁকা থাকে না। তাই সিট পাওয়ার কোনো আশা রাখে না যতীন। কতটুকু বা, আর সময় লাগবে শিয়ালদহ

|| তিনটি প্রেমের কবিতা || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন

কল্প প্রেমিক ইচ্ছে করে,কোনো এক জোছনা রাতে, সুন্দরবনের গভীর অরন্যে, নদীর বুকে, মেছো নৌকায় বসে সারারাত তোর সাথে কাঁধে মাথা রেখে গল্প করি। চাঁদের আলোয় ভেসে যাবে হেঁতালের বন। জোছনালোক খেলা করবে শাল, সেগুন,সুন্দরী, কেওড়া,গরানের জঙ্গলের সাথে; কাঁচা সোনার মতো চাঁদ গলে যাবে নদীর জলে। অথবা,কোনো গভীর কালো রাতে বৃষ্টি ভেজা অরন্যভূমির, নদীর মাঝে জলের টেউ এ দুলতে থাকা ছোট্টো নৌকার ছাউনির নীচে তুই আর আমি গুটিশুটি মেরে জড়িয়ে ধরে বসে থাকবো, হ্যারিকেনের মৃদু আলোয়। এক মায়াময় অরন্যভূমি। এক মায়াবী রাত; শুধু তুই আর আমি।আমাদের প্রেম।আর নদীর জলের অন্তহীন ছলাৎ ছলাৎ শব্দ.....! হিংসে তোর বুকের খাঁজে নীল লকেট হার টার উপর খুব রাগ হয় আমার! একদম সহ্য করতে পারিনা ওটাকে, খুব হিংসে করি ; মাঝে মাঝে মনে হয়, ওটা জীবন্ত চোখ একটা। তোকে ড্যাব ড্যাব করে সারক্ষন দেখছে,আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। দেখিস, একদিন ওটাকে ছিঁড়ে ফেলে তোর বুকে মাথা রাখব আমি।। সে সে আমার প্রথম চাওয়া–পাওয়া সে আমার প্রথম স্বপ্ন–আশা; সে ছিল আমার প্রিয়তমা– সে যে ছিল আমার প্রথম ভালবাসা। সে ছিল আমার প্রথম দেখা অপ্সরা সে যে ছিল শিউলি ঝরা রাত, সে ছিল আমার বেঁচে

প্রিয়ঙ্কন চ্যাটার্জীর ছোটগল্প পড়ুন 'অন্য বসন্ত'

মার্চের মাঝামাঝি এরকম অকাল নিম্নচাপে সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। প্রিয় দুপুরে যখন কলেজ ঢুকছে,  তখন বেশ জোরেই বৃষ্টি পড়ছিলো। প্রিয়র কলেজের সামনেই গঙ্গা নদী। প্রিয় ওর কলেজের ক্লাসরুমে বসে, বাইরে বৃষ্টি দেখছিলো। কলেজে এসে জানলো বৃষ্টির জন্য আজ ম্যাডাম আসবেন না। আর কি হবে! প্রাণ ভরে নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করে, যখন শেষ বিকেলে বেরিয়ে এলো কলেজ থেকে, তখন বৃষ্টি থেমেছে! কলেজ গেটের পাশে ঝুমকোলতা গাছে চড়াই পাখী দেখতে পেলো বহুদিন পর। বৃষ্টি থামতেই চ্যাটচ্যাটে গরম লাগছে। আজকাল শীতের পর এই বসন্তকাল তো এই চড়াই পাখীর মতোই বিলুপ্তপ্রায়। রবি ঠাকুর একবিংশ শতকের কবি হলে, বসন্ত নিয়ে আর এতো গান-কবিতা লেখা হতোনা। এমন সময় পকেট থেকে ফোন বার করে অনলাইন এসে দেখলো, তনয় মেসেজ করে বলেছে, ৫:৩০ সময় বটতলার মনজিনিসের সামনে দাঁড়াতে। দরকার আছে। তনয় ওর বাল্যবন্ধু।  দরকারে তো দাঁড়াতেই হবে। মনজিনিসের সামনে গিয়ে তনয়কে ফোন করায় বললো, "আসছি ভাই। দশ মিনিট।"- অগত্যা অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। কিছুক্ষণ পর তনয় তার বাইক নিয়ে এসে হাজির হলো। "বাড়ীতে কাকীমাকে ফোন করে বল, তুই আমার সাথে একটু যাবি। বাড়ী ফিরতে একটু দেরী হবে।&quo

|| সম্পর্কের গল্প কথা || ছোট গল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন।

(১) কিছুক্ষন আগে পর্যন্ত আকাশ টা পরিষ্কার ছিল। সৌনক সিগারেট ধরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জানালার ধারে।ধোঁয়া ছাড়ছিল একটা নিদির্ষ্ট সময় অন্তর। সন্ধ্যা নেমে গেছে অনেক আগেই।তবুও চারিদিকে আলো।ঝকঝকে পরিষ্কার। কলকাতা শহরে মনে হয় সন্ধ্যা নামে না।আর নামলেও তা বোঝা যায় না।বাঘাযতীনের এই ফ্লাটের উপর থেকে শহরের অনেকটাই দেখা যায়।এই মুহুর্তে সৌনক ফ্লাটের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দেখছিল সে সব।রাতের বেলা কলকাতা শহরটা যেন এক মায়াবী রুপ ধারন করে। সৌনকের জানালা থেকে সামনের রেল লাইন দেখা যায়। ট্রেন গুলো সারা দিন সাপের মতো শিস দিতে দিতে ছুটছে।ওদের পেটের ভেতর কত মানুষ চলাচল করে সারাদিন। তবুও কোনো ক্লান্তি নেই। ক্লান্তি শুধু ঐশীর।অফিস থেকে ফিরলেই, ওর যত ক্লান্তি জাগে।দিন দিন ও কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে।রাতের বেলা কাছে গেলে প্রায় দিন বলে, আজ মুড নেই;শরীর টা খুব ক্লান্ত লাগছে।অন্যদিন হবে।এই ভাবে কত রাত কাটানো যায়? আর যেদিন বা একটু মুড হয়, সেদিন আর আগের ঐশী কে পায় না সৌনক। মনে হয় যেন,একটা জড় বস্তুকে আঁকড়ে ধরে আছে।ঐশী আগে তো এমন ছিল না! সৌনক মনে মনে ভাবে।ঐশী ও ঠিক এই একই দোষ দেয় সৌনক কে। সিগারেট টা আর শেষ পর্যন্ত

||অপেক্ষা|| ছোটগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন

টেবিলের সামনে খাটের উপর বসে, হিয়া নীরবে কাঁদছে। কোনো শব্দ হচ্ছে না।শুধু অঝোরে বরিষণ! নীরবে কাঁদছে কেন? অনেক বেশী দু:খ পেলে মানুষ তবে নীরবে কাঁদে। পাথরের মতো হয়ে যায়। লুকিয়ে ও কাঁদে। রাতে বালিশে মুখ চেপে বা,একলা নির্জনে ছাদের উপর বসে।হিয়া ও কাঁদছে। চোখের দু'পাশ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট ইন্টারভ্যালে হাত দিয়ে গাল থেকে জল টা মুছে নিচ্ছে। তার সাথে নাক টানতে টানতে,নাকের ডগা টা একেবারে টুকটুকে লাল। একটু ফর্সা বলে বেশী লাল দেখাচ্ছে। কাঁদার সাথে নাক টানার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। কোনো বিবাহিতা মহিলা কাঁদলে, কিছু ভাবার ছিল না। তার হাজার টা কারন খুঁজে পাওয়া যেত।যেমন কেউ বাবা–মা এর জন্য কাঁদতে পারে।কেউ পুরানো প্রেমের কথা মনে করে,বর পছন্দ না হলে, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা না দিতে পারলে, শাশুড়ির ট্যাঁরা–বেঁকা চোখ দেখেও কাঁদে অনেকে।  তেমনি বাচ্চা রা কাঁদলেও কোনো চিন্তা থাকে না।কারন হিসেবে, হয় খিদে পেয়েছে, নইলে বাবা কার্টুন দেখতে দিচ্ছে না।বর্তমানে বাচ্চাদের কান্না থামানোর একটা সহজ উপায়ও তৈরী হয়ে গেছে।কার্টুন চ্যানেল টা খুলে,হাতে একটা চিপসের প্যাকেট ধরিয়ে দিলেই কাজ কমপ্লিট। আগডুম–বাগডুম কিছু এ

সুনীড়া দাসের ছোটগল্প পড়ুন 'অসম্পূর্ন'

                আজ থেকে কলেজ শুরু আমার।নতুন জীবন শুরু।মন ভীষন খারাপ,সকলেইঅচেনা।পুরোনো বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে গেছি।কি যে হবে নতুনফ্রেন্ড পাব কি না,পেলেও কেমন হবে কে জানে! এত টেনশনে নিজের নাম বলতে ভুলে গেছি,আমি গোধূলি।কেমিস্ট্রি নিয়ে ভর্তি হয়েছি। সকাল থেকে মা এর হাজারো উপদেশ দেওয়া শুরু হয়েছে,মন দিয়ে পড়বি,প্রফেসারদের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলবি ইত্যাদি।ঠাকুর ও মাকে প্রনাম করে কলেজ যাচ্ছি এখন,অটোও পাচ্ছিনা ধূর,দেরি হয়ে যাচ্ছে।প্রথমদিন দেরী করতে চাইনা তাই হাটচ্ছি।ঘেমে নেয়ে ডিপারমেন্টে এলাম।একি!আমরা মাত্র পাঁচ জন! ২জন মেয়ে ৩জন ছেলে।মেয়েটি কেমন হাঁদু পড়াকু গোছের।কি নাম তোমার?মেয়েটি ইতস্তত ভাবে তাকিয়ে বলে আমি সুপ্রীতি,আমি টিয়া,কেমন মার্কস ছিলো কেমিস্ট্রিতে?বললো ৮৮,আমার থেকে ৩ বেশি।  প্রফেসার এসে গেছে।সবার ইন্ট্রো নিল, তারাতারি ছুটি হয়ে গেল আজ। টানা পনেরো দিন কলেজ করেছি, কয়দিন যায়নি,৩দিন পর কলেজে এসেছি আজ, সুপ্রীতির বললো কি রে এলিনা কেন কয়দিন?বললাম,এমনি। টিউশান নিবি না? ও বললো প্রফেসার বানার্জীকে নিয়েছি,একদিন পড়তেও গিয়েছি। ওহো আমাকে তাহলে আজই দেখা করতে হবে একবার প্রফেসার এর সঙ্গে।তুই যাবি সুপ্রীত

|| চশমা || ছোটগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন

                   (১) সন্ধ্যাবেলা ঘরে ফিরেই দরজা টা আস্তে,আস্তে বন্ধ করে দিল আবির। মন টা যেন আনান্দে ফেটে চৌচির হয়ে যাবে।দু'হাত দিয়ে প্রথমে আলতো করে চেপে ধরল।ঝটপট বার কয়েক চুমু খেল।মুখের লালায় ভিজে উঠেছে।তারপর বুকের উপর চেপে ধরে রাখলো কিছুক্ষন। অপর পক্ষ নির্বাক হয়ে আছে........। –"তোর মুখটা খুব সুন্দর।" আবির আদুরে মুখ করে বলল। সামনে লাল–হলুদ মাখা আকাশ। আর সেই লাল–হলুদের মাঝে মাঝে কেউ যেন সাদা রঙের তুলি টেনে দিয়েছে।দূরে মাঠের মাঝে একটা শিরিষ গাছ বোকার মতো একলা দাঁড়িয়ে আছে।তার ঠিক মাথার উপর পশ্চিমে ঢলে পড়া সূর্য টার গোমড়া মুখো ভাব। মনমরা। পিছনের ধুলো মাখা পিচ রাস্তার উপর দিয়ে ব্যাস্ত গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। আবিরের কথায়,সেই মনমরা সূর্যের দিক থেকে চোখ সরালো সুমি। ভালো নাম সুমিতা।কেমন পুরানো মডেলের নাম।তাই বন্ধু–বান্ধব সবাই সুমি বলে ডাকে। পাতলা, হালকা ফর্সা চেহারা।মাঝারি উচ্চতা, টানা টানা চোখ গুলোর উপর সরু সুতোর মতো ভুরু।কালো ঘন চুল গুলো পিটের মাঝ বরাবর ঢেউ খেলেছে।চোখের উপর থেকে বট গাছের ঝুরি পাকানোর মতো চুল গুলো সরিয়ে বলল, –"ধ্যাৎ! তুই একটু থামবি।এক কথা দিনে কত বার করে বলতে হ

|| আবার যখন দেখা হল ||ছোটগল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন।

(১) চল্লিশ বছর আগের কথা।  তখনও আকাশে মেঘেরা ভেসে বেড়াতো পথভোলা পথিকের মতো। পাখিরা ডানা মেলে দিত।ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জমতো।শীতের শেষে গাছের পাতা,রঙিন ঝুরি কাগজের মতো পাক খেয়ে ঝরে ঝরে পড়তো।ফুলেরা পাপড়ি মেলে হাসতো।দখিন হাওয়ায় সেই ফুলের গন্ধ ম ম করতো।আর মৌমাছি রা পাগল হয়ে উঠতো সেই ফুলের জন্য। শোভন ও পাগল হয়ে গেল।তবে ফুলের জন্য নয়।ফুলের মতো দেখতে একটা মেয়ের জন্যে। প্রায় ছ'ফুটের লম্বা চেহারা,টিকালো নাক, খোঁচা খোঁচা দাড়ি,মাথায় কালো চুল,মৃদু ভাষী, সরল– সাধরন,নরম স্বভাবের শোভন যে পড়াশুনায় ভাল সে কথা সবাই জানে। পড়াশুনায় ভাল ছেলে–মেয়ে দের চোখ,মুখ দেখেই বলে দেওয়া যায় এরা ভাল। ক্লাসের সেরা সেরা ছাত্রদের পাশে তার নাম।চোখে মুখে একটা বুদ্ধিদীপ্ত ভাব লেগে আছে। প্রায় সারক্ষন বই এর পাতায় চোখ। এরকম একটা ছেলে যে,বই ছেড়ে, কোনো মেয়ের প্রেমে পড়তে পারে, সেটাই সব থেকে বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল।শোভন ও প্রেমে পড়ল।শুধু প্রেম নয়,প্রেমে পাগল হয়ে গেল। প্রথম প্রেমে পড়লে সবাই পাগল হয়।শোভন ও এই প্রথম প্রেমে পড়ল।মৌমিতার প্রেমে।চাপা স্বভাবের ছেলে হওয়ায় শোভনের বন্ধু ছিল না। কোনো মেয়েও আজ পর্যন্ত আগ্রহ দেখায় নি

|| অমানব || ছোটো গল্প || ~স্বদেশ কুমার গায়েন

(১) আকাশে চাঁদ উঠেছে। ফুটবলের মতো গোলাকার চাঁদ, বড় মায়াময়, স্নিগ্ধ, অপূর্ব তার রুপ–লাবন্য। শুক্লা চতুর্দশীর রাত। চারিদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা,নির্জনতায় ছেয়ে আছে। চাঁদের সেই মায়াবী আলোয় বড় বড় নারকেল, বট,আম গাছ গুলোকে আরও রহস্যময় মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে সব যেন এক একটা প্রেত, কালো কাপড় মুড়ি দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পরেই হয়তো লম্বা লম্বা হাত–পা গুলো কে ডাল–পালার মতো ছড়িয়ে দেবে। ছাদের উপর চেয়ার পেতে বসে,সেই প্রাকৃতিক মায়াময় রূপ– লাবন্য আহরন করছি। এত বড় চাঁদ,এত লাবন্যতা আগে কখনও দেখিনি। অবশ্য, আমি এমন রাতে আগে কখনও ছাদে উঠিনি।চাঁদ ও দেখিনা, নক্ষত্রপুঞ্জের মিটি মিটি চাহনি ও দেখি না,–হয়তো আমি তোমাদের মত অতটা রোমান্টিক নই। নির্জনতা মাখা, মায়াময় পরিবেশে, একলা ছাদে বসে জোছনা ভেজা রাতের যে এত মাদকতা আছে,সেটা আজ প্রথম বুঝলাম। আমার আজ ছাদে ওঠার কারন হল শর্মি,আমার বিবাহিতা স্ত্রী।শর্মি আজ বাড়িতে নেই।দু'দিনের জন্য তার মায়ের কাছে গেছে।ওর মায়ের শরীর টা বেশ কয়েকদিন ভাল যাচ্ছে না,তাই একটু দেখতে গিয়েছে। শর্মি কে ছাড়া,আমার চার দেওয়ালের ঘর টা বড্ড নির্জন,বড্ড আগোছালো, রঙচটা মনে হয়।তাই রাতের খাওয়া–দাওয়া স