Skip to main content

|| বউ ভাগ্য || ছোট গল্প || ~স্বদেশ কুমার গায়েন



(১)

আমার কপাল টা বোধ হয় নিম পাতার মতো তেতো। কালমেঘ পাতার মতোও হতে পারে। এরকম তেতো মার্কা কপালে,তেতো বউ ই জুটবে,এটাই স্বাভাবিক।কি ভাগ্য নিয়ে যে বিয়ে করেছিলাম,সেটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এর থেকে সারাজীবন ব্যাচেলার থেকে মঠ-মন্দিরে ঘুরে,সাধু-বৈষ্ণবদের মতো জীবন-যাপন পালন করা অনেক ভাল ছিল।নিতান্ত বুড়ো ঠাকুমা টা ছিয়ানব্বই নট আউট অবস্থায় ক্রিজে ব্যাটিং করছিল, কখন যে আউট হয়ে যায় তার ঠিক নেই-তাই বিয়েটা এত তাড়াতাড়ি করতে হল। তিনি নাকি মরার আগে একবার নাত বৌমার মুখ দেখে যেতে চান! ভাগ্যিস এটা বলেননি যে,এক বছরের মধ্যে নাত বৌমার ছেলে-পুলে ও দেখে যেতে চান, তাহলে আমার আর সর্বনাশের কিছু বাকি থাকতো না। বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন কিন্তু,শুধু নাত বৌমার মুখটা দেখেই চলে গেলেন। তিনি তো নাত বৌমার মুখ দেখে হাসতে হাসতে ড্যাং ড্যাং করতে করতে চলে গেলেন।আর আমাকে একটা যন্ত্রনার মালা গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে গেলেন।এখন আমাকে দেখবে কে?

বিয়ের আগে তখন ব্যাপার টা নিয়ে ভাবতে বেশ ভালোই লাগতো। একটা স্বপ্ন স্বপ্ন ভাব।স্বপ্নিল জগতে ভেসে চলা। নতুন একজন আসবে, আমার কাছে এটা চাইবে,ওটা চাইবে;জোর করে বলবে,আমার ওটা চাই চাই.....। আমি বলবো, এখন হবে না।মাসের শেষে। সে তবুও জোর করবে,গলা জড়িয়ে ধরে আদর করে বলবে, প্লীজ! এনে দাও না গো।
আমি হেসে বলবো,আচ্ছা ঠিক আছে এনে দেবো। তখন বউটা আমার হাতের নরম নরম আঙুল দিয়ে নাক টা টেনে, টকাস করে গালে একটা কষে চুমু খাবে। আহা! এসব ভাবতেও ভাল লাগে। মনে একটা রোমান্স জেগে ওঠে।
কিন্তু সে সব কোথায় কি?
তার বিন্দু মাত্র ছিঁটে-ফোঁটাও নেই।বিয়ের পর কয়েক মাস বেশ ভালোই চলছিল।তারপর একটু পুরানো হতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এল,
সুজান।এমনিতেই সুজান মেয়েটি মন্দ নয়।খুব ভালো।যেমন মিষ্টি দেখতে তেমন মিষ্টি তার কথা।হেসে হেসে কথা বলে।আমার মা- বাবা কে কোনোদিন পর করে দেখেনি। বিয়েটা আমার মামারাই ঠিক করে। সুজান,আমার মামার বাড়ির পাড়ার মেয়ে।মামা নিজে দেখে পছন্দ করে, তারপর মা কে বলে।একটা ছবিও পাঠায়।ছবি দেখেই আমার মা ও পছন্দ করে ফেলে।তারপর সবশেষে আমি দেখতে যাই।ছবির সাথে খুব একটা অমিল ও ছিল না।ভাসা ভাসা চোখ, টিকালো নাক,পাতলা ঠোঁটের হাসি টা ছিল যে কাউকে কাতিল করার মতো।আমি ও প্রথম দেখেই, ফিদা হয়ে গেলাম।
প্রথম প্রথম বেশ ভালই লাগতো। বিয়ের পর সবারই সেটা লাগে।বেশ একটা ফুরফুরে ভাব। মনে মনে রঙির ফানুস ওড়ানো।কেমন যেন একটা হত মনের মধ্যে! শিরশিরানি। অফিসে বসে বসে ভাবতাম,কখন বাড়ি ফিরে সুজান কে দেখবো! কিন্তু একটা জিনিষ বিরক্ত লাগতো। সুজান তেমন কিছুই চাইতো না আমার কাছে। তিন মাস কাটতেই খেলা টা শুরু হল।সুজান গলা জড়িয়ে ধরে বলতে শুরু করলো, আমার এটা এনে দাও,ওটা এনে দাও।এটা চাই,... ওটা চাই। আমিও এনে দিতাম।কিন্তু আরও তিন মাস যেতেই,এমন অবস্থার সৃষ্টি হল যে,আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেলাম।একটা বিরক্তিকর অবস্থা।
যতক্ষন ঘরে থাকি,সারক্ষন শুধু চাই চাই....চাই। এটা নেই কেন?.....ওটা নেই কেন? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেল যে,একটু চুমু খেতে, একটু জড়িয়ে ধরতে গেলেও সুজান বলে, আমার টাকা চাই,শাড়ী চাই, গিফট চাই,ওই সালোয়ার কামিজ টা চাই...।আপনারা বলবেন, কি বলছেন মশাই!চুমু খেতে গেলে,নিজের বউ ও টাকা চায়?
আলবাৎ চায়।সেটা আমি ভালো করে জানি। শেষে রেগে-মেগে চুমু খাওয়াই কমিয়ে দিলাম। দিনে একবার। তার বেশি একদম নয়।অত টাকা আমার কাছে নেই।

একটু একটু সংসার করতে করতে বুঝতে পারলাম,বিয়ের আগে যেটা ভাল লাগতো,সেটা এখন বুমেরাং হয়ে আমার কাছে যন্ত্রনা হয়ে ফিরে এসেছে।প্রতি সপ্তাহের শেষে একবার করে শপিং।তার উপর তো প্রতিনিয়ত সাজগোজের জিনিষ পত্র আছে। পকেট যেন মুহুর্তে মুহুর্তে খালি হয়ে যেতে লাগল।আর কিছু কিনে না দিলে,সুজানের মুখ ভার।সরাদিন গুম বসে থাকবে। একটা কথাও বলবে না।আর এরকম মিষ্টভাষী বউ যদি মুখ ভার করে সারাদিন বসে থাকে,সেটাও ঠিক ভালো দেখায় না।বিশেষত আমার কাছে।তাই বাধ্য হয়েই একপ্রকার সব করতে লাগলাম।
সুজানের আরও একটা স্বভাব ছিল। যেটা দেখে মনে হবে মেয়েটা পাগল। স্বভাব টা হল,যেটা করতে বলবো, তার ঠিক বিপরীত কাজ টা ও করে বসবে।আবার ধরুন,কোনোদিন বললাম, আজ এই রান্না টা ভালো হয়েছিল।ব্যাস হয়ে গেল! তারপর দিন রান্নার বারোটা বেজে গেল। আর খারাপ বললে বলতো,-"তোমার খেতে হবে না।"
তরকারির বাটি নিয়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিত।কি সমস্যা বলুন তো! একটু তারিফ ও করা যাবে না?কি পাগলির পাল্লায় পড়লাম রে বাবা!
এরকম পাগলাটে বউ এর জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘন্টা আগে অফিসে ঢোকা,আর দু'ঘন্টা পরে অফিস থেকে বেরোনো শুরু করলাম। বউ এর সাথে থাকার চেয়ে,অফিসের এ.সি.তে বসে কাজ করা অনেক ভাল।আমার এই আগে বেরিয়ে যাওয়া আর দেরিতে ঢোকা দেখে,একদিন সুজান বললো,-"এই তুমি এখন এত তাড়াতাড়ি অফিসে বেরিয়ে যাও আবার দেরি করে ঘরে ফেরো কেন গো? কি ব্যাপার? আগে তো এমন করতে না!"
রাস্তায় যে কারনেই দেরি হোক না কেন,তার একটা কমন কারন ছিল ট্রাফিক জ্যাম।তাই যত দোষ গিয়ে পড়ত নিরাপরাধ রাস্তার জ্যামের উপর।অথচ ফাঁকা রাস্তা। সুজানের কথায় আমি হেসে বলতাম,-"তেমন কিছু নয়। আসলে যাওয়ার সময়,জ্যামে আটকে দেরি হয়ে যায়। আর এখন একটু কাজের চাপ তো,তাই অফিস থেকে বেরোতেও একটু দেরি হয়।"
সুজান আমার কথা সত্যি মনে করতো কিনা,কে জানে!


(২)

আমি একটা বেসরকারী অফিসে কাজ করি। মোটামুটি ভাল পদ। বেতন ও খারাপ নয়। প্রতিদিন সকাল দশটায় অফিসে ঢুকতে হয়, এবং ছ'টায় অফিস থেকে বেরোতে হয়।লেট হলেই বিপদ। কে কত লেটে আসছে সব হিসেব করে রাখা হয়। তারপর হিসেব অনুযায়ী মাইনে থেকে কেটে নেওয়া হয়। তবে আমার কোনো বিপদ নেই।যারা লেট করে তাদের বিপদ।আমার কোনোদিন লেট হয় না। ঘড়িতে সকাল সাড়ে আ'ট টা বাজে। জামা-প্যান্ট পরে অফিস যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে গেলাম।বাড়ি থেকে আমার অফিসের পথ বাসে আধ ঘন্টা লাগে। বাসে চড়তে আমার ভালো লাগে। তাই আমি প্রতিদিনই বাসেই যাতায়াত করি। সুজান আমার ব্যাগটা নিয়ে কাছে আসে।তার হাত থেকে আমি ব্যাগ নিয়ে পিঠে ঝুলিয়ে নিই।একটা চুমু খেতে ইচ্ছে করে সুজান কে।কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রন করি।এখন দরকার নেই।আবার কি বায়না করে বসবে ঠিক নেই! তার থেকে বরং রাতে দেখা যাবে। সুজান আমার দিকে তাকায়।চোখ-মুখ দেখে বুঝতে পারি,আজ আবার কিছু ঝাড়ার প্লান আছে।এক মুহুর্ত দেরি করি না।বাস পাবো না বলে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাই।
সন্ধ্যা ছ'টা বেজে গেছে।তবুও কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে থাকি।সবাই এক এক করে বেরিয়ে যাচ্ছে।আমার যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই।আমার সামনের টেবিলের স্নেহা এসে বলে,-"কি ব্যাপার বলতো তোর?অনেক দিন ধরে লক্ষ্য করছি,সবার আগে অফিস ঢুকছিস,আর সবার শেষে বেরোচ্ছিস! সুজান বাড়িতে নেই নাকি রে?"
স্নেহার হাসি মুখটা দেখে,আমিও হাসি।বলি,-" না রে,বাড়িতে নেই। কি করবো একা একা বাড়িতে গিয়ে?ও কে ছাড়া ঘরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে।তাই এখানেই বসে থাকি।"
স্নেহা হেসে বলে,-"ইস! কি সুইট তুই!আমিও যেন তোর মতো একটা বর পাই।সব সময় আমাকে মিস করবে!"
আমি বলি,-"তথাস্তু! তুই এবার যা।"
স্নেহা চলে যেতেই,আমি আবার কম্পিউটারের স্ক্রিনে মন নিবেশ করি।বসে বসে কি করবো? তার থেকে কালকের কাজ কিছুটা এগিয়ে রাখি। ফাইল খুলে কাজে মন দিই।
সন্ধ্যা সাত টার সময় আমাদের অফিসের বস অজিতেশ সিনহা মহাশয় বেরিয়ে যাওয়ার সময়, আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।অজিতেশ বাবু লোকটি ভাল মানুষ।ভদ্র ব্যবহার করেন সবার সাথে। অন্য সব বসের মতো খিট খিটে নয়। তাকে দেখে আমি উঠে দাঁড়াই।
-"আরে বসো বসো।সবাই চলে গেছে তুমি এখনো যাওনি?" অজিতেশ বাবু বলে।
-"না, স্যার।মানে,কালকের কিছু কাজ একটু এগিয়ে রাখছি। নইলে চাপ পড়ে যাচ্ছে।"
-"গুড! এরকমই হার্ডওর্য়াক চাই। দায়বদ্ধতা। তাহলে তুমি আরও আগে যেতে পারবে।"
আমি একটা ধন্যবাদ জানাই।
অজিতেশ বাবু চলে যেতেই আমি মুখ বেঁকিয়ে মনে মনে বলি,বাড়িতে আমার মতো একটা চ্যাঁদোড় বউ থাকলে,আপনিও এখানে বসে হার্ডওর্য়াক করতেন।আর দায়বদ্ধতা দেখাতেন। আমি কি আর এমনি বসে আছি,জ্বালায় পড়ে বসে আছি! নইলে কে থাকতো এখানে?


(৩)

দু'মাস এরকমই চলল। সুজান সেই একই রকম রয়ে গেল। একটুকুও বদলালো না।আমিও আমার কাজ করে গেলাম।বাড়ির থেকে অফিসে বেশি সময় কাটাতে লাগলাম।বাড়িতে বউ এর কাছে অতিষ্ট হওয়ার থেকে অফিসে বসেও কাজ করায় অনেক শান্তি আছে।
একদিন অফিসে নির্দিষ্ট টাইমে ঢুকলাম।দশটার সময়। আসার পথে পোস্ট অফিসে একটু দরকার ছিল, তাই দেরি হল।অফিসে ঢুকতেই স্নেহা বলল,-"বসিং তোকে কলিং।"
মানে বস আমাকে ডেকেছে। অবাক হলাম আমি। হঠাৎ এরকম তলব! ব্যাগটা চেয়ারের উপর রেখে ছুটলাম। দরজা বন্ধ।হালকা ঠেলে, ভেতরে মুখ বাড়িয়ে বললাম,-"আসবো স্যার?"
-"আরে এসো এসো। বসো।তোমার জন্যেই বসে আছি।"
আমার জন্যে!
আমি একটা চেয়ারে বসে পড়ি। উনি একটা ফাইল খুলে বললেন, -"তোমার কাজ,কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা,শৃঙ্খলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।তাই এটা তোমার জন্য।"
অজিতেশ বাবু একটা সাদা কাগজ আমার দিকে এগিয়ে দিলেন।আমি কাগজটা হাতে নিয়ে বললাম,-"এটা কি স্যার!"
অজিতেশ বাবু চশমার উপর দিয়ে, আমার দিকে তাকিয় হেসে বললেন,-"তোমার প্রমোশন লেটার।ম্যানেজার পদে।"
দড়াম করে বুকের মধ্যে যেন একটা সেল ফাটলো।চড় চড় করে আওয়াজ হল।আলোর ফুলঝুরি। লাল,নীল,সবুজ আলো।কি যে আনন্দ হচ্ছে,বোঝাতে পারবো না আপনাদের।এটা আমি আশা করিনি কোনোদিন।এত তাড়াতাড়িই প্রমোশন মিলে গেল! অজিতেশ বাবু কে একটা ধন্যবাদ জানিয়ে,বেরিয়ে এলাম।

(৪)

অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে, অনেক কেনাকাটা করলাম।সুজানের জন্য শাড়ী, সালোয়াজ কামিজ, পারফিউম,বডি লোসান আরও অনেক কিছু।ফোন করে সুজান কে জানিয়ে দিলাম,আজ রান্না করার দরকার নেই। হোটেল থেকে খাবার নিয়ে যাব।বিরিয়ানি। দু'রকমের বিরিয়ানি।
কাঁধে,পিঠে,হাতে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরতেই, সুজান চোখ গুলো বড় বড় করে বললো,-"আজ হঠাৎ কি হল! এত জিনিষ বাজার করেছো! হোটেলের খাবার!"
আমি ব্যাগ পত্র গুলো রেখে দিয়ে সুজান কে জড়িয়ে ধরলাম।ঠোঁটে চুমু খেলাম একটা।
-"আ! ছাড়ো কি হচ্ছে কি?" সুজান বলল।
সুজানের কথা কানে নিলাম না। আমি তাকে জড়িয়ে ধরেই বললাম,-"।কোনো কথা নয়। হাজার টাকার চুমু খাবো আজ। আমার প্রমোশন হয়েছে, তোমার জন্যেই।একদম ম্যানেজার পদে।"
-"ওমা,তাই! কিন্তু আমার জন্যে কেন?তোমার প্রমোশন হয়েছে,তাতে আবার আমি কি করলাম?" সুজান হেসে আমাকে
জিজ্ঞেস করলো।
-"কিছু না।আসলে বিয়ের পরই প্রমোশন হল তো,তাই।"
আসল সত্যি কথা টা আর বললাম না।ওর যা স্বভাব,সত্যি টা জানলে হয়তো আবার উলটো কিছু করবে। এখনো কয়েকটা প্রমোশন বাকি।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৬)

সুনীড়া দাসের অনুকবিতা গুচ্ছ পড়তে ক্লিক করুন

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি থ্রিলার গল্প " খুনি "

বাংলা থ্রিলার গল্প - ' খুনি '  আমি একটা খুন করেছি। ভুল বললাম,একটা নয় দু'জন কে।নৃশংস খুন যাকে বলে,ঠিক তেমন।তবে খুন টা বড় কথা নয়। খুন তো যে কেউ করতে পারে।আমার মনে হয়েছিল,ওদের দু'জনের বেঁচে থাকা উচিত নয়, তাই খুন করেছি।কিন্তু মজার ব্যাপার হল,পুলিশ আমাকে ধরতে পারছে না।প্রতিদিন পুলিশের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি,খুনি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও বলে দিচ্ছি, কিন্তু তার পরে ও পুলিশের ধরার ক্ষমতা নেই।এই দেখুন,এখন থানায় এসে বসে আছি....। (১) গল্পটা তাহলে একটু আগে থেকেই বলি।বছর খানেক আগের কথা।সেদিন আমাদের বিবাহবার্ষিকী।এক বছর পুর্ন হল আমাদের বিয়ের।সকাল থেকে মন টা বেশ ভালোই।এদিন সবারই মন ভালো থাকে।আমারও আছে।এ দিন এলেই বিয়ের সেই কথা মনে পড়ে।বাড়ি জুড়ে কত মানুষ জন,আলোর রোসনাই,সানাই এর সুর, মেয়েদের উলুধ্বনি,সাত পাকে ঘোরা,শুভদৃষ্টি, কান্নাকাটি আরও অনেক কিছু।সবেমাত্র এক বছর,তাই হয়তো আমার এত কিছু মনে আছে। পুরানো হলে হয়তো থাকবে না।আবার থাকতেও পারে। ভোর থেকে উঠেই ব্যস্ত অসিত।আমার দিকে তার থাকানোর সময় নেই।ঘড়িতে আট টা বাজে। এখনো পর্যন্ত শুধু একটা মাত্র চুমু।ভালো লাগে এরকম! রাতে অসিত