Skip to main content

|| ফোনের ওপারের সেই মেয়েটি || ছোটগল্প || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন।




(১)

রাস্তার পাশের দেশী মদের দোকানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল দীপক। এমন কিছু বেশি মদ সে খাই নি,যে পা টলমল করবে! তাই দীপকের পা ঠিকই চলছে।সুদীপ আর বিপুল এখনো চুর হয়ে বসে আছে। কখন উঠবে ঠিক নেই।
বট গাছের নীচে শিব মন্দির থেকে ডান দিকের রাস্তা ধরে মিনিট তিনেক হাঁটলে,একটা টিউবওয়েল। তার পাশ দিয়ে খোয়া বিছানো নতুন রাস্তা দিয়ে কিছুটা নামলেই,ঘুপচির মধ্যে একটা পাকা দোকান।বাইরে থেকে হঠাৎ করে দেখলে বোঝার উপায় নেই।হালকা একটা টিউব লাইট মিট মিট করে জ্বলছে।দেশি–বিদেশি সব ধরনের মদ দোকান টি তে পাওয়া যায়।তবে বেশি করে দেশি।চুল্লু ধরনের।রাত এগারো টা পর্যন্ত খোলা থাকে দোকানটি। এলাকার যত সব মদখোর, চল্লুখোর দের আখড়া এটা। কিছুটা দূরে একটা লোহার রড তৈরীর কারখানা।তার পাশেই পায়রার খোপের মতো,কারখানার শ্রমিকদের সারি সারি থাকার জায়গা।বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজ করতে আসে তারা।মূলত তাদের ভিড় থাকে এই মদের দোকানটিতে। মাঝরাত পর্যন্ত হল্লা,চিৎকার– চেঁচামেচি। কখনো–সখনো গ্রাম থেকে দু'তিন জন মেয়ে,বা বউ নিয়ে আসে।টাকার বিনিময়ে। দোকানটির পেছন দিকে,একচালা মত টালির ছাউনির ঘর। তার ভেতরই চলে সব কিছু,অনেক রাত পর্যন্ত।

এসব ঘটনা দীপকের অজানা নয়। সে নিজেও এই কারখানার একজন শ্রমিক।অনেক দিন ধরে দেখে আসছে।এমনকি নিজেও কয়েকবার ঢুকেছে সে ঘরে।তবে ওই সব গ্রাম্য মেয়ে–ছেলে একদম তার পছন্দ হয় না।এরা বড্ড বেশি অপরিষ্কার, অপরিছন্ন।কালো কালো চেহারা সব।কি করে পারে,ওই কারখানার শ্রমিক গুলো! অবশ্য মাতাল দের কাছে সব সমান। আজও কি সেই ব্যাবস্থা আছে? নইলে,সুদীপ আর বিপুল বসে আছে কেন?অন্যদিন তো একবার ডাকলেই উঠে পড়ে! আজ তাহলে নিশ্চয় আছে।একবার গিয়ে দেখবে?
সেদিনের রাতের কথাটা মনে উঠলেই সারা শরীর টা শিরশিরিয়ে উঠে দীপকের।মেয়েটি টিউসান করে বেড়ায়।এখানকার ই মেয়ে।কি যেন নাম? মালতী!–ফর্সা,গোলগাল চেহারা। সরু কোমর,ভরাট বুক টা হাঁটার সময় দুলে দুলে উঠে।টাইট পোষাকে পেছন দিক থেকে দেখলে, শরীরে একটা উত্তেজনা তৈরী হয়।সেদিন ও বোধ হয়,টিউসান থেকে ফিরছিল। এই রাস্তা দিয়েই।একটু রাত ও হয়ে গিয়েছিল।ঝোপের মধ্যে ফেলে তিন জনে......! উফ! ভাবা যায় না। নেশার ঘোরে কত সময় ধরে চলেছিল এখন আর মনে নেই। তারপর....?আর কিছু মনে করার চেষ্টা করলো না দীপক।
সেই কালো ঝোপটার দিকে একবার ভাল করে তাকালো।ফস করে একটা সিগারেট ধরালো। –"মাল হো তো অ্যায়সা হো!"
অমবস্যার রাত,তাই চারিদিকটা গাঢ় কালো রঙে মোড়া।শুধু দোকানটির ভেতর আলো টিম টিম করছে। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো দীপক। শিব মন্দিরে পাশে যেতেই,পকেটের ফোনটা গোঁ গোঁ সুরে বেজে উঠল। সেই নাম্বার! নেশা কেটে গেল দীপকের।মন টা আনান্দে ভরে উঠল।কিছুদিন আগে ফোনে একটা মেয়ের সাথে দীপকের পরিচয় হয়েছে। সেই থেকে প্রতিদিন রাতে কথা হয়। দুষ্ট–মিষ্টি কথা শোনায় মেয়েটি।মাঝে মাঝে ভালবাসার কথা বলে।
ফোনটা রিসিভ করে কানে দেয় দীপক।
–"হ্যালো!"
–"কি হল,ফোন তুলতে এত দেরী করছিলে কেন?
–"কই দেরী করলাম! পকেট থেকে বের করতে সময় লাগে তো,রুপা!"
মেয়েটির নাম রুপা।সেরকমই তো মেয়েটি বলে। দীপক অবিশ্বাস করতে পারেনি।
–"ওহ! কত ভেতরে ছিল যে,বের করতে দেরী হল!" খিল খিল করে হেসে উঠল মেয়েটি।দীপক কি বলবে বুঝে উঠতে পারল না।এমনিতেই সে কম কথা বলে।আর একরম দুষ্টমি কথা তো একদমই পারে না। মাঝে মাঝে ভাবে,এত কথা কিসের রে?একদিন আয় না,আমার ঘরে তারপর সব দুষ্টমি পুষিয়ে দিয়ে দেব।
–"কি হল চুপ করে আছ যে? কথাবলতে ইচ্ছে হচ্ছে না?ও বুঝেছি, আমি দেখা করছি না বলে তোমার এত রাগ?আচ্ছা,এবার দেখা করবো তোমার সাথে।"
দীপক নড়ে চড়ে উঠল।হাত–পা,সারা শরীরে শিরশিরে অনুভব পেল।
–"সত্যি! আমার সাথে দেখা করবে তুমি?"
–"হুম! আচ্ছা দেখা হলে কি করবে?
মনের গোপন ইচ্ছে টা চেপে রাখল দীপক।আগে তো দেখা হোক। ফিস ফিস স্বরে বলল,–"কি আর করবো!কথা বলবো।"
–"এ বাবা! এই টুকুই? আর কিছু করবে না? ভালবাসবে না?"
দীপক যেন আর সহ্য করতে পারছে না।সারা শরীর কাঁপছে উত্তেজনায় । কখন দেখা হবে? তর সইছে না যে!
–"তুমি যেটা বলবে,সেটা করবো।"
ওপার থেকে মেয়েটির হাসি শোনা গেল।হাসি থামিয়ে মেয়েটি বলল,–"তাহলে আগামী শনিবার রাতে দেখা হবে।কোথায় হবে পরে জানিয়ে দেব,কেমন!"
ফোন কেটে দিল দীপক।মেয়েটি এত সহজে, নিজে নিজেই লাইনে চলে এলো?একটু বিস্মিত হল দীপক।টাইম পাস করে মজা নিচ্ছে না তো মেয়েটি?আজ কাল তো এরকম হামেশাই ঘটে। ফোনে তিন চার জনের সাথে সম্পর্ক রাখে,একটু লেজে খেলায়! কথা বলতে বলতে,সে প্রায় বাড়ির কাছে চলে এসেছে।নিকশ অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে গেট টা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।


(২)


দীপকের ধারনা ঠিকই ছিল।আজ সেই ব্যবস্থা ছিল,মদের দোকানের পিছনের একচালা ঘরের মধ্যে। আজও টাকা দিয়ে গ্রাম থেকে তিন–চার জন মেয়ে,বউ এনেছে। সবার শেষে সুদীপ,আর বিপুল যখন সেই ঘর থেকে বেরুলো,তখন ঘড়িতে রাত একটা বাজতে চলেছে। অন্ধকার আরও জমিয়ে বসেছে বাইরে।এক হাত দুরেও মানুষ থাকলে দেখা যায় না।এ রাস্তা–ঘাট দুজনের অজনা নয়।তাও দুজন পাশা–পাশি হাত ধরে চলছে।কারও মুখে কথা নেই। দীপকের থেকে এই দু'জনের মধ্যে ভাব একটু বেশি।এত রাতে কারও জেগে থাকার কথা নয়,পাখিরা ও ঘুমিয়ে পড়ছে।শশ্মান এলাকার মতো একটা নিস্তব্দতা। সেই নিস্তব্দতা ভেদ করে হঠাৎ সুদীপের পকেটের ফোন টা ডেকে উঠল। দু'জনেই ভয় পেয়ে প্রায় চেঁচিয়ে উঠছিল। কোনোরকমে সামলে নিয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করল সুদীপ। রুপার ফোন।–গত সাত দিন ধরে কথা হচ্ছে–কবে যে হাতের মধ্যে পাব মেয়েটিকে!
সবুজ বোতাম টা টিপে,ফোনটা কানে লাগালো সুদীপ।–"হ্যালো!"
–"কি গো,আজ ও কি গিয়েছিলে মেয়ে মানুষের কাছে? ফোন ধরছিলে না যে!"ওপার থেকে আওয়াজ এল।
–"আমার তো তোমার কাছে যেতে ইচ্ছে করে।তুমি না ডাকলে আর কি করবো!"
–"ও! তাই বুঝি?একটু সবুর করো, আমি কি আর এলে–বেলে জিনিষ?" ফোনের ওপারে অভিমানী সুর।
–"তো কবে পাবো তোমায়?"
–"আরে পাবে পাবে।আগামী শনিবার রাত ঠিক দশটায়।মনে থাকে যেন,তখন দেখবো তোমার কত জোর! " আবার সেই খিল খিল হাসি।
ফোনটা কেটে দিল,না কেটে গেল! যা পারে হোক। আসল খবর টা তো পাওয়া গেছে। সুদীপের ভেতরে যেন ড্রাম বাজছে।কি মিষ্টি কথা! কথা যদি এত সুন্দর হয় ,তাহলে শরীর কেমন হবে? শরীরের অলি গলি পথ কেমন হবে সব কিছু মনে মনে ভেবে নিল সুদীপ। এতক্ষন চুপচাপ ফোনালাপ শুনছিল বিপুল।এবার মুখ খুলল সে।–"কে মেয়েটি?"
ফোনটা পকেটে রেখে,অন্ধকারে বিপুলের দিকে তাকালো সুদীপ। বলল,–"ধীরে ভাই!নয়া মাল একটা পেয়েছি।ফ্রি তে।দু'জনই লুটবো। দীপক কে একদম জানাবি না।"
সুদীপের কথায়,অন্ধকারে বিপুলের কি অবস্থা হল,কিছুই বোঝা গেল না।


(৩)

–"এ কোথায় এলাম? কিন্তু মেয়েটি তো এই জায়গারই কথা বলেছিল ফোনে।"
দীপক ভাল ভাবে চারিপাশ টা চোখ বুলিয়ে দেখলো।আকাশে কুমড়ো ফালির মতো চাঁদ। একটা আলো–আঁধারি পরিবেশ।আবছায়া দেখা যাচ্ছে সব কিছু। উঁচু মাটির রাস্তা।পাশে ঝোপ–ঝাড়ে পরিপুর্ন।দীপক একটু হাসল। –"আজকাল মেয়েদের ঝোপ–ঝাড় বেশি পছন্দ বোধহয়।"
একটা বুড়ো ঝাউ গাছের কথা বলেছিল মেয়েটি। শুধু একটাই ঝাউ গাছ,একা দাঁড়িয়ে আছে।দীপক রাস্তা থেকে কিছুটা নেমে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।আর কিছুটা এগোলেই সামনে নদী। দীপকের মনে পড়ল,তার কারখানার পিছন থেকে পশ্চিম দিক ধরে আধ ঘন্টা হাঁটলে এই নদীর কাছে আসা যায়।আগেও এসেছে।পিছন ফিরে চোখ তুলে তাকালো। কারখানার আলোর রোশনাই দেখা যাচ্ছে।কিন্তু মেয়েটি কোথায়? দীপক আরও কিছুটা এগিয়ে গেল সামনের দিকে।সামনে নদীর চর। পায়ের জুতোর নীচে ভিজে বালি জড়িয়ে যাচ্ছে।ঠান্ডা হাওয়া বইছে।
–"ওই তো ঝাউ গাছ! একা দাঁড়িয়ে আছে।কিন্তু ওর পাশে কারা দাঁড়িয়ে?মেয়েটি কি,আরও একটি মেয়েকে সঙ্গে এনেছে!"
দীপক দ্রুতো পা চালালো সেইদিকে। কাছে যেতেই চমকে উঠল দীপক। জোরে চেঁচিয়ে উঠল,–"তোরা এখানে?"
সুদীপ আর বিপুল কে চিনতে পারলো দীপক। ওরা দু'জনই বিস্ময়ে পরষ্পরের দিকে তাকালো।
–"আগে বল,তুই কেন এখানে?"
–"আছে বস! একটা মাল আসবে। রুপা!"
–"কি?আমরাও তো.....!"
দু'জনের গলাতে বিস্ময়ের বোঝা নেমে এল। মেয়েটি ঠকালো তাহলে! আমার ধারনাই ঠিক ছিল।মেয়েটি খেলাচ্ছে।মনে মনে ভাবল দীপক। চারিপাশে ভালো করে তাকালো তিনজন।নদীর জলের শব্দ আসছে। বাতাশ টা যেন আরও তীব্র ঠান্ডা হয়ে উঠল।যেন অশরীরীর নিশ্বাস– প্রশ্বাস। এতক্ষন রুপার নেশার ঘোরে লক্ষ্য পড়েনি, এবার ভাল করে চারিপাশ টা দেখলো তিনজন। জায়গা টা খুব চেনা মনে হচ্ছে! সব থেকে চেনা লাগছে ঝাউগাছ টি কে।
–"এ তো সেই জায়গা!" দীপক ভয়ে কঁকিয়ে উঠল।
হ্যাঁ,এটা সেই জায়গাই।পরিষ্কার এবার মনে পড়ছে সবকিছু। কোনো ভুল হতে পারে না। সেদিন রাতে মালতী কে রেপ করে,মেরে ফেলার পর তো এখানেই আনা হয়েছিল।এই তো সেই ঝাউ গাছ! তারপর মাটি খুঁড়ে তার নীচে চাপা দেওয়া হল। বিপুলের এবার সব কথা মনে পড়ল। তিনজনরই হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। সুদীপ কিছু বলতে গিয়ে বলতে পারল না।তার আগেই একটা সুরেলা মেয়েলি কন্ঠস্বর ভেসে এল। –"কি গো! তোমার এসেছো?"
–"কে!......কে?"
তীব্র ভয় পাওয়া গলার মতো চিৎকার করে উঠল দীপক।
–"আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমাদের রুপা গো!"
–"রুপা,কোথায় তুমি?দেখতে পাচ্ছি না কেন?"
হা হা হা হা করে জোরে হেসে উঠল মেয়েটি। তারপর সেই মিষ্টি কন্ঠে বলল,–"কি করে দেখতে পাবে? তোমরা তো আমার উপর দাঁড়িয়ে আছো। আমাকে মাটির নীচে থেকে বের করো।"
তিনজনই ভয়ে নিমেষে পায়ের দিকে তাকালো। হ্যাঁ, এই জায়গাই তো পুঁতে দেওয়া হয়েছিল মেয়েটি কে। থর থর কাঁপতে থাকলো তিনটে শরীর। গলা শুকিয়ে কাঠের মতো হয়ে গেল এক নিমেষে।আর হয়তো পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারবে না! চোখ তুলে সামনে তাকাতেই,
তিনজনের সারা শরীর হিম হয়ে গেল।গায়ের লোম গুলো সজারুর কাঁটার আকার নিয়েছে। ঠান্ডা বাতাশের মধ্যেও ঘাম ঝরছে অনর্গল। তিনজন পরিষ্কার দেখতে পেল,সাদা কাপড় মুড়ি দিয়ে তাদের থেকে হাত পনেরো দুরে ঝাউ গাছের নীচে কেউ বসে আছে। আর সেখান থেকেই মিষ্টি সুরেলা স্বর ভেসে আসছে।
–"কি হল? আমাকে দেখবে না!" এক মুহুর্তে সুরেলা কন্ঠস্বর,বিকট ভয়ঙ্কর স্বরে রুপ নিল। তারপর সে কি বিকট হাসি।অট্টহাস্যের মতো। আশে পাশের বন–বাদাড় গুলো কেঁপে উঠল। যে,যেদিক পারলো,প্রানভয়ে দৌড়াতে শুরু করল।পিছনে সেই বিকট ভয়ঙ্কর হাসি ছুটে চলে ছে।
বিপুল নদীর চর ধরে ছুটলো।পিছনে সেই অট্টহাস্য।কখন সে নদীর ভেতর নেমে গেছে খেয়াল নেই। তারপর স্রোতের ভেতর আর দেখা গেল না। সুদীপ আর দীপক দৌড়ালো কারখানার দিকে।পিছনে সেই বিকট হাসি তেড়ে আসছে।দু'জন তবুও ছুটে চলেছে।অনেক পথ পেরিয়ে গেছে তবুও,পেছনে সেই বীভৎস অট্টহাসি।মদের দোকান,শিব মন্দির পেরিয়ে,বড় রাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছে। হঠাৎ সামনে বীভৎস দু'টো আগুনের গোলার মতো বড় বড় চোখ।
–"আঁ..অ..অ..অ ...!" করে কঁকিয়ে উঠল দু'জন। ট্রাক টা দ্রুতো ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল।আর কোনো শব্দ নেই।নিস্তব্দ হয়ে এল চারিদিক। শুনসান।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা