Skip to main content

সুনীড়া দাসের অনুগল্প পড়ুন ' প্রশ্ন '


ছোট্ট ছোট্ট ব্যাপারে রাগ হচ্ছে আর ভুল সব কাজ করে যাচ্ছে অনুপ্রীতা। নিজের জীবনের অসংখ্য না পাওয়ার কথা মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে চলেছে প্রতিনিয়ত যা রাগ রুপে প্রকাশ হচ্ছে।অনুপ্রীতা সকলের থেকে অধিক ভাবুক, ছোট্ট ছোট্ট কথাতে সুখের ছবি গড়ে তোলে আবার সেই ছোট্ট বাক্যকে ধরে নিজ আখিঁকে ভরাট টলটলে সরোবরে বা কখনও পাহাড়ী ঝর্ণার রুপ প্রদান করে।বেশ কয়েকদিন ধরে বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝেই কথা কাটাকাটি হচ্ছে,অনেক ভুল কথা অর্থহীন অজুহাত দিয়ে ইতি হচ্ছে এইসবের।আজ সকাল থেকেই মন মেজাজ ভালো নেই তার,নির্মাল্যর সঙ্গে দেখা হয়নি বেশকিছুদিন।দেখা করার চিন্তা উদগ্রীব অধিক বিরক্ত অনুভূত ।ওর সাথেও মনোমালিন্য ধীরে ধীরে ঝগড়াতে পরিনত।বাবা আজ সকাল সকাল চলে গেছেন।খাবার শেষ করে নির্মাল্যর সাথে দেখা করে কলেজে যেতে হবে।দরজা খুলতে গিয়ে দেখে যে  দুটি দরজাতেই তালা লাগানো।বাবা নিশ্চয় পেছনের দরজা দিয়ে গেছেন।অনেক চেষ্টা করেও তালাটি খুলতে পারলোনা অনু ।নির্মাল্যর ফোন বার বার আসছে,রেগে অনেক বাজে শব্দ ব্যবহার করে অনু।রেগে হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করে,বাবাকে ফোন করে খানিক বকাও দিলো ।বাবা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলেন এবং তালার দূরাবস্থা পর্যবেক্ষন করে প্রচুর বকা দিলেন,এমনকী বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বললেন।কোন কথা কানে এলো কি না তা অজানা,মস্তিকে এসে শব্দপাত সৃষ্ট করেনি। শুধু একবুক অভিমান নিয়ে নিজের ঘরে চলে এলো। হঠাৎ নিজেকে বড় একাকী অনুভূত হচ্ছিল তার।মাকে মনে পড়ছে,মা থাকলেও কি আজ অনুকে বুঝতো না?নির্মাল্যর আবার ফোন আসছে,কিছু কটুবাক্য আদানপ্রদানে কথোপকথন সমাপ্ত।বাবার ডাকে তন্দ্রাচুত্য হল,শুনতে পেলাম তোর শরদিন্দু গল্পসংগ্রহটি ছিলনা,নিয়ে এলাম,আর খাবার তৈরি,মুখে চোখে জল দিয়ে চলে আয়।বইটির দিকে একবার দৃষ্টি অর্পন করলো অনু।শুধু একটি প্রশ্ন সর্বাঙ্গ গ্রাস করে চলেছে তার, সবার বাবা কি এমনই হয়, এত ক্ষমাশীল!

লিখেছেন সুনীড়া দাস

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা