Skip to main content

||অপেক্ষা|| ছোটগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন




টেবিলের সামনে খাটের উপর বসে, হিয়া নীরবে কাঁদছে। কোনো শব্দ হচ্ছে না।শুধু অঝোরে বরিষণ! নীরবে কাঁদছে কেন?
অনেক বেশী দু:খ পেলে মানুষ তবে নীরবে কাঁদে। পাথরের মতো হয়ে যায়। লুকিয়ে ও কাঁদে। রাতে বালিশে মুখ চেপে বা,একলা নির্জনে ছাদের উপর বসে।হিয়া ও কাঁদছে। চোখের দু'পাশ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট ইন্টারভ্যালে হাত দিয়ে গাল থেকে জল টা মুছে নিচ্ছে। তার সাথে নাক টানতে টানতে,নাকের ডগা টা একেবারে টুকটুকে লাল। একটু ফর্সা বলে বেশী লাল দেখাচ্ছে। কাঁদার সাথে নাক টানার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। কোনো বিবাহিতা মহিলা কাঁদলে, কিছু ভাবার ছিল না। তার হাজার টা কারন খুঁজে পাওয়া যেত।যেমন কেউ বাবা–মা এর জন্য কাঁদতে পারে।কেউ পুরানো প্রেমের কথা মনে করে,বর পছন্দ না হলে, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা না দিতে পারলে, শাশুড়ির ট্যাঁরা–বেঁকা চোখ দেখেও কাঁদে অনেকে।

 তেমনি বাচ্চা রা কাঁদলেও কোনো চিন্তা থাকে না।কারন হিসেবে, হয় খিদে পেয়েছে, নইলে বাবা কার্টুন দেখতে দিচ্ছে না।বর্তমানে বাচ্চাদের কান্না থামানোর একটা সহজ উপায়ও তৈরী হয়ে গেছে।কার্টুন চ্যানেল টা খুলে,হাতে একটা চিপসের প্যাকেট ধরিয়ে দিলেই কাজ কমপ্লিট। আগডুম–বাগডুম কিছু একটা হলেই হল।কিন্তু হিয়া,বিবাহিত নয়।আর বাচ্চা বয়েস টি ও অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছে।একুশ–বাইশ বছরের এক পূর্ন যুবতী।ভাসা ভাসা চোখ,সরু চিকন সুতোর মতো ভুরু। মাথায় কুচকুচে কালো চুলে ভর্তি। পিঠের মাঝ বরাবর নেমে গেছে।

দক্ষিন চব্বিশ পরগনা জেলার একটা শহুরে কলেজে পড়ে। এরকম বয়েসে যদি কোনো মেয়ে, একা বসে বসে নীরবে কাঁদে,তাহলে সব থেকে আগে যে কারন টা সামনে আসবে– সেটা হল প্রেম।বেশীর ভাগ এই বয়েসের মেয়েরা প্রেমে পড়েই কাঁদে। সকাল থেকে হিয়া কাঁদেনি।মুড টা ঠিকই ছিল।কিন্তু রিয়ার ফোনটা হাতে নিয়েই কাঁদতে শুরু করল। ফোন হাতে নিয়ে কেউ কাঁদে নাকি?
রিয়া,আর হিয়া স্কুল থেকে বন্ধু। এগারো ক্লাসে তাদের পরিচয়।স্কুলে এক সাথে তাদের জুটি সারক্ষন দেখা যেত।কলেজে উঠেও তারা আলাদা হয়নি। একই কলেজে ,একই সাবজেক্ট নিয়েই ভর্তি হয়েছে। কলেজ কেটে মাঝে মাঝে সিনেমা দেখতে যায়। বিকাল বেলা ঘুরতে যায়। নিদিষ্ট কোনো জায়গা নেই।যেখানে ইচ্ছে করে, সেখানে যায়।আজ রিয়া কে তাদের বাড়ি রাতে নিমন্ত্রন করেছিল।রিয়া ও না করেনি। ভেবেছিল, এখান থেকেই কাল কলেজ যাওয়া যাবে এক সাথে।হিয়া যে এই প্রথম কাঁদছে,তা নয়– এর আগেও অনেক বার কেঁদেছে।শুভময়ের জন্য। কিন্তু আজকের কান্না টা বড় বেদনাদায়ক, কষ্টকর। শুভময়ের সাথে প্রথম পরিচয় ক্লাস এইটে, জীবন স্যারের কাছে জীবন বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে।নিতান্ত বাচ্চা বয়েস তখন।ঝগড়া ছাড়া আর কিছুই হত না। মাঝে মাঝে চুল টানা টানি,কান টানা–টানি চলত।
–"তোর নাক টা চ্যাপটা।"
—"তোর সামনের দাঁত ফাঁকা।" হিয়ার কথা শুনে শুভময় বলত,–"তোর গজ দাঁত টা দেখলে, তাড়কা রাক্ষসীর কথা মনে পড়ে।"
চোখ–মুখ লাল হয়ে যেত হিয়ার। দাঁত কড়–মড় করত।এরকম সব ছোটো খাটো ঝগড়া লেগে যেত। হালকা পলকা টাইপের।কিন্তু বড় ঝামেলা টা বাঁধল অন্যদিন। একদিন পড়ার ফাঁকে শুভময় একমনে তাকিয়ে ছিল বিথির দিকে। বিথি টিউসন ব্যাচের হার্টথ্রব গার্ল। একবার দেখলে,যে কারও হার্টফেল করবে।হিয়ার সেটা নজর এড়ালো না।বাড়ি ফেরার পথে প্রসঙ্গ টা উঠল। –"বিথির দিকে তাকিয়ে ছিলিস কেন?" হিয়া বলল।
–"তোর তাতে কি?"
–"আমার অনেক কিছু!"
—"আমার ওকে ভাল লাগে তাই তাকাই।বিথি ও আমার দিকে তাকায়।"
শুভময় রাগ দেখালো।আর কোনো কথা বলল না হিয়া।সব সময় ঝগড়া করা যায় না।কি বা বলার ছিল? ভালবাসার কথা টা?কিন্তু শুভময়ের তো বিথি কেই ভাল লাগে! কিছু দিন পর আসল ব্যাপার টা বুঝতে পারল শুভময়।হিয়ার রেগে যাওয়ার কারন।একটা লাজুক লাজুক ভাব নিয়ে হিয়া কে প্রোপজ করেও ফেলল।প্রথম প্রথম অবশ্য না বলেছিল হিয়া।যদিও সব মেয়েরা এ ব্যাপারে প্রথমেই না বলে।অনেক কে বলতে শুনেছি,মেয়েদের 'না' মানে হ্যাঁ'।আমি অবশ্য জানি না।যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারাই বলে।হিয়া, একমাস সময় নিয়েছিল শুধু –'হ্যাঁ' বলতে।
যতই কম বয়েস প্রেম শুরু হোক না কেন,– প্রেমের আসল অনুভুতি টা পাওয়া যায় সতেরো–আঠেরো তে এসে। তখন শরীর ও মন উপযুক্ত হয়। চারিদিক টা রঙিন নেশার মতো লাগে।উত্তম কুমারের সাদা–কালো সিনেমা ও, রঙিন লাগে। বৈশাখের খাঁ খাঁ তপ্ত রোদে ও দাঁড়িয়ে থেকে, মনে হয় যেন আইসল্যান্ডে আছি। হিয়া আর শুভময়ের তাই হল।
সন্ধ্যায় ফিজিক্স টিউসন পড়তে যাওয়ার দিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকত শুভময়। আলো–আঁধারি রাস্তা।কখন হিয়া আসবে? তারপর একসাথে পাশাপাশি হাঁটবে। বেশী নয়,একটু কথা বলবে,আর মাঝে মাঝে চোখে চোখ রাখবে। বা,কখনো একটু–আধটু ঝগড়া হবে।এ অনুভুতি সারা জীবনে মনে হয় একবারই আসে!
সব থেকে মনে হয়, ভাল লাগে কেমেস্ট্রি ল্যাবে হাইড্রক্লোরিক অ্যাসিডের বোতল টা হাতে নিয়ে, ঢালতে ঢালতে তাকিয়ে থাকতে। হিয়া ও তাই করত।কোনো দিন সালফিউ অ্যাসিড,তো কোনোদিন সোডিয়াম ক্লোরাইডের বোতল টা নিয়ে তাকিয়ে থাকত শুভময়ের দিকে।একবার ভুল করে কি সে, কি মিশিয়ে,ল্যাবের মধ্যে এক বিষম খাওয়া–খাওয়ি কান্ডের সৃষ্টি হল। চারি দিকে ধোঁয়া। সেবার হেড স্যার নাকি দমকল কে ফোন করে ফেলেছিল প্রায়।এ এক অন্যরকম ভাললাগা!স্যারের ধমক খেতেও ভাল লাগত এই সময়।
সমস্যা টা তৈরী হল দ্বাদশ শ্রেনীর মাঝামাঝি –শুভময়ের মায়ের কানে খবর টা যেতেই। এমনিতেই রাগী টাইপের মহিলা।ছেলে পড়াশুনা বাদ দিয়ে,প্রেম করছে শুনে আরও রেগে গেলেন। সে,সব বাবা–মা ই রেগে জান,এরকম কথা শুনলে। কড়া হাতে শাসন করলেন ছেলেকে। তিনদিন পর শুভময়ের ফোন গেল হিয়ার কাছে।–"এ সম্পর্ক টা রাখা আর সম্ভব নয়।"
এদিন প্রথম কেঁদেছিল হিয়া।তারপর চোখের জল মুছে অনেক বুঝিয়েছিল শুভময় কে।'সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে', একটু ধৈর্য ধর।"এরকম আরও অনেক কথা। শুভময় ও বুঝেছিল। মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুভময়ের একটা কথা বেশ মনে আছে হিয়ার।–"চাকরী পেয়ে তোর কাছে ফিরে আসবো।"কলকাতায় গিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর শুভময় বলেছিল।
 খুব ভাল লাগত হিয়ার। লাগরই কথা।বয়ফ্রেন্ড এরকম কথা বললে, সবারই ভাল লাগে।ফোনে কথা বলতো হিয়া। বেশীর ভাগ সময় ফেসবুকে কথা হত।জরুরি দরকারে ফোন করত শুভময়।কলকাতায় ও দেখা করতে যেত প্রতি মাসে কয়েকবার।বাড়ি থেকে টিউশন পড়ার নাম করে বেরিয়ে, বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করার মজাই আলাদা। যারা করেছে,সেটা একমাত্র তারাই জানে।
একদিন রাতে ফোন করল শুভময়। বাড়ির ছাদে বসে তারাদের ঝিকি মিকি দেখছিল হিয়া।খোলা আকাশ মাথার উপরে।ছাদ টা ফাঁকা। অবশ্য এত রাত অবধি আসে পাশের ছাদে কেউ থাকে না। তাই এই সময় হিয়া ছাদে ওঠে।ফোনটা রিসিভ করে করে চুপ করে রইল। সব মেয়েরাই এরকম দুষ্টমি করে।এতে নাকি ভালবাসা বাড়ে, মজবুত হয়।–"হ্যালো! হ্যালো!"
শুভময় চেঁচালো।
–"বল।"
–"এ রিলেসান টা বোধ হয় আর রাখা ঠিক হবে না!"
–"কেন.ন....ন?"
হিয়ার কেঁপে উঠল।ভূমিকম্প শুরু হলে মাটি যেমন কেঁপে ওঠে,ঠিক তেমন।বুকের ভেতর টা তোলপাড় হয়ে উঠল,সমুদ্রের ঢেউ এর মতো।
–"জানিনা! তবে দুজনেরই ভাল হবে।"
—"আবার,কি হল তোর ?"
–"কেন বুঝিস না তুই?এ রিলেসান টা মজবুত নয়।বাড়ি থেকে মানবে না।তোকে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।আর তুই সেটা পারবি না।"
–"আমি ঠিক পারব।তোর জন্যে অপেক্ষা করে থাকব।"
এর পর আর কিছু বলা যায় না। শুভময় ও পারল না বলতে।ফোন টা রেখে দিল। ফোন রেখে হিয়া খুব কেঁদেছিল। শুভময় টা মাঝে মাঝে তার সাথে কেন এমন করে! খুব কষ্ট লাগে তার।

কিন্তু আজ সকালে কষ্টটা দ্বিগুন হয়ে গেল। নীরবে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।আজ পড়া ছিল না।তাই সকাল ন'টা পর্যন্ত শুয়ে ছিল দু'জন। ঘুম থেকে উঠে জানালার দিয়ে বাইরে তাকালো হিয়া।রোদ উঠেছে কাঁচা সোনার মতো।ঝলমল করছে চারিদিক।দু'টো শালিক পাখি ঝটপটি করছে আম গাছের ডালে। বাথরুমে জলের শব্দ হচ্ছে। সম্ভবত রিয়া স্নানে ঢুকেছে।হাতের কাছে কিছু না পেয়ে, রিয়ার ফোন টা ঘাঁটতে লাগল। ম্যাসেজ ইনবক্সে গিয়ে,চোখ দাঁড়িয়ে গেল হিয়ার।বুকের ভেতর টা দুমড়ে, মুচড়ে উঠল।হাজার টা পেরেক ফোটার যন্ত্রনা শুরু হল। শুভময়ের চার পাঁচ টা ম্যাসেজ।রিয়া কে প্রোপোজ করেছে শুভময়। রিয়া ও উত্তরে,–'হ্যাঁ' লিখে পাঠিয়েছে।ফোন টা আর হাতে ধরে রাখতে পারল না।কাঁপা কাঁপা হাতে ছুঁড়ে দিল অন্য দিকে।
এরকম জিনিষ দেখার পর সবাই কাঁদে।তাই হিয়া নীরবে কাঁদছে। কোনো শব্দ হচ্ছে না।শুধু কষ্ট হচ্ছে।কেউ যেন জানতে না পারে।বাথরুমের দরজায় খট করে একটা আওয়াজ হল।চোখ মুছলো হিয়া। জলভেজা শরীরে রিয়া বেরুলো ভেতর থেকে।কোমর থেকে হাঁটুর উপর পর্যন্ত টাওয়েল জড়ানো। গোলাপি টেপ টা ভিজে।সবে মাত্র স্নান সেরে বেরিয়েছে,তাই।কাঁপা কাঁপা গলায় প্যান্টি টা হাতে নিয়ে বলল,–" আমার হয়ে গেছে।তুই তাড়াতাড়ি যা।বেশী দেরি করিস না।আজ কলেজে ফার্স্ট পিরিয়ড আছে।" অনেক আগেই চোখের জল শুকিয়ে গেছে। শুকনো চোখে বাথরুমে ঢুকলো হিয়া।

এরপর বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে। আজ রাতের আকাশের তারা গুলো বড্ড বেশী উজ্বল। ঝকমক করছে– যেন কালো কাপড়ের উপর, ঝরি বসানো।আজ হিয়ার জন্মদিন। সে এই জন্মদিনে কেক কাটেনি।তার মা,অনেকবার বলেছিল কিন্তু হিয়া কোনো কথা কানে তোলেনি। ছাদের উপর চেয়ার পেতে বসে আছে। ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুক টা খুলতেই ইনবক্সে ম্যাসেজ দেখল।'হ্যাপি বার্থ ডে'।
শুভময় পাঠিয়েছে।চোখের কোনে মেঘ এসে জমা হয়েছে।এক মুহুর্ত তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে।ভেতর থেকে মন টা যেন বার বার বলতে শুরু করেছে,–আমি এখনো তোর অপেক্ষায় আছি। শুভময়ের প্রোফাইল পিকচারের উপর একটা ক্লিক করল হিয়া।ছবিটা ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠল।আর সেই সাথে চোখে বৃষ্টি নামলো, অঝোরে।

স্বদেশ কুমার গায়েন (২০১৫)

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা