Skip to main content

|| তিনটি প্রেমের কবিতা || ~ স্বদেশ কুমার গায়েন




কল্প প্রেমিক

ইচ্ছে করে,কোনো এক জোছনা রাতে, সুন্দরবনের গভীর অরন্যে,
নদীর বুকে, মেছো নৌকায় বসে
সারারাত তোর সাথে কাঁধে মাথা রেখে গল্প করি। চাঁদের আলোয় ভেসে যাবে হেঁতালের বন।
জোছনালোক খেলা করবে শাল, সেগুন,সুন্দরী, কেওড়া,গরানের জঙ্গলের সাথে;
কাঁচা সোনার মতো চাঁদ গলে যাবে নদীর জলে।
অথবা,কোনো গভীর কালো রাতে
বৃষ্টি ভেজা অরন্যভূমির,
নদীর মাঝে জলের টেউ এ দুলতে থাকা ছোট্টো নৌকার ছাউনির নীচে তুই আর আমি গুটিশুটি মেরে জড়িয়ে ধরে বসে থাকবো,
হ্যারিকেনের মৃদু আলোয়।
এক মায়াময় অরন্যভূমি।
এক মায়াবী রাত;
শুধু তুই আর আমি।আমাদের প্রেম।আর নদীর জলের অন্তহীন ছলাৎ ছলাৎ শব্দ.....!


হিংসে

তোর বুকের খাঁজে নীল লকেট হার টার উপর খুব রাগ হয় আমার!
একদম সহ্য করতে পারিনা ওটাকে,
খুব হিংসে করি ;

মাঝে মাঝে মনে হয়,
ওটা জীবন্ত চোখ একটা।
তোকে ড্যাব ড্যাব করে সারক্ষন দেখছে,আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

দেখিস,
একদিন ওটাকে ছিঁড়ে ফেলে
তোর বুকে মাথা রাখব আমি।।



সে



সে আমার প্রথম চাওয়া–পাওয়া
সে আমার প্রথম স্বপ্ন–আশা;
সে ছিল আমার প্রিয়তমা–
সে যে ছিল আমার প্রথম ভালবাসা।


সে ছিল আমার প্রথম দেখা অপ্সরা
সে যে ছিল শিউলি ঝরা রাত,
সে ছিল আমার বেঁচে থাকা
আমার হৃদয়ের প্রস্ফুটিত গোলাপ।


সে আমার প্রথম দেখা নীলপরী
সে ছিল আমার জীবনের আলো;
সে ছিল আমার স্বপ্নের রাজকন্যে,
যাকে আমি বেসেছিলাম ভাল।


সে ছিল আমার কবিতার ভেতর
সে ছিল আমার মনের মাঝে,
হঠাৎ করে কোথায় গেল চলে
এখনো তারে পাইনি আমি খুঁজে।।



স্বদেশ কুমার গায়েন

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ]

কাশফুল ~ ছোটোগল্প [ Bengali Short Love Story ] — "এবার পূজোয় আসবি তো?" - "কি করব বল! অফিস থেকে একদম ছুটি দিতে চাইছে না।" — "তুই সব সময় অজুহাত দেখাস।" - "বিশ্বাস কর,আমি অফিসার কে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিন্তু আমাকে সাতটা কথা শুনিয়ে দিল।" —" ভাল লাগে না আমার! কত ভাবি পূজোর সময় তোর হাত ধরে সারা কলকাতা টা ঘুরবো, তোর পাশে বসে অষ্টমীর অঞ্জলি দেব.....।" - "আমার ও খুব ইচ্ছে করে, পূজোটা তোর সাথে কাটাতে।" ফোনের ওপার টা এক মহুর্তের জন্য নিস্তব্দ হয়ে গেল। বললাম—"কি ,রে রাগ করেছিস?" — "না! তোর চাকরীটাই খারাপ। আমি চাকরী টা পেয়ে গেলে তোকে আর ও কাজ করতে দেব না।" - "তাহলে আমার পরিবার, কে দেখবে ?" — "আমি দেখব।" -' আর তোর পরিবার?" - "সেটাও আমি।" — "এত দায়িত্ব নিতে পারবি?" — "তুই আমার কাছে থাকলে, আমি সব পারব।" - "পাগলি একটা!" - "প্লিজ ! আয় না এবার পূজোতে!" - "দেখি একবার শেষ চেষ্টা করে!" —"থাক তোর আসতে হবে না