Skip to main content

|| নিশানের লাভার ~ অনুগল্প ||~ স্বদেশ কুমার গায়েন



একবার,দু'বার,তিনবার নয়,এই নিয়ে প্রায় পঞ্চাশ বার পকেট থেকে ফোনটা বের করলো নিশান।ফোনটা বের করে কি যেন চেক করলো,তারপর মুখটা কালো করে আবার পকেটে ঢোকালো।বিরক্তি তে একবার মুখ দিয়ে 'ধুর' শব্দ টা বেরিয়ে গেল।কি যে করে মেয়েটা! সেই কোন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসেনজারে 'গুড মর্নিং' লিখে পাঠালাম, এখনোও তার কোনো রিপ্লাই নেই।মনে মনে কথা গুলো বলল নিশান।

এখন সকাল সাড়ে ন'টা।দ্রুতো গতিতে বাস ছুটছে হাইওয়ের উপর দিয়ে।বাসের ঠিক জানালার পাশে বসে আছে নিশান।পাশেই অদিতি একমনে খবরের কাগজের শিরোনামে চোখ বোলাচ্ছে।দুজনরই গন্তব্য কোলাঘাট।বছর খানেক হল কোলাঘাট রেল স্টেশনে চাকরী করে দু'জন।সেই থেকেই তারা বাসের নিত্য সঙ্গী।খবরের কাগজ বন্ধ করে, অদিতি বলল,-"কি ব্যাপার রে নিশান?সেই থেকে ফোনটা পকেট থেকে বের করছিস আর ঢোকাচ্ছিস?তোদের হয়েছে এই এক জ্বালা, সারক্ষন ফোন নিয়ে ঘুটুর ঘুটুর করা।আজ কাল বড্ড আনমনা দেখছি তোকে।বাসস্ট্যান্ডে গুডমর্নিং বললাম,কিন্তু কোনো পাত্তাই দিলি না,ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়লি।"

-"তুই কি বুঝবি হে প্রেমের ব্যাপার?প্রেম করলে বুঝতে পারতিস, ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে সকাল বেলা,একটা গুডমর্নিং মেসেজ পেতে কত ভাল লাগে!"
-"প্রেমে পড়েছিস!" চোখ বড় করলো অদিতি।
-"হু।"
-"কার প্রেমে? কবে?"
-"অবকোর্স একটা মেয়ের। নাম দিশা রয়।মাসখানেক হল।তোর কথাও বলেছি তাকে।কি মিষ্টি কথা বলে রে মেয়েটা!"
-"আমার কথা! কই দেখা দেখা মেয়েটার ছবি!"
-"আমি ওর ছবি দেখে প্রেমে পড়িনি।ওর কথা শুনে প্রেমে পড়ে গেছি।"
নাক সিঁটকালো অদিতি।-"ওহ! এই করেই মরিস তোরা।দেখা নেই,শোনা নেই দুম করে প্রেমে পড়ে গেলি?যদি ছেলে হয় ওটা ?"
-"দুম করেই প্রেমে পড়ে সবাই।ছেলে হতেই বা যাবে কেন? আর আমি অত বোকা নই।"


জানালা দিয়ে বাইরে আনমনা হয়ে গেল নিশান।আরেকবার পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই,দিশার মেসেজ পেল।ঠোঁটের ফাঁকে হাসি ফুটিয়ে লিখলো,-" দিশা,তোমার একটা ছবি দাও তো।যে বান্ধবীর কথাটা বলেছিলাম না তোমাকে,সে দেখতে চাইছে।"
"ওয়েট।"ওপার থেকে মেসেজ এল।


দু'মিনিট পর মেসেজে দিশার ছবি আসতেই, হাইভোল্টেজ শক খেলো নিশান।অদিতি কে ডেকে সেই ছবি দেখানোর সাহস হল না।তার দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে অদিতি।ভুরু নাচাচ্ছে।সত্যিই সে একটা বোকা পাঁঠা।বাস এখন রুপনারায়ণ নদীর উপর দিয়ে ছুটছে।নিশানের ইচ্ছে করলো, আনন্দে বাস থেকে নদীর জলে লাফিয়ে পড়তে।
স্বদেশ কুমার গায়েন ( নভেম্বর, ২০১৬)

Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা