Skip to main content

|| অন্যরকম প্রেমের গল্প || ছোট গল্প ||~স্বদেশ কুমার গায়েন




সকাল ন’টায় ঘুম থেকে উঠে দক্ষিনের জানালা টা খুলতেই মেয়েটিকে দেখতে পেল। সামনের দোতলা বাড়ির ছাদে। বুকের উপর একটা ভেজা গামছা জড়ানো, হয়তো সবে মাত্র স্নান সেরে নিজের ভেজা পোষাক গুলো রোদে মেলতে উঠেছে। ছাদের কার্নিসের জন্য কোমর থেকে নিচের দিক দেখা যাচ্ছে না। পোষাক গুলো রোদে মেলা হয়ে গেলে, এবার বুকের উপর থেকে গামছা টা নামিয়ে ভেজা চুল গুলোর থেকে জল গুলো ঝাড়তে লাগল। মেয়েটি এখন মাথাটা নীচু করে নীচের দিকে ঝুকে আছে। বুকের খাঁজ টা স্পর্ষ্ট দেখা যাচ্ছে।
জানালার রড টা কাঁপা হাতে সজোরে চেপে ধরল অভীক। থুথনি টা,একটা রডের উপর রাখা। তার চোখ দুটো মেয়েটার বুকের দিকে নেই, কুচকুচে কালো চুলে ঢাকা টুকটুকে ফর্সা মুখটিকে দেখার চেষ্টা করছে সে। মেয়েটি মুখের উপর থেকে এক ঝটকায় চুল গুলো কাঁধের উপর ফেলল।হেমন্তের শেষের ভোরের শিশির ভেজা ঘাসের মতো চকচক করছে মুখটি। স্নান করে ওঠার পর মনে হয় মেয়েদের সবথেকে সুন্দর দেখায়। মনে মনে সেটা ভাবার চোষ্টা করল অভীক। কে এই মেয়েটি?

একাদশ শ্রেনীতে পড়ে অভীক। সায়েন্সের স্টুডেন্ট।প্রেম করার সময় সময় তার নেই। রাত জেগে নিউটন, আইনস্টাইন ,রাদারফোর্ড, আর মাদারকুরি নিয়ে ভাবতে ভাবতে,কোনো মেয়েকে নিয়েই ভাবার সময় তার হয় না। কিন্তু আজ সকালে যেন তার মন টা কেমন ভাললাগায় ভরে উঠল।মেয়েটি ছাদ থেকে নেমে গেছে অনেক আগেই। এখনো জানালার রড ধরে একদৃষ্টে সেই দিকে তাকিয়ে আছে অভীক।

কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে তোয়ালে টা গলায় জড়িয়ে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলো অভীক। স্নান করলো। তারপর ব্যাগ নিয়ে স্কুলের দিকে রওনা হল।বিকেলে স্কুল ছুটি হতেই আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলো অভীক। স্কুল থেকে ফিরে আজ আর ফিজিক্সের প্রাকটিক্যাল খাতা নিয়ে বসল না। জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মেয়েটি কি ছাদে আসবে?

পাশের ওই বাড়িটি রমেন দাশগুপ্তর। এমনিতেই রমেন কাকুর বাড়ি যেতে অভীকের কোনো অসুবিধা নেই। ওনার ছেলে বুবাই তার ছোটোবেলার বন্ধু। একই ক্লাসে দুজন পড়ে।তবে বুবাই আর্টস অর্থাৎ কলা বিভাগের ছাত্র। একবার বুবাইদের বাড়িতে গিয়ে মেয়েটিকে দেখে আসতে খুব ইচ্ছে করল অভীকের।

তিন দিন পর বুবাই এর জন্মদিনের পার্টি। তাদের বাড়ির সবাইকে নিমন্ত্রন করেছে। সেজে গুজে হিরোর মতো এন্ট্রি নিল অভীক। তার চোখ দু'টো সারা বাড়িটার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে মেয়েটি কে দেখার জন্য। কোথায় গেল মেয়েটি!
তারপর হঠাৎ চোখে পড়লো সেই কোমল লতা। আসমানি রঙের শাড়িতে জড়িয়ে আছে সেই লতা। ধড়াস করে উঠল অভীকের বুকের ভেতর টা। হাতের ইশারায় বুবাই কে কাছে ডাকলো।  মেয়েটিকে দেখিয়ে জিজ্ঞেসা করল,
— "ওই মেয়েটি কে রে?"
- "আরে! আমার দিদি, মামার মেয়ে। এখানকার কলেজে ভর্তি হয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকেই পড়াশুনা করবে।" হেসে বলল বুবাই।
ভেতর থেকে কেউ যেন সজোরে থাপ্পড় কষালো
অভীকের গালে।ভ্যাবাচাকা খেয়ে তাকিয়ে রইল, মেয়েটির দিকে।
- "ওই চল,দিদির সাথে তোর পরিচয় করে দিই।"
বুবাই জোর করে হাত ধরে টেনে নিয়ে অভীকের।—" এই দি , আমার বন্ধু অভীক।"
- "হাই! অভীক!....আমি তানিয়া ।"
কাঁপা কাঁপা হাতে তানিয়ার হাতে হাত রাখল অভীক।—"হ্যালো! তানিয়া দি।"
খুব কষ্ট করে যেন 'তানিয়া দি' কথাটা উচ্চারন করল।

রাতে ঘরে ফিরে মনটা খারাপ হয়ে গেল অভীকের।— শালা! এতদিন পর, একটা মেয়েকে পছন্দ হল,তাও আবার বয়সে দু'বছরের বড়! টেবিলের ড্রয়ার থেকে কভার ফাইল টা বের করে বার্থ সার্টিফিকেট ভাল করে দেখল অভীক। না! ঠিকই আছে। কোনো ভুল নেই। এবার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল বাবা মায়ের উপর।- আর দু'বছর আগে জন্মালে কি এমন ক্ষতি হত!
সারা রাত অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারল না অভীক। বার বার সেই যেন শিশির ধোয়া মুখ চোখের সামনে ভাসছে। —দু'ছরের বড় তো কি হয়েছে? শচীন তেন্ডুলকরের বউ তো তার থেকে পাঁচ বছরের বড়, তাতে কি এমন ক্ষতি হয়েছে? আরও কতো হাজার এমন উদারন আছে। আর, এতো মাত্র দু'বছর! ভালোবাসায়, সন্মানটাই হল আসল। বয়েস টা কোনো ব্যাপারই না।- মনে মনে এমন সব যুক্তি এনে নিজেকে একটু সান্ত্বনা দিল অভীক।
সকালে ফেসবুক খুলে তানিয়া নাম লিখে সার্চ করল। প্রোফাইল পিকচার টা দেখেই চিনতে পারল। রিলেসান স্টেটাস টা সিঙ্গেল দেখে একটু শান্তি পেল অভীক। ভয়ে ভয়ে অ্যাড ফ্রেন্ডের উপর ক্লিক করতেই দু' মিনিট কাটিয়ে দিল সে। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে জানালা টা খুলে একটা চেয়ার নিয়ে বসল। ঘর থেকে বুবাইদের ছাদ টা পরিষ্কার দেখা যায়। ফোন টা খুলে ফেসবুক টা অন করতেই, চমকে উঠল। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট টা অ্যাকসেপ্ট করেছে তানিয়া দি। আরেকটু হলেই আনন্দে লাফিয়ে চেয়ার থেকে পড়ে যেত অভীক। সামলে নিল নিজেকে।
বিকেলেরর হলুদ মেঘ,আস্তে আস্তে যেন সিঁদুরে লাল হচ্ছে। অভীকের জানালা দিয়ে শুধু উঁচু উঁচু কংক্রিটের দালান বাড়ি গুলো দেখা যায়। হঠাৎ দেখল,তার জানালার সোজা সুজি ছাদের কার্নিসে দাঁড়িয়ে আছে তানিয়া দি। অভীকের চোখের পলক পড়ছে না। একভাবে তাকিয়ে আছে তানিয়া দির দিকে। হঠাৎ চোখাচোখি হতেই, অভীক চোখটা সরিয়ে নিল। ঠিক ত্রিশ সেকেন্ড পর আবার তাকাল। তানিয়া এখনো তাকিয়ে আছে অভীকের দিকে। এবারেও চোখে চোখ রাখতে পারল না অভীক। তার লজ্জা করছে যেন। আবার ঠিক ঘড়ি ধরে এক মিনিট চল্লিশ সেকেন্ডের মাথায় তাকাল। সেই একই ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে তানিয়া।মনে হল মুচকি মুচকি হাসছে। অভীকের হৃদস্পন্দন টা বাড়তে শুরু করেছে, পা টা মনে হয় কাঁপছে। তবুও যেন কেমন একটা ভাল লাগা অনুভুতি হচ্ছে মনের মধ্যে। নিউটন, রাদারফোর্ড, ডালটন আর ভাল লাগছে না অভীকের।

রাতে খেয়েই পড়ার বুক গুলো বন্ধ করে ফোনটা নিয়ে শুয়ে পড়ল। ফেসবুক অন করল।
- তানিয়া দি অন লাইন!
ভয়ে ভয়ে,  "হাই! তানিয়া দি" লিখে পাঠল অভীক। সঙ্গে সঙ্গে ওপার থেকে রিপ্লাই এল,- "হাই! অভীক।"
মনটা যেন ঝুড়িয়ে গেল অভীকের।
- "কি করছ?"
-" এই তো, তোর সাথে কথা বলছি।তুই?"
— "আমি ও তো, তোমার সাথেই কথা বলছি।"
- "হা হা হা। শুধু আমার সাথে? না,স্পেশাল কেউ আছে?"
-" ধুত! কি যে বলো না! আমার ও সব নেই।"
— "ভাল। এই তুই বিকালে ওভাবে জানালা দিয়ে আমার দিকে ওভাবে দেখছিলি কেন?"
চমকে উঠল অভীক।বুকের ভেতর টা ধড়ফড় করে উঠলো।কাঁপা কাঁপা হাতে খস খস শব্দ করে লিখলো- "কই না তো! তুমিই তো আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে।"
- "হ্যাঁ।সে তো তাকিয়ে ছিলাম। তোকে দেখছিলাম তো।
শুধু বুক নয় এবার অভীকের হাত, পা কাঁপা আবার শুরু হয়ে গেল।
- "কেন দেখছিলে?"
- "তোকে ভাল লাগছিল তাই, দেখছিলাম।"
মনে হল বুকের মধ্যে কারা যেন পূজোর ঢাক বাজাতে শুরু করেছে।কি লিখে পাঠাবে, অভীক ভেবে পেল না। সারাটা শরীর যেন উত্তেজনায় কাঁপছে। রক্ত যেন টেউ খেলছে শিরা-উপশিরার মধ্যে।
- "কি রে! চুপ করে আছিস?" ওপার থেকে প্রশ্ন এল।
— "তুমি ঘুমাবে না?"
- "তুই গুড নাইট না বললে কি করে ঘুমাবো?"
টেনসনে নয়, আনন্দে হার্টফেল হওয়ার অবস্থা হল অভীকের। রাত দুটোর সময় শেষ ম্যাসেজ টা টাইপ করল সে,- "গুড নাইট, তানিয়া দি।"
এত ভাল ঘুম রাতে কনোদিন ঘুমাই নি অভীক। সকাল বেলা জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়তেই ঘুমটা ভেঙে গেল । ধড় ফড় করে খাটের উপর বসে পড়ল সে। কাল রাতের তানিয়া দির কথাটা এখনো তার মাথায় ঘুরছে। ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল অভীক।—না! খুব একটা খারাপ দেখতে সে নয়। স্বাস্থ্য ও ভাল,তানিয়াদির সমান সে লম্বা। দিনের পর দিন যেন তানিয়াদি কে বেশীকরে ভালবেসে ফেলছে সে।তার সাথে কথাবার্তা, চ্যাটিং এ কেমন যেন একটা তীব্র ভালবাসার গন্ধ পায় অভীক। এত রাত জেগে তার সাথে কথা বলে...! কোনো দিন ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কানে ফোন নিয়ে কথা বলতেও দেখিনি তানিয়া দিকে , সুতারং বয়ফ্রেন্ডও থাকার কথা নয়।এর মধ্যে কতবার বুবাইদের বাড়িতে গেছে অভীক। একটা রহস্যময় হাসি মুখে তার দিকে যেন তাকিয়ে থাকে সে। মনের মধ্যে একটা অস্বস্তি হয় অভীকের। না! আর পারছে সে,এই যন্ত্রনা নিতে। কথাটা তাকে বলতেই হবে।
রাতে চ্যাটিং এর সময়, সাহস করে কথাটা বলার চেষ্টা করল অভীক। কিন্তু টাইপ করতে গিয়েও আঙুল থেমে যায়। তবুও অনেক কষ্টে লেখে,- "তানিয়া দি! তোমার সাথে একটা কথা ছিল?"
— "বল! কি কথা?"
অভীকের হাত টা আবার থেমে যায়।না! থাক, যদি খারাপ ভাবে? আর কোনোদিন কথা না বলে?
—" কিছু না। এমনি।" লিখলো অভীক।
- "বল না! কেন তোর লজ্জা না, ভয় করছে?"
-" ধেত! কিছু না।"
- "আচ্ছা! বাদ দে, । শোন না, কাল আমার সাথে ঘুরতে যাবি, বুবাই টার না শরীর ঠিক নেই।"
- "কোথায় ঘুরতে যাবে?"
- "ওই যে পার্ক টা আছে,ওখানে।"
এই গ্রীষ্ম কালের মধ্যেও, অভীকের মনের মধ্যে যেন বসন্তের কোকিল ডাকতে শুরু করে দিয়েছে।- "ও.কে। কাল যাব।"

সকাল থেকেই মনের ভেতর কেমন কেমন হচ্ছে অভীকের। কখন বিকেল হবে? অবশেষে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল।
পার্কটা বেশ বড়। বাচ্চা থেকে বড় রা সবাই ঘুরতে আসে এখানে। একটা বড় দিঘির মতো পুকুর আছে পার্কটির ভেতর। পাশ দিয়ে সারি সারি বেঞ্চ পাতা বসার জন্যে। পরিষ্কার জলে কত গুলো ছোটো ছোটো বোট রাখা, জলে উপর ঘুরে বেড়ানোর জন্য। চারি পাশে মেহগনি, আম, বট ,অশ্বত্থ ইত্যাদি অনেক রকমের গাছ সারি সারি। স্কুটি টা একপাশে পার্ক করে ওরা দুজন পার্কে ঢুকল। পুকুরের পাশে একটা বেঞ্চে বসল তানিয়া। পাশের মোটা আমগাছটিতে হেলান দিয়ে জলের মধ্যে খোয়া ছুড়তে লাগল অভীক।
-" কি রে! ঘুরতে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবি? আমার পাশে এসে বোস।"
অভীক চোখ রাখল তানিয়ার দিকে। ধীরে ধীরে পাশে গিয়ে বসল।
- "এবার বল, কাল রাতে কি বলবি বলছিলি?"
-" আরে ! কিছু না গো।"
- "ওই! বলবি? না, কান টানবো?"
- "থাক,না। তুমি রাগ করবে।"
—" কিছু করব না। তুই বল।"
একটা আবেগঘন চোখে তানিয়ার দিকে তাকাল অভীক।বলল,— "তানিয়া দি! তোমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি।"
হেসে উঠল তানিয়া।— "ওহ! আমিও তো তোকে ভালবাসি।"
— "মজা করছো!"
—" একদম না । তোকে সত্যি সত্যি ভালোবাসি।"
- "ও বুঝেছি! ভাইয়ের মতো ভালবাস, তো?"
একটা দুষ্টু চোখে অভীকের দিকে তাকালো তানিয়া,— "না। বয়ফ্রেন্ড কে যেমন ভালবাসে তেমন।"
অভীকের হৃদপিন্ড টা যেন পিং পং বলের মতো লাফাচ্ছে- "সত্যি ভালোবাসো!আমি তো বিশ্বাস করতে পারছি না।"
তানিয়া একবার চারিদিকে তাকিয়ে নেয়। তারপর আস্তে আস্তে বলে,- "ওহ! তাহলে, চুমু-টুমু দিতে হবে নাকি?"
- "নাহ।"
— "তবে জড়িয়ে ধরতে হবে?"
—"আরে,না।"
— "ওই! তবে তোর কি অন্য প্লান আছে নাকি?"
দুষ্ট চোখে অভীকে দিকে তাকালো তানিয়া।
— "কি যে বলো না,উলটো পালটা!"
— "তবে?"
— "শুধু তুমি আমার হাত টা ধরে রাখ,আমি তোমার কাঁধে মাথা রাখব।"
সন্ধ্যা নেমে গেছে। দিঘির জল টা এখন কালো রঙের হয়ে এসেছে। পাশাপাশি বসে আছে ওরা দুজন। তানিয়ার কাঁধে,অভীকের মাথা। দিঘির ওপারে,বড় বড় গাছগুলি থেকে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরা পাখিদের কিচিমিচি আওয়াজ ভেসে আসে শুধু।

স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১৫]

বৃষ্টির পরে' কবিতাটি পড়তে লেখাটির উপরে ক্লিক করুন।


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা