Skip to main content

||দুটি কবিতা ||~স্বদেশ কুমার গায়েন

কবিতার গল্প 

 একটা কবিতা লিখব।
কিন্তু তার গল্প কি হবে?
কবিতার আবার গল্প হয় নাকি?
কেন হবে না!
একটি ছেলের গল্প,
একটি মেয়ের গল্প
তাদের ভালবাসার গল্প;
আর, একটু একটু করে সেই ভালবাসা ....
হারিয়ে যাওয়ার গল্প।

ও তোমার কবিতা শুধু ভালবাসার?
আমাদের নিয়ে লিখতে পার না?
অসহায় মেয়েদের গল্প।
একট শুনশান রাতের রাস্তায়…
একদল নরপিসাচ যাদের শরীরটাকে নিয়ে
খেলেছিল রাগবি বল;
তারপর ছুঁড়ে ফেলেছিল পচা নর্দমার কালো জলে অথবা,উন্মুক্ত রাস্তার কোলে...
আমরা বুঝি তোমার কেউ না?
সবাই নষ্ট মেয়ে!
হাত দিয়ে থামাতে যাই পাথরের নিরব কান্না।


হাতটা ধরে কেউ টানে,
পিছনে তাকাই......
একদল বিবস্ত্র কচি কচি শিশুদের মুখ।
ভাঙা দাঁতের খিল খিল হাসি ,প্রশ্নের তির হয়ে বেঁধে আমার বুকে।
আমরা কি তোমাদের মতো জন্মায় নি?
তবে,কোলে তুলে নাও না কেন?
তোমার কবিতা কি শুধু.....
বরফের দেশের পেঙ্গুইন পাখি? আর,
নীল সাগরের ডলপিনে ঝাঁক?
আমরাও কবিতা হব,
ফুটপাতের কবিতা; স্টেশনের রাতের নিয়ন আলোর কবিতা।
আমরা বুঝি তোমার কেউ না?
ফুটপাতে ফেলে দেওয়া কলা, লেবু, পেয়ারার খোসা....আর বাসি পোড়া রুটি.......
একটা অসহ্য যন্ত্রনা আমার চামড়া ছিঁড়ে
রক্তে প্রবেশ করে.....
শূন্যতাকে দুহাতে আঁকড়ে ধরে চিৎকার করে উঠি......
তোমরা সবাই আমার
সবাই আমার কবিতা
আমার কবিতার গল্প।
~


অপেক্ষা


ঐ যে দূরে নদীর ওপারে,
সূর্য টা যেন মিশে যায় একটু একটু করে
নীল জলরাশির মধ্যে;
ছোটো ছোটো পাখিদের দল
কিচিমিচি শব্দে আবির রাঙা আকাশ দিয়ে উড়ে যায় তাদের বাসার দিকে
বুঝিয়ে দেয়,দিনের শেষে তারাও
ক্লান্ত....

শুধু ক্লান্ত নই আমি।

একাকী নদীর পাড়ে আজও বসে আছি
তোমার অপেক্ষায়....।
যদি একদিন তুমি পাখি হয়ে উড়ে আস
আমার কাছে,মেঘ হয়ে ভেসে
বেড়াও আমার মাথার উপরে;
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড় আমার তৃষ্মার্ত
বুকে…।

নিস্তব্দ ,নিঝুম চারিদিক
শুধু নদীর জলতরঙ্গের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ,
যেন তোমার পায়ের নুপুর হয়ে আমার
কানে বাজে………।
দখিনা বাতাস ভাসিয়ে নিয়ে যায়
তোমার স্বপ্নের জগতে-
যেখানে নেই কোনো হিংসা,
যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ;
শুধু আছে ভালবাসা....

আর আমি আছি তোমার অপেক্ষায়……।।

স্বদেশ কুমার গায়েন [২০১০]




Comments

Popular posts from this blog

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

একটি ছোটগল্প " হট প্যান্ট "

গল্পটি সম্পর্কে  : মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমার প্রিয় লেখক দের লেখা থেকে অনুপ্রানিত হয়ে লিখতে।এ গল্পটিও তেমনি আমার প্রিয় লেখক প্রচেত গুপ্তের একটি গল্প থেকে অনুপ্রানিত।শুধু অনুপ্রানিত বলবো না, অনেকাংশে প্লটের মিল আছে।তবে গল্পের থিম বা, বিষয় বস্তু সম্পুর্ন আলাদা। তাই ওনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখাটা লিখলাম। গল্প পড়ূয়া ফেসবুক পেজ ঃ  http://www.facebook.com/golpoporuya (১) বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিরি গরম পড়েছে। ভ্যাপসা গরম।দিনের বেলা যে খুব সূর্যের তাপ, সেরকম কোনো ব্যাপার নয়।তবুও হাঁসফাঁস করে দিন কাটাতে হচ্ছে।বৈশাখের শেষ। আম– কাঁঠাল পাকার পরিবর্তে পচে যাবে বেশি।বৃষ্টি আসতে এখনও অনেক দেরি।এবছর বৃষ্টি আসবেও কিনা,তাতেও সন্দেহ আছে।বাংলার আবহাওয়া বর্তমান অবস্থা,এমন হাস্যকর যে, কোনো কিছুই সঠিক ভাবে বলতে পারেন না আবহাওয়া দপ্তর। রাত দশটা বেজে গেছে।গরম কালে এটা কোনো ব্যাপার নয়।বিশেষত শহরের দিকে তো এটা অনেকটা সন্ধ্যা নামার মতো ব্যাপার।ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানটা বন বন করে ঘুরছে।একটা টেবিল ফ্যান ও আছে কিন্তু তাতেও গরম কাটছে না।টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে রমেন বাবু, একটা ধুতি পরে খালি গায়ে বসে স্কুলের খাতা