Skip to main content

Posts

Showing posts from March, 2017

|| রেইন || ছোটগল্প || স্বদেশ কুমার গায়েন ||

(১) -"দেখিস,আজ বিকেলের এই বৃষ্টিই বলে দেবে,আমরা পরষ্পর কে ভালোবাসি কিনা!" কথাটা বলে অহনা রাস্তার উপর ছুটে যায়।ঝম ঝম শব্দে বৃষ্টি নেমেছে।কালো পিচ রাস্তার উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে যেন ফোয়ারা তৈরী হচ্ছে। আমি বোকার মতো এক মুহুর্ত বসে থাকি।বৃষ্টি কি করে বলে দিতে পারে......! গল্পটি একটু আগে থেকে শুরু করি। তখন আকাশ পরিষ্কার ছিল।এরকম বৃষ্টি নামতে পারে, আমরা কেউ কেউ কল্পনা করতে পারিনি।তবে কয়েকদিন ধরে বেশ দাবদাহ চলছে।এই বৃষ্টিটাই তার কারন।দু'জন রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছি। -"আমরা পরষ্পর কে সত্যিই ভালোবাসি তো?" অহনা কপালের উপর থেকে চুল গুলো সরিয়ে বলে। মাথার উপর গনগনে রোদ।আমি কুলপিবরফ খাচ্ছিলাম।মন্দ লাগছিল না।অহনার কথা শুনে আমার মুখের ভেতর মট করে ভেঙে গেল সেটা। অর্ধেক টা মুখের ভেতর আর বাকি টা বাইরে বের করে আনি।হাঁ করে অহনার দিকে তাকিয়ে থাকি।কথা বলতে পারি না।আমাদের সম্পর্কের এক বছর হতে চলল প্রায়।আর এখন এসে এরকম একটা কথা শুনতে হল!এর আগে আমি কালা হয়ে যায় নি কেন? -"ডাইনোসরাসের মতো ওরকম বড় হাঁ করে আছিস কেন?"অহনা মুখ বেঁকিয়ে,চোখ গুলো বড় বড় করে বলে। অহনার হাতেও একটা

|| রতন মিস্ত্রীর গল্প || ছোটগল্প ||~স্বদেশ কুমার গায়েন

(১) রতন এ'পাড়ার ইলেক্ট্রিসিয়ান। কালো,ছিপছিপে চেহারা। পাঁচ ফুট, আট ইঞ্চির কাছাকাছি লম্বা। পাতলা চেহারার জন্যে আরও বেশি লম্বা দেখায় তাকে। ডান গালে একটা ছোটো কাটা দাগ আছে। ছোটোবেলায় পোলিও রোগ হওয়ার কারনে,ডান হাতের তুলনায় বাঁহাত টা একটু সরু। লিকলিকে ধরনের। বয়স প্রায় সাতাশের কাছাকাছি। পোড় খাওয়া ইলেক্ট্রিসিয়ান বলতে যেটা বোঝায়, রতন ঠিক সেরকম।এত পড়াশুনা জানা,সার্টিফিকেট ধারি নতুন ছেলে এ লাইনে এলো,গেলো কিন্তু রতনের সার্ভার কেউ ডাউন করতে পারলো না।একই গতিতে স্পীড দিয়ে চলেছে। বরং তারা নিজেরাই তল্পি তল্পা গুটিয়ে পালিয়েছে। যত বড় বাড়ি হোক না কেন,ঘরের ওয়্যারিং,আলো,ফ্যান লাগাতে গেলেই সবার আগে রতন মিস্ত্রীর ডাক পড়ে। আরে বাবা, অভিজ্ঞাতার একটা দাম আছে তো! পনেরো বছর এ লাইনে কাজ করছে সে।সেই এইট পাশ করার পর থেকে আর পড়াশোনা করা হয়নি তার। বাবা অ্যাক্সিডেন্টে প্যারালাইসিস হয়ে গেল। পুরোপুরিভাবে কর্মক্ষম হয়ে পড়ল। মা ও আর পেরে ওঠে না। চোখেও কম দেখে।বয়েস টা তো বাড়ছে,তাই কাজ করতে গিয়ে হাঁফিয়ে ওঠে।শেষ মেষ পড়াশুনা ছেড়ে,পাড়ার রবিন দা কে ধরা করা করে এই ইলেক্ট্রিক লাইনে ঢুকে পড়ল। প্রথম প্রথম রবিন দার  হেল্পার

মৃণাল সরকারের কবিতা গুচ্ছ

কবিতা ১২ অনেক লিখলাম অনেক পড়লাম শান্তি চাই এবার জগৎ তুমি কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছ বারবার আবেগ তুমি দূরেই থাকো তোমার কাছে আসাটা ছোঁয়াচে তোমার জন্য অনেকবার অনেককিছু হয়েছে জানলার ফাঁকের আলোগুলো ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে রক্তের শরীরকে পুড়িয়ে পাথর করে দিয়েছে নিস্তব্ধ আগুনে ঝলসে গেছে অনেক স্মৃতি চোখ ছেড়েছে অনেক জল তবু সেই সন্ধেবেলাটা এখনও আমার সম্বল জলপড়া এখন বন্ধ শক্ত হয়েছে মন সে বৃষ্টি আর আসে না শুধু মেঘ গর্জায় এখন পায়চারি করেছি অনেক ভেবেছি কত কিছু তবু কিছু একটা যেন ছাড়েনি আমার পিছু যখনই যেখানে গিয়েছি চলে এসেছে চিন্তা দৌড়োতে-দৌড়োতে আজকাল আমিও জানো পালাই খুব জোরে রাস্তাতে এখন আর ভাবিনা আর ভাবিনা ওসব দেখছি চিন্তা ছেড়ে জীবন হতে পারে উৎসব নেই কোনো খেয়াল আপনমনের মালিক শুধু সমুদ্র আমার নৌকো আমার জোৎস্না আমার .. কাঁপছে পুড়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো ব্যথার আঁচে বোতাম খোলা জামাটার রং ছড়ানোর ধাঁচে ছিড়ে যাওয়া চিরকুট জিন্সের পকেটে নিঃস্বাস ফেলছে প্রেমের কার্বনে জল দেওয়ার নাম করে অক্সিজেন ছড়িয়ে আর বাড়িয়েওনা দূষণ এমনিতেই অনেক বালিশ ভিজেছে সাদা খাতা ভরেছে কালি করেছে শোষণ ১৭/

মৃণাল সরকারের কবিতা গুচ্ছ

কবিতা ২৩ চলো খুঁজবো আলো সবুজতায় চলো বাঁচবো নরম শিখায় ছুঁয়ে নিবো রোদের ভাঁজে তোমার কোল অক্লান্ত বাতাস বইতেই থাকবে,বইতেই থাকবে হাঁ করে দেখবে শুধু আকাশ,সবার চোখ বন্ধ ধেয়ে আসবে নতুন আলো ছড়াবে স্নিগ্ধ গন্ধ প্রতিটা সন্ধ্যে আলো আনবে নিজে থেকে এক চাঁদ ভালোবাসা জড়িয়ে ধরবে দুজনকে ফানুস উড়বে আলোর গন্ধে ভর করে নাম লেখা থাকবে সারা শরীর জুড়ে হাজার বেলুন ভাসবে আলোর জোয়ারে প্রতিটা আলো ডাকবে দুজনের নাম ধরে! ৮/১/২০১৭ কবিতা ২৪ শেষ হচ্ছে আরেকটা বছর,সময়ের মাখামাখিতে। ঘুম-ঘুম চোখ খুঁজছে দু-চোখ,মনের পাড়াপাড়িতে। স্পর্শকাতর স্বপ্নগুলো ডাকনামের সমুদ্রে স্নান করছে পাখনাগুলো মেলে ঐ উর্দ্ধে। শিস ছেড়ে ডাক দিচ্ছে ফেলে আসা সেদিনগুলো। জানিনা কত রঙিন জড়ো করেছে আগামীগুলো! পেছনে অনেক দুঃখ ছিল,ছিল অবসাদ; সেগুলো সব মিটমিটে;আজকের এ রাত, হাতে নিয়ে সময়ের দোরগোড়া খেলেছে দেখো অবুঝ-বোঝাপড়া। চোখগুলো বন্ধ আর কানে আসছে সুর। অনুভূতি হাঁফাচ্ছে জোরে, জেগে রামধনুর এ শহরে, অজ্ঞান গোটা রাত-দুপুর। মুঠোবন্দি বিশ্বাস ছড়িয়ে সারা শরীর, আদরে সাজানো কথাদের পাহাড় লুকোনো হিম-উষ্ণ কিছু আবদার নিয়ে যাব সাথে গান রাত-পাখির। চিবুক জ