Skip to main content

মৃণাল সরকারের কবিতা গুচ্ছ

কবিতা ১

কাঁপছে পুড়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো ব্যথার আঁচে
বোতাম খোলা জামাটার রং ছড়ানোর ধাঁচে
ছিড়ে যাওয়া চিরকুট জিন্সের পকেটে
নিঃস্বাস ফেলছে প্রেমের কার্বনে
জল দেওয়ার নাম করে অক্সিজেন ছড়িয়ে
আর বাড়িয়েওনা দূষণ
এমনিতেই অনেক বালিশ ভিজেছে
সাদা খাতা ভরেছে কালি করেছে শোষণ

১৭/০৩/২০১৭


কবিতা ২

ধুলোর ফুটপাথে মানুষ চড়ে বেড়াচ্ছে
কয়েকটা মুখ হাঁ করে তাকিয়ে
কারো হাতে বার্গার কেউ বা এঁঠো কুড়োচ্ছে
কেউ ঝিনুকের স্বপ্ন দেখছে তো
কেউ নিন্দুকের কথা ভাবছে

কাঁচের মনিটর ভেদ করে জোৎস্না
ফাঁকা পেটের আর্তনাদের ফাঁদে
পড়লে গেলে তো বুঝবে যে
দাড়ি-কমা ছাড়া স্ট্যাটাস প্রেমের জন্য কাঁপছে না অন্যদিকে
অনেক চোখ হাজার আলোকেও অন্ধকার ভেবেই চিবোচ্ছে.......

১৭/০৩/২০১৭



কবিতা ৩


রং অনেক বাইরে!
মনেতে আছে তো?
জামাগুলো রং ধোয় জলে
আর মন রং হারায়ও তো জলে!

শরীরের চারপাশে উড়ছে আবির!
চাপে পড়ে যাচ্ছে পুরোনো প্রাচীর!
স্তুপ গলছে অতীত,চিঠি,গান,স্মৃতির!

এক জানলা ভেজা রোদ্দুর সেজে,
রং লাগাক সে সময় পেরিয়ে নিজে!

১২/০৩/২০১৭


কবিতা ৪

থেমে আছে মন পাথরকুচি বুকে নিয়ে
বড় আঁধার রাস্তা পেরিয়ে এসে সে ক্লান্ত
ছলছলে চোখে অনেক শ্রাবণ কাটিয়ে
বসেছে এসে পাশে সবুজ মাখানো প্রান্ত

উড়িয়ে দিবে সে আজ সব এই বয়ে যাওয়া জলে
যেগুলো অনেকবার ভাসিয়েছিলো চোখ আগলে
না আর রাখবেনা তোর স্মৃতি এবার আমি উন্মুক্ত
সাদা কাগজে থাকবেনা নাম তোর আমি সম্পৃক্ত
যথেষ্ট হয়েছি বয়ে যাওয়া সময়ের জালে
একবার তো ফিরে তাকা আছি কি হালে

আমি আর আঙ্গুল দিয়ে দিন গুনিনা
আমি আর অপেক্ষায় দিন গুনিনা
আমি আর সেই বিকেল বেলাগুলোকে ভাবিনা
হাত ধরে সূর্য ডোবা দেখা আমি আর ভাবিনা
বৃষ্টি ডেকে আনা সেই হাসি আর ভাবিনা
তোর তাকিয়ে থাকা আর ভাবিনা
সবকিছু কি তবে অহেতুক ছিল?
ভালোবাসাটা কি চিরকুট ছিল?
যে মুড়িয়ে ফেলে দিলেই সব ভুলে যাবো?
পারবনা ভুলতে শুনে রাখ যতদিন বাঁচবো!

১৫/০৩/২০১৭


কবিতা ৫

খুব করে আজ চুপ থেকেছি
ইচ্ছেরা ক্রমশঃ স্বাধীন
মনে করে কি পাপ করেছি
তোকে বল একটা দিন

আমার রাত দুপুরের রাজধানী তোর মাথার চুল
কাঁধ চুলে তোকে ছুঁতে চাওয়াটা কি খুব ভুল
একটু এলিয়ে বসে পড়ে চোখের কাছে গল্প বলে
সময় করবো পার
এটাই আমার আবদার বিশ্বাস কর পারলে গেলে

বৃষ্টিটা তোর হাত ভিজিয়েছে
মুছে দিতে দে আমায়
মন তো শুধু এটাই চেয়েছে
আবদার আকাঙ্খায়

১২:৩৯ am


কবিতা ৬

স্বপ্ন ভর্তি চোখ নিয়ে
হাজার চোখের আড়াল পেরিয়ে
ব্যাগে লুকোনো চিঠি আর
ফাঁকা পকেটের খচখচ
টালমাটাল মন গোপনে কি গর্ত খুঁড়ছে?
নাকি দেওয়ালের মতো জালের বাসায় ধুঁকছে?

১১/০৩/২০১৭


কবিতা ৭

বিস্তীর্ণ পথ জুড়ে জল অগোঝালো,
বিন্দু বিন্দু এগোনো আর নরম আলো
প্রেমের গান করে প্রান্তর নামিয়ে,
তুমি কেন শুধু বসে একা ঝিমিয়ে?

চিবুক লাল তার আর আলতা মাখা ঠোঁট,
পায়চারি করছে মন কিন্তু পদবীতেই হোঁচট!
সারাটা পথে ছড়িয়ে অনেক জলের কান্না
তার তাকিয়ে দেখায় কিযে আছে মুক্ত-পান্না?

এ পথ যায় যতদূর আমার গন্তব্য তাই
তাকিয়ে বোঝা মুশকিল প্রান্তর কোথায়!
শীত কমিয়ে বরফ আজকে জল,
রাস্তা জুড়ে বইছে অবিরাম অনর্গল।

ওটা কি গাছ? নাম জানিনা কিন্তু বেশ দারুন,
সুন্দর সেটা খুব আর প্রজাপতিরা ঘুরছে গুনগুন।
চারপাশটায় তার কি সুগন্ধ!ঝিম ধরাচ্ছে মনে,
তার কোলে আমি ভাবছি ঠোঁটে-গালে সমানে।

প্রস্তর পেরিয়ে এসে পথ,জোনাকি হয়েছে প্রেম,
এখন শুধু ঘুরে বেড়ায় আলো নিয়ে সারাক্ষন।
জমানো আছে মনে সব সন্ধ্যা আর সকাল ফ্রেম
করে আর আমি এখনো খুঁজি দেখা হওয়ার কারণ।

২৪/০২/২০১৭

কবিতা ৮


কফিমাগটা গরম ছিল,আর ছিল জানলা খোলা শীত
স্মৃতিটা তোমার মনেই ছিল আর সে ছোঁয়াটা অতীত
জিভটা আবার পুড়েই গেলো,হাসলো না আর কেউ
জ্বালাটা আজ টের পেলাম,মনে ভেজা স্মৃতির ঢেউ
আকাশটা আজকে আবার কালো,বৃষ্টি সারা দিন
ভিজতে চাওয়ার কারণের আজকে অবস্থা সঙ্গিন
চকোলেট একটা পরেই ছিল,পকেট ভর্তি আশা
তুমি একবার এসেই দেখো জমানো ভালোবাসা
গল্প জানো জমেছে অনেক,কথারা করছে চিৎকার
কানটা একবার পেতে দেখো, হৃদয় করবে স্বীকার
আজকাল আমি ব্যস্ত হলেও অভ্যস্ত আমি নই
তোমার কথা ভাবনা থেকে সরাতে
ব্যর্থ আমি নিজের কাছে।পাশ থেকে ডাক,ওই
শোন না...-শুনলাম ঘাড় ঘোরাতে!

১৬/২/১৭

কবিতা ৯

আবদার তুমি লুকিয়ে রেখো, চারপাশটা ভয়ঙ্কর।
রামধনু এঁকোনা তুমি, বাজ পড়বে তোমার উপর।
ভালোমানুষী সরিয়ে ফেলো, খেয়ে নিবে হতাশা।
বৃষ্টিতে ভেজোনা স্বপ্ন নিয়ে, শুধু হবে জীর্ণ নেশা।

বুদ্ধির পাশা ফেলে-ফেলে এগোবে
পেছনের সিঁড়ি ভাঙতে থাকবে সময়
অতীত তোমার কাঁধ ছুঁয়ে পালাবে
তুমি শুধু ধমনী ভর্তি
আগামীকালগুলোকে ভয়ের অবক্ষয়
থেকে বাঁচিয়ে তীরবর্তী
ভবিষ্যতে পাঠিও।
একবারও কোরোনা আফসোস,
আঘাতের লাঠিও
জেনো-হারিয়ে দেয় অনন্ত বিশ্বাস!

ভুল করেছো বলে জমিয়েওনা দুঃখ মনে
আবার কিছু শিখেছো বলে। সূক্ষ্ম কোণে
তাকে দেখতে পাবে
একদিন তোমার কাছে।
অপেক্ষা তো সরবে;
সরবেই সে সময়ের ধাঁচে!

১৫/২/১৭

কবিতা ১০


রাস্তা ধরে এগিয়ে যাচ্ছি,পথে অনেক সন্ধ্যা
পাথর ভেঙে ধুলো হচ্ছে,পুড়ছে রজনীগন্ধা
ছাই হচ্ছে দেখো আবির,যুদ্ধ চলছে অনেক
মুখচাপা অভিমানের কফিনবন্দি কথাগুলো
মন খারাপের বারুদে জমেছে বেশ খানেক
কবে যে ফেটে পড়বে,ছড়াবে ধূসরিত ধুলো

একাই পথ পাড়ি দিয়ে নিরুদ্দেশের শহর,
গোপনে কান পেতেছে দুর্মুশ বালিশ,
শোনো বৃষ্টিতে ঝরা ওই পাতাগুলোর স্বর
লুকোনো মন শুধু বিনুনি
পথে আশা ছাড়িয়ে খুনি
হয়ে সর্বদা প্রেম নিয়ে করছে হদিস।

১৪/২/১৭


কবিতা ১১


যে মেঘে বৃষ্টি নেই সে কি সত্যি খুব শুষ্ক হয়?
নাকি হাজার আর্দ্রতা পেরিয়ে সে দিশাহীন হয়ে যায়?

কুণ্ঠা আর ভয়ের মেঘগুলোকে সরিয়ে দাও।
হাজার বিশ্বাস আর ভালোবাসায় জড়িয়ে নাও;
দেখবে এক মুঠো আদরও তখন শাশ্বত হয়ে যাবে।
এতো কাছে এসে যাবে যে সেগুলো তোমাকে ছাড়বেনা,
সেগুলো তোমার চিন্তাগুলোকে আর ছড়াবেনা,
ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাবে কোলে।
ঘুম তখন আসবে তোমার তার কোলে
তুমি আকাশ থেকে আলো পেড়ে সাজাবে মুহূর্ত
দিক ভুল হবে তোমার মনে,
যোগ করবে আঙ্গুল গুনে,
তারারা দেখে হাসবে মিটিমিটি আর স্বতঃস্ফূর্ত
তোমার চোখ নরম ছোঁয়ায় বন্ধ হবে বারবার
হার হবে বারবার তোমার শত খোলার চেষ্টার,
তবু তুমি হাসবে,তবু তুমি খুশীতে প্রাণ জড়িয়ে ধরবে,
শান্ত পৃথিবী নীরবতার গান ধরবে
আর তোমরা ঘুমিয়ে পড়বে…

৮/২/২০১৭

লিখেছেন মৃণাল সরকার

Comments

Popular posts from this blog

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প " পোস্টমাস্টার "

প্রথম কাজ আরম্ভ করিয়াই উলাপুর গ্রামে পোস্ট‌্মাস্টারকে আসিতে হয়। গ্রামটি অতি সামান্য। নিকটে একটি নীলকুঠি আছে, তাই কুঠির সাহেব অনেক জোগাড় করিয়া এই নূতন পোস্ট্আপিস স্থাপন করাইয়াছে। আমাদের পোস্ট‌্মাস্টার কলিকাতার ছেলে। জলের মাছকে ডাঙায় তুলিলে যেরকম হয়, এই গণ্ডগ্রামের মধ্যে আসিয়া পোস্ট‌্মাস্টারেরও সেই দশা উপস্থিত হইয়াছে। একখানি অন্ধকার আটচালার মধ্যে তাঁহার আপিস ; অদূরে একটি পানাপুকুর এবং তাহার চারি পাড়ে জঙ্গল। কুঠির গোমস্তা প্রভৃতি যে-সকল কর্মচারী আছে তাহাদের ফুরসত প্রায় নাই এবং তাহারা ভদ্রলোকের সহিত মিশিবার উপযুক্ত নহে। বিশেষত কলিকাতার ছেলে ভালো করিয়া মিশিতে জানে না। অপরিচিত স্থানে গেলে, হয় উদ্ধত নয় অপ্রতিভ হইয়া থাকে। এই কারণে স্থানীয় লোকের সহিত তাঁহার মেলামেশা হইয়া উঠে না। অথচ হাতে কাজ অধিক নাই। কখনো কখনো দুটো-একটা কবিতা লিখিতে চেষ্টা করেন। তাহাতে এমন ভাব ব্যক্ত করিয়াছেন যে, সমস্ত দিন তরুপল্লবের কম্পন এবং আকাশের মেঘ দেখিয়া জীবন বড়ো সুখে কাটিয়া যায় – কিন্তু অন্তর্যামী জানেন, যদি আরব্য উপন্যাসের কোনো দৈত্য আসিয়া এক রাত্রের মধ্যে এই শাখাপল্লব-সমেত সমস্ত গাছগুলা কাটিয়া পাকা রাস্

পুলিশ বউ~ছোট গল্প [ স্বদেশ কুমার গায়েন]

মদের শেষ পেগ টা সাবাড় করে দিয়ে বললাম, — "তোরা বুঝবি না,বউ যদি পুলিস হয় তাহলে কি সমস্যায় পড়তে হয়! মনে হয়- নিজের বাড়িতে নয়, যেন লকাপে আছি। সারক্ষন একটা ভয়ে ভয়ে থাকি।" কুরকুরের প্যাকেট টা মুখের রেখে নাড়াতে নাড়াতে সুদীপ বলল,— "ঠিক বলেছিস ভাই, তোর মধ্যে সেই সিংহ গর্জন টা আর দেখতে পাই না।মনে হয়,না খেতে পেয়ে সিংহ শুকিয়ে ইঁদুর হয়ে গেছে।" ওরা তিন জন হো হো হো করে হেসে উঠল। আমি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললাম। খালি মদের বোতল টা রাস্তার উপর আছাড় মেরে বললাম,- "সব আমার মা, বাবা আর দিদির মাস্টার প্লান। আমাকে জব্দ করতেই পুলিসের সাথে বিয়ে দিয়েছে।" পাশ থেকে রনি একটু টিপ্পনী কাটল,-" রাতে তোর বউ, গায়ে-টায়ে হাত দিতে দেয় তো?" রনির কথা শুনে হাসি পেল আমার।মনে মনে বললাম,—" তুই শালা মাল খেলেও পয়মাল, না খেলে ও পয়মাল। সব সময় অন্যের বেডরুমের কথা শুনতে ইচ্ছা করে। একমাত্র আমিই জানি বউ এর পাশে শুলে আমার হাত পা কত জোরে কাঁপে।" হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধে সাত টা বেজে গেছে। সুদীপ বলল,- "অনেক দিন পর মদ খেলি,চল তোকে এগিয়ে দিই একটু।" ওদের দিকে দু হাত জোড়ো করে বললাম

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা