Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2017

একটি প্রেমের ছোটগল্প " দার্জিলিং মেল "

(১) আমার ছোট্টো এই জীবনে প্রথমবার ঘটতে চলেছে এরকম ঘটনা।কারন,আমি এক জায়গাতে দু'বার কখনো যায়নি।তখন ভাবেনি তিন মাস পরই আমাকে আবার এই দার্জিলিং এ ফিরে আসতে হবে!কিসের টানে আবার আমি ছুটে আসছি এই শৈল শহরে?এই সবুজ পাহাড়, চা-বাগান,পাহাড়ি রাস্তা-খাদ,মেঘের ভেলা, সূর্যোদয়, কুয়াশা ঢাকা স্টেশন, এরাই কি আমাকে টেনে আনছে?সে তো বরাবরই টানে। কিন্তু সত্যিই কি সেই প্রকৃতির মনোমোহিনী রুপ-সৌন্দর্যের আকর্ষনে আমি আবার ফিরে আসছি? না,অন্যকিছু! যার রুপ,যার সৌন্দর্য,এই প্রকৃতির থেকে আরও সুন্দর। দু'পাশে নিকষ কালো অন্ধকার।মাঝে মাঝে ট্রেনের পেন্টোগ্রাফের সাথে ইলেক্ট্রিক তারের ঘর্ষনে বিদ্যুতের ঝলকানির আলো ছিটকে পড়ছে রেল লাইনের পাশের ঝোপ-ঝাঁড়ের উপর।তখন বাইরেটা আবছায়া পরিষ্কার দেখা যায়।আবার কিছুক্ষনের মধ্যে কালো হয়ে যায়।বর্ধমান স্টেশন পেরিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটছে রেল গাড়িটি।দার্জিলিং মেল।মনে হচ্ছে কোন এক উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।যার কোনো দিক নেই, সীমারেখা নেই।মাঝে মাঝে রেল গাড়ি টি তীক্ষ স্বরে হর্ন দিচ্ছে।এক অদ্ভুত সে আওয়াজ!হু হু..... হু।রাতের নির্জনতা কে ভেদ করে,ছুটে আসা এই হর্নের শব্দ আম

একটি প্রেমের গল্প " অর্ধেক গোলাপ "

(১) সুনন্দা সত্যিই আসবে? না,আমি একটা মিথ্যে আশা নিয়ে ফালতু বসে আছি।ও কেন আসবে না?অবশ্যই আসবে।ও কে আসতেই হবে।আমি সুনন্দা কে তো মন থেকে ভালোবাসি।আমি তো ও কে মন থেকে চাই।তবে কেন আসবে না?মা বলে,মন থেকে ভালবেসে কোনো কিছু চাইলে,তা পাওয়া যায়। ঈশ্বর তার ইচ্ছে পূরন করেন।তবে আমার ইচ্ছে, ঈশ্বর কেন পূরন করবেন না? পার্ক টির ভেতর একটা ছাতিম গাছ।তার নীচে বসার একটা বেঞ্চ।তিন জন বসা যায়।বিকালের সূর্যটা গাছের পিছনে।তাই সামনের দিক টা ছায়া ময়।সবুজ ঘাসের উপর রোদ পড়ে এসেছে। প্রেমিক–প্রেমিকা রা তার উপর বসে আছে। ঘাসের উপর বসে গল্প করার একটা মজাই আলাদা।আমি মাঝে মাঝে এই পার্কটিতে এসে বসি।থানার সামনে রাস্তা দিয়ে সোজা তিন মিনিট হেঁটে গেলে এই পার্ক টি পড়ে।থানার কাছাকাছি হওয়ায় জন্য পার্কটিতে খুব একটা ভিড় থাকে না।কারন এখানে 'ইন্টুমিন্টু' করার সুযোগ পাওয়া যায় না।আজ ভ্যালেন্টাইন ডে তে তবু একটু ভিড় চোখে পড়ছে।আমি হাতের ঘড়ির দিকে তাকালাম।সাড়ে চারটে বাজে। সুনন্দা কি সত্যিই আসবে না? আমি মনে মনে নিজের ভুল টা মেনে নিলাম। না,আসাটাই স্বাভাবিক।কারন সুনন্দা তো এক বার ও আসবে বলেনি।আমিও তো আমার মনের কথা শু

একটি থ্রিলার গল্প " অচেনা সেই মেয়েটি "

(১) "দাদা,এই মেয়েটিকে কোথাও দেখেছেন....?" আমি ফোনটা বের করে,স্ক্রিনে ছবিটা দেখালাম। একটা সেলফি ধরনের ছবি। -" না দাদা, মেয়েটিকে চিনি না, আগে এখানে দেখিনি তো....।" -"একটু ভাল করে দেখুন,দাদা!........গত কয়েক দিন তো এখানেই ঘুরে বেড়িয়ে ছিল।" -"না,দাদা।পারবো না।" আমার চোখ ফেটে জল এল।আমি হয়তো পাগল হয়ে যাব।আমার চুল গুলো এলোমেলো। হাওয়ায় অবিনস্ত্য।সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম আমি।সারি সারি হোটেল।এই হোটেলেই তো একদিন লাঞ্চ করেছিলাম!ভেতরে ঢুকলাম। -"দাদা, এই মেয়েটি কে দেখেছেন..?" -"কোন মেয়েটা?" আমি ফোনের স্ক্রিন টা তার আরও সামনে নিয়ে গেলাম।আঙুল দিয়ে দেখালাম,-"এই যে,এই মেয়েটা।" -"না দাদা, দেখিনি।" আমি বিরক্ত হয়ে গেলাম।গলার স্বর চড়ে গেল। -"কি বলছেন,দেখেন নি! এই হোটেলেই তো এক দিন লাঞ্চ করেছিলাম।সঙ্গে আমিও ছিলাম।" লোকটা থতমত খেয়ে গেল।বলল,-"দাদা,অনেক মেয়েই তো আসে।সবার মুখ চিনে রাখার সময় হয় না।" সেটাও ঠিক।এত মানুষের মধ্যে,একজনকে চিনে রাখাই মুসকিল। টলমল পায়ে বেরিয়ে এলাম। চোখের জল গড়িয়ে বুকে

একটি প্রেমের গল্প " অসমাপ্ত প্রেমের পাঁচ বছর পর "

(১) মাঝে মাঝে মনে হয়,জীবনে ভালবাসা কেন আসে,আর আসলেও কেনই বা চলে যায়? যদি চলে যায়,পরে কি আবার তাকে ফিরে পাওয়া যায়? হয়তো বা যায়। আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। যদিও বা পাওয়া যায়,তাকে কি নিজের করে নেওয়া যায়?সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে। এটা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে।গল্প শুরুর আগে হয়তো অনেক বকবক করে ফেললাম! আপনারা হয়তো বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যাইহোক এবার আসল গল্পটা বলি। যেদিন প্রথম কলেজে উঠলাম,সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়ে আমার পড়াশুনার বারোটা বাজানোর জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাংলা ডিপার্টমেন্টের এত ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ের মধ্যেও,সে যে আলাদা করে সবার কাছে চোখে পড়ার মত।আর দুর্ভাগ্যবশত সেটা আমার ও চোখে পড়ে গেল।সদ্য আঠেরো তে পড়েছি। মনের মধ্যে একটা শিহরন, রোমান্স,উশখুশ, ফ্যান্টাসি ভাব যে তৈরী হচ্ছিল সেটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। ওরকম দুধের মতো গায়ের রঙ, টানা–টানা চোখ,মাথার ঘন কালো চুল পিঠের মাঝ বরাবর ছড়ানো,উন্নত বুক,চিকন চেহারা দেখলে মনের ভেতর একটা ভূমিকম্প, উথাল পাথাল তরঙ্গমালা তৈরী হয়। সে যেন বন্য হরিনী! স্থির,শান্ত,মনোহরিনী তার চোখের চাহনি ভোলবার নয়।সারা শরীরে, সারাক্ষন একটা চপলতার ভা

একটি ছোটগল্প পড়ুন " ঢপের প্রেম "

আমরা চোখ গুলো বড় বড় করে বললাম, -"তারপর?" অনি হাসলো।অনির ভালো নাম অনীক পাত্র। পাঁট ফুট আট ইঞ্চির লম্বা চেহারা।রোগা-পাতলা। মাথায় কাঁটার মতো চুল।সরল সাধাসিধে ছেলে। দেখতে মোটামুটি হলেও হাব-ভাব একটু বোকা বোকা ধরনের।সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করে নেয়।সেবার যীশু মজা করেই অনি কে বলেছিল,আমাদের ক্লাসের রিম্পা,তোকে পছন্দ করে। ভালোওবাসে মনে হয়।কথাটা শোনার অনির সে কি,লাজুক লাজুক ভাব।চোখ-মুখ লাল হয়ে গেল লজ্জায়।তার কিছুদিন পর অনি নিজেই,রিম্পার কাছে সেটা শুনতে গেল। বুঝতেই পারছেন, ব্যাপার টা কি ঘটতে পারে! রিম্পা একটা টর্নেডো তে পরিনত হল।আর সেই ঝড়ে অনি উড়ে এসে পড়ল আমাদের কাছে। আমি বললাম,-" তোর কি কোনো বুদ্ধি-সুদ্ধি নেই? রিম্পার,জ্যান্ত টমক্রুজের মতো একটা বয়ফ্রেন্ড থাকতে,তোকে আবার ভালোবাসতে যাবে কোন দু:খে?" এই হল অনীক পাত্র।এরকম আরও বোকামোর নিদর্শন আছে ওর। আমাদের বড় বড় চোখ গুলোর দিকে তাকিয়ে অনি বলল,-"তারপর আর কি! চারিদিকে অন্ধকার।আমি হিসু থামিয়ে,প্যান্টের চেন টেনে শব্দটা অনুসরন করে এদিক-ওদিক তাকালাম..। মাঝখানে তাল কাটলাম আমি।বললাম,-"সেদিন তোর হাতে তো টর্চ লাইট ছ

একটি ভৌতিক ছোটগল্প " জেমস "

(১) আমার পাশের দোতলা বাড়িতেই থাকেন সুনন্দ বাবু।সুনন্দ রায় চৌধুরী।নিপাট বাঙালি ভদ্রলোক। চেহারা, কথা-বার্তায়, হাঁটা-চলায় সবসময় একধরনের আভিজাত্য চোখে পড়ে। ছ'ফুটের মতো উচ্চতা।চওড়া কাঁধ,পেশি বহুল চেহারা।গায়ের রং নাতিফর্সা।মাথায় দু'ধারে, আর পিছনের দিকটাতে হালকা সাদা চুল।আর উপরটিতে টাক।চকচকে।বয়েস আশির কাছাকাছি।বয়েসের ভারে চামড়া একটু ঝুলে পড়েছে, আর তার উপর শিরার রেখা স্পর্ষ্ট। হাতে পায়ের আঙুল গুলো বেশ লম্বা লম্বা।চোখে সবসময় সাদা কাচের,মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। এই হল মোটামুটি সুনন্দবাবুর চেহারার বর্ননা। সুনন্দ বাবু মিলিটারি বিভাগে চাকরী করতেন। এক সময় যে সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন, সেটা তার বর্তমান চেহারা দেখলে কিছুটা আন্দাজ করা যায় কাশ্মীর, বাংলাদেশ, মায়ানমার, চীন,সব সীমান্তেই কাজ করেছেন। তবে চাকরী জীবনের সব থেকে বেশি কাটিয়েছেন কাশ্মীর সীমান্তে।এসব গল্প আমার তার কাছেই শোনা।সুনন্দ বাবু একা মানুষ।এত বড় দোতলা বাড়িতে এখন তিনি একাই থাকেন। সঙ্গী বলতে তার একমাত্র প্রিয় কুকুর জেমস। তিন বছর হল সুনন্দ বাবুর স্ত্রী মারা গেছেন।স্ত্রী মারা যাওয়ার পর,তিনি যে খুব শক পেয়েছিলেন সেটা আমি বেশ বু

একটি প্রেমের গল্প " অবন্তিকা "

সবাই কে 'গল্পপড়ুয়া'র তরফ থেকে বইমেলার অনেক শুভেচ্ছা রইল।আপনাদের ভালোবাসায় আমার প্রথম প্রকাশিত বই 'যদি তোমার প্রেমের গল্প এমন হয়'   পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলায়। অন্নপূর্ণা প্রকাশনী, ৩৬১ নং স্টল। (১) অবন্তিকা মেয়েটির নাম।পুরো নাম অবন্তিকা সেনগুপ্ত।বন্ধু–বান্ধব,অফিসের স্টাফ রা, আত্মীয়,স্বজন সবাই অবন্তিকা'র 'কা' অক্ষর টি কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছে।ছোটো করে সবাই অবন্তি বলে ডাকে।বয়েস পঁচিশের কাছাকাছি। খুব ফর্সা না হলেও,কালো নয়। ছিপছিপে, পাতলা গড়ন হলেও,তাকে রোগা বলা যায় না। চোখে মুখে একটা বুদ্ধিমত্তার ছাপ স্পষ্ট।দেখা গেছে,স্লিম ফিগারের মেয়েরা,অন্যদের তুলনায় একটু বেশী বুদ্ধিমান হয়।গোলগাল মুখের উপর, এক টুকরো কালো চুল যখন হাওয়ায় উড়ে এসে পড়ে তখন মুখশ্রী টা সদ্য ফোটা কমল এরমতো সুন্দর লাগে।আমার গল্পের নায়িকা অবন্তিকা, চপল স্বভাবের,হরিণীনয়না,সর্বদা পুলকময়, মোলায়েম ঠোঁট টি তে সবসময় স্মিত হাসি লেগেই আছে। প্রতিদিন সূর্যের লাল রঙ গায়ে মেখে আকাশের ঘুম ভাঙে।গাছ–গাছালি,ঘাস–লতা,পাখিরাও জেগে ওঠে নতুন দিনের আহ্বানে।সেই সাথে অবন্তিকার ও ঘুমটা ভেঙে যায়।উঠে বসে খাটের উপর,তারপর

একটি ভালোবাসার গল্প " একটু একটু ভালোবাসা "

(১) যেটা ভেবেছিলাম ঠিক সেটাই হল।শেষ ট্রেন টা চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেল।এখন বাড়ি কি করে যাব?রাত বা কোথায় কাটাবো? দিদির বাড়ি থেকে ফিরছি।শিয়ালদহ ওভার ব্রিজের ও মাথায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনে বাস থেকে যখন নামলাম, তখন ঘড়িতে রাত এগারোটা বেজে সতেরো মিনিট।আমার গন্তব্যে যাওয়ার শেষ ট্রেন ছাড়ে এগারোটা বেজে আঠেরো মিনিটে।তখনি ভেবে নিয়েছিলাম,ট্রেন পাব না।তবুও একটা শেষ অদম্য ইচ্ছে নিয়ে ব্যাগ টা কাঁধে ঝুলিয়ে ছুট লাগালাম।ছুটতে ছুটতে যখন শিয়ালদহ সাউথ প্লার্টফর্মে এসে পৌঁছালাম, ততক্ষনে আমার ট্রেন প্লার্টফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেছে।একটু খানি দেখতে পাচ্ছি।আর কিছু করার নেই! আবার সেই ভোর পাঁচটায় ট্রেন।এখন এই প্লার্টফর্মে বসে মশার কামড়ে সারাটা রাত কাটাতে হবে।নিরাশা, হতাশা অবসন্ন হয়ে থপ করে বসে পড়লাম একটা গোল শান বাঁধানো বসার জায়গায়। প্রায় ফাঁকা স্টেশন।এত রাতে ভর্তি থাকার ও কথা নয়।সে আশাও আমি করি না।জনাকয়েক করে লোকজন গোল শান বাঁধানো বসার জায়গা গুলোতে গোল হয়ে ঘিরে বসে আছে। কিছু হকার মালপত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। দু'এক জন আর.পি.এফ ও চোখে পড়ল।বন্দুক ঘাড়ে,আর কানে ফোন লাগিয়ে হাসি মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে।আমি ব্